মার্ক ০৩ – প্রধান বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ
আগের ইউনিটে পাঠকদের কঠিন পরিস্থিতি (সম্রাট নীরোর অত্যাচার) বুঝে আমরা আলোচনা করেছি, পাঠকদের হৃদয়ে কি প্রশ্ন ও সন্দেহ থাকতে পারে। এই ইউনিটে আমরা দেখব, মার্ক তার সুসমাচারে এই প্রশ্নগুলো বা সন্দেহগুলোর উত্তর কিভাবে দেন।
০১) মার্ক সুসমাচারের প্রধান বিষয়: আশ্চর্যকাজ দ্বারা প্রমাণ যে, যীশুই সর্বশক্তিমান
নির্দেশনা
নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং লিখুন, এই আশ্চর্য কাজ দ্বারা কিসের উপরে যীশুর ক্ষমতা বা অধিকার প্রকাশ পায়।
- মার্ক ১:২১-২৭, ৩৯
- মার্ক ১:২৯-৩১
- মার্ক ১:৩২-২৪
- মার্ক ১:৪০-৪৪
- মার্ক ২:১-১২
- মার্ক ৩:১-৬
- মার্ক ৪:৩৫-৪১
- মার্ক ৫:১-২০
- মার্ক ৫:২১-২৩, ৩৫-৪৩
- মার্ক ৫:২৪-৩৪
- মার্ক ৬:৩০-৪৪, ৮:১-১০
- মার্ক ৬:৪৫-৫২
- মার্ক ৬:৫৬
- মার্ক ৭:২৪-৩০
- মার্ক ৭:৩৩-৩৭
- মার্ক ৯:২-৯
- মার্ক ৯:২-৯
- মার্ক ১০:৪৬-৫২
- মার্ক ১১:১৪,২০-২১
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
- মার্ক ১:২১-২৭, ৩৯ মন্দ আত্মা বা অদৃশ্য জগতের উপরে যীশুর ক্ষমতা।
- মার্ক ১:২৯-৩১ একটি জ্বর বা অস্থায়ী রোগ সুস্থ করার ক্ষমতা।
- মার্ক ১:৩২-২৪ বিভিন্ন ধরণের রোগ ও মন্দ আত্মাদের উপরে ক্ষমতা।
- মার্ক ১:৪০-৪৪ কুষ্ঠরোগ, অর্থাৎ একটি ভয়ংকর, স্থায়ী ও চিকিৎসাহীন রোগ সুস্থ।
- মার্ক ২:১-১২ পঙ্গুকে সুস্থ করার ক্ষমতা, পাপ ক্ষমা করার অধিকার (ঈশ্বরের মত)।
- মার্ক ৩:১-৬ শুকনা হাত, অর্থাৎ বিকলাঙ্গতার উপর যীশুর ক্ষমতা।
- মার্ক ৪:৩৫-৪১ ঝড় থামানো, অর্থাৎ প্রকৃতি বা আবহওয়ার উপরে যীশুর ক্ষমতা।
- মার্ক ৫:১-২০ মন্দ আত্মার বাহিনী তাড়ানোর ক্ষমতা।
- মার্ক ৫:২১-২৩, ৩৫-৪৩ মৃতকে জীবনে ফিরা আনার ক্ষমতা।
- মার্ক ৫:২৪-৩৪ মহিলার বহু দিনের রক্তস্রাব সুস্থ করা।
- মার্ক ৬:৩০-৪৪, ৮:১-১০ ৫০০০, ৪০০০ লোকদের খাওয়ানো।
- মার্ক ৬:৪৫-৫২ জলের উপর হাটা, অর্থাৎ প্রকৃতি বা প্রাকৃতিক আইনের উপরে ক্ষমতা।
- মার্ক ৬:৫৬ তাঁর কাপড় দ্বারা মানুষ সুস্থ করা।
- মার্ক ৭:২৪-৩০ অনুপস্থিত মানুষ থেকে মন্দ আত্মা তাড়ানোর ক্ষমতা।
- মার্ক ৭:৩৩-৩৭ বোবাকে সুস্থ করা (এমন আশ্চর্য কাজ যা যিহূদীরা বিশ্বাস করত, একমাত্র মশীহ পারেন)
- মার্ক ৯:২-৯ রূপান্তরিত হওয়া, মোশি ও এলিয়ের সাথে আলোচনা।
- মার্ক ৯:২-৯ এমন মন্দ আত্মা তাড়ানো, যা শিষ্যরা পারে নি।
- মার্ক ১০:৪৬-৫২ যিরীহোতে একজন অন্ধকে সুস্থ করার ক্ষমতা।
- মার্ক ১১:১৪,২০-২১ ডুমুর গাছের উপর, অর্থাৎ প্রাণীর দম বা জীবনের উপরে ক্ষমত।
বিবেচনা করুন
মার্ক তার পাঠকদের জন্য একের পর এক পৃষ্ঠায় যীশুর অদ্ভুত ও অনবরত আশ্চর্য কাজের বর্ণনা করেন। তিনি দেখান যে,
- ক্ষণস্থায়ী রোগ, স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী রোগ, জন্ম থেকে সমস্যা, অঙ্গবিকৃতি, বিকলাঙ্গতা বা পক্ষাঘাত হোক, সব কিছুর উপর যীশুর সুস্থ করার ক্ষমতা আছে।
- এছাড়া যীশু অনবরত মন্দ আত্মা তাড়ান, এমন কি মন্দ আত্মাদের সম্পূর্ণ বাহিণীও তাড়ান এবং লোকদের দীর্ঘ দিনের মন্দ আত্মার নির্যাতন থেকে একেবারে মুক্ত করেন। মার্ক প্রমাণিত করেন যে আত্মিক জগত, অদৃশ্য সব কিছু এবং মন্দতার উপর যীশুর ক্ষমতা আছে।
- যীশু জলের উপরে হাঁটেন বা হাজার হাজার লোকদের খাওয়ান, তা দেখায় যে, প্রকৃতির উপরে তার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে, এমন কি তিনি সৃষ্টিকর্তার মত আচরণ করেন।
- তাঁরই ক্ষমা করার অধিকার আছে।
- তিনি মৃত লোকদেরকে জীবন পুনরায় দান করেন এবং তিনি ফলহীন ডুমুর গাছ থেকে জীবন তুলে নেন। যীশুরই জীবন এবং মৃত্যুর উপরে ক্ষমতা আছে।
- রূপান্তরে মার্ক দেখান যে যীশু সাধারণ মানুষ মাত্র নন। তা ছাড়া তিনি দেখান যে মৃতরা মৃত নয়, মৃত্যুর পরের অনন্ত জীবন বাস্তব।
এভাবে একের পরে এক আশ্চর্য কাজ দেখিয়ে মার্ক সমস্ত সন্দেহ দূর করেন যে, যীশুই ঈশ্বর এবং যীশুই সর্বশক্তিমান।
রোমীয় পাঠকদের কাছে তিনি প্রমান করেন যে, সম্রাট নীরোর চেয়ে বা শয়তানের চেয়েও যীশুর ক্ষমতা আছে, যদিও পাঠকেরা এই মুহূর্তে তার হাত দ্বারা অত্যাচারিত।
০২) মার্ক সুসমাচারের প্রধান বিষয়: যীশু তাঁর অসীম ক্ষমতা কিভাবে ব্যবহার করেন
আমরা দেখলাম, এমন কিছু নেই, যার উপরে যীশুর ক্ষমতা না থাকত। কিন্তু তিনি এই অসীম ক্ষমতা কিভাবে ব্যবহার করেন? আমরা সবাই জানি, এই জগতের শক্তিশালীরা কি ধরণের ব্যবহার করে, বিলাসিতা, নিজের সুযোগ-সুবিধা, অলসতা, অহংকার, স্বেচ্চাচারী ব্যবহার, দুর্নীতি এবং সাধারণ লোকদের থেকে দূরে থাকা। এইটা মনে রেখে নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ে লিখুন, যীশুর ব্যবহার কেমন?
নির্দেশনা
নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং লিখিত রাখুন, যীশু তাঁর সেই অসীম ক্ষমতা কিভাবে ব্যবহার করেন।
- মার্ক ৩:৭-১০, ২০ …………………………………………………………………………………….
- মার্ক ৫:৩০-৩৪ …………………………………………………………………………………….
- মার্ক ১০:৩২-৩৪ …………………………………………………………………………………….
- মার্ক ১০:৪১-৪৫ …………………………………………………………………………………….
- মার্ক ১৪:২৭-২৮ …………………………………………………………………………………….
- মার্ক ১৪:৩৫-৩৬ …………………………………………………………………………………….
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
- যীশু পরিশ্রমী, তিনি লোকদের সেবা করতে করতে খাওয়ার জন্যও সময় পাচ্ছেন না (মার্ক ৩:৭-১০, ২০)।
- যীশু লোকদের ডাকে সাড়া দেন, তিনি লোকদের সাথে মেশেন, লোকদের স্পর্শ করতে ভয় পান না, তাঁকে স্পর্শ করলেও আপত্তি উঠা না (মার্ক ৫:৩০-৩৪)।
- যীশু ভালভাবে জেনে যিরূশালেমে কি ঘটবে (তিনি ৩বার কষ্টভোগের ভবিষ্যদ্বানী দেন), তিনি তারপরেও সেচ্ছায় সেখানে যান এবং কষ্টভোগ গ্রহণ করেন, এমন কি আলিঙ্গন করেন (মার্ক ১০:৩২-৩৪)।
- যখন শিষ্যেরা নিজের সম্মান, সুযোগ-সুবিধা ও পদ-মর্যাদা নিয়ে ব্যস্ত, তকন যীশু তাদেরকে বিপরীত শেখান: নেতা হওয়া মানে অন্যদের সেবা করা, নেতা হওয়া মানে অন্যদের উপকার করার জন্য ত্যাগ-স্বীকার করা (১৪:২৭-২৮)।
- এমন কি যখন যীশু জানেন, তাঁর শিষ্যরা তাকে ত্যাগ করতে যাচ্ছেন, তিনি তাদের পুনরুত্থানের পরের কথা বলে দিয়ে সাহায্য করেন। যীশুর কথা সেই মুহূর্তে সাহায্য করে না, কিন্তু পরে, যখন শিষ্যরা নিজেদের নিয়ে লজ্জা পায়, তখন যীশুর অগ্রিম কথা তাদের জন্য ক্ষমা ও আশার বাণী হয়ে দাঁড়াবে (মার্ক ১৪:২৭-২৮)।
- যীশুর মনোভাব সকচেয়ে পরিষ্কারভাবে গেৎশিমানী বাগানে তাঁর প্রার্থনায় প্রকাশিত: যদিও ক্রুশের কষ্টভোগ নিয়ে তাঁর খেয়াল ও ভয় আছে, তিনি সম্পূর্ণভােব স্বর্গস্থ পিতার অধীনে থেকে মানুষদের জন্য পরিত্রান অর্জন করার জন্য এই পথে আগাতে রাজি (মার্ক ১৪:৩৫-৩৬)।
বিবেচনা করুন
মার্ক তার সুসমাচারে বার বার দেখান যে, ”মনুষ্যপুত্র সেবা পেতে আসেন নি বরং সেবা করতে এসেছেন এবং অনেক লোকের মুক্তির মূল্য হিসাবে তাদের প্রাণের পরিবর্তে নিজের প্রাণ দিতে এসেছেন”। প্রকৃতপক্ষে তিনি স্বার্থহীনভাবে মানুষদের সেবা করেন: তিনি লোকদের ভালবাসার মনোভাবে স্পর্শ করেন, তাদের স্পর্শ গ্রহণ করেন, এমন কি যখন ভীড়ের জন্য চাপাচাপি হয় এবং যখন খাবার খাওয়ার সুযোগ আর পেলেন না। তিনি অনবরত লোকদের দয়া দেখান, তাদের সঙ্গে কথা বলেন, স্পর্শ করতে থাকেন, সুস্থ ও মুক্ত করেন, উৎসাহ দেন, শিক্ষা দিতে থাকেন ও তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।
অবশেষে তিনি যিরূশালেমে যাওয়া দ্বারা তার ভালবাসা প্রমাণ করেন যদিও সেখানে কি ঘটবে তিনি তা ভালই জানেন। বিরুদ্ধীয় লোক তাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করবে জেনেও তিনি স্বেচ্ছায় ফাঁদে পড়তে রাজী হন। তিনি তাদের খুশি করার জন্য বা বিপদ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করেন না বরং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সাবধানবাণী ও সত্য কথা বলতে থাকেন। গেৎশিমানী বাগানে যখন তিনি বুঝতে পারেন যে ক্রুশ ছাড়া পরিত্রাণ আনা সম্ভব হবে না তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন এবং বিচারের সময় নিজেকে রক্ষা করার প্রচেষ্টাও করেন না। তিনি স্বেচ্ছায় মিথ্যার দ্বারা অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড, সেনাদের দ্বারা যন্ত্রণা এবং অবশেষে ক্রুশীয় মৃত্যুও মেনে নেন।
এই সব দ্বারা লেখক মার্ক তার অত্যাচারিত পাঠকদের নিশ্চয়তা দেন যে, অত্যাচার হলেও যীশু তাদেরকে ভালবাসেন, তাদের অবস্থা জানেন ও দেখেন এবং তাদের সঙ্গে কষ্ট পান। অত্যচার মানে এই নয় যে, ‘ঈশ্বর নেই’ বা ‘ঈশ্বর যত্ন নেন না’ বা ‘ঈশ্বর আমাদের ভালবাসেন না’। বিপরিতই সত্য: যীশুতে ঈশ্বর স্বার্থহীন ভালবাসা প্রমাণিত।
০৩) মার্ক সুসমাচারের প্রধান বিষয়: যীশুর কষ্টভোগ ও জীবন দান
৪টি সুসাচারে যীশুর কষ্টভোগ, গ্রেফতার, অন্যায্য মামলা, যন্ত্রণা ও ক্রুশীয় মৃত্যুর উপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আসুন আমরা লক্ষ্য করি, বিষয়টি মার্ক সুসমাচারে দেখতে কেমন।
নির্দেশনা
সিনপ্তিট সুসমাচারগুলো দেখুন এবং লক্ষ্য করুন, কত অধ্যায় যীশুর শেষ সপ্তা সম্বন্ধীয়:
কি দেখা যায়? কেন মনে করেন তা এভাবে হল?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
দেখা যায় যে, অন্য সুসমাচারগুলোর তুলনায় মার্ক তার সুসমাচারে যীশুর কষ্টভোগে বেশি স্থান ও গুরুত্ব দেন।
তাছাড়া মার্ক যীশু মার্ক সুসমাচারে ৩ বার নিজের কষ্টভোগ ও মৃত্যুর ঘোষণা দেন (মার্ক ৮:৩১-৩৩, মার্ক ৯:৩০-৩২ এবং মার্ক ১০:৩২-৩৪)। আবারও তিনি যোহন বাপ্তস্মদাতার কষ্টভোগ খুব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন (মার্ক ৬:১৪-২৯)।
মৌট কথা মার্ক প্রায় ৪০% লেখায় কষ্টভোগের বিষয়ে কথা বলেন। মার্ক সুসমাচারটি অত্যাচারিত রোমীয় মণ্ডলীর জন্য লেখেন বলে আমরা বুঝতে পারি, তিনি কেন কষ্টভোগের উপর এত গুরুত্ব দেন। তিনি মাত্র ৪টা দৃষ্টান্ত দেন (মার্ক ৪ অধ্যায়) এবং যীশুর শিক্ষাও সীমিতভাবে দেন (মার্ক ৭,১০ অধ্যায়)। তুলনায় মথি এবং লূক পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠায় যীশুর শিক্ষা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন এবং ৩০টা মত দৃষ্টান্ত দেন। এই সব কিছুর সাথে আর একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখা যায়:
০৪) মার্ক সুসমাচারের প্রধান বিষয়: যীশু যেমন কষ্টভোগ করেছেন, তাঁর অনুসরণকারীও যেন তেমনই করে
নির্দেশনা
মার্ক ৮:২৭-৩০ পদ পড়ুন। এই শাস্ত্রাংশ মার্ক সুসমাচারের ঠিক মাঝকানে দেওয়া হয়েছে। তা হল সুসমাচারের কেন্দ্র ও ‘কব্জা’। এই পদগুলোর গুরুত্ব কি মনে করেন?
বিবেচনা করুন
যীশু অনেক সময় ধরে শিষ্যদের সাথে জীবন কাটিয়েছেন। তারা তাঁর কথা, স্বভাব-চরিত্র, আচারণ, কাজ ও মনোভাবে দেখেছেন। এখন যীশু তাদের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কে। যীশু চান যেন তারা সব কিছু বিবেচনা করে একটি সারাংশে আসেন, এবং পিতর – সবার আগে – সঠিক সারাংশে পৌঁছিয়ে বলেন: “আপনি মশীহ!”।
আমরা অনুভাব করতে পারি, শিষ্যদের মধ্যে এই মুহূর্ত কত উত্তেজনার ছিল, অবশেষে যীশু সরাসরি স্বীকার করেছেন, যে তিনি সত্যি সেই মশীহ। শিষ্যদের মাথায় অবশ্যই যিহূদীদের প্রচলিত চিন্তাগুল ঘরত: যীশু ক্ষমতা প্রকাশ করে নিজেকে রাজা হিসাবে ঘোষণা করবেন। তিনি তাঁর রাজত্ব বিস্তার করে দুর্নীতিগ্রস্ত আত্মিক নেতাদের এবং অত্যাচারী রোমীয় সরকারকে সরিয়ে অবশেষে খাঁটি একটি রাজ্য নিয়ে আসবেন। ইস্রায়েল অন্য জাতিদের উপর রাজত্ব করবে। মশীহ রাজা। মশীহ যুদ্ধে জয় করবেন!
যীশু ভালভাবে জানেন যে, এই ধরণের চিন্তাগুলো শিষ্যদের মাথায় ঘরছে, তাই তিনি তাদের এখন বলতে যাচ্ছেন, সশীহ আসলে কি করবেন।
নির্দেশনা
মার্ক ৮:৩১ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, যীশুর কথা কত ভিন্ন। মশীহ কি করবেন? এবং – তিনি এই বিষয় থেকে মশীহের অনুসরণকারীদের বিষয়ে কি বলেন (মার্ক ৮:৩৪-৩৫)? মার্কের পাঠকদের জন্য এর গুরুত্ব কি?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
মশীহ নিজের ক্ষমতা প্রকাশ করে মন্দ লোকদের দূর করবেন না, বরং তিনি যিরূশালেমে গিয়ে সম্পূর্ণ অন্য কিছু অর্জন করবেন। যীশু কষ্টভোগ করবেন এবং তিনি ক্রুশে নিজের জীবন দান করবেন। এইভাবে তিনি মানুষদের চূড়ান্তভাবে সেবা করবেন।
মার্ক তার রোমীয় পাঠকদের দেখান যে, যীশুর ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল, তা তাঁর অনুসরণকারীদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। তিনি দেখান যে যীশু এবং অত্যাচারিত রোমীয়দের সাথে যথেষ্ট মিল আছে । যীশু এবং রোমীয় মণ্ডলীকে রোম সরকার অত্যাচার করে, উভয়কে মিথ্যা অভিযোগ দ্বারা দোষী বানানো হয়, “বুনো জন্তুর” মুখে পড়তে হয় (মার্ক ১:১৩), উভয়ের পরিবারের সদস্যরা তাদের না বুঝে চাপ দেয়, (হতে পারে) কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার সম্মুখীন হতে হয় এবং উভয়েই নিজেরা নিজেদেরকে কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ একা খুঁজে পান।
মার্ক তার রোমীয় পাঠকদের বলেন: এমন নয় যে, ঈশ্বর তাদের শাস্তি দেন বা তাদের ত্যাগ করেছেন। বরং কষ্টভোগ হল বিশ্বাসীর জীবনের একটি সাধারণ অংশ । এভাবে তিনি তাদের সান্ত্বনা ও স্থিরতা দান করেন।
যীশু বলেছেন: “যদি কেউ আমার পথে আসতে চায় তবে সে নিজের ইচ্ছামত না চলুক; নিজের ক্রুশ বয়ে নিয়ে সে আমার পিছনে আসুক। যে কেউ তার নিজের জন্য বেঁচে থাকতে চায় সে তার সত্যিকারের জীবন হারাবে’ কিন্তু যে কেউ আমার জন্য এবং ঈশ্বরের দেওয়া সুখবরের জন্য তার প্রাণ হারায়, সে তার সত্যিকারের জীবন রক্ষা করবে” (মার্ক ৮:৩৪-৩৫)।এই পদগুলো হল মার্ক সুসমাচারের ঠিক মাঝখানের ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ। মার্ক যীশুর কথার দ্বারা রোমীয় বিশ্বাসীদের মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত হতে উৎসাহিত করেন।
০৫) উল্লিখিত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত: যোহন বাপ্তিস্মদাতার গল্প
নির্দেশনা
মার্ক ৬:১৪-২৯ পদে বাপ্তস্মদাতা যোহনের মৃত্যুর গল্প পড়ুন। গল্পটি কেমন লাগে? কেন মার্ক গল্পটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন? অত্যাচারিত রোমীয় পাঠকদের যোহন বাপ্তিস্মদাতার সঙ্গে কিভাবে মিল আছে?
বিবেচনা করুন
মার্ক কেন বাপ্তিস্মদাতা যোহনের মৃত্যুর গল্পের বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন? কারণ ধার্মিক হয়েও যোহনকে একটি হিংস্র ও জঘন্য মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, যা রোমীয় বিশ্বাসীদের মৃত্যুর সঙ্গে অনেক মিল আছে। যোহনের মত তাদেরকেও (নির্দোষ হলেও) গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং একজন দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা দ্বারা বিচারিত হচ্ছে। যেমন বোধ হয় যোহনের মৃত্যুর কোনো অর্থ নেই, ঠিক তেমনি তাদের মৃত্যুও অর্থহীন মনে হচ্ছে। যোহনকে যেমন যীশু রক্ষা করেন নি, ঠিক তেমনই ঈশ্বর রোমীয় বিশ্বাসীদেরকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার নাও করবেন।
তবু্ও যীশু যোগ্য। তবুও তিনিই মশীহ। যেমন তিনি কষ্টভোগ মেনে নিয়ে নিজের জীবন দান করেছিলেন, ঠিক তেমনি তাঁর অনুসরণকারীও তা-ই করবে। তাঁর যে ক্ষমতার অভাবের কারণে তিনি রক্ষা করেন না, এমন নয়। তাঁর যে ভালবাসার অভাবের কারণে তিনি রক্ষা করেন না, এমন নয়। তাঁরই ক্ষমতা আছে। তিনিই ভালবাসেন।
০৬) যীশুই ক্ষমতা, যীশুই প্রেম
নির্দেশনা
মার্ক তার সুসমাচারের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেন যে, যীশুই ক্ষমতা এবং যীশুই প্রেম। এক মিনিট স্মরণ করুন: রোমীয়দের প্রধান দেব-দেবতা কে কে ছিল? এখানে কি কোনো লিংক পাওয়া যায়?
বিবেচনা করুন
রোমীয়দের প্রধান দেব ছিল মঙ্গল, ক্ষমতার দেব এবং প্রধান দেবী ছিল শুক্ল, প্রেমের দেবী।
মার্ক রোমীয় বিশ্বাসীদের দেখান যে, যদিও মঙ্গলকে যুদ্ধ, ক্ষমতা ও জয়ের দেব বিসাবে পূজা করা হয়, তবুও প্রকৃতপক্ষে যীশুই সব ক্ষমতার অধিকারী! যীশুই হলেন সত্যিকারের মঙ্গল। মঙ্গল দেব তার ক্ষমতা স্বার্থপরভাবে, অর্থাৎ অন্যদের দমন করার জন্য ব্যবহার করেন। কিন্তু যীশু আমাদের দেখিয়েছেন, প্রকৃত ক্ষমতা দেখতে কেমন: স্বার্থহীনভাবে অন্যদের সেবা ও মঙ্গল করা।
একইভাবে মার্ক রোমীয় বিশ্বাসীদের দেখান যে, যদিও শুক্লকে প্রেমের দেবী হিসাবে পূজা করা হয়, তবুও প্রকৃতপক্ষে যীশুই আসল প্রেম! যীশুই হলেন সত্যিকারের শুক্ল। শুক্ল দেবী তার আকৃষ্ট করার ক্ষমতা স্বার্থপরভাবে ব্যবহার করেন। কিন্তু যীশু আমাদের দেখিয়েছেন, প্রকৃত প্রেম দেখতে কেমন: স্বার্থহীনভাবে অন্যদের জন্য নিজের জীবন দান।
