আগের ইউনিটে আমরা মার্ক সুসমাচারের প্রধান বিষয় দেখলাম। কিন্তু অবশ্যই, এই সুসমাচারে আর অনেক লক্ষণীয় বিষয় আছে। আমরা মাত্র কয়েখটা দেখব।
০১) মার্ক সুসমাচারের লক্ষণীয় বিষয়: যীশু জনপ্রিয়তা দিয়ে চালিত নয়
নির্দেশনা
মার্ক ১:৩৫-৩৯ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, এই পদগুলো থেকে যীশুর মনোভাবে সম্বন্ধে কি শেখা যায়?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
যীশুর পরিচর্যা যখন সফল হয় এবং তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ে, তখন তিনি নিশ্চিত করেন যেন প্রার্থনায় যথেষ্ট সময় কাটান। তিনি ঈশ্বরের নির্দেশনা শোনার জন্য সময় নেন এবং তা অনুসারে আচারণ করেন। লোকেরা তাঁর অপেক্ষায়, লোকদের বিভিন্ন প্রয়োজন ও দাবি আছে, কিন্তু যীশু এই অনুসারে চলেন না। যীশু সফলতা বা জনপ্রিয়তা দিয়ে পরিচালিত নয়। প্রকৃতপক্ষে জনপ্রিয়তা দিয়ে যদি আমরা পরিচালিত হই, তবে বিপদ আছে। যীশু এই ফাঁদে পড়েন না।
০২) মার্ক সুসমাচারের লক্ষণীয় বিষয়: বলো না! বলিও!
নির্দেশনা
নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং তালিকাটি ফিল্ আপ্ করুন:
চিন্তা করুন: কেন যীশু এক এক লোকের কাছে এক এক উত্তর দেন? তা কি এলাকার উপর নির্ভর করে? কেন?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
বেশিরভাগ আদেশ হল চুপ করার আদেশ। মাত্র একজনকে, অর্থাৎ দিকাপলি এলাকার গেরাসেনী লোককে তিনি বলতে বলেন। আবারও চোখে পড়ে যে, সুসমাচারের দ্বিতীয় অংশ যীশুর চুপ করার আদেশগুলো কমে যায়। হতে পারে যীশু আদেশগুলো দ্বারা অতিরিক্ত জনপ্রিয়তা এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেন।
আমরা যোহন ৬:১৫ পদ থেকে জানি, যে লোকেরা যীশুকে জোর করে রাজা বানাতে চায়। যত তাঁর প্রিয়তা বাড়ে, যীশু তত এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নির্জন বা অযিহূদী এলাকায় চলে যায়, যেন বড় আন্দোলন না হয় এবং সবার মাথা আবার ঠাণ্ডা হয়ে যায়। যীশু যেন শিক্ষা ও শিষ্যত্ব দানের জন্য যথেষ্ট সময় পান, হতে পারে এর জন্য তিনি এমনভাবে করেন।
০৩) মার্ক সুসমাচারের লক্ষণীয় বিষয়: যীশু এবং তাঁর পরিবার
নির্দেশনা
মার্ক ৩:১০, ৩:২১ এবং ৩:২২ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করুন।
- যীশুর জনপ্রিয়তা ও সুনাম যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা তাঁর পরিবারের উপর কি প্রভাব ফেলে?
- যীশু বড় নেতাদের চোখে পড়েন কিন্তু তাদের অনুমোদন পান না, এটা তাঁর পরিবারের উপর কি প্রভাব ফেলে?
- কেন মনে করেন যীশুর পরিবার তাকে “বাধা দেয়”? তাদের অনুপ্রেরণা বা উদ্দেশ্য কি?
বিবেচনা করুন
- যীশুর আশ্চর্য কাজ, অনুসরণকারীদের ভির এবং তাঁর জনপ্রিয়তা দেখে পরিবারের সদস্যরা হতে পারে এক দিকে গর্বিত, খুশি, হয়তো অবাক।
- কিন্তু যখন এই ‘ধার্মিক ছেলে’ এমন কি আত্মিক (এবং শেষে রাজনৈতিক) নেতাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করে, তখন তারা সম্ভবত একটু ভিত এবং তারা চিন্তিত, ভবিষ্যতে কি ঘটে। নেতাদের থেকে যীশুর খারাপ ময়ল্যায়ন অবশ্যই তাদের উপরও পড়ে (“ও তো তোমার ছেলে, তাই না?”)। হয়তো অনেকে তাদের থেকে সম্পর্ক বন্ধ করে এবং অবশ্যই বিভিন্ন ধরণের গুজব-গল্প প্রচলিত।
- হতে পারে যীশুর পরিবার তাঁকে নিয়ে চিন্তিত এবং তারা নেতাদের বিচার শুনে ভয় পায় এবং তাকে ‘রক্ষা’ করতে চায় বলে তারা তাঁকে বাধা দেয়। অথবা নিজেদের উপর যে খারাপ ফলাফল পড়ছে, তা কমানোর জন্যও তারা যীশুকে বাধা দেয়। তাদের অনুপ্রেরণা ও উদ্দেশ্য হতে পারে মিশানো, যীশুকে এবং নিজেকে রক্ষা করা।
নির্দেশনা
মার্ক ৩:৩১-৩৫ পদ পড়ুন। খুটিনাটি বিষয়ও খেয়াল করুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করুন।
- যীশুর পরিবার তাঁকে মিক্ষা দেওয়ার সময়ে লোক পাঠিয়ে ডেকে আনতে চায়, তা কেমন লাগে? তা কি ভদ্র?
- যীশুর পরিবার এখানে কোন ভিত্তিতে যীশুর মনোযোগ দাবি করে? কাদের চেয়ে তারা প্রাধান্য চায়?
- যীশু কেন পরিবারের দাবি এখানে অস্বীকার করেন? তাঁর উত্তরে তিনি কিতে প্রাধান্য দেয়?
- যীশু কি এখানে তাঁর পরিবারকে অস্বীকার করেন?
- যীশুর পরিবার কি যীশুর এই কথা মেনে নিয়েছে?
- এই গল্প মার্কের পাঠকদের জন্য কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
বিবেচনা করুন
- যীশুর পরিবারের ব্যবহার এখানে সম্পূর্ণ ভদ্র না। তারা তার শিক্ষা শোনার জন্য বসবে না (জায়গার অভাব ছিল, কিন্তু চাইলে ঢোকা যেত), তারা শিক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্তও অপেক্ষা করে না।
- তারা ‘পরিবার বলেই’ যীশুর কাছে প্রদেশ দাবি করে। তারা রক্ত-মাংসের সম্পর্কের ভিত্তিতে তাঁর উপর দাবি করে। তারা নিজেদেরকে অন্যান্য লোকদের উপর প্রাধান্য দেয় (“ওরা অপেক্ষা করুক”)। ঠিক এইটা হল সেই মনোভাব, যা যীশু মানেন না।
- যীশু তাঁর পরিবারকে (এবং বিশেষভাবে তাঁর মাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ – যদিও কষ্টের – সংসাদ দেন: “কেউ রক্ত-মাংসের ভিত্তিতে আমার কাছে আসতে পারবে না। তোমাদেরকেও আমার অনুসরণকারী হতে হবে। অনুসরণকারী হওয়া মানে আমার কথা শোনা ও মানা। মাত্র এই ভিত্তিতে মশীহের কাছে আসা যায়, তোমাদেরও এই ভিত্তিতে আসতে হবে। কিন্তু: স্বাগতম! যতজন আমার অনুসরণকারী হয় ততজন আমি গ্রহণ করব।
- মোট কথা যীশু তাঁর পরিবারকে অস্বীকার করেন না, কিন্তু তিনি তাদেরকে দেখান যে, তাদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। ‘পরিবার’ বলে দাবি করা যাবে না।
- যোহন ১৯:২৫ পদে আমরা দেখতে পাই যে, যীশুর মা মরিয়ম ক্রুশে উপস্থিতি এবং প্রেরিতে ১:১৪ দেখায় যে মরিয়ম ও যীশুর ভাইয়েরা প্রথম মণ্ডলীর সদস্য হয়ে যান। তারা যীশুর কথা বা ধমক ঠিকই মেনে নিয়েছেন এবং তাঁর অনুসরণকারী হয়েছেন। নতুন নিয়মে যাকোব এবং যিহূদা উভয় চিঠি যীশুর আপন (শৎ)ভাই দ্বারা লিখিত।
- মার্কের পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, যদিও পরিবার খুব গুরুত্বপূর্ণ, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যীশুর অনুসরণকারী হওয়া। সমভবত রোমীয় বিশ্বাসীদের পরিবারে অনেক সদস্যরা যীশুকে বিশ্বাস করত না। নীরোর অত্যচাচরের কারণে তারা আরো পিছিয়ে যায় এবং তারা বিশ্বাসীদেরকে “যীশুর জন্য নিজেদের জীবন নষ্ট না করার” চাপ দেয়।
০৪) মার্ক সুসমাচারের কঠিন অংশ: যে পাপের ক্ষমা নেই
নির্দেশনা
মার্ক ৩:২২-৩০ পদ পড়ুন। গল্পটি ঠিক এমন একটি ঘটনার বর্ণনা, যার কারণে যীশুর পরিবার তাঁকে নিয়ে চিন্তিত! শাস্ত্রাংশ পড়ে নিচে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দেন:
- ঘটনাটি কোথায় ঘটে (মার্ক ৩:১৯)? ধর্ম-শিক্ষকেরা কোথা থেকে এসেছে? এর অর্থ কি?
- ধর্ম-শিক্ষকরা এখানে যীশু সম্বন্ধে ঠিক কি বলে? এর পিছনে তাদের যুক্তি কি?
- যীশু তাদের যুক্তি কিভাবে চ্যালেঞ্জ করেন?
- যীশু আসলে কার দ্বারা তাঁর আশ্চর্য কাজ করেন?
- তাই ধর্ম-শিক্ষকেরা কাকে “বেল্সবূল” বা “মন্দ আত্মিদের রাজা” বলে?
- কেন এটা সমস্যা? এই পাপের কেন ক্ষমা নেই?
বিবেচনা করুন
ঘটনাটি গালীলে ঘটে। এর অর্থ হল যে, যিরূশালেম থেকে আসা ধর্ম-শিক্ষকদের দূর থেকে পাঠানো হয়েছে ঠিক এই উদ্দেশে: খুঁঁজে বের করতে যীশু ভ্রান্ত শিক্ষ কিনা। যিরূশালেমে আত্মিক নেতারা যীশুকে এমন প্রভাবলালী মনে করে যে, তারা তাঁকে তদন্ত করা প্রয়োজন মনে করে। বিষয়টি ‘গরম’ হয়ে যাচ্ছে।
যীশু এইমাত্র একটি চমৎকার আশ্চর্য কাজ করেছেন (মথি ১২:২২-২৩ দেখুন), তিনি একজন অন্ধ ও বোবা লোক থেকে মন্দ আত্মা তাড়িয়েছেন, যার ফলে লোকটি আবার দেখতে পায় ও কথা বলতে পারে।
তারা আশ্চর্য কাজটা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করে: যীশু বেল্সবূল বা মন্দ আত্মাদের রাজা দ্বারা তা করেছেন। যীশু তাদের এই যুক্তি বা কথা চ্যালেঞ্জ করেন, যদি শয়তান শয়তানকে তাড়াত, তবে মন্দ তো মন্দকে পরাজিত বা ধ্বংস করত। তিনি আরো দেখান যে, একজনের সম্পত্তি চুরি কাতি চাইলে তবে তার চেয়ে শক্তিশালী হতে হয়। যীশ বুঝায় যে, একজন বন্দী মুক্ত করতে গেলে তবে যা তাকে বন্ধনে রাখে, আগে তার উপর জয় করতে হয়। যীশু পরিষ্কার করেন যে, তাদের যক্তি কাটে না। কিন্তু যীশু কেন এখানে পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপের বিষয় তোলেন?
যীশু তাঁর সমস্ত আশ্চর্য কাজ স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা অনুসারে পবিত্র আত্মা দ্বারা করেন। যখন ধর্ম-শিক্ষেরা বলে বেল্সবূল বা মন্দ আত্মিদের রাজা দ্বারাই যীশু তাঁর আশ্চর্য কাজ করেন, তারা আসলে বলে “পবিত্র আত্মা সমান সমান শয়তান”। এভাবে তারা আসলে পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপ করেন। কিন্তু কেন এই পাপের ক্ষমা নেই?
চিন্তা করুন, পবিত্র আত্মার কাজ কি কি? পবিত্র আত্মা আমাদের সত্যে পরিচালনা করেন, আমাদের যীশুর কথা বুঝিয়ে দেন, আমাদের শক্তি দান করেন ইত্যাদি, অনেক কিছু বলা যায়। কিন্তু পবিত্র আত্মার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল: চেতনা দান। পবিত্র আত্মাই আমাদের চেতনা দান করেন, ‘চেতনার কামড়’ হল পবিত্র আত্মার কথা বলার একটি ধরণ। কিন্তু যদি আমি পবিত্র আত্মাকে শয়তান বলি (যেমন ধর্ম-শিক্ষেরা করেছে) তবে সেই একটি রব যা আমাকে ভালদিকে টানতে চায়, তা আমি ‘শয়তান মনে করে’ অগ্রাহ্য করি। চেতনার রব যদি ‘শয়তান মনে করে’ অগ্রাহ্য করতে থাকি, তবে অনুতাপের দিকে আমাকে টানার তো আর কিছু নেই। আমরা জানি যে ক্ষমা পাওয়া জন্য ঈশ্বর মাত্র একটি শর্ত রেখেছেন: অনুতপ্ত হওযা। যদি অনুতপ্ত হয় না, তবে ক্ষমা সম্ভব না। যদি চেতনার রবকে শয়তান মনে করি, তবে চেতনায় সাড়া দেব না। এভাবে পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপের ক্ষমা নেই। ঈশ্বর ক্ষমা করবেন না, এমন নয়। কিন্তু আমরা চেতনার রব অগ্রাহ্য করে অনুতপ্ত হব না, ক্ষমা চাইব না এবং তাই ক্ষমা পাব না।
এই কঠিন শাস্ত্রাংশ থেকে তাহলে কি শিখব? কখনও পবিত্র আত্মার চেতনা অগ্রাহ্য করো না! যে মুহূর্তে চেতনার রব আসে, বাড়া দাও। দেরী করো না। অগ্রাহ্য করো না। হৃদয় কঠিন করো না।
০৫) মার্ক সুসমাচারের লক্ষণীয় বিষয়: যীশুর রূপান্তর
নির্দেশনা
মার্ক ৯:২-৮ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করুন:
- যীশুর রূপান্তর কি দেখায়?
- মোশি ও এলিয় এখানে কি বুজায়?
- পিতরের কথায় কি প্রকাশ পায়? তার চিন্তা কি? তার উদ্দেশ্য কি? তার ভুল চিন্তা কি?
- ঈশ্বর কি তার ভুল চিন্তা কিভাবে সংশোধন করে?
- এই গল্প মার্কের পাঠকদের জন্য কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
বিবেচনা করুন
- রূপান্তরের প্রকাশ পায় যে, যীশু শুধুমাত্র মানুষ, এমন নয়। যীশু মানুষের চেয়েও বেশি। তিনি ঈশ্বর দ্বারা অনুমোদিত। আরো প্রকাশ পায় যে, অদৃশ্য বাস্তবতা বাস্তব। মৃতরা মৃত নয় (মোশি, এলিয়)! অনন্ত জীবন বাস্তব।
- হতে পারে মোশি ও এলিয় আগের যুগের ভক্তদের বুঝায়। অথবা মোশি আইন-কানুন এবং এলিয় ভাববাদীদের প্রতিনিধি হিসাবে দাঁড়ায় – যীশু উভয় আইন-কানুন এবং ভাববাণী পূর্ণ করবেন।
- পিতর এই ‘বিশেষ আত্মিক অভিজ্ঞতা’ ধরে রাখতে চান বা স্থায়ী বানাতে চান, তাই তিনি ৩টি ঘরের কথা বলেন।
- তার কথায় একটি ভুল চিন্তাও প্রকাশ পায়: তিনি যীশু এবং মোশি ও এলিয় একই দৃষ্টিতে দেখেন।
- হতে পারে স্বর্গস্থ পিতা একটি মেঘ দ্বারা মোশি ও এরিয়কে আবারও লুকায় এবং পরিবর্তে যীশুর উপর সম্পূর্ণ মনোযোগ দেন: “ইনি আমার প্রিয় পুত্র, তোমরা এঁর কথা শোন!”
- অত্যাচাারিত রোমীয় পাঠকদের জন্য এই গল্প আশা দানকারী: যীশু আসলে মশীহ, তিনি এমন কি সয়ং ঈশ্বর। অদৃশ্য জগত, পুনরুত্থান, অনন্ত জীবন, এই সব বাস্তব। মৃতরা মৃত না। যারা মারা যাওয়ার পথে (নীরোর অত্যাচার), তাদের জন্য তা অবশ্যই উৎসাহের কথা।
০৬) মার্ক সুসমাচারের লক্ষণীয় বিষয়: অহংকারের প্রলোভন
নির্দেশনা
নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং প্রশ্নের উত্তর দেন:
- মার্ক ৫:৩৭-৪৩ পদে যায়ীরের মেয়েকে জীবনে ফিরে আনা, এই অদ্ভূত আশ্চর্যকাজ কোন কোন মিষ্য দেখতে পান? তাদের কেমন লেগেছিল?
- মার্ক ৮:২৯-৩০ পদে বর্ণিত যীশুর ঘোষণা যে তিনি সত্যি সেই মশীহ, তা শিষ্যদের কেমন লেগেছিল?
- মার্ক ৯:২-৮ পদে যীশু যে শুধুমাত্র এই ৩জন পাহাড়ে রূপান্তর দেখতে দিলেন, তা তাদের কেমন লেগেছিল?
- মার্ক ৯:৩৩-৩৭ পদে উল্লিখিত যে ঝগড়া, তা কিভাবে আগের কথার সাথে কিভাবে সম্পর্কিত?
- মার্ক ১০:৩৫-৪৫ পদে যাকোব ও যোহনের অনুরোধের পিছনে কি দাঁড়ায়? তাদের এই পরিকল্পনা কেমন লাগে? তারা কাকে বাদ দিয়ে পদ-মর্যাদা অর্জন করতে চেষ্টা করেন? যীশু তাদের নেতৃত্বের দাবি অস্বীকার করেন? যীশু তাদেরকে কি বুঝায়?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
- মার্ক ৫:৩৭-৩৮ পিতর, যাকোব, যোহন। তাদের অবশ্যই এই অদ্ভুত আশ্চর্য কাজ দেখতে ভাল লেগেছিল। মাত্র তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তাও অবশ্যই ভাল লেগেছিল।
- মার্ক ৮:২৯-৩০ শিষ্যেরা যীশুর এই সরাসরি ঘোষণা শুনে অবশ্যই অনেক উত্তেজিত ছিল। যীশুই মশীহ। যীশুই রাজা। যীশু তাঁর রাজ্য অবশ্যই বিস্তার করবেন – এবং আমরা এর কেন্দ্রে আছি!
- মার্ক ৯:২-৮ আবারও পিতর, যাকোব ও যোহনকে এই আত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করতে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই তারা মনে মনে এই বিষয় নিয়ে গর্ব ও তুলনা করত।
- মার্ক ৯:৩৩-৩৯ তেমন অবাক লাগে না যে, শিষ্যদের মধ্যে কে বড়, এই ঝগড়া ওঠে। যীশু তাদের চিন্তা সংশোধন করতে চেষ্টা করেন।
- মার্ক ১০:৩৫-৪৫ পরিষ্কারভাবে বুঝা য়ায় যে, ধীরে ধীরে যাকোব ও যোহনের মধ্যে একটি অহংকার এবং ‘যীশুর প্রিয়’ একটি চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছিল। যাকোব ও যোহন এখানে পরিকল্পিতভাবে মশীহের নতুন রাজ্যে প্রধান ভূমিমা দখল করতে চেষ্টা করেন – এবং তারা বিশেষভাবে পিতর বাদ দিয়েই তা করেন। যীশু বলেন নি যে, তাদের নেতৃত্ব চাওয়া ভুল, কিন্তু তিনি তাদেরকে শক্তিশালীভাবে দেখান, নেতৃত্ব মানে কি। নেতৃত্ব মানে না ‘পদ-মর্যাদা ও সুযোগ -সুবিধা’ বরং নেতৃত্ব মানে অন্যদের সেবা করা এবং অন্যদের জন্য ত্যাগ-স্বীকার করা, অর্থাৎ নিজের জীবন দান করা (‘পেয়ালা খাওয়া’)।
- আমরা দেখতে পায় যে, শিষ্যেরা ঠিক আমাদের মত খুব সহজে অহংকারে এবং ‘উচুঁ-নীচু চিন্তায়’ পড়ে। আমাদের এই চিন্তা পরিবর্তন না করলে আমরা এখনও যীশুর সত্যিকার অনুসরনকারী নই!
০৭) মার্ক সুসমাচারে যীশুর দৃষ্টান্ত
নির্দেশনা
মার্ক ৮:১-৩৪ পদ পড়ুন। লক্ষ্য করুন: মার্ক যীশুর কতটা দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেন? মথি বা লূক সুসমাচার চেয়ে তা কিভাবে ভিন্ন? এই পার্থক্যের কারণ কি হতে পারে? মার্কের পাঠকদের বিবেচনা করে কি মনে, মার্ক কেন এই দৃষ্টান্তগুলো পছন্দ করেছেন?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
মার্ক শুধুমাত্র ৪টি দৃষ্টান্ত দেন, ১টা বড় (বীজ বুনার দৃষ্টান্ত) এবং ৩টা ছোট দৃষ্টান্ত। মথি এবং লূক প্রায় ৩০টা দৃষ্টান্ত দেন, মার্ক তুলনায় খুব কম দেন। কার্মের পাঠকেরা অত্যাচারিত এবং অনেকে সম্রাট নীরোর হাত দ্বারা মারা যাবে। হতে পারে একারণে মার্ক যীশুর দৃষ্টান্ত বা যীশুর অন্যান্য শিক্ষা বেশি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন না। প্রশ্ন করা যায়: কেন মার্ক ঠিক এই ৪টি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন?
নির্দেশনা
৪টি দৃষ্টান্ত বেশ পরিচিত। কিন্তু একবার এগুলো পড়ুন (যীশুর ব্যাখ্যাও পড়ুন) এবং চিন্তা করুন, অত্যাচারিত মানুষদের কাছে এই দৃষ্টান্তের গুরুত্ব বা অর্থ কি?
- বীজ বুনার দৃষ্টান্ত
- ঝুড়ি বা খাটের নীচে বাতি
- স্বর্গ রাজ্য <=> জমিতে বীজ থেকে ফসল
- স্বর্গ রাজ্য <=> সর্ষে-দানা বীজ বা গাছের মত
বিবেচনা করুন
- বীজ বুনার দৃষ্টান্তে: কিছু বীজ পাথুরে জমিত পড়ে, যেখানে বেশী মাটি নেই। যদিও গাছ তাড়াতাড়ি গজিয়ে ওঠে, সূর্যের কারনে তা পুড়ে যায়। যীশু বুঝিয়ে দেন যে, ঈশ্বরের বাক্যের জন্য যখন কষ্ট বা অত্যাচার আসে, তখনই তারা পিছিয়ে যায়। > দৃষ্টান্তটি সরাসরি অত্যাচারিত রোমীয় বিশ্বাসীদেরকে চ্যালোঞ্জ করে, যেন তারা পিছিয়ে না যায়, যেন তারা কষ্টে ও অত্যাচারেও স্থির থাকে।
- ঝুড়ি বা খাটের নীচে রাখা বাতির দৃষ্টান্ত: যা লুকানো, তাও প্রকাশিত হবে > বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যে বিশ্রী অত্যাচার চলছে, তা সব একদিন প্রকাশিত ও বিচারিত হবে, ঈশ্বর সব কিছু দেখেন। বাতি দেখা হবে > অত্যাচারে বিশ্বাসীদের বিশ্বস্ততা হল শক্তিশালী সাক্ষ্য যা লুকিয়ে থাকবে না বরং অনেকে দেখবে।
- স্বর্গ রাজ্য <=> জমিতে বীজ থেকে ফসল: যদিও এই মুহূর্তে মনে হতে পারে যে, ঈশ্বরের রাজ্যকে রোমে পিছানো হচ্ছে, তবুও এই রাজ্য ঠিকই বৃদ্ধি পাবে। কেউ জানবে না কিভাবে, কিন্তু তা-ই ঘটবে।
- স্বর্গ রাজ্য <=> সর্ষে-দানা বীজ বা গাছের মত, ছোট থেকে বড়: অত্যাচারের সময় মনে হতে পারে যে, স্বর্গ রাজ্য ছোট ও দুর্বল, কিন্তু তা তারপরেও বৃদ্ধি পাবে, ছড়িয়ে পড়বে এবং অনেকে (পাখি যেমন) তার মধ্যে আশ্রয় নেবে।
যীশুর এই দৃষ্টান্ত অনুসারে বাস্তবে ঘটল: সেই রোম এখন খ্রিষ্টান বিশ্বাসীদের অত্যাচার করবে, সেই রোম শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে খ্রিষ্টান ধর্মের একটি কেন্দ্র হয়ে যাবে।
নির্দেশনা
মার্ক ৪:১০-১২ পদ এবং ৪:৩৩-৩৪ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন: যীশু লোকদেরকে কেন দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দেন? কেন তিনি মাত্র শিষ্যদের কাছে দৃষ্টান্তের ব্যাখ্যাও প্রকাশ করেন? তিনি কি আসলে চান যেন মানুষ “শুনেও বুঝতে না পারে”? লক্ষ্য করুন কে কে দৃষ্টান্তের ব্যাখ্যা শোনার সুযোগ পায় (মার্ক ৪:১০)। এই পদের গুরুত্ব কি?
নির্দেশনা
প্রকৃতপক্ষে কথা বা শিক্ষার চেয়ে গল্প বেশি মনে থাকে, তাই দৃষ্টান্ত বলা হল যোগাযোগ করার একটি শক্তিশালী পদ্ধতি। একটি গল্প হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং তা শোনার অনেক পরেও মনে মনে চলতে থাকে। মার্ক ৪:১০ পদ বলে যে, যতজন যীশুর সঙ্গে থেকে যায়, যতজন জিজ্ঞাসা করে, যতজন জানার আগ্রহী – ততজনকেই যীশু দৃষ্টান্তের ব্যাখ্যা অবশ্যই দেন। মাত্র ১২জন শিষ্যদেরকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এমন নয়। বিষয়টি এই নয় যে, যীশু ‘গোপন জ্ঞান’ বা ‘গুপ্ত সত্য’ মাত্র বিশেষ লোকদের দান করেন। তা বিশেষ সম্পর্ক বা পদমর্যাদার উপরও নির্ভর করেন না, বরং তা জানার আগ্রহের উপর নির্ভর করে। যীশু কোন আগ্রহী অন্বেষণকারীকে বাদ দেন না, কিন্তু যারা মাত্র আশ্চর্য কাজ দেখার জন্য এসেছে, যারা গল্পে প্রবেশ করতে এবং চেতনা পেতে চায় না, তারা বুঝবে না।
০৮) মার্ক সুসমাচারে যীশুর শিক্ষা: ঈশ্বরের আইনকে অমান্য করা (পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য, কোরবান)
নির্দেশনা
লক্ষ্য করুন যে মার্ক তার সুসমাচারে যীশুর শিক্ষা বেশি দেন না। আবারও: মথি ও লূকের তুলনিয় মার্ক খুব কম দেন। যীশুর একটি শিক্ষা মার্ক ৭:১-২৩ পদে পাওয়া যায়। পদগুলো পড়ুন এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন: কি ঘটনার উত্তরে যীশু এই শিক্ষা দেন? কাদের সাথে তিনি অমত? যীশু তাদের ঠিক কি দোষ ধরেন? যীশু কি উদাহরণ দিয়ে তাদেরকে চেতনা দিতে চেষ্টা করেন? সব উপস্থিত লোকদের কাছে তার চ্যালেঞ্জ কি?
নির্দেশনা
ঘটনা এই: ফরীশীরা ও ধর্ম-শিক্ষেরা যীশুর শিষ্যদের দোষ ধরেন, কারণ তারা “পুরানো দিনের ধর্ম-শিক্ষকদের দেওয়া নিয়ম” অনুসারে খাবারের আগে হাত ধৌয় নি।
এখানে কিছু ব্যাখ্যা করা দরকার: “ধর্ম-শিক্ষদের দেওয়া নিয়ম” মানে কি? ধর্ম-শিক্ষকদের নিয়ম বাইবেলে ‘যিহূদী রাব্বীদের শিক্ষা’ বা ‘মৌখিক ঐতিহ্য’ও বলা হয়। তা ছিল মোশির আইন-কানুনের অনেক পরে যিহূদী পণ্ডিতদের দ্বারা দেওয়া আইনের ব্যাখ্যা বা যোগ দেওয়া নিয়মন। উদাহরণস্বরূপ মোশির আইন-কানুন বলে “বিশ্রাম দিন পালন করো!” কিন্তু এই আইনের চারিদিকে অনেক নিয়ম তৈরি হয়েছিল, বিশ্রামবারে কি কি অনুমোদিত এবং কি কি করা নিষেধ (যেমন: কতদূর হাটা যায়, কত কেজি বহন করা যায় ইত্যাদি)। আর একটি উদাহরণ: মোশির আইন-কানুনে শুচি-অশুচির বিষয়ে ধোঁয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর চারিদিকে অনেক নিয়ম তৈরি হয়েছিল (যেমন: ৩ বার হাত থেকে কনুই পর্যন্ত পানি না পড়লে তবে ঠিকমত ধৌঁয়া হয় নি)।
তাই যখন ধর্ম-শিক্ষকেরা শিষ্যদের দোষ ধরেন, তারা মোট বলে: ‘পরে দেওয়া নিয়মও পালন করতেই হয়’।
যীশু তাদের এই দাবি মানেন না। তিনি তা অপ্রয়োজনীয় ‘বাহ্যিক অনুশীলন’ বা ‘ধর্ম-কর্ম’ হিসাবে ধরেন। তিনি যিশাইয় ২৯:১৩ পদ উদ্ধৃতি করে তাদের দোষ ধরেন: “এই লোকেরা মুখেই আমাকে সম্মান করে, কিন্তু তাদের অন্তর আমার কাছ থেকে দূরে থাকে। তারা মিথ্যাই আমার উপাসনা করে, তাদের দেওয়া শিক্ষা মানুষের তৈরী কতগুলো নিয়ম মাত্র”।
ভিত্তিকভাবে যীশু বলেন: ‘তোমরা পরে যোগ দেওয়া নিয়মে গুরুত্ব দিতে দিতে ঈশ্বরের আসল আইন (অর্থাৎ মোশির আইন-কানুন) অমান্য করছ’। এর একটি উদাহরণ হিসাবে তিনি ‘কোরবান’এর বিষয় তোলেন:
কোরবান ছিল একটি পদ্ধতি, যাতে বৃদ্ধ মা-বাবর জন্য যোগান না দিয়ে বরং টাকা-পয়শা উপাসনা-ঘরে দান হিসাবে দেওয়া যেত। এভাবে আসল দায়িত্ব অমান্য করে পরিবর্তে ধর্ম-কর্ম করা এবং নিজের ধার্মিকতা প্রমাণ করা যেত (কিছু পণ্ডিত বলেন যে, মা-বাবার মৃত্যোর পরে টাকা-পয়শা ফেরত পাওয়ার একটি পথ ছিল। কিন্তু তা নিশ্চিত জানা যায় না)।
যীশু তাই বলেন “এইভাবে আপনারা আপনাদের চলতি নিয়ম শিক্ষা দিয়ে ঈশ্বরের বাক্য বাতিল করেছেন। এছাড়া আপনারা আরও এই রকম অনেক কাজ করে থাকেন”। চিন্তা করুন যীশু কথা কত সাহসী, চেতনাদায়ক – এবং অপ্রিয়!
তিনি সব উপস্থিত লোকদের বলেন “বাইরে থেকে যা মানুষের ভিতরে যায় তা মানুষকে অশুচি করতে পারে না, বরং মানুষের মধ্য থেকে যা বের হয়ে আসে তা-ই মানুষকে অশুচি করে” (মার্ক ৭:১৫)।
শিষ্যরা যখন এই বিষয়ে আরো জানতে চায় তখন যীশু তাদেরকে ‘বাহ্যিক অনুশীলন’ এবং ‘হৃদয় থেকে ঈশ্বরের বাক্যে বাধ্য হওয়া’ – এর পার্থক্য বুঝান (মার্ক ৭:১৮-২৩)। তিনি তা হাত ধৌঁয়ার উদাহরণ দিয়ে বুঝান: বাহ্যিক অনুশীলনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মানুষের হৃদয়, যেখান থেকে নানা পাপ শুরু হয়।
০৯) মার্ক সুসমাচারে যীশুর শিক্ষা: ঈশ্বরের আইনকে ভুল ব্যবহার করা (বিবাহ বিচ্ছেদ)
নির্দেশনা
মার্ক তার সুসমাচারে যীশুর আর একটি শিক্ষা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন: বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়। মার্ক ১০:১-১২ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন: কে কে যীশুর কাছে এসে বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে প্রশ্ন করে? তাদের উদ্দেশ্য কি? যীশু তাদের প্রথম প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দেন? তারা মোশির আইন কিভাবে ব্যাখ্যা এবং আইনটি কিভাবে ব্যবহার করতে চায়? যীশু তাদের এই মনোভাব কিভাবে চ্যালেঞ্জ করেন?
বিবেচনা করুন
ফরীশীরা যীশুর কাছে এসে তাকে পরীক্ষা করার জন্য এই প্রশ্ন করে। তাদের প্রশ্ন হল “স্ত্রী পরিত্যাগ করা কি পুরুষের পক্ষে বিধেয়?” অথবা “একজন স্বামীর কি স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি আছে?” (ইংরেজি অনুবাদ)।
যীশু উত্তরে তাদের জিজ্ঞাসা করেন: “মোশি আপনাদের কি আদেশ দিয়েছেন?” তারা উত্তরে বলে “তিনি ত্যাগপত্র লিখে স্ত্রীকে ছেড়ে দেবার অনুমতি দিয়েছেন।” তারা এখানে মোশি থেকে একটি নিয়ম নিয়ে আসে (দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১)। তারা এই আইন নিজের সুবিধার মত ব্যবহার করে: চাইলে একজন স্বামী স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে পারে, মাত্র নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি স্ত্রীকে ত্যাগ-পত্র দেন। ত্যাগ-পত্র দিলে সব ঠিক আছে। বিবাহ বিচ্ছেদ আইনগতভাবে যদি করা হয় তবে ঈশ্বরের আপত্তি নেই।
দ্বিতীয় বিবরন ২৪:১ পদ কি বলে যে, বিবাহ বিচ্ছোদ অনুমোদিত? চলবে? ভাল? এই আইনটি কি ঈশ্বরের হৃদয় বা তাঁর আসল ইচ্ছা প্রকাশ করে? – প্রকৃতপক্ষে আইনটি বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমোদন নয়, তা হল অগ্রহ্য করা স্ত্রীর জন্য একটি সর্বনিম্ন ন্যায্যতা তৈরি করার একটি আইন। স্বামী যদি একটি স্ত্রীকে পরিত্যাক্তি করে কিন্ত আইনগতভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ না করে, তবে স্ত্রীটি আটকে পড়ত। স্বামী তার জন্য আর দায়ীত্ব নেয় না, কিন্তু সে নতুন বিবাহও করতে পারে না। পুরুষদের ক্ষেত্রে বহুবিবাহ অনুমোদিত ছিল বলে স্বামী আটকে পড়ত না, চাইলে সে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারত। আইনটি তাহলে ‘ক্ষতি কামনোর আইন’, তা হল ‘স্ত্রীকে রক্ষা করার আইন’, তবুও বিবাহ বিচ্ছেদ কখনও ঈশ্বরের ইচ্ছা ছিল না।
এরজন্য যীশু ফরীশীদের বলেন “আপনাদের মন কঠিন বলেই মোশি এই আদেশ লিখেছিলেন।” অর্ধাৎ আইনটি বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমোদন হিসাবে নেওয়া উচিত না। তিনি ফরীশীদেরকে মোশির ‘ক্ষতি কমানোর আইনে’ নিয়ে যান না (দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১), বরং তিনি তাদেরকে নিয়ে যান ঈশ্বর আসলে শুরু থেকে বিবাহের জন্য কি চেয়েছিলেন: “কিন্তু এ-ও লেখা আছে যে, সৃষ্টির আরম্ভে ‘ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীলোক করে সৃষ্টি করেছিলেন (আদি ১:২৬-২৭)। এইজন্যই মানুষ মা-বাবাকে ছেড়ে তার স্ত্রীর সংগে এক হয়ে থাকবে, আর তারা দু’জন একদেহ হবে’ “ (আদি ২:২৪)। সেইজন্য তারা আর দুই নয়, কিন্তু একদেহ। তাহলে ঈশ্বর যা একসংগে যোগ করেছেন মানুষ তা আলাদা না করুক।” তাড়া আইনটি নিজের সুবিধা, স্বাধীনতা, ঈশ্বরের অনোমোদন বা অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করতে চায়, কিন্তু যীশু তাদের আইনের সঠিক ব্যবহার দেখান: ঈশ্বরের হৃদয় বোঝা এবং তা অনুসারে জীবন-যাপন করা।
মার্ক সুসমাচারে অবশ্যই আরো লক্ষণীয় বিষয় পাওয়া যায়, কিন্তু আমরা এখানে মার্ক পু্স্তকের অনুমোদন শেষ করব।
