ব্যাখ্যা

আমাদের প্রথম অংশে “মার্ক ০১ – লক্ষ্য করা” আমরা মার্ক সুসমাচারে অনেক বিষয় লক্ষ্য করেছি। সুসমাচারটি আরো ভালভাবে বুঝতে হলে আমাদের পুস্তকটির ঐতিহাসিক পরিস্থিতি নিয়ে অধ্যয়ন করতে হবে: কে এই সুসমাচার লিখেছিলেন? কাদের জন্য তিনি লিখেছিলেন? পাঠকদের সম্বন্ধে আমরা কি জানি? তাদের ইতিহাস কি? তাদের বর্তমান অবস্থা বা সমস্যা কি?

০১ ব্যাখ্যা প্রশ্ন – মার্ক সুসমাচার কাদের কাছে লেখা?

ভূমিকা

একটি পুস্তক বুঝতে গেলে, আমাদের অবশ্যই জানা দরকার, পুস্তকটি কাদের কাছে লেখা হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায় যে, মার্ক সুসমাচারে তা সরাসরি বলা হয় নি। অধিকাংশ চিঠিতে প্রাপকদের বা পাঠকদের উল্লেখ করা হয়েছে (যেমনঃ “পৌল … গালাতীয় মণ্ডলীগুলোর কাছে”, গালাতীয় ১:১-২), আমরা মার্ক সুসমাচারে তেমন কিছু পাই না। তাই পাঠকদের সম্বন্ধে কিভাবে জানব? উত্তর হল: সুসমাচার খুঁটিনাটি বিষয় ও কথা বলা ধরণ পাওয়া যায়, যা থেকে আমরা প্রাপক সম্বন্ধে ইঙ্গিত পেতে পারি।

নির্দেশনা

নিজে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং লক্ষ্য করুন, লেখক কিভাবে যিহূদীদের ঐতিহ্য ব্যাখ্যা করেন। এই বিষয় থেকে আমরা সুসমাচারের পাঠকদের সম্বন্ধে কি বুঝতে পারি?

  • মার্ক ৭:১-৫
  • মার্ক ৭:১১
  • মার্ক ১২:১৮
  • মার্ক ১৪:১২
  • মার্ক ১৫:৪২

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • মার্ক ৭:১-৫ ফরীশীদের নিয়ম বা অভ্যাস ব্যাখ্যা
  • মার্ক ৭:১১ “কর্ব্বান … অর্থাৎ ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করা হয়েছে।”
  • মার্ক ১২:১৮ “সদ্দুকীদের মতে মৃতদের জীবিত হয়ে ওঠা বলে কিছু নেই।”
  • মার্ক ১৪:১২ “উদ্ধার-পর্বের ভোজের জন্য ভেড়ার বাচ্চা কাটা হত।”
  • মার্ক ১৫:৪২ “সেই দিনটা ছিল আয়োজনের দিন, অর্থাৎ বিশ্রামবারের আগের দিন।”

পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, পাঠকেরা যিহূদী নয়, তারা যিহূদী সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বা নিয়ম সম্বন্ধে কিছু জানেও না। একারণে মার্ক এই ব্যাখ্যাগুলো যোগ দেন।
আরো বিবেচনা করুন যে মার্ক তার সুসমাচারে পুরাতন নিয়মের ভাববাণীের উদ্ধৃতি খুব কম দেন, যীশুতে ভাববাণীগুলো কিভাবে পূর্ণ হয়, তা নিয়েও বেশি কথা বলেন না। আমরা বুঝতে পারে যে, পাঠকেরা যিহূদী ছিল না, পুরাতন নিয়মও তেমন জানত না।

নির্দেশনা

নিজে দেওয়া পদগুলো পড়ুন। এই পদগুলোতে কি মিল পাওয়া যায়? তা থেকে আমরা সুসমাচারের পাঠকদের সম্বন্ধে কি বুঝতে পারি?

  • মার্ক ৩:১৭
  • মার্ক ৫:৪১
  • মার্ক ৭:৩৪
  • মার্ক ১৪:৩৬
  • মার্ক ১৫:২২
  • মার্ক ১৫:৩৪

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • মার্ক ৩:১৭    “এদের নাম তিনি দিলেন বোয়ানের্গিস, অর্থাৎ বজ্রধ্বনির পুত্রেরা।”
  • মার্ক ৫:৪১    “টালিথা কুম”, অর্থাৎ “খুকী, তোমাকে বলছি, ওঠো”
  • মার্ক ৭:৩৪    “তিনি … বললেন, ”এপ্ফাথা ” অর্থাৎ “খুলে যাও”
  • মার্ক ১৪:৩৬   “আব্বা, পিতা”
  • মার্ক ১৫:২২   “গলগথা, অর্থাৎ মাথার খুলির স্থান নামে একটি জায়গায়।”
  • মার্ক ১৫:৩৪   “এলোই, এলোই লামা শবক্তানী” অর্থাৎ “ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, কেন তুমি আমাকে ত্যাগ করেছ?”

দেখা যায় যে, লেখক অরামীয় ভাষার উক্তিগুলো দেন, কিন্তু তিনি সেগুলো সাথে সাথে গ্রীক ভাষায় (নতুন নিয়মে গ্রীক ভাষায় লেকা হয়েছে) অনুবাদ করেন। এটা থেকে বুঝা যায় যে, পাঠকেরা অরামীয় ভাষা জানে না, যদিও তারা গ্রীক ভাষা জানে। সেই সময় গ্রীক ভাষা ছিল ‘আন্তর্জাতিক ভাষা’ (যেমন আজে ইংরেজী), যা সারা রোম রাজ্যে প্রচলিত ছিল। অরামীয় ভাষয় প্রচলিত ছিল রোম রাজ্যের পূর্ব এলাকা, যেমন আজকের ইস্রায়েল, সিরিয়া, লেবানন, তুরষ্ক, ইত্যাদি। একারণে আমরা বুঝতে পারি যে, এই সুসমাচারের পাঠকেরা যিহূদী ছিল না, চারিদিকে এলাকারও নয়। তারা রোম রাজ্যের মাঝের বা পশ্চিম এলাকার লোক ছিল।
এছাড়া সুসমাচারের লেখক কিছু ক্ষেত্রে গ্রীক শব্দ ব্যবহার করার পরে, সেগুলো ল্যাটিন ভাষার শব্দটি দিয়ে বুঝিয়ে দেন:

  • মার্ক ১২:৪২    বিধবার দানের বিষয়ে বলা হয়েছে: “দুটি মুদ্রা (গ্রীক ‘lepta’) তাহাতে রাখিল, যাহার মূল্য সিকি পয়সা (ল্যাটিন ‘quadran’)।
  • মার্ক ১৫:১৬    “পরে সৈন্যেরা প্রাঙ্গণের (গ্রীক শব্দ) মধ্যে, অর্থাৎ রাজবাটীর (ল্যাটিন ‘praetorium’) ভিতরে …”

একারণে আমরা বুঝতে পারি যে, পাঠকেরা যদিও গ্রীক ভাষা বুঝে, তারা আসলে ল্যাটিন ভাষার লোক। ল্যাটিন ভাষা ইটালীতে প্রচলিত ছিল। আরো বিবেচনা করুন: লেখক খুব নির্দিষ্ট রোমীয় সরকারি বা সামরিক শব্দ ব্যবহার করেন, সেগুলো উপযুক্তভাবেও ব্যবহার করেন:

  • মার্ক ৫:৯        বাংলা ‘বাহিনী’              Legion             মানে রোমীয় সৈন্যদল (কয়েক হাজার সেনা)।
  • মার্ক ৬:২৭     বাংলা ‘জল্লাদ’                Speculator        মানে সেনা।
  • মার্ক ১৫:১৫   বাংলা ‘চাবুক মারা’             flagellare         রোমীয় আইন অনুসারে শাস্তি হিসাবে চাবুক দেওয়া।
  • মার্ক ১৫:১৬   বাংলা ‘প্রধান শাসনকর্তার বাড়ি’  Praetorium      রোমীয় সাশনকর্তার অফিস / হ্যাড্ কুয়টার্স।
  • মার্ক ১৫:৩৯    বাংলা ‘সেনাপতি’              Centurion       রোমীয় সেনাপতি ১০০জন সেনাদের উপরে।

এছাড়া আর একটি খুঁটিনাটি বিষয়: মার্ক যখন সময় উল্লেখ করেন, তিনি তা রোমীয় সময় পদ্ধতি ব্যবহার করেন। রোমীয়দের সময় পদ্ধতিতে রাত ৪টা ভাগে ভাগ করা হত (দারোয়ারদের সিফ্ট), যিহূদীদের সময় পদ্ধতিতে রাতে শুধু ৩টি ভাগে ভাগ করা হত:

  • মার্ক ১৪:১৭        সন্ধা ৯:৩০
  •                    রাত দুপুর ১২:০০
  • মার্ক ১৪:৭২        মুরোগের ডাক ২:৩০
  • মার্ক ১৫:১, ৬:৪৮   ভোর সকাল ৫:০০

মার্ক সুসমাচারের একটি খুব প্রাচীন দলিলে সুসমাচারের ভূমিকায় এই কথা পাওয়া যায়: “মার্ক পিতরের মৃত্যুর পরে রোম থেকে রোমীয়দের জন্য তার সুসমাচার লিখেছিলেন”। ১ পিতর ৫:১৩ পদ বলে যে মার্ক রোমে (‘বাবিলে’) পিতরের সহকর্মী ছিলেন।

সারাংশে বলা যায় যে, মার্ক সুসমাচারের পাঠকেরা যিহূদী ধর্মের নয়, যিহূদী জাতিরও নয়, তারা পুরাতন নিয়ম, যিহূদী সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বা নিয়ম জানে না। তারা গ্রীক ভাষা বুঝতে পারে, কিন্তু তারা ল্যাটিন ভাষার লোক, তাই সম্ভাবনা বেশি যে, তারা ইটালীতে বাস করে।
মোট কথা আমরা উপসংহারে আসতে পারি যে, মার্ক সুসমাচার রোম শহরের মণ্ডলীর জন্য লেখা হয়েছে।

০২ ব্যাখ্যা প্রশ্ন – রোম রাজ্যের এবং পাঠকদের ধর্মীয় পরিস্থিতি

নির্দেশনা

পাঠকদের সম্বন্ধে আরো জানতে হলে আমাদের রোম শহরের এবং রোম রাজ্যের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো বুঝতে হবে। নিচে রোমীয়দের ধর্মের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। চিন্তা করুন রোমীয় মণ্ডলীর বিশ্বাসীরা কি ধর্মীয় ব্যাকগ্রাউণ্ড থেকে এসেছিল। মনে রাখেন যে, একটি জাতির বিশ্বাস থেকে আসে তাদের মূল্যবোদ, তাদের চিন্তা ও আচরণ। রোমীয়দের ক্ষেত্রে তা পরিষ্কারভাবে বুঝা যায়।

  • প্রথমদিকে রোমীয়রা নানা আত্মা বা দেবতা পূজা করত। যেমন চুলার দেব, দরজার দেব, আকাশের দেব (যুপিটার / বৃহস্পতি), ভূমির দেবী ইত্যাদি।
  • যখন রোম শহর বৃদ্ধি পায় তখন এই দেবতাগুলো রাষ্ট্রীয় দেবতায় পরিণত হয়। যেমন আকশের দেব যুপিটার শপথ, চুক্তি ও ন্যায় বিচারের দেবতায় পরিণত হয় (হাত আকাশের দিকে তুলে শপথ করা হত বলে)।
  • যখন রোমীয়রা গ্রীসকে দখল করে, তখন তারা গ্রীকদের সমস্ত দেবতা গ্রহণ করে তাদেরকে নিজের দেবতার সঙ্গে মিলায়, যেমন যুপিটার = জিউস, হেরা = যুনো, মার্স = আরেস্ (বাংলা: মঙ্গল) , ভিনাস = আফ্রদিত (বাংলা: শুক্ল) ইত্যাদি।
  • রোমীয়দের আত্মিক কাহিনী: রোমীয়রা দাবি করে যে, তাদের উৎস গ্রীকদের থেকে। এটা দেখায় যে, তারা নিজেদেরকে গ্রীকদের চেয়ে ছোট মনে করে (বুদ্ধির ক্ষেত্রে ও আত্মিক ক্ষেত্রে); যদিও তারা সৈন্য ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গ্রীকদের দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। সম্রাট আগস্তের সময়ে রোমীয়দের আত্মিক কাহিনী কবি ভির্গীল (Virgil) দিয়ে লিখে রাখা হয় (যেমন গ্রীকদের আত্মিক কাহিনী অনেক আগে হোমের (Homer) দিয়ে লিখে রাখা হয়েছিল)।
  • ভির্গীলের কাহিনী বলে যে, তিন দেবী (হেরা Hera – বিবাহের দেবী, আথেনা Athena- প্রজ্ঞার দেবী ও শুক্ল Venus – কামনা ও প্রেমের দেবী) ত্রোয়া শহরের রাজপুত্র পারিসকে (Paris) সিদ্ধান্ত নিতে বলেন, তাদের মধ্যে কে সবচেয়ে সুন্দরী। পারিস ভিনাসকে (বাংলা: শুক্লকে) পছন্দ করেন।
  • তাই শুক্ল (কামনা-বাসনা, যৌনতা, প্রেম, ব্যাভিচার ও পতিতাদের দেবী) ত্রোয়া শহরের সুরক্ষাকারী দেবী হয়ে যান।
  • এক সময়ে ত্রোয়ার একজন রাজপুত্র যখন শুক্ল দেবীর সাথে ব্যাভিচার করেন তখন একজন ছেলের জন্ম হয়, যার নাম এ্যনেয়াস (Aeneas)।
  • গ্রীকেরা ত্রোয়া শহরকে আক্রমণ ও পরাজিত করে এবং ফলে এ্যানেয়াস ধ্বংস করা ত্রোয়া শহর ত্যাগ করে ইটালীতে এসে যেখানে বাস করে।
  • রোমীয়রা এই এ্যানেয়াসকে তাদের আদিপিতা বলে সম্মান করে। তাই রোমীয়রা শুক্ল দেবীর বংশধর বলে নিজেদেরকে দেবতাজাত মনে করতে থাকে।
  • ভির্গীলের কাহিনী আরো বলে যে, মার্স (বাংলা: মঙ্গল), যিনি শারীরিক শক্তি, যুদ্ধ, দখল ও সৈন্যের দেব, তিনি রোমীয় একটি মন্দিরের কুমারীকে ধর্ষণ করেন। মহিলাটি দ্বারা দুইটি যমজ বাচ্চার জন্ম হয়: তাদের নাম রোমুলাস (Romulus) ও রেমাস (Remus)।
  • মহিলাটিকে বন্দী করা হয় এবং বাচ্চাদের টিবের (Tiber) নদীর পাড়ে পরিত্যাক্ত করা হয়। একটি নেকরেবাঘ বাচ্চাদের খাওইয়ে বড় করে। রোমুলাস ও রেমাস রোম শহর স্থাপন করেন।
  • তাই রোমীয়রা এখন দুইদিকে দেবতাজাত হয়ে গেছে: শুক্ল থেকে এ্যানেয়াস দ্বারা এবং মঙ্গল থেকে রোমুলাস ও রেমাস দ্বারা।
  • রোম শহরকে ল্যাটিন ভাষায় ROMA বলা হয় (যার অর্থ হল ‘শক্তি’ বা ‘মঙ্গল’), এবং এই অক্ষর উল্টালে AMOR-ও বলা হয় (যার অর্থ হল ‘প্রেম’ বা ‘শুক্ল’)।
  • পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের দুটি গ্রহের নাম তাদের নামানুসারে মঙ্গল ও শুক্ল গ্রহ রাখা হয়। আজ পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহের চিহ্ন মানে ‘পুরুষ’ ও শুক্ল গ্রহের চিহ্ন মানে ‘মহিলা’।
  • মঙ্গল হল শারীরিক শক্তি, যুদ্ধ, দখল ও সৈন্যের দেব এবং শুক্ল হল কামনা-বাসনা, যৌনতা, প্রেম, ব্যাভিচার ও পতিতাদের দেবী। যদি একটি জাতি এমন দেব-দেবীর পূজা করে, তাহলে কি কি ফলাফল দেখা দেবে?
    • বিবাহ নিয়ে নীচু চিন্তা, ব্যাভিচার, মহিলাদের শুধু যৌনতার জন্য দেখা, অস্থির ও ভাঙ্গা পরিবার, পরিত্যাক্ত বাচ্চা
    • শারীরিক শক্তি, জয়, যু্দ্ধ, দখল, সৈন্য ও যৌনতাকে বড় মনে করা, সাথে গন্ডগোল, খুন, যন্ত্রনা দেওয়া, ক্ষমার অপব্যবহার, ধর্ষণ থাকবে।

রোমীয় ইতিহাসে ঠিক তাই দেখা যায়।

০৩ ব্যাখ্যা প্রশ্ন রোম রাজ্যের এবং পাঠকদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি

নির্দেশনা

রোমীয় পাঠকদের সম্বন্ধে আরো জানতে চাইলে আমাদেরকে রোম শহরের এবং রোম রাজ্যের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বুঝতে হবে। নিচে রোমীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাস একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

রোম রাজ্যের ইতিহাস
  • ৭৫৩ খ্রীঃপূঃ কয়েকটি ল্যাটিন ভায়ার গ্রামগুলি অন্য জাতিদের ও বাইরের অত্যাচারীদের হাত থেকে নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য একটি চুক্তি করেন। গ্রামগুলি কয়েকটি পাহাড়ের উপরে ছিল > বর্তমান রোম শহর। গ্রামগুলি বৃদ্ধি পায়।
  • ৫১০ খ্রীঃপূঃ গ্রামগুলি একটি শহরে পরিণত হয়; যার প্রজাতান্ত্রিক সরকার আছে: সংসদ, যারা জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে রাজত্ব করেন। তারা বিশেষ কাজের জন্য অফিসার নিযুক্ত করতে পারতেন। তারা ২জন রাজ্যের মন্ত্রী নিযুক্ত করতেন যাদের সৈন্যের উপরে অধিকার ছিল। ২ জন মন্ত্রীর ক্ষমতা সমান ছিল, কিন্তু ক্ষমতা থাকত মাত্র ১ বছরের জন্য > যেন অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে না উঠে।
    রোম শহর বৃদ্ধি পায়, চারিদিকের জাতিগুলি দখল করতে শুরু করে। দখল করার উদ্দেশ্য ছিল না ‘পৃথিবীকে দমন বা জয় করা’ (যেমন আলেকজান্ডার) বরং একটি ভাল সীমানা খুঁজে পাওয়া, যা সহজে সুরক্ষা করা যায়। আস্তে আস্তে সারা ইটালি দখল করে। তাদের উদ্দেশ্য: রোমীয় শান্তি (Pax Romana) স্থাপন করা।
  • সাগর পর্যন্ত সীমানা (রাজত্ব) > তারা নৌবাহিনীসংক্রান্ত ক্ষমতাধর হয়ে উঠে। তাই ভূমধ্যসাগরের নৌ ক্ষমতাধরের সাথে লড়াই শুরু: কার্থাগো (আজকের টুনিশিয়া), যা ফৈনীকীয়দের একটি উপনিবেশ।
  • ২৬৪-১৪৬ খ্রীঃপূঃ কার্থাগের বিরুদ্ধে ৩টি বড় যুদ্ধ (Carthage)। রোম জয়ী হয় এবং ভূমধ্যসাগরের উপরে প্রধান নৌ ক্ষমতাধর হয়ে উঠে।
  • ১৪৭ খ্রীঃপূঃ রোম গ্রীসকে দখল করে। গ্রীসকে রোম রাজ্যের একটি প্রদেশ বানায় ও করিন্থ শহরকে তার রাজধানী হিসাবে গঠন করে।
  • দখল করতে করতে নতুন বিষয় শুরু: দখল > ধন বৃদ্ধি > রোমীয়রা অভিলাষে অভ্যস্ত > সেচ্ছাচারী জীবন-যাপন (অবক্ষয়)।
    • দখল > দখল করা লোকদের দাস বানায় > অনেক দাস > রোমীয় নিচু শ্রেণীর লোকেরা বেকার > তাদের খুশি রাখা দরকার: “খাবার ও খেলা” > বিনোদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে (গ্রীক ধরণের: যুক্তি-তর্ক, জ্ঞানের প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, অলিম্পিক, বাকপটুতা, সৌন্দর্য্য… বা রোমীয় ধরণের: গন্ডগোল, মৃত্যু পর্যন্ত খেলা (গ্ল্যাডিয়েটর খেলা)) > রোমীয় শহরের কেন্দ্র বিরাট স্টেডিয়াম বানায় (Circus Maximus), থিয়েটার, ঘোড়াগাড়ী দৌড়ের মাঠ।
    • দখল > রোমীয়রা প্রত্যেক দখল করা দেব-দেবতা নিজেদের হিসাবে গ্রহণ ও পূজা করতে শুরু করে > রোমে গোল করা একটি দালানে (Pantheon) সব মূর্তি রাখত > সব দেব-দেবতাদের সন্তু‌ষ্ট করতে চেষ্টা করে > যারা তা করত না তারা ‘রাষ্ট্রীয় শত্রু’ হয়ে যেত, কারণ তারা রাজ্যের উপর দূর্ভাগ্য নিয়ে আসে।
    • দখল > গ্রীস দখল > অনেক শিক্ষিত দাস পায়, যাদের শিক্ষক, উকিল বা ব্যবসায়ী হিসাবে ব্যবহার করত > গ্রীক সংস্কৃতি রোমকে ‘দখল’ করে > গ্রীক ভাষা রাষ্ট্রীয় ভাষা হয়ে যায়।
    • দখল > অনবরত ‘জরুরী অবস্থা’ > অস্থায়ীভাবে আগের চেয়ে শক্তিশালী একজন প্রধান নেতা নিযুক্ত (Dictator) > যুদ্ধের পরে তার এই অধিকার ছেড়ে দিতে হত (আস্তে আস্তে তারা ক্ষমতা ছাড়তে চাইতো না)। … সময় যেতে যেতে সংসদ মাত্র ১০টি সবচেয়ে শক্তিশালী পরিবার দিয়ে পরিচালীত (প্রতিনিধিত্ব কম! ক্ষমতা বেশী!)।
    • দখল > নতুন প্রদেশ > বিভিন্ন নতুন প্রদেশের শাসনকর্তা নিযুক্ত > সৈন্য ও কর তোলার অধিকার উভয়ই তাদের (শাসনকর্তার) হাতে > অর্থাৎ, একজনের হাতেই অর্থ ও সৈন্য > ফলে সেনারা সংসদদের চেয়ে শাসনকর্তাদের বেশী গুরুত্ব দেয় > প্রদেশের শাসনকর্তাদের অধিকার ৫ বছর পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়।
প্রজাতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্র: জুলিয়াস কৈসর ৪৮ – ৪৪ খ্রীঃপূঃ
  • ১০০ খ্রীঃপূঃ গাইয়াস জুলিয়াস কৈসর একটি উচু শ্রেণীর রোমীয় পরিবারে জন্ম নেন
  • ৮০ খ্রীঃপূঃ জুলিয়াস ২০ বছর বয়সে সাহসী বিজয়ী সেনাপতি হিসাবে পরিচিতি পান, সেনাদের সাথে ভাল মিশে / সুসম্পর্ক > বিখ্যাত, জনপ্রিয় হয়ে যান
  • ৬৫ খ্রীঃপূঃ ৩৫ বছর বয়সে তিনি পন্তিফেক্স্ মাক্সিমাস (Pontifex Maximus) হয়ে যান, রোমীয় ধর্মের মহাপুরোহিত
  • ৬৩ খ্রীঃপূঃ রাজ্যের মন্ত্রী পম্পেয় সিরিয়া ও যিহূদীয়া দখল করে রোম রাজ্যের অধীনে আনেন। তিনি রাজা হেরোদকে স্থানীয় রাজা হিসাবে এই বিশৃঙ্খল প্রদেশর রাজত্ব করার অধিকার দেন। তার জয়ের কারণে পম্পেয়ের সুনাম ও ক্ষমতা বাড়তে থাকে, কিন্তু তিনি সংসদ সদস্যদের বশীভূত হতে থাকেন।
  • ৬১ খ্রীঃপূঃ জুলিয়াস স্পেনের শাসনকর্তা হন > সৈন্য ও ট্যাক্স তোলার অধিকার তার হাতে আসে > ক্ষমতা এবং টাকা। তিনি প্রত্যেক আক্রমণে এগিয়ে যান, সেনাদের সাথে কষ্টভোগ করেন, কোনো বিশেষ অভিলাষ দাবী করেন না > সেনারা তাকে ভালবাসত > তার জনপ্রিয়তা, সুনাম ও ক্ষমতা বাড়তে থাকে, য়ে ভয়ও বাড়তে থাকে।
  • ৬১ খ্রীঃপূঃ সংসদ ৩জন রাজ্যের মন্ত্রী নিযুক্ত করে: পম্পেয়, জুলিয়াস ও ক্রাসাস্। ৩জনই খুব জনপ্রিয় ও শক্তিশালী সেনাপতি।
  • আস্তে আস্তে জুলিয়াস সংসদ সদস্যদের ঘুষ দিতে দিতে একজন একজন করে তার বাধ্য করান, তাদের সুযোগ-সুবিধা দেন। জুলিয়াসের নীতি হল: veni, vidi, vici … “আমি আসলাম, দেখলাম ও জয় করলাম”।
  • জুলিয়াস গোল (Gaul, বর্তমান ফ্রান্স) প্রদেশের শাসনকর্তা হন > আরো টাকা, আরো সেনা, তাদের নাগরিকতা দিয়ে খুশি করেন, ব্রিটেন দখল করতে শুরু করেন।
  • রাজ্যের মন্ত্রীরা পরস্পর্কে সন্দেহ করতে শুরু করেন। ক্রাসাস তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে চেষ্টা করে > পার্থীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন > যুদ্ধে মারা যান।
  • ৪৮ খ্রীঃপূঃ সংসদ সদস্যরা জুলিয়াসকে নিয়ে ভয় পান এবং তারা তাকে রাজ্যের মন্ত্রী পদ থেকে নামায় ও তাকে “রাজ্যের শত্রু” হিসাবে ঘোষনা করে। জুলিয়াস তার সৈন্য নিয়ে রোমে রওনা দেন, রোম রাজ্যের অন্যান্য সৈন্যদের পরাজিত করেন ও রাজধানী রোমকে দখল করেন। তিনি সংসদ সদস্যদের বাধ্য করেন তাকে “সম্রাট” হিসাবে নিযুক্ত করতে। তিনি সংসদ সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করে তার অধীনে আনেন।
  • ৩৮ খ্রীঃপূঃ সংসদ বাধ্য হয়ে তাকে “মৃত্যু পর্যন্ত সম্রাট” হিসাবে নিযুক্তি করেন ৭ নম্বর মাসকে তার নাম অনুসারে জুলাই বলা শুরু হয়। রোম রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তাকে দেবতা হিসাবে পূজা করতে শুরু করে।
  • তিনি বড় বড় খেলাধূলার ব্যবস্থা করেন: গ্ল্যাডিয়েটরদের যুদ্ধ, ঘোড়া-গাড়ী দৌড়, পুকুরে নকল জাহাজের যুদ্ধ ইত্যাদি।
  • তিনি ব্যাভিচারের জন্য বিখাত ছিল। তার সম্বন্ধে একটি প্রচলিত প্রবাদ: “জুলিয়াস প্রত্যেক স্ত্রীর স্বামী এবং প্রত্যেক স্বামীর স্ত্রী”।
  • তিনি জীবনের শেষদিকে এমন অহংকারী হয়ে যান যে তার আরাধনাকারীদের বা সমর্থনকারীদের ধন্যবাদও দিতেন না, বরং তাদের না দেখার ভান করতেন > তার জনপ্রিয়তা তাড়াতাড়ি কমতে থাকে।
  • ৪৪ খ্রীঃপূঃ সংসদের পরামর্শে ব্রুটুস ও কাসিয়াস নামে দুইজন লোক তাকে খুন করে। তার মৃত্যুর সময় থেকে তাকে দেব হিসাবে ঘোষিত ও পূজা করা শুরু হয়, বিশেষভাবে যেহেতু তার মৃত্যুর সময়ে একটি ধুমকেতু আকাশে দেখা দিয়েছিল।
অস্থিরতা ও আবারও একনায়কতন্ত্র: আগস্থ কৈসর ২৭ খ্রীঃপূঃ -১৪ খ্রীঃ
  • ৪৪-৩১ খ্রীঃপূঃ রোম রাজ্য অস্থির ও নিরাপত্তাহীন। গাইয়াস ওক্টাভিয়াস আগস্থ ছিলেন জুলিয়াসের একজন ভাগ্নের ছেলে, যাকে জুলিয়াস নিজের ছেলে হিসাবে দত্তক নিয়েছিলেন। যখন জুলিয়াসকে খুন করা হয় তখন তিনি গ্রীসে পড়াশুনা করতেন, তার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি রোমে ফিরেন পরবর্তী সম্রাট হিসাবে তার পদ দাবী করতে, কিন্তু সংসদ ও ব্রুটুস তাকে প্রত্যাখান করে।
  • ৪৩ খ্রীঃপূঃ এন্টনী নামে একজন সেনাপতি আস্তে-আস্তে ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা পেতে থাকেন। সংসদ সদস্যরা তাকে ভয় পান এবং আগস্থকে সংসদের সদস্য হিসাবে নিযুক্ত ও এন্টনীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তাকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করতে সিদ্ধান্ত নেন।
  • ৪৩-৪২ খ্রীঃপূঃ ব্রুটুস এবং এ্যন্টনীর ক্ষমতার লড়াই। আগস্থ এ্যন্টনীকে সমর্থন করেন ও তারা একসাথে ব্রুটুসকে পরাজিত করে, ব্রুটুস পালিয়ে আত্ম-হত্যা করেন। পরে আগস্থ তার সৈন্য নিয়ে রোম শহর আক্রমন করেন > সংসদ ভিত।
  • ৪২ খ্রীঃপূঃ সংসদ আবারও ৩জন রাজ্যের মন্ত্রীকে নিযুক্ত করেন: আগস্থ, এ্যন্টনী ও লাপিদাস। বিভিন্ন যুদ্ধে / প্রতিদ্বন্দ্বিতে / কৌশলের ফলে লাপিদাস ও এ্যন্টনী মারা যান এবং আগস্থ শুধুমাত্র মন্ত্রী হিসাবে থেকে যান। তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে কারণ তিনি নানা যুদ্ধ জয় করেন। তিনি বুদ্ধিমান, সম্পর্ক রক্ষা করতে, কথা বলতে ও ভাল লোকদের নিযুক্ত করতে জানেন। তিনি ছিলেন চমৎকার ব্যবস্থাপক।
  • তিনি আস্তে-আস্তে ও চুপেচুপে নিজের ক্ষমত বৃদ্ধি করেন ও সংসদের অধিকার একটি পর একটি কমাতে থাকেন। বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের তিনি চুপেচুপে খুন করাতে থাকেন। তিনি নিজের মন্ত্রীত্বের সময় বর্ধিত করতে থাকেন। আগষ্ট মাস তার নাম অনুসারে রাখা হয়। তিনি রোম শহরে নানা চমৎকার দালান ও মন্দির বানান।
  • যেহেতু জুলিয়াসকে ‘দেব’ বা ‘ঈশ্বর’ বলা হত, তারা আগস্থকে ‘ঈশ্বরের পুত্র’ হিসাবে ডাকতেন। তিনি রোম ধর্মের প্রধান পুরোহিত হয়ে যান। তিনি নিজেকে ‘শান্তি রাজ’ টাইটেল দেন।
  • তার ৪১ বছরের রাজত্বে রোম রাজ্যে শান্তি, স্থিরতা ও অর্থনৈতিক সুঅবস্থা বিরাজ করে। যখন আগস্থ মারা যান, রোমীয়রা আর জানত না যে রোম একসময় গনতান্ত্রিক রাজ্য ছিল। রাজ্য এখন থেকে একনায়কতন্ত্র এবং তার পরের সম্রাটেরা একজনের চেয়ে পরেরটা আরো খারাপ হতে থাকে।
  • তার সময়ে যীশু জন্ম গ্রহন করেন, তিনি আদমশুমারী করার আদেশ দেন যাতে মরিয়ম ও যোষেফ বৈৎলেহেমে যায়।
গনতন্ত্রে ফেরার প্রচেষ্টা: তিবিরিয় কৌসর ১৪-৩৭ খ্রীঃ
  • তিবিরিয় ছিলেন আগস্থের একটি স্ত্রীর আগের বিবাহের ছেলে। তিনি ভাঙ্গা পরিবারে বড় হন। ১৬ বছর বয়সে তিনি সেনাদলে যোগ দেন, স্পেনে সহস্রপতি হন। তিনি সেনাদের সাথে মিশতেন, নিজের গৌরব নিয়ে ব্যাস্ত থাকতেন না > সেনাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পান। ইল্লুরিকা দখল করে ও রোম রাজ্যের অধীনে আনে > তার জনপ্রিয়তা বাড়ে।
  • ২৩ খ্রীঃ তাকে বিচারক (Quaestor) হিসাবে নিযুক্ত করা হয় > ন্যায় বিচার করার কারণে আরো জনপ্রিয় হন। ১৩ খ্রীঃ আগস্থ তাকে তার সঙ্গে সহ-রাজত্ব করতে দেন।
  • আগস্থ জোর করে তার কন্যা জুলিয়ার সাথে তিবিরিয়ের বিয়ে দেয়, জুলিয়া নির্লজ্জ জীবন-যাপন করতেন, তিবিরিয়ের পারিবারিক জীবন উল্টা-পাল্টা হয়, তিনি নিরাশায় ভুগেন, অন্যদের সাথে মিলামিশা বন্ধ করেন, মদ আশক্ত হন।
  • তারপরেও তিনি চমৎকার ব্যবস্থাপক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সম্রাট ছিলেন, তার রাজত্বের সময় রোম রাজ্য স্থির ও সুঅবস্থা লাভ করে, তিনি ঘুষ ও অভিলাষ ঘৃণা করতেন, একটু কৃপণ ছিলেন, বিরাট খেলাধূলার ব্যবস্থা করতেন না > তার জনপ্রিয়তা কমে। তিনি তার পূজা অস্বীকার করতেন ও চাইলেন যে রোমে আবার গনতন্ত্রে ফিরে আসে, কিন্তু তার প্রচেষ্টা নিসফল হয়।
  • তিনি আরো মদ-আশক্ত হতে থাকেন, কারও সাথে মিশতেন না, তার মায়ের দাফন অনুষ্ঠানেও যান নি, একাএকা থাকেতন, গন্ডগোল, লড়াই ও মৃত্যুদন্দ্ব বিনোদন হিসাবে দেখতেন, কূসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন, ইচ্ছে মত খুন করাতেন, তার নিজের সন্তান পর্যন্ত খুন করাতেন ইত্যাদি।
  • তার সময়ে যীশুর পরিচর্যা, মৃত্যু ও পুনরুথান ঘটে।
৪ বছরের মধ্যে রাজ্যের ধ্বংস: গাইয়াস কালিগুলা কৈসর ৩৭-৪১ খ্রীঃ
  • তার বাবা ছিলেন জুলিয়াসের পরিবারের, তিনি সেনাদের সাথে বড় হয়েছিলেন। তিবিরিয় তাকে দত্তক নিয়েছিলেন ও তাকে সংসদ দিয়ে নতুন সম্রাট হিসাবে নিযুক্ত করা হল।
  • তিনি আগস্থের ও তিবিরিয়ের সময়ে জমানো অর্থ ৪ বছরের মধ্যে নষ্ট করেন, ট্যাক্স কমান, অনেক দালান বানান, অনবরত খেলাধূলা চালান > জনপ্রিয়।
  • তিনি হিংস্র ও গন্ডগোলের লোক, যন্ত্রনা ও মৃত্যুদন্দ্ব বিনোদন হিসাবে দেখতেন, অনবরত লোকদের খুনের আদেশ দিতেন, তার ভোজ ও যৌনতা ছিল বর্ণনার বাইরে। এমন কোনো পাপ নেই যা তিনি না করতেন।
  • তিনি তার নিজের পূজা দাবী করতেন, নিজেকে ‘ঈশ্বর’ হিসাবে ঘোষনা করতেন, নিজের উদ্দেশ্যে মন্দির বানাতেন, বিভিন্ন মন্দিরে সব দেব-দেবতার মূর্তির মাথা কেটে তার মাথা লাগাতেন।
ক্লৌদিয় কৈসর ৪১-৫৪ খ্রীঃ
  • ক্লৌদিয় ছিলেন প্রতিবন্ধী, তার মা তাকে ‘দানব’ বলত ও সারা পরিবার তার অবস্থা নিয়ে লজ্জ্বিত ছিল > তিনি একা ও কষ্টে বড় হন, বুদ্ধিমান ছিলেন, কিন্তু নিরাশিত ও মদ-আশক্ত।
  • তিনি ছিলেন কালিগুলার আঙ্কেল। তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্রাট হিসাবে ঘোষিত করা হল। কালিগুলা মারা যাওয়ার সময়ে তিনি নিজেকে লাকিয়ে রেখে সম্রাট হওয়া এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছিলেন।
  • তিনি ছিলেন ভাল ব্যবস্থাপক, প্রজ্ঞাপূর্ণ সম্রাট, ন্যায় বিচারে সমর্পিত। তিনি ভাল আইন তৈরী করতেন, যেমন অসুস্থ দাসদের সুরক্ষা করার একটি আইন। প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি সেনাপতি হন নি, কিন্তু তিনি সৈন্যে গুরুত্ব ও ভাল বেতন দিতেন। তার রাজত্বে রোম রাজ্য আরো এলাকা দখল করে: খ্রেকিয়া, মোরেটেনিয়া, লুকিয়া।
  • তারপরেও জনগণ তাকে নিয়ে সন্দেহ করত ও তাকে পছন্দ করত না।
  • এমন ধর্ম যা নিজেকে রোম ধর্মের সাথে মিলে, তিনি তা সম্মান করতেন, কিন্তু যে ধর্ম নিজেদের অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসাবে দেখাতো (যেমন যিহূদী ধর্ম) তিনি তাদের অত্যাচার করতেন। ৪৯ খ্রীঃ রোমে একটি আন্দোলনের কারণে (‘খ্রেষ্টস্ নামে একজনকে নিয়ে’) তিনি যিহূদীদের ইটালী থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন (প্রেরিত ১৮:২)
  • তার রাজত্বের সময়ে যিহূদীয়া ও সিরিয়ায় একটি বড় দুর্ভিক্ষ হয় (প্রেরিত ১১:২৭-৩০)।
  • ক্লৌদিয় ব্যক্তিগতভাবে হিংস্র ছিলেন, লড়াই দেখতে পছন্দ করতেন, জূয়া খেলতে পছন্দ করতেন। প্রতিবন্ধী বলে তাকে অগ্রহ্য করা হত, তিনি ভালবাসা খুঁজতেন। তিনি বেশী খাবার ও বেশী মদ খেতেন, মদ খেয়ে রীতিমত বমি করতেন।
    কম পক্ষে ৬ বার তাকে খুন করতে চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি প্রত্যেক বার বেঁচে যান।
  • তিনি ২ বিয়ে করেন, আবারও তালাক দেন, প্রত্যেক স্ত্রীর ঘরে একটি করে সন্তানও ছিল। শেষে তিনি আগ্রিপ্পিনাকে ৩য় বিয়ে করেন। আগ্রিপ্পিনার আগের ঘরে একটি সন্তান ছিল: নীরো। তিনি তাকে দত্তক নেওয়ার জন্য ক্লোদিয়কে বাধ্য করেন। দত্তক নেওয়ার পরেই আগ্রিপ্পিনা ক্লৌদিয়কে খুন ও নীরোকে নতুন সম্রাট হিসাবে ঘোষিত করেন। নীরোর বয়স ছিল ১৭ বছর। তার মা তার পক্ষে রাজত্ব করতেন।
নীরো কৈসর ৫৪-৬৭ খ্রীঃ
  • তার শিক্ষক ছিলেন একজন বিখ্যাত দার্শনিক ও শিশু যৌন নির্যাতক: সেনেকা (Seneca)। যতক্ষণ সেনেকা তার শিক্ষক ছিলেন নীরো মোটামুটি উপযুক্তভাবে জীবন-যাপন করতেন।
  • নীরো সব শ্রেণীর লোকদের সাথে মিশতে পছন্দ করতেন, মিশুক ছিলেন, একবার দেখা হলে কোন মুখ ভুলে যেতেন না, দানশীল ও প্রিয় পাত্র হতে পছন্দ করতেন, তাই ট্যাক্স কমাতেন, উৎসবে সবাইকে দামী দামী উপহার দিতেন।
  • তার মা আগ্রিপ্পিনা চেয়েছেন যেন নীরো তাকে সম্রাজ্ঞী হিসাবে ঘোষিত করেন, নীরো তা প্রত্যাখান করেন। এর পরে আগ্রিপ্পিনা ও নীরো পরস্পর্কে খুন করাতে চেষ্টা করতে থাকেন, নীরো এই যুদ্ধে জয় করে তার মা মারা যান।
  • নীরো সৈন্য অপছন্দ করতেন ও তাদের বেতন কমান, ফলে তার বিরুদ্ধে সেনাদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
  • নীরো নানা প্রকার বড় খেলা-ধূলার ব্যবস্থা করতেন: ঘোড়া-গাড়ী দৌড়, গ্লেডিয়েটর লড়াই, পুরুষ-মহিলা লড়াই। কিন্তু শুরুতে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত খেলাগুলি নিষেধ করতেন, তাই রোমীয়রা তাকে নিয়ে খুশী ছিল না।
  • নীরো বরং কবিতা, নাটক, নাচ, গান-বাজ্না ইত্যাদি পছন্দ করতেন ও নিজেকে “সর্বচ্চো শিল্পি” হিসাবে দেখতেন। তিনি একটি চমৎকার চিড়িয়াখানা স্থাপন করেছিলেন।
  • তিনি গান প্রতিযোগিতা চালাতেন, নিজেই গান গাইতেন, এমন দীর্ঘক্ষণ গান গাইতেন যে আর কেউ গান গাওয়ার সুযোগ পেত না বলে তাকে জয়ী হিসাবে ঘোষণা করা হত।
  • তিনি ক্রীড়াবিদ হিসাবে গ্রীসের অলিম্পিকে যেতেন প্রতিযোগিতা করার জন্য, কিন্তু শেষ না করার পরেও তাকে সর্বচ্চো পুরুষ্কার দেওয়া হত। তিনি শিল্পি হিসাবে গান গাইলে দরজা বন্ধ করে রাখা হত যেন কেউ বাইরে যেতে না পারে; এমন কি গর্ভবতী মহিলা বাইরে যেতে না পেরে সেখানেই বাচ্চা প্রসব করার ঘটনাও পাওয়া যায়।
  • সময় যেতে যেতে নীরো নিজেকে প্রত্যেক আনন্দে, প্রত্যেক আকাংখায়, প্রত্যেক কামনা-বাসনায় দিয়ে দেন। তিনি কাপড় বদলিয়ে চোর হিসাবে রাস্তা-ঘাটে ঘুরতেন, পানশালা থেকে ফিরার লোকদের খুন করতেন, ভোজের উপরে ভোজের ব্যবস্থা করতেন। তার ভোজের বর্ণনা কথায় বলে বোঝানো যায় না। তিনি অনবরতভাবে সম্পর্ক বদলিয়ে উভয় মহিলা ও পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্ক রাখতেন। যেমন তিনি একটি যুবককে বিয়ে করে তাকে মহিলার কাপড় পড়িয়ে সব জায়গায় নিয়ে যেতেন।
  • তার প্রথম স্ত্রী ছিল ওক্টাভিয়া, তাকে তিনি খুন করে তার সম্পত্তি চুরি করেন। পরে তিনি বিবাহিতা পোপ্পেয়াকে বিয়ে করেন, পরে তাকে গর্ভবস্থায় পদাঘাত করে মেরে ফেললেন। পরে আর একটি মহিলার স্বামীকে মেরে ফেলে তাকে বিয়ে করেন। পরে
  • ক্লৌদিয়ের কন্যেকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি প্রত্যাখান করেন, তাই তাকে মৃত্যুদ্বন্দ্ব দেন। তিনি ৬০-৬৪ খ্রীষ্টাব্দে রোমীয় উচু শ্রেণীর লোকদের মেরে ফেলতেন থাকে।
    ৬৪ খ্রীঃ নীরো রোম শহরে নতুন নতুন চমৎকার দালান বানাতে ও শহরের চেহারা পরিবর্তন করতে সিদ্ধান্ত নেন। সংসদ পরিকল্পনা প্রত্যাখান করে। নীরো জায়গা পাওয়ার জন্য নিজের রাজধানীতে আগুন লাগিয়ে দেন ও রাজবাড়ীর ছাদে দাঁড়িয়ে আগুন দেখে দেখে গান করেন। বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায় ও রোমের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। জনগণ তার উপরে খেঁপে যায়। তাই নীরো আগুন লাগার দোষ অন্য কারওর উপর চাপিয়ে দেন: আর তা ছিল একটি অপ্রিয় ছোট দলের উপর: খ্রিষ্টানদের উপর। তাই খ্রিষ্টানদের উপরে সারে ৩ বছরের একটি হিংস্র অত্যাচার শুরু হয় । খ্রিষ্টানরা অপ্রিয় ছিল কারণ তারা ‘দেবতা-ছাড়া-লোক’ হিসাবে ‘দেবতাদের রাগ সমাজের উপরে নিয়ে এসেছে’।
  • ৬৪-৬৭ খ্রীঃ নীরো খ্রিষ্টানদের রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসাবে ঘোষণা ও তাদের অত্যাচার করেন। পৌল তলোয়ারের আঘাতে মারা যান, পিতরকে উল্টাভাবে ক্রুশে দেওয়া হয়, তা ছাড়া ১০০০ বিশ্বাসীরা শহীদ মৃত্যুবরণ করেন। অত্যাচারের হিংস্রতা কোন শেষ নেই। খ্রিষ্টানদের স্টেডিয়ামে বন্য পশুদের খাওয়ানো হত, গ্লেডিয়েটর লড়াই, ক্রুশে দেওয়া, হারিকেন হিসাবে পুড়ানো, নীরো দিয়ে ধর্ষণ করা হত ইত্যাদি।
  • খ্রিষ্টানদের অত্যাচার এমন দীর্ঘদিন ও এমন হিংস্র ছিল যে রোমীয়রাও তা আর দেখতে চাইত না। রোমীয় ইতিহাস লেখক টাকিটাস (Tacitus) লিখেছিলেন যে সারা রোম জানত খ্রিষ্টানদের কোন দোষ নেই, কিন্তু নীরোর হিংস্রতার কারণে মারা যাচ্ছে।
    ৬৭ খ্রীষ্টাব্দের শেষে রোম আন্দোলন-বিপ্লবের অবস্থায় রূপ নেয়, সেনা বিদ্রোহ শুরু ও সংসদ নীরোকে রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসাবে ঘোষণা করে। নীরো ৬৮ সালের শুরুদিকে ৩২ বছর বয়সে আরেকজনের সাহায্যে আত্ম-হত্যা করেন।
০৪ ব্যাখ্যা প্রশ্ন পাঠকদের, অর্থাৎ রোমীয় মণ্ডলীর স্থাপন ও ইতিহাস

নির্দেশনা

আমরা রোমীয়দের ধর্মীয় ভিত্তি এবং রোম সাম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু রোম শহরে অস্থিত্ব মণ্ডলী কিভাবে স্থাপিত হয়েছিল। নিচে নতুন নিয়মের বিভিন্ন পুস্তক থেকে তথ্য নিয়ে রোমীয় মণ্ডলীর একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস দেখানো হয়েছ। বর্ণনাটি পড়ুন এবং চিন্তা করুন, তা রোমীয় বিশ্বাসীদের উপরে কি প্রভাব ফেলবে।

০৫ ব্যাখ্যা প্রশ্ন মার্ক সুসমাচারের লেখক কে?

নির্দেশনা

মার্ক সুসমাচারের প্রথম ও শেষ কয়েকটি পদ পড়ুন। লক্ষ্য করুন, লেখকের উল্লেখ পান কিনা।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

মার্ক সুসমাচারে লেখক নিজের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেন না। প্রকৃতপক্ষে ৪টি সুসমাচারে আমরা লেখকের নামের উল্লেখ পায় না।

নির্দেশনা

পুস্তকের মধ্যে এবং নতুন নিয়মেও সরাসরি উল্লেখ না পাওয়ার কারণে আমরা বাইবেলের বাইরে মণ্ডলীর আদিপিতাদের মন্তব্য বিবেচনা করব। নিচে দেওয়া তালিকা মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং সুসমাচারের লেখক সম্বন্ধে যত জানা যায়, তা লিখে রাখুন।

মোট কথা আমরা উপসংহারে আসতে পারি যে, মার্ক সুসমাচার রোম শহরের মণ্ডলীর জন্য লেখা হয়েছে।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

সুসমাচারের লেখক হলেন মার্ক, প্রেরিত পিতরের শিষ্য, সহকর্মী ও অনুবাদক। তিনি লেখেন যা পিতর প্রচার করতেন। পিতরের মৃত্যুর পরে তিনি সুসমাচারটি রোম শহর থেকে রোম শহরের বিশ্বাসীদের জন্য লেখেন।

নির্দেশনা

মণ্ডলীর আদিপিতারা যা বলে, এর সাথে নতুন নিয়মে মিল পাওয়া যায়? ১ পিতর ৫:১৩ পদ পড়ুন। উল্লিখিত ‘বাবিল’ আসলে রোম শহর বুঝায়। আমরা কি শিখতে পারি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

মার্ক পিতরের সঙ্গে রোমে কাজ করছেন। পিতর তাকে “সন্তান” বলেন, একটি রূপক যা স্রেহ ও ঘনিষ্ট সম্পর্ক প্রকাশ করে।

০৬ ব্যাখ্যা প্রশ্ন মার্কের জীবন সম্বন্ধে কি জানা যায়?

নির্দেশনা

নিচে মার্ক (যার সম্পূর্ণ নাম হল যোহন মার্ক) সম্বন্ধীয় নতুন নিয়মে যত পদ আছে, সব কালানুক্রমিক দেখানো হয়েছে। সাথে পদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার একটি বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। পদগুলো পড়ুন। এখানে মার্ক সম্বন্ধে কি জানা যায়, তা লিখুন।

  • মার্ক ৩:১৬-১৯ (২৬-৩০ খ্রীঃ )
  • প্রেরিত ১২:১২ (৪৭-৪৮ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: যীশু ক্রুশে মারা গেছেন, পুনরুত্থিত হয়েছেন, ১ম মণ্ডলী স্থাপন হয়েছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার আবারও অত্যাচার করতে শুরু করে: প্রেরিত যাকোবকে মেরে ফেলা হয়, পিতরকে গ্রেফতার করা হয়। গভীর রাতে একটি স্বর্গ দূত পিতরকে আশ্চর্যভাবে মুক্ত করেন। পিতর মুক্ত হয়ে কোথায় যান?
  • প্রেরিত ১২:২৫ (৪৭-৪৮ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: মণ্ডলী নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। সিরিয়ার আন্তিয়খিয়া যিরূশালেমের পাশেপাশি মণ্ডলীর নতুন কেন্দ্র হয়ে যায়। বার্ণবা ও পৌল সেখানে শিক্ষা দেন। তারা দূর্ভিক্ষের কারণে যিরূশালেম মণ্ডলীর জন্য একটি দান নিয়ে যান।
  • প্রেরিত ১৩:৫ (৪৭-৪৮ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: পবিত্র আত্মার পরিচালনায় আন্তিয়খিয়ার মণ্ডলী অযিহূদীদের কাছে প্রচার দল হিসাবে বার্ণবা ও পৌলকে পাঠান।
    প্রেরিত ১৩:১৩ (৪৭-৪৮ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা প্রচার দল আন্তিয়খিয়া থেকে সাইপ্রাস দ্বীপে যায় ও সেখানে প্রচার করেন। হতেও পারে এর পর থেকে বার্ণবা পৌলকে দলের নেতৃত্ব দেন। তারা পাম্ফুলিয়ার দিকে রওনা দেন।
  • প্রেরিত ১৫:৩৭-৪০ (৫০ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: পৌল বার্ণবার কাছে প্রস্তাব করেন প্রথম প্রচার যাত্রায় স্থাপিত মণ্ডলীগুলির কাছে বেড়াতে যেতে।
  • কলসীয় ৪:১০ (৬২ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: ঝগড়ার পরে ১২ বছর পার হয়েছে। পৌল ৩টি প্রচার যাত্রা করেছেন, বেশ কিছু বছর জেলেও কাটিয়েছেন। জেল থেকে তিনি কলসীয় মণ্ডলীর জন্য একটা চিঠিতে কিছু দিক-নির্দেশনা দেন।
  • ফিলীমন ২৪ (৬২ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: একই সময়ে জেল থেকে পৌল আর একটি চিঠিতে মার্ককে উল্লেখ করেন।
  • ২ তীমথিয় ৪:১১ (৬৪-৬৫ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: পৌল তার মৃত্যুর আগের শেষ চিঠিতে মার্ককে উল্লেখ করেন।
  • ১ পিতর ৫:১৩ (৬৫ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: এই সময় উভয় পৌল ও পিতর রোমে বন্দী। পিতর তার একটি চিঠিতে মার্ককে উল্লেখ করেন।
  • মার্ক ১৪:৫১ (২৯-৩০ খ্রীঃ) পারিপারশ্বিক অবস্থা: কিছুক্ষণ আগে যীশু গৈৎশিমানী বাগানে প্রার্থনা করলেন, যিহূদা তাকে ধরিয়ে দিলেন ও সেনারা তাকে গ্রেফতার করল, শিষ্যরা ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। যুবকটি কে? কেন মনে করেন? এই ছোট গল্প উল্লেখ করার উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব কি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

আমরা দেখতে পাই যে, যোহন মার্ক যদিও ১২ প্রেরিতদের মধ্যে একজন নন, তার মা মরিয়ম এবং আত্মীয় বার্ণবা প্রথম মণ্ডলীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রেরিতরা ও যিরূশালেম মণ্ডলী মার্কের বাসায় একত্রিত হয় এবং যোহন মার্ক প্রথম বার্ণবা ও পৌল সহকর্মী হয়ে যান। তিনি এক সময় পৌলের দল ছেড়ে চরে যান, যার কারণে পৌল তাকে প্রচার যাত্রায় আর নিয়ে যেতে চান না। কিন্তু বার্ণবা তাকে পুনরায় পরিচর্যার কাজে লাগান এবং মার্ক পরে পৌল ও পিতরের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য সহকর্মী হয়ে যান।

০৭ ব্যাখ্যা প্রশ্ন ঐতিহাসিক পরিস্থিতি: নীরোর অত্যাচার রোমীয় বিশ্বাসীদের উপরে কি প্রভাব ফেলবে?

নির্দেশনা

ধরুন আপনি রোম শহরের একজন খ্রিষ্টান বিশ্বাসী যখন নীরো ঘোষণা করেন যে খ্রিষ্টানরা এই ধ্বংসাত্মক আগুনের জন্য দায়ী। হঠাৎ করে আপনি নিজেকে রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসাবে খুঁজে পান এবং সবাই আপনাকে ঘৃণার চোখে দেখে। পরে খ্রিষ্টানদের গ্রেফতার শুরু হয়। একজনের পর একজনকে গ্রেফতার করা শুরু হয় এবং দেশের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়ে হিংস্র ও জঘন্যভাবে মেরে ফেলা হয়। প্রথমে নীরো নেতাদের, যেমন পিতর ও পৌলকে ধরেন। কিন্তু পরে সাধারণ বিশ্বাসীদের ধরতে শুরু করেন। আপনার বাবাকে স্টেডিয়ামে পোড়ানো হয়েছে এবং মা বোনের খবর আর পাওয়া যাচ্ছে না । আপনি শুনেছেন যে নীরো মহিলাদের শুধু মেরে ফেলেন না বরং ধর্ষণ করে নষ্ট করেন। আপনি অন্য পলাতক খ্রিষ্টানদের সঙ্গে রোম শহরের নিচে কোন গুহাতে আশ্রয় নিয়েছেন। এই অবস্থায় আপনার মনে ঈশ্বর সম্বন্ধে কি কি প্রশ্ন বা সন্দেহ উঠবে ?

বিবেচনা করুন

খুব সম্ভবত রোমীয় বিশ্বাসীরা এই ধরণের প্রশ্ন করে:

  • আমার জীবনের উপর অধিকার কার? নীরো কি যীশুর চেয়ে শক্তিশালী ? যদি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তবে কেন তিনি এই ভয়ঙ্কর অত্যাচার থামিয়ে দিচ্ছেন না ? কেন আমাদের রক্ষা করছেন না ?
  • একজন ভালবাসার ঈশ্বর কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেন? ঈশ্বর আমাকে কি ত্যাগ করেছেন? আমাকে ভুলে গিয়েছেন? আমাকে ভালবাসেন না? আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন? আমাকে কিসের জন্য শাস্তি দিচ্ছেন?
  • আমি কি ভুলকে বিশ্বাস করেছি? খ্রিষ্টান ধর্ম কি মিথ্যা? যদি ঈশ্বর আমাকে রক্ষা না করেন তবে কেন তার আরাধনা করব? কেন এমন একজন ঈশ্বরের জন্য মারা যাব যাঁর আমাদের উদ্ধার করার কোনো ক্ষমতা নেই বা যিনি আমাদের কোনো যত্নও নেন না? এর জন্য জীবন দেব কেন? এই ঈশ্বর কি আমার শহীদ মৃত্যুর যোগ্য?
  • মোট কথা তিনটা বড় সন্দেহ উঠে: ঈশ্বরের কি ক্ষমতা নেই? ঈশ্বরের কি প্রেম নেই? যীশু কি ঈশ্বর নন?
  • মার্ক তার সুসমাচার ঠিক এই ধরণের প্রশ্ন ও সন্দেহের উত্তর দেওয়ার জন্য লেখেন।
    মার্ক তার সুসমাচারে ঠিক এই প্রশ্নগুলোতে উত্তর দেওয়ার জন্য লেখেন। কিভাবে তিনি উত্তর দেন? পরবর্তী ইউনিটে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।