০১) ২য় অভিনয় ৭টা সীলহোমর                            প্রকাশিত বাক্য ৬:১-৮:১

একটি ভূমিকা দেওয়া দরকার: প্রকাশিত বাক্যের এক নজরে তালিকা আর একবার দেখুন। লক্ষ করুন যে, প্রত্যেকটি অভিনয়ে ৭টা দৃশ্য আছে। এক অভিনয়ে ৭টা দৃষ্টির আবারও একটি কাঠামো আছে: ১-৪ নাম্বার দৃশ্যের মিল আছে, ৫ ও ৬ নাম্বার দৃশ্যের মিল আছে এবং ৭ নাম্বার দৃশ্য বেশ ভিন্ন। তাছাড়া ৬ ও ৭ নাম্বার দৃশ্যের মাঝখানে প্রায় একটি বিশেষ অংশ পাওয়া যায: ‘মণ্ডলী নিয়ে কি ঘটে’। আমরা এগুলো এখন ২য় অভিনয়ে দেখব।

১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ সীরমোহর ৪টা ঘোড়া                                                  প্রকাশিত বাক্য ৬:১-৮

মনে রাখুন, পটভূমি দেখিয়েছে যে, স্বর্গস্থ পিতার হাতে ৭টা সীলমোহরের বই আছে। মেষ-শিশু এখন সেই ৭টি সীল খুলবেন। তা একই ধারাবাহিকতা অনুসারে চলবে: যীশু সীলমোহর ভাঙ্গবেন, একটা প্রাণী ডাকবে “আসো!” যাতে একটি ঘোড়া এগিয়ে আসে। ঘোড়া ও চালক হল পুরাতন নিয়ম নেওয়া একটি রূপক (সখরিয় ১:১-১৭ এবং ৬:১-৮ দেখুন)।

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১:১-১৮ পদ পড়লে ১ম থেকে ৪র্থ সীলমোহরের বর্ণনা পাওয়া যায়। পড়ুন এবং চিন্তা করুন, ঘোড়াগুলো কি কি বুঝায়।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

১ম প্রাণী > ১ম ঘোড়া    সাদা রং       চালকের ধনুক, মুকুট জয়ীর মত বের হয়, জয় করতে করতে চলবে
২য় প্রাণী > ২য় ঘোড়া    লাল রং       চালকের বড় তলোয়ার পৃতিবী থেকে শান্তি তুলে নেয় > খুন
৩য় প্রাণী > ৩য় ঘোড়া    কালো রং     চালকের দাঁড়িপাল্লা দিনমজুরের আয়, গম ও যব দামী, তেল ও আঙ্গুর না
৪র্থ প্রাণী > ৪র্থ ঘোড়া    ফ্যাকাশে রং   চালক হল মৃত্যু মৃতস্থান পিছনে চলছিল। ছোরা, দুর্ভিক্ষ, মৃত্যু, পশু।

এর অর্থ কি হতে পারে?

  • ২য় ঘোড়া হল অশান্তি, দ্বন্দ্ব, একে অন্যকে মেরে ফেলা বুঝায়। তা সরকারি অত্যাচার বুঝায় না বরং মানুষদের মধ্যে মন্দ আচরণ।
  • ৩য় ঘোড়া হল অর্থনৈতিক ক্ষ্ট। দিনমজুরের আয় দ্বারা যথেষ্ট খাবার কেনা যায় না। দ্রব্য মূল্য বাড়ে। মুদ্রাস্ফিতি। তেল ও আঙ্গুরে ক্ষতি করো না? এখানে দু’টি ব্যাখ্যা সম্ভব:
    • ১) তা বুঝায় যে কিছু জিনিসের দাম বাড়ে, কিন্তু সব কিছুর দাম বাড়ে না, অর্থাৎ অর্থনৈতিক কষ্ট হল আংশিক।
    • ২) প্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম বাড়ে কিন্তু বিলাসিতার জিনিসের দাম বাড়ে না, যা গরীব ও ধনীদের মধ্যে পার্থক্য আরো বাড়ায়।
  • ৪র্থ ঘোড়া হল মৃত্যু। ১/৪ মারা যাবে দেখায় যে ঘটনাটি আংশিক। মৃত্যুর কারণ: ছোরা (যুদ্ধ), দুর্ভিক্ষ, মড়ক বা রোগ ও বুনো পশু।
  • ১ম ঘোড়া যীশু ঘোড়ার উপরে শেষ যুদ্ধে নামেন, তার সাথে কিছু মিল আছে। অথবা: ধনুক ও জয় করা, পাঠকদের এখানে রোম রাজ্য মনে পড়বে, অর্থাৎ দখলকারী দমনকারী সরকার।

সব মিলিয়ে এর অর্থ কি হতে পারে?

  • আমরা মণ্ডলীর যুগে, অর্থাৎ দু’টানা যুগে আছি। এখানে চূড়ান্ত বিচার বুঝানো হচ্ছে না, বরং ‘আংশিক বিচর’, অর্থাৎ একটি পাপ-আক্রান্ত পৃথিবীতে সাধারণত কি চলে: দখলকারী ও অত্যাচারী সরকার, মানুষদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও অন্যায়, অর্থনৈতিক কষ্ট এবং সাধারণ জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো: রোগ, অভাব, মৃত্যু। এইটা হল পতিত পৃথিবীতে এবং মন্দ মানুষদের মধ্যে বাস করা আমাদের বাস্তবতা। যতক্ষণ পর্যন্ত যীশু না আসেন, এগুলো চলবে, কিন্তু ঈশ্বর তা সীমিত করে রাখবে।

বিভিন্ন শিল্পী ঘোড়াগুলো আঁকতে
চেষ্টা করেছে।

৫ম সীলমোহর বেদীর নিচে শহীদরা                                       প্রকাশিত বাক্য ৬:৯-১১

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ৬:৯-১১ পড়ুন। সীলমোহরের কি বর্ণনা করা হয়েছে? পাঠকদের জন্য এর গুরুত্ব কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওযা যায়

ঈশ্বরের সামনের বেদীর নিচে শহীদরা জানতে চায়, আর কতদিন তাদের অত্যাচারীদের বিচার দেরি হবে। আমরা দেখেছি যে এশিয়ার ৭টা মণ্ডলীতে ইতিমধ্যে আন্তিপাস্ নামে একজন শহীদ হয়েছেন (প্রকাশিত ২:১৩) এবং যীশু বলেছেন যে, অত্যাচার শুরু মাত্র (প্রকাশিত ২:১০)। শহীদদের সাদা পোশাক দেওয়া হয় (তাদের ধার্মিকতার চিহ্ন) এবং শহীদদের সংখ্যা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
পঞ্চম শীলমোহরের অর্থ বা সংবাদ তাহলে কি? ঈশ্বর বিশ্বাসীদের জানায় যে, অত্যাচার হচ্ছে এবং আরো হবে, কিন্তু শহীদরা সম্মানিত হয়ে ঈশ্বরের উপস্থিতিতে আছে। ঈশ্বর পাঠকদের সান্ত্বনা দেন: অত্যাচারের ও ঈশ্বর আছেন, মৃত্যু শেষ কথা নয় এবং অনন্ত জীবন ও ঈশ্বরের সঙ্গে থাকাই বাস্তব কিষয়।

৬ম সীলমোহর মেষ-শিশুর ক্রোধের সামনে কে দাঁড়াতে পারে?                 প্রকাশিত বাক্য ৬:১২-১৭

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ৬:১২-১৭ পদ পড়ুন। সীলমোহরের কি বর্ণনা করা হয়েছে? পাঠকদের জন্য এর গুরুত্ব কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওযা যায়

৬ম সীলমোহর ভাঙ্গায় একটি ভীষণ ভূমিকম্প হয়, এমন ভূমিকল্প যে, পৃথিবীতে শক্তিশালীরাও নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। ভূমিকম্পকে ‘মেষ-শিশুর ক্রোধ’ বলা হয় এবং প্রশ্ন রাখা হয়, কে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে?
৫ম সীলমোহরে অত্যাচারিত বিশ্বাসীরা মৃত্যু পর্যন্ত সহ্য করেছিল, কিন্তু ৬ম সীলমোহর দেখায়, যে ঈশ্বর পৃথিবীতে যারা মনে করে তারা যা চায় তা-ই করতে পারে, তিনি তাদেরকে বিচার করেন। এটি চূড়ান্ত বিচার নয়, কিন্তু সীলমোহরটি দেখায় যে, যদিও ঈশ্বর সব সময় অত্যাচার বন্ধ করেন না, তারপরেও তিনি যীশুর ২য় আগমনের আগেও প্রায়ই বিচার করেন। আধুনিক যুগেও যতবার দমনকারী শাসনকর্তাকে মেরে ফেলা হয় বা একটি মন্দ সরকার ক্ষমতা থেকে পড়ে যায়, ততবার আমরা ৬ম সীলমোহরের একটি ছবি বা পূর্ণতা দেখি।

মণ্ডলী নিয়ে কি ঘটে?                                                   প্রকাশিত বাক্য ৭:১-১৭

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ৭:১-১৭ পদ পড়ুন। লক্ষ্য করুন কি কি ঘটে এবং চিন্তা করুন আমাদের এখানে কি দেখা হচ্ছে?

খুঁজে কি কি পাওযা যায়

৪টি স্বর্গদূত পৃথিবীর ৪দিকে দাঁড়িয়ে ৪দিকের বাতাস থামিয়ে একটি সুরক্ষিত স্থান বা মুহূর্ত তৈরি করে। আর একজন স্বর্গদূত, যার হাতে জীবন্ত ঈশ্বরের সীলমোহর আছে, তিনি চিৎকার করে বলেন: ঈশ্বরের দাসদের কপালে সীলমোহর না দেওয়া পর্যন্ত পৃথিবীতে কোনো ক্ষতি করা যাবে না।
পর্বতীতে সেই সীলমোহর দেওয়া দাসদের বর্ণনা করা হয়: যোহন তাদের সংখ্যা শোনেন: ১৪৪’০০০ লোক, ইস্রায়েলের প্রত্যেক গোষ্ঠি থেকে ১২’০০০ (প্রকাশিত ৭:৪-৮)। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি দেখেন: প্রত্যেক জাতি, বংশ, দেশ ও ভাষার মধ্য থেকে এত লোকের ভিড় দেখলাম যে, তাদের সংখ্যা কেউ গুণতে পারল না। সাদা পোশাক পরে তারা সেই সিংহাসন ও মেষ-শিশুর সামনে খেজুর পাতা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা জোরে চিৎকার করে বলছিল: “যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, আমাদের সেই ঈশ্বর এবং মেষ-শিশুর হাতেই পাপ থেকে উদ্ধার রয়েছে।”
পরে তাদের আরো বর্ণনা করা হয়: “সেই মহাকষ্টের মধ্য থেকে যারা এসেছে এরা তারাই। এরা এদের পোশাক মেষ-শিশুর রক্তে ধুয়ে সাদা করেছে। ১৫ সেইজন্য এরা ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে আছে আর … এদের আর খিদে পাবে না … কারণ সেই মেষ-শিশু … এদের রাখাল হবেন। জীবন্ত জলের ফোয়ারার কাছে তিনি এদের নিয়ে যাবেন, আর ঈশ্বর এদের চোখের জল মুছে দেবেন।”
এই শাস্ত্রাংশের ২টি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়: আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করলে তবে সেই ১৪৪’০০০ সীরমোহর করে রাখা লোক হল বিশেষ যিহূদীবিশ্বাসীরা, যারা শহীদ হয়ে ঈশ্বরকে গোরব দিয়েছেন এবং মহাকষ্টে পার হয়েছেন। অথবা রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করলে তবে তা সব বিশ্বাসীদের বুঝায়, যতজন ‘পোশাক মেষ-শিশুর রক্তে সাদা করেছে’, অর্থাৎ যীশু দ্বারা উদ্ধার পেয়েছে।
আসলে আক্ষরিকভাবে ব্যাখ্যা করলে সমস্যা আছে, যেমন ১২ গুন ১২’০০০ লোকের তালিকা আসলে একটি বংশ দু’বার উল্লেখ করা হয়েছে (মনঃশি বংশ হর যোষেফ বংশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত) এবং একটি বংশ বাদ গেছে (দান বংশ)। এছাড়া কেন লোকসংক্যায় বড় বংশে শহীদ কম থাকবে? তাছাড়া নতুন নিযমে যিহূদী-অযিহূদী পার্থক্য বাতিল করা হছেয়ে। রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করলে তবে ১৪৪’০০০ হাজার লৌক হল পুরাতন নিয়মের ভাষায় “ঈশ্বরের সমস্ত লোক” বুঝায় (প্রকাশিত ৭:৪-৮) এবং প্রত্যেক গোষ্ঠি ও ভাষা থেকে অসংখ্য ভিড় হল নতুন নিয়মের ভাষায় “ঈশ্বরের সমস্ত লোক” (প্রকাশিত ৭:৯-১৭)।
যেভাবে হোক, প্রকাশিত ৭ অধ্যায় আমাদের এই সান্ত্বনাদানকারী ছবি দেয়: পৃথিবীতে কত যুদ্ধ, অন্যায়, কষ্ট ও মড়ক চলে (৪টি ঘোড়া) ঈশ্বর তাঁর নিজের লোককে চিনেন এবং সুরক্ষিত রাখেন।

৭ম সীলমোহর স্বর্গে আধা ঘন্টা নিরব                               প্রকাশিত বাক্য ৮:১

০২) ৩য় অভিনয় ৭টা তূরী                              প্রকাশিত বাক্য ৮:২-১১:১৮

মনে রাখুন, ৩য় অভিনয়ের শুরুতে আমাদের পটভূমি হিসাবে দেখানো হয়েছে যে, ৭টা স্বর্গদূত যাদের হাতে তূরী আছে প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়া আছে। তা ছাড়া বিশ্বাসীদের প্রার্থনা ধূপের মত ঈশ্বরের বেদীতে উৎসর্গ করা হচ্ছে।

১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ তূরী পৃথিবীর উপর আংশিক বিচার                  প্রকাশিত বাক্য ৮:৭-১২

নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য ৮:৭-১২ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, এই তূরীগুলোর কারণে কি ঘটে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • ১ম তূরী       > শিলা, আগুন রক্ত          > ১/৩ ভাগ পৃথিবী, গাছবালা, সবুজ ঘাস পুড়ে গেল
  • ২য় তূরী       > পাহাড় সাগের পড়ে        > ১/৩ ভাগ সাগর > রক্ত, মাছ ও জাহাজ ধ্বংস
  • ৩য় তূরী       > তারা > নদীতে পড়ে       > ১/৩ ভাগ বিশুদ্ধ জল তেত > মৃত্যু
  • ৪র্থ তূরী       > সূর্য, চাঁদ, তারাকে আঘাত  > ১/৩ ভাগ আলো ছিল না

প্রথম লক্ষ্য করতে হবে, যে এই তূরী বিচারগুলোর যাত্রাপুস্তকে মিসরের আঘাতের সাথে বেশ মিল আছে (যাত্রা ৭-১২):

  • ১ম তূরী: শিলাবৃষ্টি, গাছপালা নষ্ট           ৭ম আঘাত শিলা, ৮ম আঘাত পঙ্গপাল
  • ২য় তূরী: জল, মাছ, জাহাজ                ১ম আঘাত নীল নদীর জল রক্ত হয়ে যায়
  • ৩য় তূরী: তেতো জল, মৃত্যু                 ১ম আঘাত জল > রক্ত, ৫ম আঘাত ফোঁড়া, ১০ প্রথম জাতের মৃত্যু
  • ৪র্থ তূরী: অন্ধকার                         ৯ম আঘাত অন্ধকার

আবারও লক্ষ্য করুন যে, বিচারগুলো আংশিক, চূড়ান্ত নয়। আমরা এখনও মণ্ডলীর যুগে বা দু’টানাযুগে আছি।
হতে পারে তূরী দেখায় মানুষের পাপ, স্বার্থপরতা, লোভ ও যুদ্ধের কারণে কিভাবে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলে অর্থনৈতিক কষ্টও আসে।

একটি ইগল পরের ৩টি তূরীর বিষয়ে সাবধানবাণী দেয়: বিপদ, বিপদ, বিপদ! বা ইংরেজিতে: ধিক, ধিক ধিক! পরে দেখা যায়, ৫ম ও ৬ম তূরী আসলে ভয়ংকর, কিন্তু ৭মটি আসলে বেশ সুন্দর।

৫ম তূরী (১ম বিপদ) অতল গর্ত থেকে ভয়ংকর পঙ্গপাল                   প্রকাশিত বাক্য ৯:১-১২

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ৯:১-১২ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, কি কি ঘটে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

একটি তারা পড়ে গিয়ে অতল গর্তকে খোলা হয়। ধৌঁয়ার মত একটি পঙ্গপাল বের হয়, যা বিচুর মত কামড় দেয় এবং এভাবে যাদের কপালে ঈশ্বরের সীলমোহর নেই, তাদেরকে যনন্ত্রণা করতে পারে। অদ্ভুৎ বিষয় যে, এই ফরিংদের লম্বা চুল আছে!

৬ম তূরী (২য় বিপদ) পূর্ব থেকে অসংখ্য সৈন্যদল                        প্রকাশিত বাক্য ৯:১৩-২১

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ৯:১৩-২১ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, কি কি ঘটে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি বের করা যায়

ইউফ্রেটিস নদীতে বাধা ধ্বংসের দূত মুক্ত করা হয়। ফলে অসংখ্য একটি সৈন্যদাল পূর্ব থেকে আক্রমন করে। এমন কি তাদের ঘোড়াগুলোও যথেষ্ট ভয়ংকর: মুখ থেকে আগুন ও ধোঁয়া, লেজ হল সাপ।
এই দু’টি ভয়ংকর তূরীর বর্ণনা এই বলে সমাপ্ত হয়: “কিন্তু এই সব আঘাতের পরেও যে সব মানুষ বেঁচে রইল তারা নিজেদের হাতে তৈরী প্রতিমাগুলো থেকে মন ফিরাল না। তারা মন্দ আত্মাদের এবং যারা দেখতে, শুনতে বা হাঁটতে পারে না এমন সব সোনা, রূপা, পিতল, পাথর ও কাঠ দিয়ে তৈরী প্রতিমার পূজা করতেই থাকল। ২১ এছাড়া খুন, যাদুবিদ্যা, ব্যভিচার ও চুরি-এই সমস্ত থেকেও তারা মন ফিরাল না” (প্রকাশিত ৯:২০-২১)।

এই দু’টি তূরী কিভাবে বুঝব? লক্ষ্য করুন যে বিচারগুরো এখনও আংশিক, আমরা এখনও মণ্ডলীর যুগে বা দু’টানাযুগে আছি। আরো লক্ষ্য করুন যে এই ভয়ংকর বিচার আসলে বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যায় না, বরং যাদের কপালে চিহ্ন নেই, যারা মন ফিরায় না বরং দেবতাপূজা এবং বিভিন্ন মন্দ কাজ করতে থাকে।

বেশ কয়েকজন বাইবেল পণ্ডিত বলে যে, এই দু’টি চূরী যে ২টি বিষয় বুঝায়, যাতে অত্যাচারী রোমীয়রা (শক্তিশালী হলেওং) ভয় পেত:

১) জার্মান যোদ্ধা গোষ্ঠি (যাদের লম্বা চুল ছিল!) এবং
২) রোমীয় রাজ্যের সীমানের পূর্ব দিকে যে অসংখ্য জাতি ও লোক।

৭ম তূরী (৩য় বিপদ) মসীহের রাজ্য এসে গেছে!                       প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫-১৮

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫-১৮ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, এখানে কি কি ঘটে? এর অর্থ কি হতে পারে?

মণ্ডলী নিয়ে কি ঘটে? দু’জন শক্তিশালি কিন্তু অত্যাচারিত সাক্ষী            প্রকাশিত বাক্য ১০:১-১১:১৪

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ৯:১৩-২১ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, কি কি ঘটে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি বের করা যায়

একটি স্বর্গদূত সাগর ও ভূমির উপর দাঁড়ান, তারা হাতে আছে একটি ছোট খোলা বই বা গুটানো স্ক্রল। তার জোরে চিৎকার করার সাথে ৭টা বাজ পড়ার শব্দ হল, কিন্তু যোহনকে কথাটি লেখার নিষেদ্ধাজ্ঞা দেওয়া হয় (যা জানা দরকার, ঈশ্বর আমাদের জানান, বাকি নিয়ে অতি আগ্রহী না হলেও চলে :-)। স্বর্গদূত বাম হাত স্বর্গের দিকে তুলে শপথ করেন: “আর দেরি হবে না” (স্বর্গ দূত, যিনি বাম হাত তুলো শপথ করে, তা দানিয়েল ১২:৭ পদেও পাওয়া যায়, কিন্তু দানিয়েলের সময় বলা হয় যে, আরো দেরী হবে, দানিয়েল ১২:৯)। যোহনকে ছোট বই খাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, যা মুখে মিষ্টি কিন্তু পে পেট তেতো করে তোলে (যেমন যিহিষ্কেল ২:৯, ৩:৩)। হতে পারে তা ঈশ্বরের বাক্যের একটি রূপক, বাক্য মিষ্টি কিন্তু বাক্যে চেতনা দেওয়ার বা বিচার করার ক্ষমতাও আছে।
পরবর্তীতে (প্রকাশিত ১১:১-২) যোহনকে উপাসনা-ঘর মাপার জন্য মাপকাঠির মত একটি লাঠি দেওয়া হয় (যিহিস্কেল ৪০:৩, সখরিয় ২:১)। তাকে উপাসনা-ঘরের বাইরের উঠান মাপা নিষেধ করা হয় কারণ তা ৪২ মাস (অর্থাৎ ৩ ১/২ বছর) ধরে অযিহূদীদের অত্যাচারে পড়বে।
এর অর্থ কি হতে পারে? মাপার কাজ বাইবেলে সব সময় ঈশ্বরের খেয়াল, যত্ন, গুরুত্ব ও সুরক্ষা বুঝায়। তাই এখানে দু’দিকে একটি ছবি দেখা যায়: একদিকে ঈশ্বরের লোকেরা সুরক্ষিত, কিন্তু অন্যদিকে তারা অত্যাচারেও পড়বে – ঈশ্বর সীমিত সময়ে এর অনুমতি দিয়েছেন। ৩ ১/২ হল মণ্ডলীর যুগের সংখ্যা, যতক্ষণ পর্যন্ত যীশু ফিরে না আসেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবে চলবে।
প্রকাশিত ১১:৩-১৪ আমরা দু’জন সাক্ষী এবং তাদের গল্পের বর্ণনা পায়। তারা কারা? প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে আমাদের দেওয়া তথ্য সব একসাথে লক্ষ্য করতে হবে:

  • ঈশ্বর তাদেরকে ভাববাণী বলার অধিকার দেন, তারা চট পড়ে।
  • তারা ঈশ্বরের সম্মুখে ২টি জলপাই গাছ, ২টি বাতিদান।
  • তাদের অধিকার ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে (শত্রুদের বিরুদ্ধে আগুন, বৃষ্টি বন্ধ করা, জল রক্তে পরিণত করা, পৃথিবীকে আঘাত করা)
  • তারা সাক্ষ্য দেবে।
  • পরে শয়তান তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাবে, তাদের দখল করবে, মেরে ফেলবে।
  • কোথায়? মহান শহর = সোদম = মিসর = যেখানে তাদের প্রুভকে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল।
  • তাদের মৃত্যুতে শত্রুরা ৩ ১/২ দিন ধরে আনন্দ করবে, তাদের অসম্মান করবে, কিন্তু পরে তাদের পুনরুত্থিত করা হবে এবং স্বর্গে নিয়ে যাওয়া হবে।
  • ফলে কিছু লোক মন ফিরায়।

যীশু ২জন ২জন করে শিষ্যদের পাঠিয়েছিলেন (মথি ১০:১, লূক ১০:১), তিনি বিশ্বাসীদের সাক্ষী হতে বলেন (প্রেরিত ১:৮), তিনি নিজেকেও সাক্ষী বলেন (প্রকাশিত ১:৫) এবং তিনি মণ্ডলীদের “বাতিদান” বলেন (প্রকাশিত ১:২০)। তাই পরিস্কার হয়ে যায় যে, সেই দু’জন সাক্ষী প্রত্যেকটি বিশ্বাসীকে বুঝায়। জলপাই গাছ হল সখরিয় ৪:২-৩ থেকে নেওয়া ঈশ্বরীয় নেতাদের জন্য একটি রূপক। ঈশ্বর তাদেরকে অধিকার ও ক্ষমতা দান করেন (এলিয়ের মত আগুন ও বৃষ্টি বন্ধ করা, মোশির মত জল রক্তে পরিণতা করা ও আঘাত ঘটানো)।
তারা অধিকারের সঙ্গে সাক্ষ্য দেয় – কিন্তু তারা অত্যাচারিত হয়ে মারাও যায়। ঈশ্বরের মণ্ডলী শক্তিশালী, মণ্ডলী সুসমাচার ছড়িয়ে দেয়, কিন্তু মণ্ডলী অত্যাচারের সম্মুখেও হয় (যেমন এখন রোমীয় সম্রাটের কারণে)।
তাদের মেরে ফেলা হয়, যেখানে তাদের “প্রভু ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল”, অর্থাৎ যিরূশালেমে, কিন্তু যিরূশালেম এখানে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো’ হিসাবে রূপক অর্থেও ব্যবহৃত: যিরূশালেম হল সেই সোদম (মহাপাপের শহর), হল সেই মিসর (অত্যাচার ও বন্ধন), হল বর্তমানে অত্যচারী রোম।
কিন্তু সাক্ষীদের সবার সামনে পুনরুত্থিত করা হয় এবং স্বর্গে নিয়ে যাওয়া হয়, অর্থাৎ তাদের অনন্ত জীবন নিম্চিত। মনে আছে? মেষ-শিশুর ক্রোধে (ভূমিকম্প আঘাত) মানুষ মন ফিরায় না, কিন্তু মণ্ডলীর সাক্ষ্য দেখে কেউ কেউ মন ফিরায়।
মোট কথা সাক্ষীদের এই গল্প হল রূপকভাবে ও নাটকীয়ভাবে সেই বাস্তবতা বর্ণনা করা, যার সম্মুখে বিশ্বাসীরা আছে – এক দিকে অত্যাচারিত ও অসম্মানিত, অন্য দিকে অধিকার প্রাপ্ত, ফল বহনকারী, সুরক্ষিত ও জয়ী।

৭ম তূরী (৩য় বিপদ) পূর্ব থেকে অসংখ্য সৈন্যদল                            প্রকাশিত বাক্য ৯:১৩-২১

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ৯:১৩-২১ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, কি কি ঘটে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি বের করা যায়

দেখা যায় যে ৭ম তূরী বা তৃতীয় বিপদ হল যীশু খ্রীষ্ট, অর্থাৎ মসীহের রাজত্বের ঘোষণা। তা হল তাঁরই লোকদের জন্য আনন্দ এবং আরাধনা-প্রসংশার কারণ, কিন্তু যারা পৃথিবীকে ক্ষতি করে, তাদের জন্য তা ধ্বংসের ঘোষণা।

০৩) ৪র্থ অভিনয় ৭টা চিহ্ন                                   প্রকাশিত বাক্য ১১:১৯-১৫:৪

মনে আছে, পটভূমিতা আমাদের ঈশ্বরের উপাসনা-ঘর খোলা দেখানো হয়েছে, এমন কি নিয়মন-সিন্দুক দেখা সম্ভব ছিল। যার অর্থ এই যে, ঈশ্বরের বয়ংকর ও চমৎকার পবিত্রতার প্রকাশের আর কোনো বাধা নেই। যোহন এখন ৭টি চিহ্ন দেখবেন:

১ম চিহ্ন স্ত্রীলোক ও লাল দানব                                            প্রকাশিত বাক্য ১২:১-১৭

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১২:১-১৭ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, এখানে নাটক আকারে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

যেহন একটি স্ত্রীলোককে দেখেন, যার পরনে ছিল সূর্য, পায়ের নীচে চাঁদ, মুকুটে ১২টি তারা এবং সে গর্ভবতী। পরে দেখা যায় একটি লাল দানব, যার ৭টা মাথায় ৭টা মুকুট এবং ১০টা শিং আছে। দানব লেজ দেয়ে ১/৩ তারা পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলে দেয় এবং সে স্ত্রীলোক দ্বারা জন্ম নেওয়া শিশুকে খেয়ে ফেলতে চায়। শিশু হল ছেলে সন্তান, যিনি “লোহার দণ্ড দিয়ে সমস্ত জাতিকে শাসন করবেন।” শিশুটিকে ঈশ্বরের সিংহাসনের কাছে তুলো নেওয়া হয় এবং স্ত্রীলোক মরুভূমিতে পালিয়ে যায়, যেখানে ১২৬০ দিনের জন্য তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়।

এর অর্থ কি? সবচেয়ে পরিষ্কার হল ছেলে সন্তান, “লোহার দণ্ড দিয়ে সমস্ত জাতিকে শাসন করবেন” হল গীত ২:৯ পদ থেকে মসীহ সম্বন্ধীয় একটি ভাববাণী। যীশুকে জন্ম দেওয়া হয় এবং (তার মৃত্যুর পরে) স্বর্গে ঈশ্বরের সিংহাসনে নেওয়া হয় (যীশুর জীবন ৩ সেকেন্ডের মধ্যে!)। দাব অবশ্যই শয়তানকে বুঝায়, যিনি যীশুকে আক্রমণ করতে চেষ্টা করেন। কেন তার ৭টা মাথা ও মুকুট আছে কিন্তু ১০টা শিং, ৭ নম্বর তো ঈশ্বরের নম্বর? হতে পারে তা বুঝায় যে শয়তান ঈশ্বরের মত হতে চায় এবং ঈশ্বরের মত নিজেকে উপস্থাপনা করে, কিন্তু আসলে সে ‘১০ নম্রর’, মানে মন্দ ক্ষমতার।
স্ত্রীলোক তাহলে কে? স্ত্রীলোক একদিকে হবাকে বুঝায় (যার কাছ থেকে মানব জাতি ও মসীহ আসেন, আদি ৩:১৫), আবার ইস্রায়েল জাতিকে বুঝায় এবং যীশুর মা মরিয়মকেও বুঝায়। মুকুট হল মানুষের রাজত্ব করার আহ্বান (আদি ১:২৮), ১২ নম্বর মানে ঈশ্বরের সব লোক। তাছাড়া স্ত্রীলোক মণ্ডলীকেও বুঝায়, যীশু চলে যাওয়ার পরে মণ্ডলী পৃথিবীতে থেকে যায় এবং শয়তান তাকে আক্রমণ ও অত্যাচার করতে চেষ্টা করে (তাকে জল দিয়ে ভাবিয়ে দেওয়া, তার সন্তানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ)। কিন্তু অত্যাচারিত হলেও স্ত্রীলোক, অর্থাৎ মণ্ডলী সুরক্ষিত (ডানা পায়, যোগান পায়, আশ্রয় স্থান পায় পৃতিবী জলের স্রোত খেয়ে ফেলে, ইত্যাদি। স্ত্রীলোকের অন্যান্য ছেলেমেয়ে আবারও বিশ্বাসীদেরকে বুঝায়।

প্রথম চিহ্ন তাহলে হল নতুন নিয়মের একটি সংক্ষিপ্ত নাটকীয় উপস্থাপনা।

২য় চিহ্ন সাগর থেকে আসা প্রথম জন্তু                                          প্রকাশিত বাক্য ১৩:১-১০

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১৩:১-১০ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, এখানে নাটক আকারে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

দানব সাগরের পারে দাঁড়িয়ে সাগর থেকে একটি প্রথম জন্তু উঠতে দেখেন। জন্তুর ৭টা মাথা কিন্তু ১০টা শিং এবং শিংএ ১০টা মুকুট। তার মাথায় ঈশ্বরের অপমান করার নাম ছিল। জন্তু ছিল চিতাবাঘের মত, তার পা ভাল্লুকের মত, তার মাথা সিংহের মত। লাল দানব জন্তুকে ক্ষমতা, সিংহাসন ও মহা ক্ষমতা দান করে।
জন্তুর একটা মাথা মরার মত আঘাত পায়, কিন্তু তা আবার ভাল হয়। তাতে সব লোকেরা আশ্চর্য হয় এবং তারা জন্তুর অনুসরণকারী ও আরাধনাকারী হয়ে যায়, এই বলে “এই জন্তুর মত কি আছে? আর কে-ই তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে?” জন্তু ৪২ মাসের জন্য ঈশ্বরে ও তাঁর লোকদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা খাটানোর অনুমতি পায়। সে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয় করে। অন্য মানুষ জন্তুকে ঈশ্বরের সম্মান দিয়ে প্রণাম করে।
এর অর্থ বা কি? জন্তুটি কাকে বুঝায়? উত্তর পাওয়ার জন্য পুরাতন নিয়মের চিন্তা করতে হয়। দানিয়েল সাগর তেকে ৪টি জন্তু উঠতে দেখেন (দানিয়েল ৭)। পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তা ৪টি মানব সাম্রাজ্য বুঝায় (বাবিল, মাদিয়-পারস্য, গ্রীস ও রোম)।

যোহনের পাঠকদের সময়ে দমনকারী, অত্যাচারী এবং নিজের আরাধনা দাবিকারী সাম্রাজ্য কে? তা অবশ্যই রোম বুঝায়। ৭টা মাথা কিন্তু ১০টা শিং ও মুকুট – তা (প্রায় দানবের মত) আবারও দেখায় যে রোম ঈশ্বরের মত হতে চায়, ঈশ্বরের আরাধনা দখল করতে চায় (সম্রাট পূজার দাবি) এবং জোর করে লোকদের বাধ্য করতে চেষ্টা করে (বর্তমান অত্যাচার)।

কিন্তু সেই মাথা যার মরার মত আঘত হল কিন্তু বেঁচে গেল, এর অর্থ কি? এক ব্যাখ্যা: তা হল যীশুর মৃত্যু ও পুনরুত্থান নকল করার বিষয়। অন্য ব্যাখ্যা: বিভিন্ন রোমীয় সম্রাট নিয়ে এই ধরণের গল্প প্রচলিত ছিল: সম্রাট কালিগুলা (৩৭-৪১ খ্রীঃ) একটি জ্বরে প্রায় মারা যায়। তাছাড়া নীরো (৫৪-৬৮ খ্রীঃ) নিয়েও গুজব-গল্প ছিল (‘Nero redivivus myth’)। মূল কথা: প্রথম জন্তু হল মন্দ অত্যাচারী সরকার বা সাম্রাজ্য – পাঠকদের জন্য তা রোম সাম্রাজ্য বুঝায়।

৩য় চিহ্ন ভূমি থেকে আসা দ্বিতীয় জন্তু                                প্রকাশিত বাক্য ১৩:১১-১৮

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১৩:১১-১৮ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, এখানে নাটক আকারে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

ভূমি থেকে বের হয়ে আসা দ্বিতীয় জন্তু ভোড়ার মত দেখায়, কিন্তু তা দানবের মত কথা বলে। সে প্রথম জন্তুটার হয়ে তার ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং লোকদের প্রথম জন্তুর আরাধনায় বাধ্য করে। জন্তুটি বড় বড় আশ্চর্য কাজ করে, এমন কি আগুন নামিয়ে দেয় যেন সে লোকদের ভূল পথে নিয়ে যেতে পারে। সে প্রথম জন্তুর মূর্তী বা ছবি বানাতে এবং তা আরাধনা করতে বাধ্য করে। যারা তা অস্বীকার করে, তাদের মেরে ফেলার ক্ষমতা আছে। সে সবাইকে ডান হাতে ও কপালে একটি চিহ্ন গ্রহণ করতে বাধ্য করে, যা ছাড়া কেউ কিছু কিনতে বা বিক্রি করতে পালেন না। চিহ্ন হল সেই জন্তুর নাম বা নামের চিহ্ন: ৬৬৬।
এর অর্থ বা কি? জন্তুটি কাকে বুঝায়? মনে হয়, তা বেশ পরিষ্কার: জন্তুটি ভেড়ার মত দেখায়, অর্থাৎ নম্র ও ভাল, কিন্তু আসলে দানবের মত কথা বলে। জন্তুটি ভান করে, প্রতারনা করে, আশ্চর্য কাজ দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে লোকদের প্রথম জন্তুর পূজায় বাধ্য করা যায়। যোহনের পাঠকদের জন্য তা হল অত্যন্ত স্পষ্ট: দ্বিতীয় জন্তু হল সম্রাট পূজা, যা শহরে শহরে সম্রাটের উদ্দেশ্যে মূর্তী তৈরি করতে এবং পরে সবাইকে এই মূর্তী, অর্থাৎ সম্রাটকে পূজা করতে বাধ্য করে। যারা প্রথম জন্তু, অর্থাৎ সম্রাটপূজা করতে অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় জন্তু যুদ্ধ চালাবে। লক্ষ্য করুন যে দ্বিতীয় জন্তুকে প্রকাশিত ১৯:২০ পদে দ্বিতীয় জন্তুকে “ভণ্ড নবী” বলা হয়, অর্থাৎ দ্বিতীয় জন্তু হল ‘নকল ধর্ম’, ‘প্রতারণা’ বা ‘ভ্রান্ত ভাববাণী’।

বাম হাতে ও কপালে সেই চিহ্ন তাহলে কি বুঝায়? পুরাতন নয়মের এবং যিহূদী ধর্মের একটি মৌলিক পদ হল দ্বিতীয় বিবরণ ৪:৬-৮ “ইস্রায়েলীয়েরা, শোন, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এক। তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের সমস্ত অন্তর, সমস্ত প্রাণ ও সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালবাসবে। … তোমরা তা মনে রাখবার চিহ্ন হিসাবে তোমাদের হাতে বেঁধে রাখবে এবং কপালে লাগিয়ে রাখবে।” অনেক যিহুদীরা আদেশটি আক্ষরিক অর্থেও নেয় এবং তারা প্রার্থনা করার সময় ঈশ্বরের বাক্যের একটি দু’টি পদ একটি ছোট কালো বাক্সে রেখে কালো ফিতা দিয়ে তা কপালে (মনের কাছে) এবং বাম হাতে (হৃদয়ের কাছে) রাখে।
তাছাড়া স্মরণ করুন, প্রকাশি ৭:১-৩ আমরা বিশ্বাসীদের কপালে ঈশ্বর সীলমোহর করে রাখেন। পৌলও বলেন যে, বিশ্বাসীরা পবিত্র আত্মা দ্বারা সীলমোহর করে রাখা হয়েছে (ইফিষীয় ১:১৩, ৪:৩০)।
কিন্তু দ্বিতীয় জন্তুর ক্ষেত্রে এর অর্থ কি (প্রকাশিত ১৩:১৬-১৭)? কেউ কেউ ধরেন যে, চিহ্নটি আক্ষরিক, অর্থাৎ শেষ কালে কোনো সময়ে লোকদের জোর করে একটি চিহ্ন বা চিপ্স না এই ধরণের কিছু দেওয়া হবে। কেউ কেউ ধরেন যে, যেমন ঈশ্বরের চিহ্ন রূপক (কিন্তু বাস্তব!), তাই দ্বিতীয় জন্তুর চিহ্নও রূপক অর্থে বুঝা দরকার।

কিন্তু ৬৬৬ মানে কি? এই বিষয়েও বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে। এক ব্যাখ্যা হল এই: যদি গ্রীক বর্ণমালায় প্রত্যেক অক্ষরে একটি সংখ্যা দেওয়া হয় (যেমন বাংলায় ক=১, খ=২, গ=৩, ঘ=৪ ইত্যাদি) তবে ছোট বাক্য লিখলে এর একটি মোট সংখ্যা গুনা যায়। যেমন গ্রীকে “কৈসর নীরো জন্তু” বাক্যটির অক্ষর মোট করে ৬৬৬ সংখ্যায় পৌঁছানো যায়। তবে বলতে হবে যে বেশ কিছু ছোট বাক্য থেকে ৬৬৬ সংখ্যায় পৌঁচানো যায়, তাই বিষ্যয়টি ‘আন্দাজে বলার মত’ হযে দাঁডায়। অন্য একটি ব্যাখ্যা হল যে তা ভবিষ্যতে কোনো চিপ্সের কোদ। রূপক ব্যাখ্যা গেলে তবে বলা যায় যে, যিহূদী চিন্তায় ৬ হর মন্দতার, শয়তানের, পাপের বা দুর্ভাগ্যের নম্বর। ৬৬৬ তাহলে মানে মন্দ-মন্দ-মন্দ। আর একটি চিন্তা করা যায়:
আমরা প্রকাশিত ১২ ও ১৩ অধ্যায়ে মন্দ দানব, মন্দ প্রথম জন্তু এবং মন্দ দ্বিতীয় জন্তু পেয়েছি, হয়তো তা হল ত্রিত্ব ঈশ্বরকে নকল করার মত একটি মন্দ ত্রিত্বতা: দানব ৬, প্রথম জন্তু ৬ এবং দ্বিতীয় জন্তু ৬:

মোট কথা, আমরা এই ৩টি চিহ্নতে এই ছবি পেয়েছি: শয়তান মণ্ডলীকে অত্যচারের জন্য তার ক্ষমতা দু’টি জন্তুকে দেয়: দমনকারী অত্যাচারী, মন্দ সরকারকে এবং প্রতারনাকারী নকল ধর্মকে। যোহনের রোমীয় পাঠকদের জন্য তা হল: রোম সাম্রাজ্য (মন্দ সরকার) এবং সম্রাট পূজা (নকল ধর্ম)।
৪র্থ চিহ্ন মেষ-শিশুর সঙ্গে ১৪৪’০০০জন প্রকাশিত বাক্য ১৪:১-৫

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১৪:১-৫ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, এখানে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

সিয়োন পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে মেষ-শিশু এবং ১৪৪’০০০ লোক, যাদের কপালে আছে ঈশ্বরের নাম বা চিহ্ন। এই লোকদের বর্ণনা এভাবে দেওয়া হয়েছে: “স্ত্রীলোকদের সংগে ব্যভিচার করে নিজেদের অশুচি করে নি। যেখানে মেষ-শিশু যান তারা তাঁর পিছনে পিছনে যায়। … তারা কখনও মিথ্যা কথা বলে নি, আর তাদের মধ্যে কোন দোষ পাওয়া যায় নি।” তারা কারা? আক্ষরিক ব্যাখ্যা অনুসারে (যেমন ৭ অধ্যায়ে) তারা বিশেষ কয়েকজন পুরুষ বিশ্বাসী বা পুরুষ শহীদ। এর চেয়ে ভাল হল তা রূপক অর্থে বোঝা: ছবিটি মণ্ডলীকে দেখায়, অর্থাৎ মেষ-শিশুর অনুসরণকারী, যারা সবাই পবিত্র আত্মা দিয়ে সীলমোহর দিয়ে রাখা হয়েছে।

৫ম চিহ্ন ৩জন স্বর্গদূত এবং তাদের সংবাদ                                    প্রকাশিত বাক্য ১৪:১-১৩

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১৪:১-১৩ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, এখানে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

এখানে ৩জন স্বরদূত ৩টি ঘোষণা করে। প্রথম স্বর্দূতের ঘোষনা হল: “ঈশ্বরকে ভয় কর এবং তাঁর গৌরব কর, কারণ বিচার করবার সময় এসে গেছে।” দ্বিতীয় স্বর্দূতের ঘোষনা হল: “সেই নাম-করা বাবিল শহর ধ্বংস হয়ে গেছে।” এবং তৃতীয় স্বর্দূতের ঘোষণা হল:  “কেউ যদি সেই জন্তু এবং তাঁর মূর্তির পূজা করে এবং তাঁর চিহ্ন কপালে বা হাতে গ্রহণ করে, তবে তাকে ঈশ্বরের ক্রোধের মদ খেতে হবে” ।
এর অর্থ কি? দানব, প্রথম ও দ্বিতীয় জন্তু যত শক্তিশালী থাকুক না কেন, ঈশ্বর অবশেষে ন্যায় বিচার করবেন, অত্যাচারী বাবিলকে (যা এখানে রোমকে বুঝায়) ধ্বংস করবেন এবং যে মানুষ এই মন্দতায় যোগ দিয়েছে, তারাও বিচারিত হবে।
অবশেষে ঈশ্বর অবশ্যই ন্যায় বিচার করবেন – এই আলোতে এখন আমার কি করা দরকার? প্রকাশিত ১৪:১২-১৩ উত্তর দেয়: সহ্য করা, ধৈর্য ধরা, বিশ্বস্ত থাকা! … মৃত্যু পর্যন্ত। “এখন থেকে যারা প্রভুর সংগে যুক্ত হয়ে মারা যাবে তারা ধন্য।” রোম সম্রাট পূজার কারণে অত্যাচার শেষ হয় নি, আরো বিশ্বাসীরা মারা যাবে।

৬ম চিহ্ন দু’টি ফসল কাটা                                                                            প্রকাশিত বাক্য ১৪:১৪-২০

নির্দেশনা

প্রকাশিত ১৪:১৪-২০ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, এখানে নাটক আকারে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

এখানে দু’টি ফসল কাটার বর্ণনা দেওয়া হয়, প্রথমটা হল ইতিবাচক, দ্বিতীয়টা হল নেতিবাচক।
প্রথম ফসলের বর্ণনা (প্রকাশিত ১৪:১৪-১৬): সাদা মেঘের উপরে বসে আছেন “মনুষ্যপুত্রের ন্যায়” একজন (দানিয়েল ৭:১৩), যার সোনার মুকুট এবং হাতে কাস্তে আছে। তাকে বলা হয়: “কাস্তে লাগান, ফসল কাটুন, কারণ ফসল কাটবার সময় হয়েছে; পৃথিবীর ফসল পুরোপুরি পেকে গেছে।” এর অর্থ কি? এখানে ফসল কাটা মানে সুসমাচার প্রকারের কারণে যতজন বিশ্বাস করে, তাদেরকে জড়ো করা। যীশুই হলে ফসলের প্রভু (মথি ৯:৩৭, লূক ১০:২)।
দ্বিতীয় ফসলের বর্ণনা (প্রকাশিত ১৪:১৭-২০): একজন স্বর্গদূত অন্য দূতকে কাস্তে লাগাতে বলেন। তারা আঙ্গুর কেটে সেগুলো ঈশ্বরের মাড়ায় গর্তে ফেলেছে, যা ঈশ্বরের চূড়ান্ত বিচারের একটি ছবি (যোয়েল ৩:১৩, যিরমিয় ২৫:১৫, যিশাইয় ৬৩:১-৪)। যীশু শ্যামাঘাসের দৃষ্টান্তে বলেছেন যে, মাত্র ফসল কাটার সময়ে সঠিক ফল ও শ্যামাঘাস আলাদা করা হবে (মথি ১৩:৩৬)।
৬ম চিহ্ন ৫ম চিহ্নের মত নিশ্চয়তা দেয় যে, এখন কি ঘটুক না কেন (অত্যাচার, অন্যায়), একদিন চূড়ান্ত বিচার করা হবে এবং ভাল ও মন্দ আলাদা করা হবে।

৭ম চিহ্ন যারা মন্দের উপর জয় করেছে, ঈশ্বরের বিচারের ন্যায্যতা নিয়ে গান            প্রকাশিত বাক্য ১৫:১-৪

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১৫:১-৪ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, এখানে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

ঈশ্বরের সামনে সাগরের পাশাপাশি যারা জন্তুকে ও তার মূর্তি ও তার নামের সংখ্যার উপরে জয়লাভ করেছে, তারা ঈশ্বরের প্রসংশার গান গায়: “সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর, কত মহান ও আশ্চর্য তোমার কাজ! হে সমস্ত জাতির রাজা, কত ন্যায় ও সত্য তোমার পথ! প্রভু, কে না তোমাকে ভয় করবে? কে না তোমার নামের গৌরব করবে? কেবল তুমিই তো পবিত্র। সমস্ত জাতি তোমার কাছে আসবে, সবাই তোমার উপাসনা করবে; কারণ তোমার ন্যায়বিচার প্রকাশিত হয়েছে।”
চিন্তা করুন: আমাদের দৃষ্টি অনুসারে আমরা স্বর্গে অবশেষে ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করব: “কেন তুমি এটা করেছ?” “কেন তুমি সেটা প্রতিরোধ কর নি?”। এই দৃষ্টি কত বিন্ন: আমরা অবশেষে বুঝব ঈশ্বরের পথ, সব কিছুর পিছনে তাঁর মহাপরিকল্পনা, প্রত্যেক বিষয়ে তাঁর মঙ্গলময়তা!

০৪) ৫ম অভিনয় ৭টি বাটি                                           প্রকাশিত ১৫:৫-১৬:২১

আমাদের প্রকাশিত ১৫:৫-৮ পদে পটভূমি দেখানো হয়েছে যে, ঈশ্বরের উপাসনা-ঘর থেকে বের হওয়া ৭টা স্বর্গদূত, যাদের হাতে আছে ঈশ্বরের ক্রোধের বাতি। লক্ষ্য করুন যে ‘এক নজরে প্রকাশিত বাক্যের তালিকায়’ আমরা এখন নীল রঙ্গে আর নই (অর্তাৎ মণ্ডলীর যুগ বা দু’টানা যুগে আর নই), বরং আমরা লাল রঙ্গে প্রবেশ করছি, অর্থাৎ যীশুর ২য় আগমন বা চূড়ান্ত বিচারে। এখন থেকে আমরা আংশিক বিচারের কথা আর শুনব না (১/৩ ভাগ, ১/৪ ভাগ), বরং আমরা শুনব চূড়ান্ত বিচার (“সমস্ত”, “সব কিছু”)।

১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ম, ৭ম বাটি ঈশ্বরের ক্রোধ                          প্রকাশিত বাক্য ১৬:১-২১

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১৬:১-২১ পদ পড়ুন। এখানে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? কি পদগুলো পড়লে কি মনে পড়ে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

১ম বাটি     পৃথিবীর উপর যাদের জন্তুর চিহ্ন: খারাপ ও বিষাক্ত ফোঁড়া
২ম বাটি     সাগরের উপর জল রক্তে পরিণত, সাগরের সব প্রাণীর মৃত্যু
৩য় বাটি     নদী ও ফোয়ারার উপর জল রক্তে পরিণত
৪র্থ বাটি     সূর্য ভীষণ তাপ
৫ম বাটি     জন্তুর সিংহাসনের উপর অন্ধকার, যন্ত্রণা
৬ম বাটি     ইউফ্রেটিসের উপর শুকায়, ৩টি মন্দ আত্মা পৃথিবীর রাজাদের যুদ্ধে আনে (হর্মাগিদোন)
৭ম বাটি     বাতাসের উপর “যা হবার তা হয়ে গেছে”, বিদ্যুৎ চমকানো, ভূমিকম্প, শিলা বৃষ্টি, শহরকে ধ্বংস

আবারও যাত্রাপুস্তক ৭-১২ অধ্যায়ে মিসরের আঘাতের ভাষা এখানে পাওয়া যায়: ১ম বাটি এবং ৬ম আঘাত মিল আছে (ফোঁড়া), ২য় ও ৩য় বাটি এবং ১ম আঘাতের মিল আছে (জল রক্তে পরিণত), ৫ম বাটি এবং ৯ম আঘাতের মিল আছে (অন্ধকার) এবং ৭ম বাটি এবং ৭ম আঘাতের মিল আছে (শিলাবৃষ্টি)।
আর একটি লক্ষনীয় বিষয়, লোকেরা আর মন ফিরায় না। আমরা এখন চূড়ান্ত বিচারে আছি, অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পার হয়েছে। ৪র্থ বাটিতে লোকেরা “মন ফিরাল না এবং ঈশ্বরের গৌরব করল না”, ৫ম বাটিতে লোকেরা “তাদের মন্দ কাজ থেকে মন ফিরাল না” এবং ৭ম বাটিতে লোকেরা “আঘাতের জন্য ঈশ্বরের নিন্দা করতে লাগল”।
অপর পক্ষে ৩য় বাটিতে স্বর্গদূত বলেন (প্রকাশিত ১৬:৫-৬): “হে পবিত্র, তুমি আছ এবং তুমি ছিলে। তুমি ন্যায়বান, কারণ তুমি এই সব শাস্তি দিয়েছ। এই লোকেরা ঈশ্বরের লোকদের ও নবীদের খুন করেছে। তাই তুমি তাদের এই রক্ত খেতে দিয়েছ আর এটাই তাদের পক্ষে উপযুক্ত হয়েছে।” আর বেদী থেকে একজন বলেন (প্রকাশিত ১৬:৭): “সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর, তোমার সব বিচার সত্য ও ন্যায়ে পূর্ণ।”
চিন্তা করুন এখানে ঈশ্বরের বিচারের কত ইতিবাচক ছবি দেখানো হয়েছে! আমাদের দৃষ্টি এর চেয়ে অনেক ভিন্ন: যখন মন্দতা চলছে আমরা বলি ‘ঈশ্বর, তুমি কেন বিচার করো না?’ এবং যখন ঈশ্বর বিচার করেন আমরা বলি ‘ঈশ্বর, কেন বিচার করছ, তুমি তো দয়ালু!’ এক মুহূর্তে আমরা বিচারের অভাবে নালিশ করি, পরের মুহূর্তে আমরা বিচার হওয়ার কারণেই নালিশ করি! আপনি কি চান, বলুন? মন্দতা চিরকাল চলতে দেওয়া – তা কি আসলে ‘দয়া’? ঈশ্বরের বিচারই দয়া। ঈশ্বরের দয়ার মধ্যে ন্যায্যতা আছে। আমরা নিজের জন্য দয়া চাই এবং অন্যদের উপর একই বিষয়ের জন্য ন্যায় বিচার চাই। আমরা নিজেদেরকে খুব ‘ন্যায্য’ মনে করি এবং আমরা অনবরত ‘ঈশ্বর ন্যায্য নন’, তা নিয়ে অভিযোগ করি। কিন্তু আমরা কি আসলে তাঁর চেয়ে ন্যায্য?
আমি আশা করি যে, প্রকাশিত বাক্যের এই অধ্যয়ন আমাদের সাহায্য করে, ঈশ্বরের বিচার নতুন চোখে দেখা!

০৫) বিশেষ অভিনয়: জগতের শহর ৭টা গোষণা                প্রকাশিত ১৭:১-১৯:১০

বিশেষ অভিনয়ের পটভূমি বেশ্যা বাবিল                                    প্রকাশিত ১৭:১-১৮

নির্দেশনা

আমরা এই বিশেষ অভিনয়ের পটভূমি (তালিকায় সাদা রং দিয়ে দেখানো) এখনও দেখি নি। প্রকাশিত ১৭:১-১৮ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, আমাদের কি ছবে দেখানো হয়েছে।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

যোহনকে সেই মহাবেশ্যা দেখানো হচ্ছে, যে অনেক জলের উপর সবে আছে, যে পৃথিবীর রাজাদের সঙ্গে ব্যভিচার করে এবং যে আঙ্গুর-রস দিয়ে যারা এই পৃথিবীর, তাদেরকে মাতাল করে। সে লাল রঙ্গের জন্তুর উপর বসে আছে, যার গায়ে ঈশ্বরকে অপমান করার মত অনেকগুলো নাম আষে, যার ৭টা মাথা ও ১০টা শিং আছে। স্ত্রীলোক বেগুনী ও লাল রংয়ের পোশাক পরে ছিল এবং গায়ে সোনা, দামী দামী পাথর ও মুক্তার গহনা ছিল। তার হাতে আছে জঘন্য জিনিষে ও তার ব্যভিচারে ভরা বাটি ছিল। তার কপালে লেখা আছে “নাম করা বাবিল, বেশ্যাদের এবং পৃথিবীর সব জঘন্য জিনিসের মা”। স্ত্রীলোক ঈশ্বরের লোকদের এবং শহীদদের রক্ত খেয়ে মাতাল হয়ে আছে।

মহাবেশ্যাকে ‘বাবিল’ বলা হয়, অর্থাৎ পুরাতন নিয়মের যিহূদাকে ধ্বংসকারী ও যিহূদীদের অত্যাচারী সেই শহর বা সাম্রাজ্য। যোহনের পাঠকদের জন্য বাবিল হল রোম সাম্রাজ্য, যা বিভিন্ন দুর্নীতিগ্রস্ত রাজাদের সাথে ব্যভিচার করে, অর্থাৎ হাত মিলিয়ে (যেমন হেরোদীয়রা) ক্ষমতা দখল করেছে (১ পিতর ৫:১৩)। মানুষদের দ্বারা স্থাপিত সাম্রাজ্যগুলো সব সময় ক্ষমতার লোভী, দুর্নীতিগ্রস্ত, অত্যাচারী হয়ে উঠে ‘জন্তুতে’ পরিণত হয় (বাবিল, মাদিয়-পারস্য, গ্রীস, রোম বা আমাদের যুগে কোনো স্বেচ্ছাচারী একনায়কতন্ত্র হোক)। বর্তমানে রোম হল সেই শক্তিশালী, অত্যন্ত ধনী (বেগুন বা লাল কাপড় ছিল রাজকীয় পোশাক) এবং যীশুতে বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে অত্যাচারী সাম্রায্য, যা শহীদদের রক্ত খেয়ে মাতাল (সম্রাট পূজার দাবি)। 

লাল জন্তুর বর্ণনা হল লাল দানব (অর্থাৎ শয়তান), ১ম জন্তু (মন্দ সরকার) ও ২য় জন্তুর (ভ্রান্ত ধর্ম) মত। মহাবেশ্যা অনেক জল, অর্থাৎ অনেক জাতির উপরে (প্রকাশিত ১৭:১৫) বসে আছে। প্রকাশিত ১৭:৭-৮ পদে জন্তু ছিল, পরে ছিল না এবং শেষে আবার উঠে আসল, হতে পারে তা সেই ‘Nero redivivus myth” এর আর একটি বর্ণনা। প্রকাশিত ১৭:৯ পদে জন্তুর ৭টা মাথাকে ৭টা পাহাড় হিসাবে বুঝানো হয় যার উপর বেশ্যাটি বসে আছে। এখানে জানতে হয় যে, ঐযুগ থেকে আমাদের আধুনিক যুগ পর্যন্ত রোমকে সব সময় বলা হত “৭টা পাহাড়ের উপর স্থাপিত শহর” (“city on seven hills”)।
প্রকাশিত ১৭:১৬ পদে বলা হয়েছে: জন্তুটা সেই বেশ্যাকে ঘৃণা করবে। তারা তাকে ধ্বংস ও উলংগ করবে এবং তার মাংস খাবে; তারপর তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলবে। এখানে একটি মৌলিক সত্য প্রকাশিত: শয়তান যাদের ব্যবহার করে, পরে সে তাদেরকে ধ্বংস করে।

১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ম ও ৭ম ঘোষণা                              প্রকাশিত বাক্য ১৮:১-১৯:১০

নির্দেশনা

প্রকাশিত বাক্য ১৮:১-১৯:১০ পড়ুন এবং লক্ষ্য করুন, যোহন কি কি ঘোষণা শুনতে পান। চিন্তা করুন, এই বাণীর অর্থ ও গুরুত্ব কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

১ম গোষণা     “ধ্বংস হয়েছে, সেই নাম-করা বাবিল ধ্বংস হয়েছে!” (যিশাইয় ১৪,৪৬, ৪৭, ৪৮, যিরমিয় ৫০-৫১)

২য় গোষণা     “আমার লোকেরা, তোমরা বাবিল থেকে বের হয়ে এস যেন তার পাপের ভাগী তোমারা না হও, আর যে সব আঘাত তার উপরে পড়বে তার কোনটাই যেন তোমাদের ভোগ করতে না হয়” (যিরমিয় ৫১:৬, ৫১:৪৫)।

৩য় গোষণা     স্বর্গদূত বড় জাঁতার মত একটি পাথর নিয়ে সাগের ফেলে দিয়ে বললেন “এমনি করেই সেই নাম-মরা বাবিল শহরটাকে ফেলে দেওয়া হবে।”

৪র্থ গোষণা     স্বর্গে ভিড় বলল “হাল্লেলূয়া! উদ্ধার, গৌরব এবং ক্ষমতা, সবই আমাদের ঈশ্বরের, কারণ তাঁর বিচার সত্য ও ন্যায্য।“

৫ম গোষণা     আর একবার তারা বলে “হাল্লেলূয়া!”

৬ম গোষণা     সিংহাসন থেকে একন বললেন “হাল্লেলূয়া! আমাদের সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর রাজত্ব করতে শুরু করেছেন।”

৭ম গোষণা     স্বর্গে ভিড় আবার হলে “হাল্লেলূয়া! আমাদের সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর রাজত্ব করতে শুরু … ছোটা-বড় সবাই আমাদের ঈশ্বরের গৌরব কর!”

এর অর্থ কি? মহাবেশ্যা যত শক্তিশালী হোক না কেন, এক দিন ঈশ্বর রোম সাম্রাজ্যকে বিচার করবেন এবং ন্যায্যতা পুনরায় স্থাপন করবেন। ঈশ্বর পাঠকেদের দীর্ঘদিনের দৃষ্টি দিয়ে এই সাম্রাজ্য থেকে বের হয়ে আসতে, অর্থাৎ এই অন্যায্য ক্ষমতার সাথে আপোষ না করতে।

০৬) ৬ম অভিনয় চূড়ান্ত বিচার ৭টা “আমি দেখলাম”           প্রকাশিত বাক্য ১৯:১১-২০:১৫

নির্দেশনা

মনে রাখুন, ৬ম অভিনয়ের পটভূমি হলেন যীশু, যিনি সাদা ঘোড়ার উপরে যুদ্ধে নামেন।
প্রকাশিত বাক্য ১৯:১৭-২০:১৫ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, আমাদের এখানে কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ বা গুরুত্ব কি হতে পারে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

১ম “আমি দেখলাম”    একজন স্বর্গদূত পাখিদের ডাকেন, যেন তারা যীশুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে মারা যাওয়া রাজাদের ও সেনাপতিদের খায়।
২য় “আমি দেখলাম”    জন্তু ও পৃথিবীর রাজারা যীশুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যীশু ১ম ও ২য় জন্তু এবং অন্যান্যদেরকে পরাজিত করেন এবং জ্বলন্ত গন্ধকের আগুনের হ্রদে ফেলে দেন।
৩য় “আমি দেখলাম”    শয়তান, অর্থাৎ প্রতারক বা সাপকে ১০০০ বছরের জন্য অতল গর্তে ফেলা হয়।
৪র্থ “আমি দেখলাম”    যাদের যীশুর শিক্ষা অনুসারে চলার জন্য মাথা কেটে ফেলা হয়েছিল, তাদেরকে সিংহাসনগুলোতে বসিয়ে যীশুর সঙ্গে ১০০০ বছর রাজত্ব করার অধিকার দেওয়া হয়।
৫ম “আমি দেখলাম”    ১০০০ বছরের পরে শয়তানকে আর একবার মুক্ত করা হয় এবং সে আর একবার জাতিদের প্রতারণা করে ঈশ্বরের লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আনায়। স্বর্গ থেকে আগুন তাকে শেষ করে দেয় এবং তাকে ১ম ও ২য় জন্তুর মত গন্ধকের আগুনের হ্রদে ফেলা হয় যেখানে সে দিনরাত চিরকালের জন্য যন্ত্রণা ভোগ করবে।
৬ম “আমি দেখলাম”    বড় সাদা সিংহাসনের উপরে ঈশ্বর।
৭ম “আমি দেখলাম”    ছোট-বড় সব মৃত লোকেরা পুনরুত্থিত হয়ে ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই পুনরুত্থিত হল মানে যে মৃত্যু শেষ, তাই মৃত্যু ও মৃতস্থানকে আগুনের হ্রদে ফেলে দেওয়া হয়। জীবন-বই খোলা হল এবং তা অনুসারে সবাইকে বিচার করা হয়। যাদের নাম সেই জীবন-বইতে পাওয়া গেল না, তাদেরকেও আগুনের হ্রদে পেলা হয়।

আমরা এখানে চূড়ান্ত বিচারের বর্ণনা পায়। ঈশ্বর দানবকে (শয়তান), ১ম জন্তুকে (মন্দ সরকার), ২য় জন্মুকে (ভণ্ড নবী), যে মানুষ মন্দ পছন্দ করেছে, মৃত্যুকে ও মৃতস্থানকে বিচার করে সরিয়ে দেন। মন্দ আত্মা ও মন্দ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাথে পৃথিবীতে যত পাপ, অন্যায়, অবিচার, যন্ত্রণা ও নিষ্ঠুরতা ছিল, তা বস চূড়ান্তভাবে বিচার করা হয় এবং শেষ করা হয়। কি থাকবে? যা কিছু ঈশ্বরকে মানে, যা তাঁর ইচ্ছা ও চিরিত্র অনুসারে চলবে, তা থাকবে এবং অবশেষে শান্তিতে বাস করবে।

১০০০ বছর রাজত্বের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন আসতে পারে। আরো প্রশ্ন আসতে পারে, কেন শয়তানকে আর একবার ছেড়ে দেওয়া হয়, তা কি দরকার ছিল? এখানে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিষয়টি আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করলে তা যিরূশালেমে যীশু ও তাঁর বিশ্বাসীদের দ্বারা একটি আসল ১০০০ বছরের রাজত্ব বুঝায়। এই ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে বলা যায় যে, আক্ষরিকভাবে নিলে, মাত্র শহীদরা যীশুর সঙ্গে রাজত্ব করবে, আসলে মাত্র এমন শহীদরা তাঁর সাথে রাজত্ব করবে, যাদের মাথা কাটা হয়েছে। সাধারণ বিশ্বাসী ও শহীদদের মধ্যে এবং শহীদদের বিভিন্ন মৃত্যুর ধরণের মধ্যে কেন এত পার্থক্য করা হচ্ছে, তা পরিষ্কার না। নতুন নিয়মে কিছু বলা হয় নি, যা এই পার্থক্য সমর্থন করে। তাছাড়া জিজ্ঞাসা করতে হয়, তারা ঠিক কার উপরে রাজত্ব করবে? অন্য বিশ্বাসীদের উপরে? অনিচ্ছুক মন্দ মানুষের উপরে? সবার উপরে? সেই ১০০০ বছরে এখনও শিশু জন্ম গ্রহণ করবে? তাদের অবস্থা কি হবে? … আসলে ব্যাখ্যাটি যত সরল মনে হয়, তত সরল নয়।
আবারও কেউ কেউ বলে যে, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম “আমি দেখাম” রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করা ভাল। ৩য় ও ৫ম “আমি দেখলাম” হল একই শেষ যুদ্ধের দু’টি দৃষ্টি বা বর্ণনা। এই ব্যাখ্যা অনুসারে সেই ১০০০ বছর হল দু’টানা যুগে মণ্ডলীর অধিকার বা রাজত্ব। মণ্ডলীর হাতে সুসমাচার, পরিত্রাণ ও ক্ষমার চাবি দেওয়া হয়েছে, তারা ঈশ্বরের অধিকার আশ্চর্য কাজ দ্বারা প্রমাণিত করবে এবং অনেকে তাদের সাক্ষ্য দ্বারা উদ্ধার পাবে। – যেভাবে হোক, এর শেষ ফল হবে যীশুর জয় এবং তাঁর মঙ্গলময় রাজত্ব।

০৭) ৭ম অভিনয় স্বর্গের বর্ণনা ৭টা “আর নেই”                প্রকাশিত বাক্য ২১:১-২২:২১

নির্দেশনা

মনে রাখুন, ৭ম অভিনয়ের পটভূমি ছিল নতুন মহাকাশ ও নতুন পৃথিবীর সৃষ্টি! এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশ এবং পৃথিবী, আত্মিক জগত ও বস্তজগত, অদৃশ্য এবং দৃশ্য – সব কিছু ঈশ্বর পুনরায় সৃষ্টি করবেন, তিনি সব কিছু উদ্ধার করবেন (ইফিষীয়), মিলনে আনবেন (কলসীয়) অথবা বদলিয়ে দেবেন (করিন্থীয়)। আমাদের চিন্তা হল: ‘আমরা পৃথিবী ত্যাগ করে একটি আত্মিক স্বর্গে পালাব’। কিন্তু প্রকাশিত বাক্য আমাদের ভিন্ন একটি ছবি দেখায়।
প্রকাশিত বাক্য ২১:১-২২:২১ পদ পড়ুন। এখানে আমাদের কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ এবং এর গুরুত্ব কি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

১ম “আর নেই”     আগের মহাকাশ ও পৃথিবী আর নেই।
২য় “আর নেই”     চোখের জল, মৃত্যু, দুঃখ, ব্যাথা আর থাকবে না।
৩য় “আর নেই”    উপাসনা-ঘর আর নেই।
৪র্থ “আর নেই”     সূর্য বা চাঁদের আলো আর নেই।
৫ম “আর নেই”    শহর বন্ধ আর থাকে না, রাত আর নেই।
৬ম “আর নেই”    অশুচি কিছু, জঘন্য কাজ, মিথ্যা কথা আর নেই।
৭ম “আর নেই”    অভিশাপ আর নেই।

আগের অভিনয়ে আমরা দেখলাম, যা কিছু মন্দ, তা কিভাবে শেষ করা হচ্ছে। এই অভিনয়ে আমরা এর ফলাফল দেখি: পাপ, অন্যায়, মন্দতা এবং তার ফলাফল কষ্ট, দুঃখ, ব্যথা ইত্যাদি – এগুলো সব আর নেই।

কিছু লক্ষনীয় বিষয়

প্রকাশিত ২১:২,৯-১১ “পরে আমি সেই পবিত্র শহরকে, অর্থাৎ নতুন যিরূশালেমকে স্বর্গের মধ্য থেকে এবং ঈশ্বরের কাছ থেকে নেমে আসতে দেখলাম। কনেকে যেমন তার বরের জন্য সাজানো হয়, এই শহরকেও ঠিক সেইভাবে সাজানো হয়েছিল।” ঈশ্বরের সব বিশ্বাসীদের এখানে একসাথে দু’টি রূপক দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে: একটি পবিত্র শহর হিসাবে (“নতুন যিরূশালোম”) এবং সুন্দরভাবে সাজানো একজন কনে (মথি ২২:১ ঈশ্বরের রাজ্য হল নিজ পুত্রের জন্য এক রাজার বিবাহের ভোজ নিযেমন, ইফিষীয় ৫:২৯,৩২)।

প্রকাশিত ২১:৩-৪ “এখন মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের থাকবার জায়গা হয়েছে। তিনি মানুষের সংগেই থাকবেন এবং তারা তাঁরই লোক হবে। তিনি নিজেই মানুষের সংগে থাকবেন এবং তাদের ঈশ্বর হবেন। তিনি তাদের চোখের জল মুছে দেবেন” যেমন শুরু থেকে বলা হয়েছে (যাত্রা ১৯:৪ ইত্যাদি), ঈশ্বর আমাদের তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কে আনার জন্যই উদ্ধার করেছেন। আমরা সত্যি তার ভালবাসার ও আকাঙ্ক্ষার পাত্র!

প্রকাশিত ২১:৬ “শেষ হয়েছে। আমি আল্‌ফা এবং ওমিগা-আরম্ভ ও শেষ। যার পিপাসা পেয়েছে তাকে আমি জীবন-জলের ফোয়ারা থেকে বিনামূল্যে জল খেতে দেব।” যেমন শুরুতে বলা হয়েছে (প্রকাশিত ১:৮), ঠিক তেমনি এখন তা পূর্ণ ও প্রমাণিত: যীশুই হলেন আল্‌ফা এবং ওমিগা-আরম্ভ ও শেষ। জিনি জীবনের উৎস বা ফোয়ারা (যোহন ৭:৩৭-৩৯)।

প্রকাশিত ২১:২৪-২৬,২২:২৬ “আর সব জাতি সেই (মেষ-শিশুর) আলোতে চলাফেরা করবে। পৃথিবীর রাজারা তাঁদের জাঁকজমক নিয়ে সেই শহরে আসবেন। দিনের বেলা শহরের ফটকগুলো কখনও বন্ধ থাকবে না আর সেখানে রাতও হবে না। সমস্ত জাতির গৌরব ও সম্মান সেখানে আনা হবে।” যখন সবাই যীশুর আলোতে এবং তাঁর ইচ্ছামত চলবে, তখন সব কিছু খোলা ও নিরাপত্তায় থাকবে। কিন্তু আরো চমৎকার: প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠি থেকে তাদের “জাঁকজমক”, তাদের ধন, অর্থাৎ তাদেরই চমৎকার দান, তালন্ত, সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি, আহ্বান ও পরিচয় অনুসারে অবদান – এই সব সবার উপকারে এবং যীশুর গৌরবের জন্য তাঁর সামনে আনা হবে। কি অদ্ভুৎ দৃষ্টি!

প্রকাশিত ২১:৯-২২ পদে কনের, অর্থাৎ নতুন যিরূশালেমের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। যোহন এখানে বর্ণনা করতে চেষ্টা করে, যা আসলে বর্ণনা করা যায় না। যা সুন্দর, দামী, চকচকে, খাঁটি, সুসঙ্গত ও চমৎকার (যেমন সোনা, মুক্তা, হীরা ইত্যাদি), তার সাথে তুলনা করে তিনি এই অতি চমৎকার দৃষ্টি প্রকাশ করেন।

প্রকাশিত ২২:১-২ “তারপর সেই স্বর্গদূত আমাকে জীবন-জলের নদী দেখালেন। সেটা স্ফটিকের মত চক্‌চকে ছিল এবং ঈশ্বরের ও মেষ-শিশুর সিংহাসনের কাছ থেকে বের হয়ে শহরের রাস্তার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল। সেই নদীর দু’ধারেই জীবন-গাছ ছিল। তাতে বারো রকমের ফল ধরে। প্রত্যেক মাসেই তাতে ফল ধরে এবং তার পাতায় সমস্ত জাতির লোক সুস্থ হয়।” জীবন-নদীর ছবি যিহিষ্কেল থেকে আসে (যিহিষ্কেল ৪৭:১-১২), যেখানে ঈশ্বরের উপাসনা-ঘরের চৌকাঠ থেকে (এখানে মেষ শিশুর সিংহাসন থেকে) জল বের হয়ে এসে পূর্ব দিকে গিয়ে একটি গভীর ও জীবনদায়ী স্রাোতে পরিণত হয়। আবারও যীশুই হলেন সব জীবনের উৎস, যোগানদাতা ও সুস্থতাদানকারী।

তাছাড়া আমরা এখানে দেখি, কিভাবে ঈশ্বর এদন বাগান পুনরায় সৃষ্টি করেন (“নতুন মহাকাশ ও নতুন পৃথিবী”) এবং মানুষকে তাদের আসল ভূমিকায় ও আহ্বানে পুনরায় স্থাপন করা হয়, ঈশ্বরের অধীনে, অর্থাৎ যীশু দ্বারা এই পৃথিবীতে রাজত্ব্য করা এবং এই পৃথিবীকে উন্নত করা। কি অদ্ভুৎ দৃষ্টি!

০৯) প্রকাশিত বাক্য থেকে কি শিখব? কি প্রয়োগ করব?

নির্দেশনা

চিন্তা করুন: আমরা প্রকাশিত বাক্য থেকে কি শিখব? কি প্রয়োগ করব? মনে রাখুন, পুস্তকের শুরুতে পাঠক হিসাবে আমাদের কি চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে: “যারা তা শোনে ও পালন করে তারাও ধন্য” (প্রকাশিত ১:৩)। তাই কি পালন করব? কিতে বাধ্য থাকব?

বিবেচনা করুন

  • প্রকাশিত বাক্য লেখা হয় নি আমাদের ভয় দেখানোর জন্য, বরং আমাদের উৎসাহ ও সানত্বনা দেওয়ার জন্য, আমাদের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য যে ঈশ্বর মঙ্গলময়, তিনি সব কিছু দেখেন এবং একদিন তাঁরই মহাপরিকল্পনা অনুসারে সব কিছু তাঁর উদ্দেশ্যে নিয়ে আসবেন।
  • অন্যায়, অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতা একদিন বিচারিত হবে এবং সরানো হবে। যা থাকবে হল যীশুর মঙ্গলময় রাজত্ব এবং এর মধ্যে মানুষের সব আহ্বান, আকাঙ্ক্ষা ও আশার পূর্ণতা।
  • যীশুর আগমন নিয়ে ভয় করবেন না! কোন দেওয়া তারিখ নিয়ে উত্তেজিত হবেন না।
  • প্রকাশিত বাক্য নিয়ে ভয় পাবেন না! প্রকাশিত বাক্য দিয়ে কাউকে ভয় দেখাবেন না! তা হল পুস্তকটি ভুল বোঝা।
  • প্রকাশিত বাক্যে বাধ্য হন, অর্থাৎ ভাল দাসের মত বিশ্বস্তভাবে কাজ করেন যেন – মনিব যখন আসবেন – তিনি আপনাকে ‘কাজে ব্যস্ত’ পান। কি কাজে আমরা ব্যস্ত হব? > সেই কাজে, যা তিনি আমাদের দিয়েছেন, ঈশ্বরকে হৃদয় ও মন দিয়ে ভালবাসা, প্রতিবেশীকে সেবা করা, সুসমাচার প্রচার করা এবং প্রত্যেকটি ব্যবহারিক কাজ বা পেশা তাঁর নীতি অনুসারে করা।
  • মন্দ সরকার, মন্দ ধর্ম বা মন্দ মানুষের সম্মুখীন হলে আমরা কি করব? > যীশু আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, তাতে আমরা চলব: কষ্ট সহ্য করা, সেবা করা, সত্য বলতে থাকা, ধৈর্য ও বিশ্বাস ধরে রাখা এবং – প্রয়োজন হলে – মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থাকা।
আমার আশা এই যে, প্রকাশিত বাক্যের এই অধ্যয়ন দ্বারা আপনি ভয় বা দ্বিদাদ্বন্দ্ব থেকে একটি আশার দৃষ্টিতে আসতে পেরেছেন!