০১) প্রকাশিত বাক্যের কাঠামো
প্রকাশিত বাক্যে আমরা অধ্যায় পর অধ্যায় ধরে বাণীগুলো ব্যাখ্যা করব। কিন্তু ধারাবাবিহকতা বা কি? পুস্তকটি পড়লে চোখে পড়ে যে সব কিছু ৭ নাম্বার অনুসারে সাজানো। যীশু ৭টি মণ্ডলীগুলোর কাছে ছোট ব্যক্তিগত চিঠি দেন (প্রকাশিত ২-৩ অধ্যায়), পরে দেখা যায় ৭টি শীলমোহর (৬ অধ্যায়), ৭টি তূরী (৮-৯ অধ্যায়), ৭টি চিহ্ন (১২-১৪ অধ্যায়), ৭টি দূতদের হাতে ৭টি বাটি (১৬ অধ্যায়), পরে ৭টি ঘোষণা করা হয় (১৮-১৯ অধ্যায়), যোহন ৭বার বলবে “আমি দেখলাম” (১৯-২০ অধ্যায়) এবং শেষে ৭বার বলা হবে কি কি “আর থাকে না” (২১-২২ অধ্যায়)। বলা যায় যে প্রকাশিত বাক্যে প্রায় ৭টি অভিনয় আছে এবং এক একটা অভিনয়ে ৭টি দৃশ্য পাওয়া যায় (১নং তূরী, ২নং তূরী ইত্যাদি)। পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে প্রকাশিত বাক্য পুস্তকের একটি পরিষ্কার কাঠামো আছে, অর্থাৎ পুস্তকটি খুব সাজানো। আরো দেখা যায় যে অভিনয়ের শুরুতে ‘পটভূমি’ বলতে কিছু বর্ণনা করা হয়, অর্থাৎ সেই অভিনয়ের শুরুতে পাঠকদের চোখের সামনে পরিস্থিতির বা পটভূমির একটি দৃষ্টি দেওয়া হয়। তাছাড়া ৬ নং দৃশ্যের পরে এবং ৭ নং দৃশ্যের আগে প্রায় একটি বিশেষ কথা দেখা যায়। এই সব ‘এক নজরে কাঠামো’ হিসাবে দেখানো যায়।
নির্দেশনা
নিচের চার্ট ভাল করে দেখুন। খায়াল করুন লেখাটি ১ অধ্যায় থেকে কিভাবে অভিনয় পর অভিনয়ে (উপর থেকে নিচ দিকে) চলে এবং ২২ অধ্যায়ে সমাপ্ত হয়। রং কেন এভাবে দেওয়া হয়েছে, তা পরবর্তীতে বুঝানো হবে।
০২) প্রকামিত বাক্যে সময় তালিকা
এ্যপোকালিপ্টিক লেখার ধরণের বিষয়ে যখন কথা বলা হয়েছে আমরা দেখেছি যে, যদিও প্রকাশিত বাক্য পুস্তক হিসাবে অতি সাজানো, এর অর্থ এই নয় যে তা কালানুক্রমিক, অর্থাৎ যে তা সময় অনুসারে আগায়।
প্রকাশিত বাক্যে একই বিষয় কয়েক বার একটু ভিন্নভাবে দেখানো হয়। লেখাটি পুনাবৃত্তিমূলক এবং চক্রাকারে চলে, যেমন: প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫-১৬ পদ পড়লে বোধ হয় যে তা হল শেষ অবস্থার একটি বর্ণনা: “তখন স্বর্গে জোরে জোরে বলা হল, “জগতের রাজ্য এখন আমাদের প্রভু ও তাঁর মশীহের হয়েছে। তিনি চিরকাল ধরে রাজত্ব করবেন”। কিন্তু ঠিক পরের পদগুলোতে (প্রকাশিত বাক্য ১২:৩-৪) আবার বিশৃঙ্খলা দেখা যায় “তারপর স্বর্গে আর একটা চিহ্ন দেখা গেল-আগুনের মত লাল একটা বিরাট দানব … তার লেজ দিয়ে সে আকাশের তিন ভাগের এক ভাগ তারা টেনে এনে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলে দিল … যে স্ত্রীলোকটির সন্তান হতে যাচ্ছিল দানবটা তার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল যেন সন্তানের জন্ম হলেই সে খেয়ে ফেলতে পারে”। তাতে বুঝা যায় যে এই পদগুলোতে আমরা নতুন একটি চক্রে আছি, অর্থাৎ শেষ অবস্থা দেখানোর পরে ফিরে গিয়ে আবার আগের একটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু প্রকাশিত বাক্যে তাহলে সময় কিভাবে আগায়। প্রকৃতপক্ষে প্রকাশিত বাক্যে সময়ের তালিকা খুব সরল, এবং তা হল সেই একটি তালিকা যা আমরা সুসমাচারে যীশুকেও ব্যবহার করতে দেখি। নিচে তা চার্ট হিসােব দেখানো হয়েছে।
নির্দেশনা
নিচের চার্ট ভাল করে দেখুন এবং ব্যবহৃত রংগুলোও লক্ষ্য করুন। বাম পাশ থেকে শুরু করে ডান দিকে আগান।
যীশুর প্রথম আগমন (কালো রং দিয়ে দেখানো)
- যীশু শিশু হিসাবে জন্ম নেন, প্রায় ত্রিশ বছর এই পৃথিবীতে জীবন-যাপন করেন, পরবর্তীতে তিন বছর ধরে পরিচর্যা করেন, শেষে ক্রুশে মারা যান এবং পুনরুত্থিত হন।
- পুনরুত্থানের পরে তিনি নিজেকে শিষ্যদের কাছে প্রকাশ করেন, স্বর্গস্ত পিতার কাছে ফিরে যান এবং নিজের পরিবর্তে পবিত্র আত্মাকে পাঠান।
- পবিত্র আত্মার পরিচালনায় প্রথম মণ্ডলী স্থাপিত হয় এবং সুসমাচার পৃথিবীতে ছড়িয়ে যেতে শুরু করে।
মণ্ডলীর যুগ বা দু’রাজ্যের দ্বন্দ্বের যুগ
- পঞ্চাশত্তমী দিনে পিতর তার প্রচারে (প্রেরিত ২:১৭) বলেন যে আমরা “শেষ কালে” আছি।
- সুসমাচার ছড়িয়ে পড়বে, মণ্ডলী বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্বাসীরা অত্যাচর ও যীশুর সুরক্ষা বা জয় উভয় উপলব্দি করবে। তারা কখনও কখনও দেখবে ঈশ্বরের আশ্চর্য উদ্ধার কিন্তু কখনও কখনও কষ্টভোগ ও মৃত্যুর সম্মুখীনও হবে।
- দুই হাজার বছর ধরে মণ্ডলী এই বাস্তবতার মধ্যেই আছে, ঈশ্বরের রাজ্য উপস্থিত কিন্তু পাপ, মন্দ ও অন্যায় এখনও চলছে: দু’রাজ্যের দ্বন্দ্বের যুগ।
যীশুর দ্বিতীয় আগমন
- যীশু একদিন ফিরে আসবেন, শিশু হিসাবে না বরং রাজাদের রাজা এবং প্রভুদের প্রভু হিসাবে।
- তিনি সেই হত মেষ কিন্তু একই সাথে জয়ী, যিহূদা বংশের সিংহ এবং সাদা ঘোড়ার উপরে সেই বীরযোদ্ধা।
- তিনি মন্দ, অন্যায়, মৃত্যু ও শয়তানকে পরাজিত করবেন।
- সবাই পুনরুত্থিত হবে (এভাবেই মৃত্যু বাতিল) এবং বিচারে দাঁড়াবে।
- মন্দ আত্মা ও মন্দ মানুষ চিরকালের জন্য বন্দী করা হবে।
স্বর্গ
- ঈশ্বর একটি নতুন মহাকাশ ও একটি নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবেন। দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান, বস্তু জগত বা আত্মিক জগত – সব কিছু পুনরায় স্থাপন ও উদ্ধার করা হবে, যীশুর ন্যায়ের রাজত্বের অধীনে ও মিলনে আনা হবে।
- যেমন হওয়ার কথা ছিল, সব কিছু তেমনই হয়ে যাবে। সব কিছু হবে চমৎকার, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায্য: মানুষ আবার ঈশ্বরের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কে থাকবে, সেই ঈশ্বর যিনি সর্বেসর্বা।
রংগের এই ব্যবহার মনে রেখে এখন আর একবার আগের চার্টে ফিরে গিয়ে (এক নজরে প্রকাশিত বাক্য’) লক্ষ্য করুন: হালকা নীল রং মণ্ডলীর যুগ বা দু’রাজ্যের দ্বন্দ্বের যুগ বুঝায়, হালকা লাল রং যীশুর ২য় আগমন বা চূড়ান্ত বিচার বুঝায় এবং হালকা সবুজ রং স্বর্গ বুঝায়। লক্ষ্য করুন যে, লেখাটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে নীল রংগের পরে সবুজ রং আসে এবং পরে তা আবার নীল রঙ্গে ফিরে যায় (যেমন ২য়, ৩য় ও ৪র্থ অভিনয়ের শেষে)। একারণে বলা যায় যে, প্রকাশিত বাক্য পু্স্তক হিসাবে অত্যন্ত সাজানো, কিন্তু তা সব সময় কালানুক্রমিকভাবে আগায় না।
তবে সার্বিকভাবে বলা যায় যে, পুস্তক মণ্ডলীর যুগ নিয়ে শুরু করে, পরে যীশু ২য় আগম ও চূড়ান্ত বিচার বর্ণনা করে এবং সব কিভু স্বর্গে সমাপ্ত হয়ে যায়। সার্বিকভাবে: মণ্ডলীর যুগ > যীশুর ২য় আগমন > স্বর্গ।
০৩) বিভিন্ন অভিনয়ের পটভূমি
আমরা এখন অভিনয়ের শুরুতে যে পটভূমি দেখানো হয়, তা দেখব।
১ম অভিনয়ের পটভূমি যীশুর দর্শন প্রকাশিত বাক্য ১:৪-২০
নির্দেশনা
আমরা এখন প্রকাশিত বাক্যের ১ অধ্যায় দেখব, যা প্রথম অভিনয়ের পটভূমিও বটে। প্রকাশিত বাক্য ১:৪-৮ পদে যোহনের আশীর্বাদ প্রার্থনা পড়ুন। লক্ষ্য করুন তিনি ত্রিত্ব ঈশ্বরের এবং বিশেষভাবে যীশুর কি কি বর্ণনা দেন। যীশুর এই বর্ণনা পাঠকদের জন্য কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তা চিন্তা করুন।
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
প্রকাশিত বাক্য ১:৪ “যিনি আছেন, যিনি ছিলেন ও যিনি আসছেন”
- অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত ঈশ্বরেরই পাহে আছে, তিনি ইতিহাসের কর্তা।
প্রকাশিত বাক্য ১:৪ “তিনি আর তাঁর সিংহাসনের সামনে যে সাতটি আত্মা থাকেন”
- ৭টা আত্মা হল পবিত্র আত্মার একটি বর্ণনা (যেমন ৪:৫ পদেও)। হতে পারে তা যিশাইয় ১১:১ পদের উল্লেখ, যেখানে যীশুর যে আত্মা থাকবে, সেই পবিত্রা আত্মার৭টি বর্ণনা দেওয়া হয়: “যিশয়ের গোড়া থেকে একটা নতুন চারা বের হবেন; তাঁর মূলের সেই চারায় ফল ধরবে। ২ তাঁর উপর থাকবেন সদাপ্রভুর আত্মা, জ্ঞান ও বুঝবার আত্মা, পরামর্শ ও শক্তির আত্মা, বুদ্ধি ও সদাপ্রভুর প্রতি ভক্তিপূর্ণ ভয়ের আত্মা।”
প্রকাশিত বাক্য ১:৪ “তিনি আর তাঁর সিংহাসনের সামনে যে সাতটি আত্মা থাকেন”
- ৭টা আত্মা হল পবিত্র আত্মার একটি বর্ণনা (যেমন ৪:৫ পদেও)। হতে পারে তা যিশাইয় ১১:১ পদের উল্লেখ, যেখানে যীশুর যে আত্মা থাকবে, সেই পবিত্রা আত্মার৭টি বর্ণনা দেওয়া হয়: “যিশয়ের গোড়া থেকে একটা নতুন চারা বের হবেন; তাঁর মূলের সেই চারায় ফল ধরবে। ২ তাঁর উপর থাকবেন সদাপ্রভুর আত্মা, জ্ঞান ও বুঝবার আত্মা, পরামর্শ ও শক্তির আত্মা, বুদ্ধি ও সদাপ্রভুর প্রতি ভক্তিপূর্ণ ভয়ের আত্মা।”
প্রকাশিত বাক্য ১:৪ “তাঁরা এবং যীশু খ্রীষ্ট তোমাদের দয়া করুন ও শান্তি দান করুন।”
- তাই যোহন পাঠকদের পিতা ঈশ্বর, যীশু ও পবিত্র আত্মার নামে দয়া ও শান্তির আশীর্বাদ দিয়েছেন।
প্রকাশিত বাক্য ১:৫ “যীশুই বিশ্বস্ত সাক্ষী এবং মৃত্যু থেকে তিনিই প্রথমে জীবিত হয়ে উঠেছিলেন”
- “সাক্ষী” হল গ্রীক শব্দ ‘martus’, যেখান থেকে ইংরেজী শব্দ ‘martyr’ আসে, অর্থাৎ “শহীদ”। প্রেরিত ১:৮ পদ বলে যে প্রত্যেক বিশ্বাসীর আহ্বান হল, সাক্ষী হওয়া – ঈশ্বর আমার জন্য যা করেছেন, তা অন্যদের সাথে শেয়ার করা। অবশ্যই অত্যাচারের সময় যীশুকে স্বীকার করা হল আরো চ্যালেঞ্জের বিষয়।
- যীশুই ছিলেন সেই “বিশ্বস্ত সাক্ষী”, অর্থাৎ তিনি পৃথিবীতে এসে আমাদেরকে পিতা দেখিয়েছেন এবং সত্যের সাক্ষ্য দিতে দিতে ক্রুশে নিজের জীবন দান করেছেন। আমরা তাঁর অনুসরণকারী বলে তাঁরই মত চলব।
- যীশু কিন্তু ‘মাত্র’ মারা গিয়েছেন, এমন নয়। তিনি মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন – তিনি “প্রথম”, কিন্তু একই পুনরুত্থান সবার জন্য প্রতিজ্ঞা দেওয়া হয়েছে (১ করি ১৫:৫১-৫২, প্রকাশিত বাক্য ২০:১২-১৩)।
প্রকাশিত বাক্য ১:৫ “আর তিনিই পৃথিবীর রাজাদের শাসনকর্তা।
- যীশু সমস্ত মানব রাজা, সম্রাট ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যের উপরে রাজত্ব করেন। সরকার অত্যাচার করলেও, সম্রাট ডোমিটিয়ান নিজের পূজা দাবি করলেও, রোম অজেয় হলেও – যীশু সবার চেয়ে মহান। যোগন পাঠকদের নিশ্চয়তা দেন যে, তাদের জীবন কোন সরকারের হাতে নয় বরং ঈশ্বরেরই হাতে আছে।
প্রকাশিত বাক্য ১:৫-৬ “তিনি আমাদের ভালবাসেন এবং নিজের রক্ত দিয়ে পাপ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন। 6তিনি আমাদের নিয়ে একটা রাজ্য গড়ে তুলেছেন এবং তাঁর পিতা ও ঈশ্বরের সেবার জন্য পুরোহিত করেছেন। চিরকাল ধরে যীশু খ্রীষ্টের গৌরব হোক এবং চিরকাল ধরে তাঁর শক্তি থাকুক। আমেন।”
- যোহন পাঠকদের যীশুর ভালবাসার, পরিত্রাণের ও আহ্বানের নিশ্চয়তা দেন।
- যাত্রা ১৯:৪-৬ পদে যেমন ইস্রায়েল জাতিকে বলা হয়েছে, এখানে যোহন বিশ্বাসীদের তাদের সেই একই আহ্বান সরণ করিয়ে দেন: তারা ঈশ্বরের রাজ্য, তারা স্বর্গস্থ পিতা সেবার জন্য পুরোহিত, তাঁ এবং মানুষদের মধ্যে মধ্যস্থকারী।
প্রকাশিত বাক্য ১:৭ “দেখ, তিনি মেঘের সংগে আসছেন। প্রত্যেকটি চোখ তাঁকে দেখবে; যারা তাঁকে বিঁধেছিল তারাও দেখবে এবং পৃথিবীর সমস্ত জাতি তাঁর জন্য জোরে জোরে কাঁদবে। তা-ই হোক, আমেন।”
যোহন পাঠকদের দেখান যে যীশুর ২য় আগমন এমন একটি ঘটনা হবে, যা সবাই জানবে, কেউ এড়িযেও যেতে পারবে না। বিশ্বাসীদের জন্য তা হবে আনন্দের, কিন্তু অন্যাযকারী ও অত্যাচারীদের জন্য তা হবে ভয়ংকর দিন।
প্রকাশিত বাক্য ১:৮ “প্রভু ঈশ্বর বলছেন, “আমিই সেই আল্ফা এবং ওমিগা যিনি আছেন, যিনি ছিলেন ও যিনি আসছেন। আমিই সর্বশক্তিমান।”
- যীশুই সব কিছুর শুরু ও উৎস (আল্ফা), তিনিই হবে সব কিছুর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ও শেষ লক্ষ্য (ওমিগা)। অত্যাচারিত হলেও ঈশ্বরই সর্বশক্তিমান।
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য ১:৯-২২ হল যোহনের প্রথম দর্শন। পদগুলো পড়ুন এবং চিন্তা করুন, পাঠকেরা এই কথা থেকে কি সান্ত্বনা পাবে।
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
যোহন যখন একটি রবিবারে প্রার্থনায় আছেন, তিনি হঠাৎ করে তূরীর শব্দের মত একটি রব শোনেন।
তিনি ঘুরে ৭টি সোনার বাতিদানের মধ্যে “মনুষ্যপুত্রের মত একজন” দেখেন।
৭টি সোনার বাতিদান এশিয়ার ৭টি মণ্ডলী বুঝায় (প্রকাশিত ১:২০)। অবশ্যই যীশু নিজেকে “জগের আলো” বলেছেন (যোহন ৮:১২) এবং তার বিশ্বাসীদের আলো হতে বলেছেন (মথি ৫:১৬), তাই এই ছবি অবশ্যই উপযুক্ত। মণ্ডলী জগতে ঈশ্বরের আলো বহর করে।
কিন্তু প্রধান ফোকাস্ অবশ্যই যীশুরই উপর।একটি দর্শন পান। যীশু ৭টি বাতিদানের মধ্যে ঘুরে বেরাছেন
২য় অভিনয়ের পটভূমি স্বর্গীয় সিংহাসনে ত্রিত্ব ঈশ্বরের দর্শন > ৭টি সীলহোমর প্রকাশিত বাক্য ৪-৫
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য ৪ এবং ৫ অধ্যায় পড়ুন। যে ছবি আমাদের চোখের সামনে আঁকা হয়, তা লক্ষ্য করুন। যোহন ‘উঠে এসে’ স্বর্গে কি দেখেন? এর অর্থ কি হতে পারে? ছবিগুলো বুঝতে গেলে পুরাতন নিয়মের সাহায্য নেন।
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়সবা
৪:২ আর তখনই আমি পবিত্র আত্মার বশে স্বর্গে একটা সিংহাসন দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম, সেই সিংহাসনে একজন বসে আছেন। ৩ তাঁর চেহারা ঠিক হীরা ও সার্দীয় মণির মত।
স্বর্গের কেন্দ্র হল ঈশ্বরের সিংহাসন, যেখানে স্বর্গস্থ পিতা বসে আছেন।
ঈশ্বরক বর্ণনা করা যায় না, মাত্র উপায় হল, তাকে সবচেয়ে দামী হীরার সাথে তুলনা করা।
সিংহাসনটার চারদিকে একটা মেঘধনুক ছিল; সেটা দেখতে ঠিক একটা পান্নার মত।
মেঘধনু হল ঈশ্বরের দয়া বা মানব জাতির সাথে ঈশ্বরের চুক্তির চিহ্ন (আদি ৯:১৩)। মেঘধনু প্রকৃতিকেও বুঝায়, যা ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত করে।
৪ সেই সিংহাসনের চারদিকে আরও চব্বিশটা সিংহাসন ছিল, আর সেই সিংহাসনগুলোতে চব্বিশজন নেতা বসে ছিলেন। তাঁদের পোশাক ছিল সাদা এবং তাঁদের মাথায় সোনার মুকুট ছিল।
২৪জন নেতা হতে পারে পুরাতন নিয়মের ১২জন বংশের নেতারা ও নতুন নিয়মের ১২জন প্রেরিত বুঝায়, যারা ঈশ্বরের সব লোকদের প্রতিনিধি।
সাদা পোশাক মানে ক্ষমাপ্রাপ্ত বা ধার্মিক গণিত। মুকুট হল সম্মানের চিহ্ন ও মানুষের আহ্বান (আদি ১:২৮)।
৫ সেই সিংহাসনটা থেকে বিদ্যুৎ, ভয়ংকর শব্দ ও বাজের শব্দ বের হচ্ছিল।
বিদ্যুৎ ও মেঘের ডাক হতে পারে ঈশ্বরের ক্ষমতা ও ঘটনার গুরুত্ব বুঝায়।
সিংহাসনের সামনে সাতটা বাতি জ্বলছিল। সেই বাতিগুলো ঈশ্বরের সাতটি আত্মা।
ঈশ্বরের সাতটি আত্মা পবিত্র আত্মাকে বুঝায়। যিশাইয় ১১:২ পদে পবিত্র আত্মার ৭টি বর্ণনা বা উপাধি দেওয়া হয়েছে। বাতিদান ঈশ্বরের উপস্থিতি, আলো বা প্রকাশও বুঝায়, যা পবিত্র আত্মার জন্য উপযুক্ত রূপক।
৬ সেই সিংহাসনের সামনে যেন স্ফটিকের মত পরিষ্কার একটা কাচের সমুদ্র ছিল।
সাগর হয়তো প্রকৃতিকে বুঝায়। যিহূদীরা সাগরে ভয় পেত, কিন্তু এখানে সাগর ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রনে, শান্ত ও সুন্দর।
সেই সিংহাসনগুলোর মাঝখানের সিংহাসনটার চারপাশে চারজন জীবন্ত প্রাণী ছিলেন। তাঁদের সামনের ও পিছনের দিক চোখে ভরা ছিল। ৭ প্রথম জীবন্ত প্রাণীটির চেহারা সিংহের মত, দ্বিতীয়টির বাছুরের মত, তৃতীয়টির মানুষের মত এবং চতুর্থটির উড়ন্ত ঈগল পাখীর মত। ৮ এই চারজন জীবন্ত প্রাণীর প্রত্যেকের ছয়টা করে ডানা ছিল এবং সব জায়গা চোখে ভরা ছিল। সেই প্রাণীরা দিনরাত এই কথাই বলছিলেন, “সর্বশক্তিমান প্রভু ঈশ্বর, যিনি ছিলেন, যিনি আছেন ও যিনি আসছেন, তিনি পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র।”
৪টা প্রাণী ঈশ্বরের সৃষ্টি বা সব প্রাণী বুঝায়, এখানে সিংহ বুনো পশু, বাছুর গৃহ পালিত পশু, ইগল পাখিগুলো এবং মানুষের মুখ মানব জাতিকে বুঝায়। যিহিষ্কেল ১ অধ্যায়ে ৪টি প্রাণী ঈশ্বরের সিংহাসন বহন করে ও ঈশ্বরের বাধ্য হয়ে চলে (যদিও সেখানে প্রত্যেকটি প্রাণী ৪টি মুখ আছে)।
প্রাণীদের ডানাও ছিল, যা হতে পারে বুঝায় যে, স্বর্গদূতও ঈশ্বরের বাধ্য সৃষ্টির অংশ। তারা একচিত্তে ঈশ্বরকে আরাধনা করে।
“পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র” হতে পারে ত্রিত্ব ঈশ্বরের বর্ণনা ও আরাধনা বুঝায়।
৯ চিরজীবন্ত প্রভু ঈশ্বর, যিনি সিংহাসনে বসে আছেন, এই জীবন্ত প্রাণীরা যখনই তাঁকে গৌরব, সম্মান ও ধন্যবাদ জানান, ১০ তখন সেই চব্বিশজন নেতা সিংহাসনের অধিকারী, অর্থাৎ যিনি চিরকাল ধরে জীবিত আছেন তাঁকে উবুড় হয়ে প্রণাম করেন। এই নেতারা তখন সেই সিংহাসনের সামনে তাঁদের মুকুট খুলে রেখে বলেন, ১১ “আমাদের প্রভু ও ঈশ্বর, তুমি গৌরব, সম্মান ও ক্ষমতা পাবার যোগ্য, কারণ তুমিই সব কিছু সৃষ্টি করেছ; আর তোমারই ইচ্ছাতে সেই সব সৃষ্ট হয়েছে এবং টিকে আছে।”
৪টা প্রাণীদের আরাধনায় সাড়া দিয়ে ২৪জন নেতাও তাদের মুকুট ঈশ্বরের সামনে ফেলে আরাধনা করেন।
ঈশ্বরকে এখানে সৃষ্টিকর্তা হিসাবে, প্রাণের উৎস, জীবনদাতা ও ক্ষমতাশালী প্রভু হিসাবে আরাধনা করা হয়।
৫:১ যিনি সেই সিংহাসনের উপর বসে ছিলেন তাঁর ডান হাতে আমি একটা বই দেখলাম। বইটার ভিতরে ও বাইরে লেখা ছিল এবং সাতটা মোহর দিয়ে সীলমোহর করা ছিল। ২ পরে আমি একজন শক্তিশালী স্বর্গদূতকে জোর গলায় এই কথা বলতে শুনলাম, “কে এই সীলমোহরগুলো ভেংগে বইটা খুলবার যোগ্য?”
৩ কিন্তু স্বর্গে বা পৃথিবীতে কিম্বা পৃথিবীর গভীরে কেউই সেই বইটা খুলতে পারল না, ভিতরে দেখতেও পারল না। ৪ তখন আমি খুব কাঁদতে লাগলাম, কারণ এমন কাউকে পাওয়া গেল না যে ঐ বইটা খুলবার বা দেখবার যোগ্য। ৫ পরে নেতাদের মধ্যে একজন আমাকে বললেন, “কেঁদো না। যিহূদা বংশের সিংহ, যিনি দায়ূদের বংশধর, তিনি জয়ী হয়েছেন। তিনিই ঐ সাতটা সীলমোহর ভেংগে বইটা খুলতে পারেন।”
যোহন স্বর্গস্থ পিতার হাতে একটি বই বা গুটানো স্ক্রল দেখেন। যিহিষ্কেল ২ ও সখরিয় ৫ অনুসারে তা ঈশ্বরের বাক্য বা বাণী বুঝায়।
বই ৭টি সীলমোহর দিয়ে রক্ষিত আছে, যা ঈশ্বরের বাণীর গুরুত্ব, মূল্য, অধিকার ও স্থায়ীত্বের বুঝায়। পরবর্তি অধ্যায়ে একটি পর একটি সীলমোহর ভাঙ্গা হবে।
সীলমোহর ভেঙ্গে বই খোলার যোগ্য কেউ নেই, যার কারণে যোহন কান্না করে।
পরে দেখা যাবে যে সীলমোহর হল বেশ ভয়ংকর ও তা ঈশ্বরের বিচারও বুঝায়। আমরা কি আগ্রহের সঙ্গে ঈশ্বরের হস্তক্ষেপের জন্য কান্না করতাম?
৬ চারজন জীবন্ত প্রাণী এবং নেতাদের মাঝখানে যে সিংহাসনটি ছিল তার উপর একটি মেষ-শিশুকে আমি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আমার মনে হচ্ছিল যেন সেই মেষ-শিশুকে মেরে ফেলা হয়েছিল। ঐ মেষ-শিশুর সাতটা শিং ও সাতটা চোখ ছিল। ঈশ্বরের যে সাতটি আত্মাকে জগতের সব জায়গায় পাঠানো হয় এই চোখগুলো ছিল সেই সাতটি আত্মা। ৭ পরে সেই মেষ-শিশু এসে যিনি সিংহাসনে বসে ছিলেন তাঁর ডান হাত থেকে বইটা নিলেন। ৮ বইটা নেবার পর সেই চারজন জীবন্ত প্রাণী ও চব্বিশজন নেতা মেষ-শিশুর সামনে উবুড় হলেন। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে একটা করে বীণা ও একটা করে ধূপে পূর্ণ সোনার বাটি ছিল। সেই ধূপে পূর্ণ বাটিগুলো হল ঈশ্বরের লোকদের প্রার্থনা। ৯ তাঁরা এই নতুন গানটা গাইছিলেন: “তুমিই ঐ বইটা নিয়ে তার সীলমোহরগুলো খুলবার যোগ্য, কারণ তোমাকে মেরে ফেলা হয়েছিল। তুমিই তোমার রক্ত দিয়ে প্রত্যেক বংশ, ভাষা, দেশ ও জাতির মধ্য থেকে ঈশ্বরের জন্য লোকদের কিনেছ। ১০ তুমি তাদের নিয়ে একটা রাজ্য গড়ে তুলেছ এবং আমাদের ঈশ্বরের সেবা করবার জন্য পুরোহিত করেছ। পৃথিবীতে তারাই রাজত্ব করবে।”
কে যোগ্য? এই প্রশ্নের উত্তরে যোহনকে শোনানো হয় “যিহূদার সিংহ, দায়ূদের বংশ, যিনি জয়ী” যা আদি ৪৯:৯-১০, গণনা ২৪:১৭ ইত্যাদি পদে মসীহ সম্বন্ধীয় বর্ণনা। কিন্তু যা তিনি দেখেন হল হত্যা করা একটি মেষ-শিশু। যীশুর এই দু’টি বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ: তিনি হলেন সিংহ, রাজা, দায়ূদ বংশের ও রাজত্ব করার অধিকারী, কিন্তু তিনি একই সাথে সেই নম্র সেবক, যিনি অন্যদের জন্য নিজের জীবন দান করেছেন।
মেষ শিশুর ৭টি শিং ঈশ্বরের শক্তি বুঝায় এবং ৭টি চোখ বা আত্মা ঈশ্বরের জ্ঞান বুঝায়। মেষ-শিশু ও পবিত্র আত্মার একতাও দেখানো হয়েছে।
মেষ-শিশুকে, অর্থাৎ যীশুকে উদ্ধারকর্তা হিসাবে আরাধনা করা হয়, তিনি বাই খোলার যোগ, তিনি নিজের জীবন দান করেছিলেন, তিনি সমস্ত জাতি থেকে লোকদেরকে উদ্ধার করে ঈশ্বরের রাজ্য গড়ে তুলেছেন। যীশু বিশ্বাসীদেরকে পুরোহিত ভূমিকা দিয়েছেন।
১১ পরে আমি চেয়ে দেখলাম; আর আমি সেই
সিংহাসন, জীবন্ত প্রাণী ও নেতাদের চারদিকে অনেক স্বর্গদূতের কণ্ঠস্বর শুনলাম। সেই স্বর্গদূতেরা ছিলেন সংখ্যায় হাজার হাজার, কোটি কোটি। ১২ তাঁরা জোরে জোরে এই কথা বলছিলেন: “যে মেষ-শিশুকে মেরে ফেলা হয়েছিল, তিনিই ক্ষমতা, ধন, জ্ঞান, শক্তি, সম্মান, গৌরব ও প্রশংসা পাবার যোগ্য।”
১৩ তারপর স্বর্গে, পৃথিবীতে, পৃথিবীর গভীরে ও সমুদ্রে যত প্রাণী আছে, এমন কি, সেগুলোর মধ্যে আর যা কিছু আছে সকলকে আমি এই কথা বলতে শুনলাম:
“সিংহাসনের উপরে যিনি বসে আছেন তাঁর এবং সেই মেষ-শিশুর প্রশংসা, সম্মান, গৌরব ও ক্ষমতা চিরকাল থাকুক।” ১৪ সেই চারজন জীবন্ত প্রাণী বললেন, “আমেন।” তারপর সেই নেতারা উবুড় হয়ে প্রণাম করলেন।”
দৃষ্টি আরো চওড়া করে যোহন চারিদিকে অসংখ্য স্বর্গদূতও দেখেন। সব নেতা, প্রাণী ও স্বর্গদূত একসাথে ত্রিত্ব ঈশ্বরকে আরাধনা করে।
সব মিলিয়ে আমরা এই দ্বিতীয় অভিনয়ের পটভূমি ঈশ্বরের, ঈশ্বরের ক্ষমতা, ঈশ্বরের রাজত্বের ও ঈশ্বরের যোগ্যতার একটি ছবি পাই। আমরা ত্রিত্ব ঈশ্বরের ছবিও পাই, যাকে সৃষ্টিকর্তা ও উদ্ধারকর্তা হিসাবে উপযুক্তভাবে আরাধনা করা হয়। আমরা ৭টি সীলমোহরযুক্ত একটি বইও পায়, যা দ্বিতীয় অভিনয়ে খোলা হবে।
৩য় অভিনয়ের পটভূমি ৭টি তূরীওয়ালা দূত – বেদীতে ধূপ প্রকাশিত বাক্য ৮:৩-৫
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য ৮:১-৫ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, ৭ম সীলমোহর ও তৃতীয় অভিনয়ের শুরুতে আমাদের পটভূমি হিসাবে কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
৭ম সীলমোহর হল স্বর্গে আধা ঘন্টা নিরব। পরে ঈশ্বরের সামনে ৭টি স্বর্গদূত দাঁড়ান, যাদের এক একটা করে তূরী দেওয়া হল। তৃতীয় অভিনয়ে একটার পরে একটা তূরী বাজানো হবে।
ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে সোনার বেদী কাছে আর একজন স্বর্গদূত সেখানে দাঁড়ান। তার হাতে সোনা ধুপদানী আছে এবং সে ধূপ বেদীতে উৎসর্গ করছেন। ধূপটি ঈশ্বরের লোকদের প্রার্থনা বুঝায়। স্বর্গদূতটি বেদী থেকে আগুন নিয়ে তা পৃথিবীতে ফেলে দেয়, যাতে পৃথিবীতে ভয়ংকর শব্দ, বিদ্যুৎ চমকানো ও ভূমিকম্প হয়।
আধা ঘন্টা নিরব, তা শান্তির একটি সবম, বিশ্রামের একটি সময় অথবা যা আসছে, তার গুরুত্বও বুঝাতে পারে, আমরা জানি না। দেখা যাবে যে, স্বর্গদূতদের তূরীগুলো বিভিন্ন ধরণের বিচার নিয়ে আসে। তাই লক্ষ্য করুন যে, এই স্বর্গদূত ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে এবং তার ইচ্ছা অনুসারে সে তূরীগুলো বাজান। এই সব কিছুতে ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণ আছে।
ধূপ জ্বলানো দূতের ছবি দেখাতে চায় যে, বিশ্বাসীদের প্রার্থনাগুলো – অত্যাচারে তাদের কান্না – গুরুত্বের ও সম্মানের সঙ্গে ঈশ্বরের সামনে উৎসর্গ করা হয়। ঈশ্বর তাঁর লোকদের কান্না শোনেন, তিনি তাদের অবস্থা জানেন এবং তাদের প্রার্থনার উত্তরে পৃথিবীতে শক্তিশালীভাবে হস্তক্ষেপ করেন। তাদের প্রার্থনা নিষ্ফল নয় – তা সান্তবনা ও স্থিরতা দানকারী একটি ছবি।
৪র্থ অভিনয়ের পটভূমি ৭টি চিহ্ন – উপাসনা-ঘরে নিয়ম-সিন্ধুক প্রকাশিত বাক্য ১১:১৯
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য ১১:১৯ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, চতুর্থ অভিনয়ের শুরুতে আমাদের পটভূমি হিসাবে কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
সিংহাসনের সাথে ঈশ্বরের উপাসনা-ঘরটি খোলা হল এবং নিয়ম-সিন্দুকটি দেখা যায়। সাথে ভয়ংকর শব্দ, বিদ্যুৎ চমকানো, ভূমিকম্প ও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে।
এর অর্থ কি? আবারও আমাদের দৃষ্টি ঈশ্বরের দিকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এখানে আচমকানোর বিষয় হল: সাধারণত বাইরে থেকে উপাসনা-ঘরে নিয়ম-সিন্দুক দেখা সম্ভব না কারণ পবিত্র ও মহা পবিত্র স্থানের মাঝখানে একটি পর্দা আছে। ছবিটা তাই বলে: পর্দা সারনো হয়েছে, ঈশ্বরের উপস্থিতিতে যাওয়ার পথ খোলা। একদিকে ছবিটি দেখায়, যীশু তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা কি অর্জন করেছেন: পিতার কাছে আসার পথ খোলা! (ইব্রীয় ১০:২০ “খ্রীষ্ট আমাদের জন্য একটা নতুন ও জীবন্ত পথ খুলে দিয়েছেন, যেন আমরা পর্দার মধ্য দিয়ে, অর্থাৎ তাঁর দেহের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত হতে পারি”)। কিন্তু ছবিটি ভয়ংকরও, কারণ পর্দা নেই মানে সুরক্ষা নেই, অর্থাৎ ঈশ্বরের পবিত্রতার সামনে আরে লুকানো যাবে না, যে কোনো মুহূর্তে তাঁর বিচার সম্ভব (যেমন লেবীয় ১০:১-২, হারোণের ছেলেদের মৃত্যু)।
৫ম অভিনয়ের পটভূমি ৭টি বাটি – উপসনা ঘর থেকে ৭টি দূত প্রকাশিত বাক্য ১৫:৫-১৬:১
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য ১৫:৫-১৬:১ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, ৫ম অভিনয়ের শুরুতে আমাদের পটভূমি হিসাবে কি দেখানো হচ্ছে?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
ঈশ্বরের উপাসনা-ঘর থেকে ৭টি স্বর্দূত আসে, যাদের হাতে আছে এক একটা করে ঈশ্বরের ক্রোধের বাটি। তারা উপাসনা-ঘর থেকে আসে এবং তাদের ঝক্ঝকে পরিষ্কার কাপড় আর বুকে বাঁধা সোনার পটি আছে, অর্থাৎ তারা ঈশ্বর কাছ থেকে পাঠানো, বাধ্য ও পবিত্র। ঈশ্বরের বিচার বিশৃঙ্খল কোনো সর্বনাশ নয়, তা হল নিয়ন্ত্রিত, উপযুক্ত, ন্যায্য ও প্রয়োজন। ঈশ্বর বিরক্ত হয়ে স্বেচ্চাচারীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ক্রোধে বিচার করেন, এমন নয়।
৬ম অভিনয়ের পটভূমি ৭টি “আমি দেখলাম” প্রকাশিত বাক্য ১৯:১১-১৬
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য ১৯:১১-১৬ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, ৬ম অভিনয়ের শুরুতে আমাদের পটভূমি হিসাবে কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
যীশু খ্রীষ্ট সাদা ঘোড়ার উপর এসে ন্যায়ভাবে বিচার ও যুদ্ধে করেন। তাঁর মাথায় মুকুট এবং ইতিমধ্যে যুদ্ধে নামার সময়ে তার গায়ে রক্তে ডুবানো কাপড় আছে। হতে পারে তার অর্থ এই যে: তা শত্রুদের রক্ত না বরং তা হল তাঁর নিজের রক্ত, যা তিনি আমাদের জন্য ঢেলে দিয়েছেন। তাঁর নাম “রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু”। তাঁর মাত্র অস্ত্র হল তাঁর মুখ থেকে বের হওয়া ধারালো ছোরা, যা তাঁর বাক্য বুঝায় (যেমন যিশাইয় ৪৯:২)।
ছবিটি শেষ যুদ্ধ এবং যীশুর চূড়ান্ত জয় দেখায়। কিন্তু তা ‘নিষ্ঠুর রক্তপাত’ হবে না, বরং তা হবে ন্যায্য ও তাঁর বাক্য অনুসারে।
৭ম অভিনয়ের পটভূমি ৭টি “আর নেই” প্রকাশিত বাক্য ২১:২
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য ২১:১ পদ পড়ুন। চিন্তা করুন, ৭ম অভিনয়ের শুরুতে আমাদের পটভূমি হিসাবে কি দেখানো হচ্ছে? এর অর্থ কি হতে পারে?
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
যোহন একটা নতুন মাহকাশ ও একটা নতুন পৃথিবী, অর্থাৎ শেষ পটভূমি আমাদের একটি আশার ছবি দেখায়: যা কিছু মন্দ, তা বাদ দেওয়া হবে, যা কিছু ভাল তা উদ্ধার, পুনরুদ্ধার, পুনরুত্থিত করা হবে, নতুন করা হবে বা ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনে আনা হবে।
আর একবার: পটভূমিগুলোর গুরুত্ব কি?
প্রথম পটভূমি ছিল বাতিদানের মাঝে যীশুর দর্শন, দ্বিতীয় ছিল স্বর্গের সিংহাসনের চারিদিকে আরাধনা, পরেরগুলো ছিল ঈশ্বরের বেদীতে প্রাথনার উৎসর্গ, ঈশ্বরের উপাসনা-ঘর থেকে স্বর্গদূত, শেষে যীশুর আগমন এবং সব কিছুর পুনরুদ্ধার।
প্রকাশিত বাক্য পুস্তক হল একটি অতিসাজানো নাটকের মত, সব কিছুর একটি ধারাবাহিকতা, একটি সঠিক সময় এবং উপযুক্ত ভূমিকা আছে। ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে মঞ্চে যা কিছু ঘটুক না কেন, সব কিছুই ঈশ্বরের সামনে, ঈশ্বরের অনুমতিতে এবং ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণে। যদিও মঞ্চে অনেক ভয়ংকর ঘটনা ঘটে তবুও সব সময় পাঠকদের চোখ ঈশ্বরের
০৪) মূল কথা: প্রকাশিত বাক্য ঠিক কি প্রকাশিত করে?
প্রকাশিত বাক্য তাই কি প্রকাশিত করে? প্রকাশিত বাক্য প্রাথমিকভাবে ঈশ্বর নিজেকেই প্রকাশিত করেন, যিনি সিংহাসেন বসে আছেন, যিনি সর্বক্ষমতার ও ভালবাসার ঈশ্বর, যিনি মন্দকে বিচার করেন এবং তাঁর লোকদেরকে উদ্ধার করেন, যিনি সর্বশেষে এমন কি সম্পূর্ণ সৃষ্টির পুনরুদ্ধার ঘটান। সম্রাট পূজার সম্মুখীন এশিয়ার সাতটি মণ্ডলী – এবং যে কোন যুগে অত্যাচারিত বিশ্বাসী – তাদের কি শোনা প্রয়োজন? পৃথিবীতে অনেক খারাপ কিছু ঘটবে, তা কি শোনা প্রয়োজন? না, তা আমরা ইতিমধ্যে জানি! যে প্রকাশ প্রয়োজন তা হল এই: পৃথিবীর মঞ্চে অনেক মন্দ ঘটনা ঘটলেও পিছনে (অদৃশ্যভাবে!) ঈশ্বর সিংহাসনে আছেন। তিনি তারপরেও সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাঁর মহাপরিকল্পনা অনুসারে তাঁরই মঙ্গল উদ্দেশ্যে পূর্ণ করেন। এইটা হল প্রকাশিত বাক্যের সেই সান্ত্বনাদানকারী, নিশ্চয়তাদানকারী ও উৎসাহদানকারী সংবাদ।
০৫) একটি বিমেষ বিষয়: প্রকাশিত বাক্যে সংখ্যাগুলোর রূপক অর্থ
প্রকাশিত বাক্যে ব্যবহৃত সংখ্যাগুলোর রূপক অর্থ আছে। কিন্তু অর্থটি কিভাবে জানব? উত্তর হল: পুরাতন নিয়মের সংখ্যাটি কিভাবে ব্যবহৃত, তা খেয়াল করা দরকার – এবং একটু সাধারণ বুদ্ধিও লাগে। নিচের তালিকায় সংখ্যাগুলোর অর্থ দেওয়া হয়েছে। দয়া করে পড়ুন।
