প্রকাশিত বাক্য – একটি বিশেষ পুস্তক!
প্রকাশিত বাক্য! কত কঠিন একটি পুস্তক! প্রকাশিত বাক্যের বিষয় তুললে অনেক ভিন্ন ভিন্ন ধরণের আবেগ সৃষ্টি হয় বা সাড়া পাওয়া যায়:
আপনি কি প্রকাশিত বাক্যের বিষয়ে উত্তেজিত? আপনি কি সর্বশেষ “যীশু এক্ষুনি ফিরে আসছেন”এই ঢেউর উপরে আছেন? অথবা আপনি প্রকাশিত বাক্য নিয়ে কি ভয় পান? তা কি পড়তেও রাজি না? অথবা পড়লে কি দ্বিধাদ্বন্ধ লাগে? আপনি কি সন্দেহ করেন যে এই পুস্তকটি ঠিকমত ব্যাখ্যা করা সম্ভব? অথবা আপনার কি এই ধরণের লেখা নিয়ে কোন আগ্রহ নেই? অথবা প্রকাশিত বাক্য নিয়ে কি আপনার বিরক্ত লাগে? আপনি কি এত ভিন্ন ভিন্ন ভয়ংকর ব্যাখ্যা শুনেছেন যে আর একটা ব্যাখ্যা শুনতে চান না? আপনি কি এত “ঢেউর উপর” গিয়েছিলেন যে এখন আপনি আর একটি ব্যাখ্যা বিশ্বাস করতে রাজি না? যীশুর দ্বিতীয় আগমন সম্বন্ধে লোকেদের বলা বিভিন্ন তারিখগুলো কি পার হতে এবং মিথ্যা হিসাবে প্রমাণিত হতে দেখেছেন? প্রচারকেরা পুস্তকটি দ্বারা মানুষদের ভয় দেখিয়ে বাধ্য করাতে চেষ্টা করেন – তা দেখে কি রাগান্বিত হন? অথবা আপনি প্রকাশিত বাক্যের বিষয়ে ভিত নয় বরং উৎসাহিত?
সত্যি কথা বলি: যদি একটি পত্রিকা প্রকাশিত বাক্যের মত কোন লেখা প্রকাশ করত, তবে আমরা তাদের পাগল বলে পত্রিকাটি ফেলে দিতাম। কিন্তু প্রকাশিত বাক্য বাইবেলে আছে বলে আমরা তা করতে সাহস পাই না। প্রকাশিত বাক্য একরকম ভয়ংকর কিন্তু তার আবারও একটি আকর্ষণ আছে।
প্রকাশিত বাক্যের বিভিন্ন পদ উদ্ধৃতি করে প্রায়ই চরমপন্থী ও ‘মাথা খারাপ’ ধরণের শিক্ষা দেওয়া হয়। যীশুর দ্বিতীয় আগমনের বিষয়ে সাল ও তারিখ ঠিক করে কিছু লেখক বই লিখেছেন যা অল্প দিনের মধ্যে খুব প্রচলিত হয়েছে – এবং লেখকেরা ধনীও হয়েছে! কিন্তু পরে দেখা য়ায় যে, তাদের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয় নি, কিনতু একজনও এগিয়ে এসে তাদের ভুল স্বীকার করে নি বা ক্ষমা চায় নি! তবুও তারা অনেক বিশ্বাসীদের ভয় দেখিয়েছে এবং তাদের দ্বিদাদ্বন্দ্বে ফেলেছে। শেষে অনেকে এই উপসংহারে এসেছে যে, প্রকাশিত বাক্য বুঝা সম্ভব না এবং দূরে থাকা ভাল।
এই অধ্যয়ন দ্বারা আমি দেখাতে চাই যে, আমরা প্রকাশিত বাক্য যদি ইণ্ডাক্টিভভাবে পড়ি, তবে লেখাটি যথেষ্ট পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ভয় দেখানোর চেয়ে পুস্তকটি আসলে নিশ্চয়তা ও উৎসাহ দান করতে চায়। আসুন আমরা এই চমৎকার পুস্তক অধ্যয়ন করি। আমি প্রতিজ্ঞা দেই যে, ভয় দেখানোর চেয়ে এই পুস্তকের অধ্যয়নের ফল হবে ভয় ভাঙ্গা।
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলেন। দের থেকে দুই ঘন্টা লাগতে পারে। প্রথম বার পড়ার সময় আমরা সব খুঁটিনাটি বিষয ধরতে পারি না, কিন্তু আমরা পুস্তকের একটি প্রথম স্বাদ বা দৃষ্টি পেতে পারি।
লক্ষ্য করা
আমরা এখন একটার পর একটা লক্ষ্য প্রশ্ন দিয়ে লক্ষ্য শুরু করব। প্রকাশিত বাক্যের মত বড় একটি পুস্তকে প্রত্যেকটি খুটিনাটি বিষয়ে রং দেওয়া সম্ভব না। একটু বড় মনে করুন!
০১ লক্ষ্য প্রশ্ন কে? > ঈশ্বর
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্য পড়ুন এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে যতটা শব্দ ঈশ্বরকে, যীশুকে বা পবিত্র আত্মাকে বুঝায়, ততটাতে হাল্কা রংএর একটি ফ্রেম দেন। এখানে মাত্র ১ম অধ্যায় দেখানো হবে।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০২ লক্ষ্য প্রশ্ন কে? > মানুষ
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্যে প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ কোন ব্যক্তি, মানুষের দল বা জাতি বুঝায়, ততটাতে হলুদ রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৩ লক্ষ্য প্রশ্ন কে? > আধ্যাত্মিক সত্তা
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্যের প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ কোন আধ্যাত্মিক সত্তা (দূত, মন্দ আত্মা, শয়তান, দানব, জন্তু ইত্যাদি) বুঝায়, ততটাতে হলুদ রংএর একটি বিশেষ চিহ্ন দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আসলে প্রকাশিত বাক্য ১:১ পদ ছাড়া এই প্রথম অধ্যায়ে একটি দূত ছাড়া আর কোন আত্মিক সত্তার উল্লেখ পাওয়া যায় না। ছবি তাই একই থাকে। কিন্তু পরবর্তী অধ্যায়ে অবশ্যই বিভিন্ন ধরণের আত্মিক সত্তা পাওয়া যায়।
০৪ লক্ষ্য প্রশ্ন কোথায়? > জায়গা সম্বন্ধীয় শব্দ
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্যের প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ কোন দেশ, এলাকা, শহর বা জায়গা বুঝায়, ততটাতে হাল্কা পিংক রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৫ লক্ষ্য প্রশ্ন কখন? > সময় সম্বন্ধীয় শব্দ
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্যের প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ সময় সম্বন্ধীয়, ততটাতে পিংক রংএর একটি ফ্রেম দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৬ লক্ষ্য প্রশ্ন? পার্থক্য, তুলনা, সংযোগ, শর্ত
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্যে প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ পার্থক্য বুঝায় (‘কিন্তু’, ‘বরং’), ততটাতে কমলা রং দিয়ে একটি ফোটা দেন।
প্রকাশিত বাক্যে প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ তুলনা বুঝায় (‘মত’, ‘যেমন’) ততটাতে কমলা রং দিয়ে একটি সমান-সমান চিহ্ন দেন।
প্রকাশিত বাক্যে প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ কারণ বা উদ্দেশ্য বুঝায়, ততটাতে কমলা রং দিয়ে একটি তীর দেন।
প্রকাশিত বাক্যে প্রত্যেকট অধ্যায়ে যতটা শব্দ শর্ত বুঝায় (‘যদি … তবে’), ততটাতে কমলা রং দিয়ে একটি আংটির চিহ্ন দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৭ লক্ষ্য প্রশ্ন? > আবেগ, জোরালো উক্তি
নির্দেশনা
প্রকাশিত বাক্যের প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দে আবেগ প্রকাশ পায়, যে কোন শক্তিশালী ভাষা বা জোরের সঙ্গে বলা উক্তি পাওয়া যায়, ততটাতে কমলা রং দিয়ে একটি তারা দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৮ লক্ষ্য প্রশ্ন আদেশ
প্রকাশিত বাক্যের প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা আদেশ পাওয়া যায়, ততটাতে একটি চিহ্ন দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৯ লক্ষ্য প্রশ্ন পুনরুক্তি বিষয়: কষ্টভোগ, সহ্য করা, ক্রুশ বহন, নির্যাতন
প্রকাশিত বাক্যের প্রত্যেকটি অধ্যায়ে এমন পদে ফিরোজা রং দেন, যেখানে কষ্টভোগ, অত্যাচার, সহ্য করা বা ধৈর্য ধরের বিষয় পাওয়া যায়।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
১০ লক্ষ্য প্রশ্ন পুনরুক্তি বিষয়: মৃত্যু, ধ্বংস
প্রকাশিত বাক্যে প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ মৃত্যু,ধ্বংস বা সর্বনাশ বুঝায়, ততটাতে নীল রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
১১ লক্ষ্য প্রশ্ন পুনরুক্তি বিষয়: রাজত্ব, শাসন, ক্ষমতা, অধিকার
প্রকাশিত বাক্যে প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ রাজত্ব, শাসন, ক্ষমতা, অধিকার ইত্যাদি বুঝায়, ততটাতে সবুজ রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
১২ লক্ষ্য প্রশ্ন পুনরুক্তি বিষয: আরাধনা, প্রশংসা
প্রকাশিত বাক্যে প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা শব্দ আরাধনা, প্রশংসা, ধন্যবাদ দান, গৌরব বা মহিমা বুঝায়, ততটাতে হালকা সবুজ রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
১৩ লক্ষ্য প্রশ্ন সংখ্যাগুলো
প্রকাশিত বাক্যে অনেক সংখ্যা পাওয়া যায়। পু্স্তকের কাঠামোও প্রায়ই সংখ্যা দিয়ে দেখানো হয়েছে। মার্ক সুসমাচারে প্রত্যেকটি অধ্যায়ে যতটা সংখ্যা পান, ততটাতে একটি বেগুনী ফোটা দেন। তাছাড়া কিনারায়ও ব্র্যাকিট স্টাইলে সংখ্যা অনুসারে রং দিয়ে পারেন (উদাহরণ দেখুন)।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
অবশ্যই প্রকাশিত বাক্যে আর অনেক কিছু লক্ষ্য করা যেত, কিন্তু আমরা এভাবে রেখে ব্যাখ্যা নিয়ে আগাব।
