রাজার একজন প্রতিশ্রুতিশীল ছেলে

  • যোনাথন হলেন নতুন করে নিযুক্ত ইস্রায়েলের রাজা শৌলের বড় ছেলে (১ শমূয়েল ১৩:১, ১৪:৪৯্)। তার ৩জন ছোট ভাই আছে এবং দু’জন বোন (চার্ট দেখুন)।
  • যোনাথনের মা অহীনোয়ম সম্বন্ধে কিছু জানা যাচ্ছে না। যখন তার স্বামী শৌল যোনাথনের বিষয়ে রাগান্বিত, তখন তিনি ছেলে ও তার মায়ের বিষয়ে বাজে কথা বলেন (১ শমূয়েল ২০:৩০)।
  • শৌলের রিষ্পা নামে একজন উপস্ত্রীও আছে, যিনি সুন্দরী এবং বেশ সাহসী (২ শমূয়েল ৩:৭, ২১:১০-১১)।
  • ধারণা করা যায় যে, রিষ্পা হয়তো পরে গ্রহণ করা একজন দ্বিতীয় স্ত্রী।
  • যোনাথনের বাবা শৌল বেশ জটিল চরিত্রের। শৌল একজন শক্তিশালী নেতা (১ শমূয়েল ১১:৫-১৫), দেখতে সুন্দর ও লম্বা (১ শমূয়েল ৯:২), ঈশ্বর দ্বারা রাজা হিসাবে অনুমোদিত (১ শমূয়েল ১০:২১), একজন সফল বীরযোদ্ধা (১ শমূয়েল ১১), আত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করার ও ভাববাদীমূলক কথা বলার একজন (১ শমূয়েল ৬:১০-১৩), বুড়ো ভাববাদী শমূয়েলের প্রিয় (১ শমূয়েল ১৫:৩৫-১৬:১), ইস্রায়েল জাতি দ্বারা নিযুক্ত (১ শমূয়েল ১০:২৪) এবং আনন্দের সঙ্গে লোকদের দ্বারা নিশ্চিত করা একজন রাজা (১ শমূয়েল ১১:১২-১৫)।
  • কিন্তু একই সময়ে যোনাথনের বাবা শৌল হীনমনতায় (১ শমূয়েল ১৫:১৭) ও মানুষের ভয়ে ভুগছেন এবং তিনি বার বার ঈশ্বরের আদেশে অবাধ্য হন (১ শমূয়েল ১৩:৮-৯, ১৫:২৪)। শৌলের স্থিরতা একদম কম, তার জীবনে দেখা যায় সবার সামনে ধর্মকর্ম, হালকা-পাতলা অনুতাপ, মুহূর্তে কথা ও আচরণ পরিবর্তন, কোন রকম ঈশ্বরকে খুশি করার প্রচেষ্টা, ভীত ধর্মীয় অনুশীলন কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছা ও চরিত্র বুঝার ক্ষেত্রে দুর্বল।
  • তার ধর্মীয় অনুশীলনের কিছু চিহ্ন হল: তিনি বার বার ঈশ্বরের বালী মুনতে চান, ঈশ্বরের রব শোনার ক্ষেত্রে শমূয়েলের উপর নির্ভর করেন, পুরোহিত ও নিয়ম-সিন্দুক তাবীজের মত যুদ্ধে নিয়ে আসেন, বড় অপ্রয়োজনীয় শপথ করেন এবং অন্যদের থেকে শপথ দাবি করেন, ভুল সময়ে উপবাস ইত্যাদি (১ শমূয়েল ১৪)।
  • কিন্তু তারপরেও শৌল প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের ভক্তিপূর্ণ ভয়ে চলে না, তিনি ঈশ্বরের ইচ্ছা বোঝেন না, ইচ্ছার পিছনের ঈশ্বরের চরিত্রও বোঝেন না। তিনি ভিতভাবে / নার্ভসভাবে সামনে গিয়ে আবার পিছান। তিনি ধর্মকর্ম উপস্থান করেন কিন্তু আসলে কোন কিছুতে নীতি বা স্থিরতা নেই।
  • দেখা যায়, যোনাথন তার বাবার ঠিক বিপরীত। যোনাথনের ছোটবেলা সম্বন্ধে আমরা কিছু জানি না এবং কেন তিনি তার বাবার ছেয়ে এত ভিন্ন, তাও আমরা জানি না।
  • যোনাথনের চরিত্র হল সৎ, সরল, খোলামেলা ও ঈশ্বরীয়। রাজপুত্র হিসাবে যখন থেকে তিনি সবার দৃষ্টিতে পড়ে, তখনই থেকে তার ভাল চরিত্র তার আচরণে প্রকাশ পায় (১ শমূয়েল ১৩:২) এবং তা তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একই থাকে (১ শমূয়েল ৩১:২)।

বীরযোদ্ধা ও নেতা হিসাবে যোনাথন

১ শমূয়েল ১৩:১-২৩ শৌলের রাজপরিবার স্থায়ী থাকবেন না
  • শৌল রাজা হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার কিছ সময় পরে পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলকে আক্রমণ করে এবং তিনি অল্প সংখ্যক একটি সৈন্যদল নিয়ে নিজেকে বড় হুমকির মুখে পায়। শৌলের অধীনে সেই সময় ২ হাজার সেনা আছে এবং যোনাথনের অধীনে আরো ১ হাজার আছে।
  • পলেষ্টীয়েরা নিশ্চিত করেছেন যেন ইস্রায়েল লোহা বানানোর প্রযুক্তি না শেখে, অর্থাৎ পলেষ্টীয়রা লোহার যুগে এগিয়ে গেছে কিন্তু ইস্রায়েল এখনও ব্রোঞ্জ যুগে রয়ে গেছে। সারা ইস্রায়েল সৈন্যে মাত্র শৌল ও যোনাথনের লোহার তলোয়ার আছে (১ শমূয়েল ১৩:১৯-২২)।
  • যোনাথন তারপরেও কোনোভাবে গেবা শহরে একটি পলেষ্টীয় সেনানিবাস পরাজিত করতে সক্ষম হন। এই জয়ের কারণে পলেষ্টীয়েরা আরো বড় একটি সৈন্যদল ও আরো উন্নতা মানের সরঞ্জাম নিয়ে পুনরায় আক্রমণ করে (১ শমূয়েল ১৩:৫)।
  • ইস্রায়েলীয় ছাউনিতে সেনাদের সাহস কমতে থাকে এবং চুপিচুপি ইস্রায়লীয়দের বেশ সেনারা পালিয়ে যাচ্ছে। ভাববাদী শমূয়েল তার জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন যেন তিনি যুদ্ধের আগে উৎসর্গ দিতে পারেন। শৌল অপেক্ষা করতে করতে ভয় পান যে, তিনি আরো সেনারা হারাবেন। তাই তিনি পুরোহিত না হলেও নিজের হাতে উৎসর্গ দান করেন, যা মোশির আইন-কানুন অনুসারে নিষিদ্ধ।
  • শমূয়েল সেই মুহূর্তে পৌঁছান এবং শৌলের কাছে ঘোষণা করেন যে, এই আচরণের কারণে ঈশ্বর তার রাজবংশ স্থায়ী হতে দেবেন না, তবুও ঈশ্বর শৌলকে রাজার পদ থেকে নামান নি।
  • এক মুহূর্তে, তার বাবার ভুলের কারণে যোনাথনের রাজা হওয়ার আশা নষ্ট হয়ে গেছে। বলা যায় যে, ঈশ্বরের ধমক শৌলের চেয়ে যোনাথনের উপর বেশি পড়ে, তার বাবা রাজত্ব করছেন কিন্তু যোনাথন কখনও রাজত্ব করবেন না।
  • যোনাথন আসলে প্রতিশ্রুতিশীল ও যোগ্য রাজপুত্র, এবং যদিও তার বাবার চরিত্র দুর্বল, তা যোনাথনের ক্ষেত্রে বলা যায় না।
  • যোনাথনের কেমন লেগেছিল? তিনি ঈশ্বরের এই অগ্রাহ্য কেমন মেনে নিলেন? যুদ্ধের চাপের মাঝখানে এই ধরণের খবর কিভাবে প্রক্রিয়া করেছিলেন? আমরা যানি না। কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, যোনাথন ভাবাদী শমূয়েলের কথা অবশ্যই ‘ঈশ্বরের কাছ থেকে বানী’ হিসাবে বুঝতেন।
১ শমূয়েল ১৪:১-৫২ যোনাথনের সামরিক দক্ষতা ও জয়
  • যোনাথন তার বাবা শৌলকে পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মনে-প্রাণে সমর্থন করেন।
  • প্রকৃতপক্ষে দেখা যায় যে যোনাথন একজন খুব সফল সেনাপতি ও যোদ্ধা হিসাবে প্রমাণিত হন (১ শমূয়েল ১৩:২-৩)।
  • তিনি সাহসী, উদ্যোগী ও আত্ম-চালিত (১ শমূয়েল ১৪:৬)।
  • তিনি বোঝেন যে, ইস্রায়েলীয়দের চেয়ে পলেষ্টীয়দের অবস্থা আরো অনেক ভাল, কিন্তু এটি তিনি কিছু না করার অজুহাত হিসাবে দেখেন না, বরং তিনি অসুবিধা সুযোগ হিসাবেও দেখেন (১ শমূয়েল ১৩:১৯-২৩)।
  • তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে রাজি, সম্ভবত এই চিন্তা করে যে, মাত্র তার ও শৌলের হাতে লোহার তলোয়ার আছে, তাই তারই কিছু ঘটানো দরকার। তিনি তার মধ্যে দেখা যায় একটি গভীর নিশ্চয়তা, ঈশ্বরের উপর একটি ভিত্তিক নির্ভরতা, যা তার বাবার একদম নেই (১ শমূয়েল ১৪:১২)।
  • দেখা যায় যোনাথনের অস্ত্র-বাহক শতকরা ১০০ ভাগ তার সাথে আছেন ও তার উপর বিশ্বাস আছে (১ শমূয়েল ১৪:৭) এবং ইস্রায়েলের সৈন্যদল তাকে এমন ভালবাসে যে, তারা রাজার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেতে রাজি (১ শমূয়েল ১৪:৪৫-৪৬)। যোনাথন যা বলেন তা-ই করেন এবং তিনি উপরে উঠে তার অস্ত্র-বাহকের সাথে একটি গোটা পলেষ্টীয় দুর্গ পরাজিত করতে সক্ষম। এই দুর্গ দখের কারণে পলেষ্টীয়দের মধ্যে এম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় যে, ইস্রায়েলীয়রা সেই দিনে সব প্রতিকূতার বিরুদ্ধে একটি বড় জয় লাভ করতে পারে (১ শমূয়েল ১৪:১৩-২৩)। ইশ্বর যোনাথনের উদ্যোগ ও সাহসে তাঁর অনুমোদন দেন: তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন এবং সাথে একটি ভূমিকম্পও ঘটান (১ শমূয়েল ১৪:১৫)।
  • যোনাথনের চমৎকার জয় এবং পরবর্তীর অনুসরণ আরো শক্তিশালী হতে পারত কিন্তু একটি সমস্যা সৃষ্টি হয় কারণ শৌল সেনাদের থেকে একটি অপ্রয়োজনীয় ও মুর্খ শপথ দাবি করেছিলেন যে, জয় না হওয়ার পর্যন্ত কেউ কিছু খেতে পারবে না। যোনাথন শপথ দাবির সময়ে ছিলেন না কিন্তু পরে তা সম্বন্ধে শুনে তিনি বেশি খুশি না (১ শমূয়েল ১৪:২৯)। যোনাথন ‘ভিত ধর্মকর্মের’ ভিত্তিতে কিছু করেন না। এর চেয়ে তার ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা, ক্ষমতা ও তার ইচ্ছার একটি ভাল সাধারণ জ্ঞান আছে এবং তা অনুসারে তিনি সাহসের সঙ্গে আচরণ করেন।.
  • এই খুব জটিল গল্পের বর্ণনায় যোনাথনের চরিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে (১ শমূয়েল ১৪)। যোনাথনের ঈশ্বরের ভক্তিপূর্ণ ভয়ে চলেন, কিন্তু সাথে তিনি সাধারণ বুদ্ধি ও জ্ঞানও ব্যবহার করেন। যোনাথনের প্রত্যকটি আচরন ও কথায় স্থিরতা, সততা, বিশ্বাস, ঈশ্বরের উপর নির্ভরতা, নীতিমালা ও সাহস আছে। ঈশ্বর যোনাথনের প্রত্যেকটি ঝুঁকি নেওয়া ও প্রত্যেকটি উদ্যোগ সমর্থন করেন এবং সফল হতে দেন।
  • যখন তার বাবা তাকে মধু খাওয়ার জন্য দোষ দেন, তিনি তা খোলামেলা স্বীকার করেন (যদিও তিনি আসলে কোনো শপথ করেন নি) এবং তিনি – যদি প্রয়োজন – তার বাবার শাস্তিও মেনে নিতে রাজি (১ শমূয়েল ১৪:৪৩)।
  • এই সময় শৌল পাগলের মত নিজের যোগ্য ও নির্দোষ পুত্রকে মৃত্যুর শাস্তি দিতে আগান, কিন্তু সেনারা তা ঘটতে দেন না বলে যে, সেই দিনের জয় সম্পূর্ণ যোনাথনের কারণেই হয়েছে তাই অবশ্যই ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ ও অনুমোদন করেছেন (১ শমূয়েল ১৪:৪৪)।
  • যোনাথনের বাবা শৌল যখন আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবাধ্য হন (অমালেকীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়ে ঈশ্বরের বাক্য অমান্য) তখন ভাববাদী শমূয়েল ঈশ্বরের দ্বিতীয় বিচার ঘোষণা করেন: এইবার ঈশ্বর শৌল নিজেকেই রাজত্ব করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন (১ শমূয়েল ১৫:২৬)।
  • তার বাবার অনবরত অবাধ্যতার কারণে যোনাথনের শেষ আশা ভেঙ্গে যায়। আবারও যোনাথন এই খবর কেমন নেন এবং কিভাবে প্রক্রিয়া করেন, তার কোন উল্লেখ নেই।
  • যোনাথন তার বাবার রাজত্বের শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্বস্তভাবে সমর্থন করেন: তিনি পলেষ্টীয় বা অন্যান্য শত্রুদের প্রত্যেকটি যুদ্ধে তার বাবাকে সমর্থন করেন, কিন্তু যখন তার বাবা দায়ূদকে ধরার জন্য সামরিক অভিযান চালন, যোনাথন একবারও অংশ গ্রহন করেন না।
  • যখন তার বাবা পলেষ্টীয়দের বিরুদ্ধে একটি আশাহীন ও আশীর্বাদশূণ্য যুদ্ধ চালান, যোনাথন তার সাথে যুদ্ধে নামেন, ভাল জেনে যে, এই যুদ্ধে কোন জয় হবে না। যোনাথনকে ও তার ২ ভাইকে মেরে ফেলা হয় এবং তার আঘাত-প্রাপ্ত বাবা শৌল যুদ্ধ-ক্ষেত্রে আত্ম-হত্যা করেন (১ শমূয়েল ৩১:১-২)।

প্রতিযোগীকে ভালবাসা

  • যোনাথন এবং দায়ূদের প্রথম দেখা হয় দায়ূদ গোলিয়াৎকে মেরে ফেলার পরে।
  • সম্ভবত যোনাথন গোলিয়াতের ইস্রায়েলকে বিদ্রুপ করার সময়ে উপস্থিত নন, কারণ ধারণা করা যায় যে, তিনি দায়ূদের মত তা এভাবে ঘটে দিতেন না। প্রকৃতপক্ষে দায়ূদ যেভাবে গোলিয়াতের হুমকির মুখে আচরণ করেন (১ শমূয়েল ১৭) এবং যোনাথন কিভাবে পলেষ্টীয়দের আক্রমণ করলেন (১ শমূয়েল ১৪) এর মধ্যে অনেক মিল পাওয়া যায়। দায়ূদ ও যোনাথন উভয় ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে, উভয় ভয় করে না, উভয় সুযোগ ধরেন এবং উভয় ঈশ্বরের গৌরব নিয়ে ব্যস্ত।
  • যোনাথন দায়ূদকে দেখে নিজের মত একজনকে দেখেন, ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল ও সাহসী। তারা সাথে সাথে একটি গভীর বন্ধত্ব স্থাপ করেন যদিও ধারণা করা যায় যে যোনাথনের বয়স দায়ূদের চেয়ে কম পক্ষে ১০ বছর বেশি।
  • যোনাথনের বিষয়ে একটি কথা ৩ বার বলা হয়, “তিনি দায়ূদকে নিজের মত ভালবাসতেন” (১ শমূয়েল ১৮:১,৩, ২০:১৭)। তাদের বন্ধুত্বে চরিত্রের চমৎকার গুনগুলো প্রকাশিত: অন্যের চরিত্রের মান দেখতে পারা, ভালবাসা, বয়স ও শ্রেণী ভিন্ন হলেও পার্থক্য না করা, পরস্পর্কে উৎসাহ দান ইত্যাদি।
  • যোনাথন দায়ূদের সাথে একটি বন্ধুত্বের চুক্তি স্থাপন করেন। যোনাথন নম্রতার সঙ্গে প্রথম ধাপ নেন এবং দায়ূদতে নিজের তোলয়ার, ধর্ম ও কাপড় দান করেন। এগুলো শুধুমাত্র দামী উপহার ছিল, এমন নয়, তা ছিল যুদ্ধের সময় মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় এবং পদ-মর্যাদা ও অধিকারের চিহ্ন (১ শমূয়েল ১৮:১-৩)।
  • সময় যেতে যেতে এই বন্ধুত্ব বিভিন্নভাবে পরীক্ষিত হয়, কিন্তু কখনও ভেঙ্গে যায় না, উভয়ের স্বার্থহীন সমর্পণ স্থায়ী। দায়ূদরন গুরুত্ব যখন শৌলের রাজবাড়ীতে ধীরে ধীরে বাড়ে (সুস্থকারী গায়ক হিসাবে, অস্ত্র-বাহক হিসাবে এবং ইস্রায়েলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সফল সেনাপতি হিসাবে) এবং যে ভূমিকা রাজপুত্র যোনাথনের ভূমিকা হওয়ার কথা ছিল, সেই ভূমিকা দায়ূদ যখন বৃদ্ধি পান, যোনাথনের বন্ধুত্ব পরিক্ষিত হয়, কিন্তু স্থায়ী থাকেন।
  • আমরা জানি না, ঠিক কোন সময় যোনাথন কখন সম্পূর্ণ বুঝতে পারেন, যে ঈশ্বর শৌলকে – এবং সাথে যোনাথনকে – রাজপদ থেকে অগ্রাহ্য করেছেন। আমরা আরো জানি না, যোনাথন কোন সময় প্রথম শোনেন যে, শমূয়েল দায়ূদকে পরবর্তী রাজা হিসাবে অভিষিক্ত করেছেন (১ শমূয়েল ১৬:১২-১৩)।
  • কোনো না কোনো সময়ে যোনাথন বুঝতে পেরেছেন যে, ঈশ্বর তাকে রাজা হিসাবে অগ্রাহ্য করেছেন, যদিও যোনাথনের এতে কোনো দোষ ছিল না। ঈশ্বরের এই সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হয়ে যোনাথন (যিনি বাবার চেয়েও বেশি বঞ্চিত!) ঈশ্বরের সিদ্ধান্তে মেনে নেন, তিনি এমন কি দায়ূদ নতুন রাজা হিসাবে গ্রহণ ও সমর্থন করেন, তিনি তাকে বার বার সুরক্ষা করেন এবং তার আহ্বানে তাকে উৎসাহিত করেন (১ শমূয়েল ২৩:১৫-১৮)।
  • যোনাথন নিজেই একজন বিশ্বাসযোগ্য, সাহসী ও চমৎকার নেতা ছিলেন, তিনি ঈশ্বরীয় স্বভাব-চরিত্রের অধিকারী এবং প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজেই খুব প্রতিজ্ঞাশীল একজন ভবিষৎ রাজা ছিলেন। কিন্তু তিনি এই সম্ভাব্য ভূমিক আর একজনকে দিতে রাজি – ঈশ্বর যেহেতু তাই বলেনছেন।
  • যদিও তা অবশ্যই সহজ ছিণ না, তিনি ঈশ্বরের সিদ্ধান্ত নিয়ে শান্তিতে আসেন এবং তিনি দায়ূদের ঈশ্বরীয় চরিত্র ও ভাল গুন দেখে আনন্দ করতে রাজি হন। যোনাথন করেন যা তার বাবা করতে সক্ষম নন, তিনি তার রাজা হওয়ার আশা ছেড়ে দেন। অপর পক্ষে তার বাবা শৌল রাজপদ ধরে রাখেন, তিনি নিজের মনকে ভয়ে, হিংসায় ও ঘৃণায় ছেড়ে দেন। তিনি দায়ূদের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে বিভিন্ন সময়ে অন্যায্য ও হিংস্র আচার-ব্যবহার করবেন। শৌল ঈশ্বরের ঘোষিত ইচ্ছার বিরুদ্ধে ক্ষমতা ধরে রাখেন, যোনাথন ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি।
  • তার এই আচরণে আমরা ঈশ্বরের প্রতি যোনাথনের বাধ্যতাও বিশ্বাস প্রকাশিত, তিনি নিজেকে নিয়ে এবং ঈশ্বরের পথ নিয়ে শান্তিতে আছেন। তিনি সন্তুষ্ট হতে শিখেছেন এবং তিনি নিজের জীবনের জন্য ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল। তিনি দায়ূদকে স্বার্থহীন ভালবাসা, বিশ্বস্ততা ও সমর্থন দেখান। তার অন্যদের উৎসাহিত ও মুক্ত করতে আগ্রহী। তিনি নিজে পিছনে দাঁড়াতে রাজি। তিনি আর একজনকে সফর হতে দেখতে রাজি। আসলে যোনাথনের উদ্দেশ্য, অনুপ্রেরণা ও ইচ্ছা খাঁটি ও ঈশ্বরীয়।

মধ্যস্থকারী হিসাবে যোনাথন

  • যখন শৌলের হিংসা ও শত্রুতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি দায়ূদকে খুন করার সরাসরি আদেশ দেন, তখন যোনাথন দায়ূদকে সাবধানবাণী দেন। তিনি তার বাবার সাথে খোলা ও সৎভাবে যোগাযোগ করে দায়ূদের সাথে তার পুনর্মিলন চেষ্টা করেন। তিনি এই প্রচেষ্টায় সফল হন এবং দায়ূদকে আবারও শৌলেন উপস্থিতিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় (১ শমূয়েল ১৯:১-৭)।
  • কিন্তু পরবর্তীতে শৌল আবারও দায়ূদের জীবনের উপর হুমকি ঘটাতে থাকেন। দায়ূদ যোনাথনকে অনুরোধ করেন এই শত্রুভাবের কারণ জানার জন্য (১ শমূয়েল ২০:১)।
  • যোনাথন তার বাবার আচার-মনোভাব সম্বন্ধীয় অবিযোগ সহজে গ্রহন করেন না (১ শমূয়েল ২০:২) কিন্তু তিনি দায়ূদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতে পেরে তারা বাবাকে পরীক্ষা করে দেখতে রাজি (১ শমূয়েল ২০:৯)।
  • এই পরীক্ষায় দায়ূদকে খুন করার শৌলের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়, কিন্তু তিনি যোনাথনকে অপমান করেন এবং এমন কি তার নিজের ছেলে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন (১ শমূয়েল ২০:৩০-৩১)।
  • অবশেষে শৌল নিজের ঘৃণা ও চিন্তা প্রকাশ করেন: “যতদিন যিশয়ের ছেলের এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে ততদিন তুই স্থির থাকবি না, তোর রাজ্যও স্থির থাকবে না। কাজেই এখনই লোক পাঠিয়ে তাকে আমার কাছে নিয়ে আয়, তকে মরতেই হবে” (১ শমূয়েল ২০:৩১)।
  • শৌলের কথায় অবশ্যই বুদ্ধিও দেখা যায়, কিন্তু প্রাথমিকভাবে তা হল ঈশ্বরের ঘোষিত ইচ্ছার বিরুদ্ধে রাজপদ ধরে রাখার প্রকাশ, খুন করতে রাজি আছেন, তাও প্রকাশিত। এছাড়া দেখা যায় যে, শৌল নিজের ছেলেকে চিনেন না, তিনি মনে করেন যোনাথন দায়ূদকে খুন করতে রাজি হবেন। আরো তিনি কোন মতে স্বীকার করেন না যে তারই আচরণের কারণে যোনাথন রাজপদ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাচ্ছেন।
  • তারা বাবা আক্রমনার্তক ও অপমানের কথা বললেও যোনাথন এখনও তার বাবার ন্যায্যতা ও বিচারবুদ্ধি ডেকে তাকে দায়ূদের জন্য অনুরোধ করেন (একজন ভাল চরিত্রের লোক যিনি অন্যকেও ভাল চরিত্রের লোক মনে করেন): “কেন তাকে মরতে হবে? সে কি করেছে?” (১ শমূয়েল ২০:৩২)। আসলে তার প্রশ্ন ন্যায্য ও সুবিচারের একটি উপযুক্ত প্রশ্ন: মৃত্যুদণ্ড শুধুমাত্র প্রমাণিত অপরাধীর ক্ষেত্রে বিস্তার করা হয়।
  • উত্তরে শৌল নিজের ছেলের দিকে বর্শা ছুড়ে দেন। যোনাথনের প্রতিক্রিয়া? “তখন যোনাথন ভীষণ রেগে গিয়ে টেবিল ছেড়ে উঠে গেলেন … তার বাবা দায়ূদকে অপমান করেছিলেন বলে তার মনে খুব দুঃখ হল” (১ শমূয়েল ২০:৩৪)। যোনাথন রাগান্বিত না কারণ তার আপন বাবা তাকে অপমান করে বর্শা দিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছেন (এবং তিনি তার বাবার কারণে সব কিছু হারিয়েছেন), তিনি রাগান্বিত কারণ শৌল দায়ূদকে অপমান ও ভুল বিচার করেছেন! যোনাথনের স্বার্থহীনতা এখানে আবারও প্রকাশ পায়।
  • যোনাথন তার বাবার প্রতিক্রিয়া দেখে দায়ূদকে সাবধান করেন। তারা তাদের বন্ধুত্বের চুক্তি পুনর্নিশ্চিত করেন এবং তারা এই চুক্তি তাদের বংশধরদের উপরও প্রযোজ্য করে তোলেন, ভাল জেনে যে, এই দুই পরিবারের মধ্যে হিংস্রতার সম্ভাবনা বেশি (১ শমূয়েল ২০:৪১-৪২)। যোনাথানের মৃত্যুুর পর দেখা যায় যে দায়ূদ এই চুক্তিতে বিশ্বস্তা হয়ে যোনাথনের সন্তানদের ভাল ব্যবহার দেখান এবং তাদেরকে সুরক্ষা করেন (২ শমূয়েল ৪:৪, ২১:৭-১৪)।
  • এভাবে দায়ূদ ও যোনাথনের পথ বিছিন্ন হয়ে যায়। যোনাথন তার বাবার রাজবাড়ীতে থাকেন এবং সেখানে পরবর্তীতেও সৎ কাজ করেন, শৌলের রাজত্বে ঈশ্বরিয় প্রভাব ফেলতে থাকেন এবং উভয় তার বাবার এবং দায়ূদের প্রতি বিশ্বস্ত হতে থাকেন। তিনি সব সময় খোলাযোগাযোগে সমস্যা সমাধান করতে চেষ্টা করেন। এই ক্ষেত্রে তিনি তার বোন মীখল থেকে বেশ বিন্ন, যিনিও দায়ূদকে সাহায্য করতে চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রতারণার মধ্য দিয়ে (১ শমূয়েল ১৯:১১-১৭)।
  • আমরা নিশ্চিত হতে পারি, যে শৌলের রাজত্বের আরো তাড়াতাড়ি অবনতির পিছনে যোনাথন হলেন বড় কারণ। যোনাথন তার বাবার পাশে থাকেন, তিনি তাকে সমর্থন করতে থাকেন, পরামর্শ দিতে থাকেন এবং তিনি সততা, সুবিচার ও ঈশ্বরের প্রতি বাধ্যতার দিকে প্রভাব ফেলেন। শৌলের রাজত্ব দিনে দিনে আরো অন্যায্য, হিংস্র ও দুর্নীতি-গ্রস্ত হয়ে যায়। তা একটি অত্যন্ত দুঃখের ঘটনাটি পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পায়, যখন শৌল নোব শহরে সদাপ্রভুর ৮৫জন পুরোহিত মেরে ফেলার আদেশ দেন, কারণ তিনি মনে করেন তারা জেনে দায়ূদকে রূটি ও একটি তলোয়ার দিলেন। এমন কি শৌলের ইস্রায়েলীয় কর্মীদের মধ্যে সবাই এই আদেশ পালন করতে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু অবশেষে বিদেশী সুবিধাকারী দোয়েগ তা করেন (১ শমূয়েল ২২:৬-১৯)।
  • যোনাথন এভাবে শৌলের রাজপ্রাসাদে সততার ভূমিকা পালন করতে করতে দু’জনের দণ্ডের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অনেক কষ্ট ও অপমান পেতে হয়, তার সম্মান ও বাবার অনুমোদন – এবং সিংহাসন – হারাতে হয়।
যোনাথন থেকে শিক্ষা গ্রহণ – চোখে কম পড়ার মত একটি আহ্বানের সৌন্দর্য
  • যোনাথন দু’জন ব্যক্তি, দু’জন রাজা, দু’জনের আহ্বান ও দুই ধরণের মনোভাবের মাঝখানে খুঁজে পান।
  • যোনাথন তার বাবাকে পরিবারের রাজত্বের স্থিরতা নষ্ট করার জন্য দোষারোপ করেছেন, তার কোনো উল্লেখ নেই। বাবার কারণে তো যোনাথন রাজপদ হারিয়েছিলেন। যোনাথন তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ঈশ্বরের সাথে তর্ক করেন বা ঈশ্বরের উপর তার ক্ষোভ আছে, এরও কোনো উল্লেখ নেই।
  • আসলে দায়ূদের তুলনায়ও যোনাথনের ভূমিকা কষ্টের। তার বাবার সিদ্ধান্তের জন্য তার কোনো দোষ নেই, কিন্তু এর ফলাফল তারই উপর পড়ে। ঈশ্বর তাকে রাজপদ থেকে বাদ দেন এবং দায়ূদের প্রতি তার বিশ্বস্ত বন্ধুত্বের ও সমর্থনের ফল পাওয়ার আগেই যোনাথন মারা যান।
  • কষ্ট হলেও যোনাথন নম্রতার সঙ্গে ঈশ্বরের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং রাজপদের আশা ছেড়ে তার নতুন আহ্বান মনে-প্রাণে আলিঙ্গন করেন। দায়ূদকে নিয়ে ঈশ্বরের পরিকল্পনা বুঝতে পেরে যোনাথন এই পরিকল্পনার বাধা হবেন না বরং তিনি নিজেকে সরিয়ে দেন। তিনি দায়ূদের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থনকারী, সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, শিষ্যত্বদানকারী ও প্রতিযোগীর সবচেয়ে বিশ্বস্ত অনুসরনকারী হয়ে যান।
  • দায়ূদের চেয়ে যোনাথেনের বয়স বেশি হলেও তিনি দায়ূদের সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থনকারী হয়ে যান। অবশ্যই দায়ূদের উপরে যোনাথনের অনেক বড় প্রভাব ছিল:
  • যোনাথন দায়ূদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন, তিনি দায়ূদকে সুযোগ, প্রশিক্ষণ, চ্যালেঞ্জ, উৎসাহ, অনুমোদন, সমর্থন ও সুরক্ষা দান করেন। তিনি এত বছর ধরে দায়ূদের পক্ষে কথা বলেন, তার পাশে দাঁড়ান এবং তাকে বিভিন্ন ফাঁদ থেকে রক্ষা করেন। যোনাথন ইস্রায়েলের পরবর্তী রাজাকে গঠিত করে, যোনাথনের শিষ্যত্ব দ্বারা ইস্রায়েল তার সবচেয়ে ভাল রাজা পায়।
  • আমরা সবাই সেই গল্প জানি যখন দায়ূদ গুহাতে সুযোগ পেলেও শৌলকে মেরে না ফেলেন, প্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তিকে অসম্মান না করেন এবং ক্ষমতা দখল না করেন (১ শমূয়েল ২৪, ২৬)।
  • কিন্তু অধিকাংশ লোক খেয়াল করে না যে, যোনাথন ছিল এই বিষয়ে বা মনোভাবে দায়ূদের আদর্শ। যোনাথন অভিষিক্ত লোককে (দায়ূদ) মেরে ফেলেন না, যোনাথন দায়ূদকে সম্মান দেখান, যোহনাথন জোর করে ক্ষমতা দখল করেন নি। যোনাথন ঈশ্বরের উপর নির্ভর করেছেন এবং নিজেকে ঈশ্বরের ইচ্ছায় সমর্পিত করেছেন।
  • বোধ হচ্ছে যোনাথনের কাজ হল ‘নিজেকে সরিয়ে দেওয়া যেন আসল রাজা আসতে পারেন’। এই ক্ষেত্রে যোনাথন হল বাপ্তিস্মদাতা যোহনের মত, যার কাজ একই ছিল: নিজেকে সরিয়ে দেওয়া যেন আসল রাজা, অর্থাৎ যীশু আসতে পারেন (যোহন ৩:৩০)।
  • যোনাথনের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি যে, পরিচর্যার কাজে সফর হওয়া বা প্রভাবলালী নেতা হওয়া – এইটা আসল যুদ্ধ ও আসল পরষ্কার নয়। আসল যুদ্ধ হল নিজের হৃদয়ে সঠিক মনোভাব ও আচার-আচারণ উন্নত করা। সঠিক স্বভাব-চরিত্র থাকলে প্রভাব এমনি এমনি থাকবে।
  • যোনাথনের স্বভাব-চরিত্র অত্যন্ত চমৎকার, আকর্ষনীয় ও যীশুর মত। তিনি ঈশ্বরের হৃদয় উপস্থাপন করেন: ঈশ্বর যিনি সব কিছু ত্যাগ করতে রাজি, যিনি নিজের পুত্র উৎসর্গ করতে রাজি যেন তিনি আমাদের উদ্ধার, মুক্তি ও রূপান্তর দেখতে পারেন, আমরা যেন অবশেষ হই যার জন্য তিনি আমাদের শুরু থেকে সৃষ্টি করেছিলেন। সততা, আত্ম-ত্যাগ, অন্যকে চ্যাম্পিয়ান করা – এর চেয়ে আকর্ষনীয় ও শক্তিশালি কিছু আছে কি?
  • যোনাথন আমাদের স্বার্থপর আকাঙ্ক্ষা, আমাদের আত্ম-কেন্দ্রিক চিন্তা, ঈশ্বরের ই্চ্ছা নিয়ে আমাদের সংগ্রাম, ঈশ্বরের ন্যায্যতা নিয়ে আমাদের অনবরত অভিযোগ, আমাদের ছেড়ে দেওয়ার প্রত্যাখান – এই সব বিষয়ে যোনাথন আমাদেরকি চ্যালেঞ্জ করেন।
  • আমরা চাই পরিস্থিতি যেন ভিন্ন হয়। যোনাথন আমাদের দেখায় যে, কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের মনোভাব যদি ঠিক হয়, তার চেয়ে শক্তিশালী সাক্ষ্য নেই।
  • যোনাথন আমাদের শিক্ষা দেন যেন আমরা যা পেয়েছি, যা আছে, যেখানে আছে, তা মেনে নেই, এমন কি তা ঈশ্বরের হাত থেকে গ্রহণ করে আলিঙ্গন করি। আমরা পরিস্থিতি হয়তো পরিবর্তিত করতে পারি না, কিন্তু আমরা এই পরিস্থিতিতে যত যা সম্ভব, তা করতে পারি, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারি, সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।
  • যোনাথন আমাদের চ্যালেঞ্জ করেন যেন আমরা ঈশ্বরের বাধ্য হই, যেন আমরা নিজেকে নিয়ে শান্তিতে থাকি, যেন আমরা ঈশ্বরের পথ মেনে নেই এবং যেন আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখে জীবন-যাপন করি।
  • যোনাথনের গল্প হল বঞ্চিত হওয়ার একটি গল্প, আশা ভেঙ্গে যাওয়ার একটি গল্প, হিংসা ও ক্ষোভ না করার একটি গল্প। একই সাথে এই গল্পে ঈশ্বরের আরো বড় উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব প্রকাশ পাচ্ছে, এমন কিছু যা হয়তো আমরা এই মুহূর্তে এখনও বুঝতে পারি না। যোনাথনের এই ‘কম চোখে পড়ার মত আহ্বান’ দিয়ে ঈশ্বরকে অনেক সম্মান দেন। তার এই ‘কম চোখে পড়ার মত আহ্বানে’ আছে আছে অদ্বিতীয় সৌন্দর্য ও আকর্ষণ।