কিছু চিন্তা ল্যান্ডা লীয়া কোপ “God, the Bible and political justice” থেকে নেওয়া হয়েছে
শমূয়েলের ছোটবেলা প্রায় ১০৮০-১০২০ খ্রীঃপূঃ
- লেখক তার পুস্তকের শুরুতে যাজকত্বের দুঃখের অবস্থা নিয়ে বাস্তব চিত্র দেখান।
- সদাপ্রভুর আবাস-তাম্বু সেই সময় শীলোতে আছে। মহা পুরোহিত এলির ছেলেরা দুর্নীতি-গ্রস্ত এবং মন্দ কাজে লিপ্ত। মোশির আইন-কানুন অনুসারে যাজকদের দায়িত্ব হল আবাস-তাম্বুতে নিয়ম শৃঙ্ক্ষলা ও পবিত্রতার মানদণ্ড রক্ষা করা কিন্তু কথা কিন্তু উলটা দিকে তারাই উৎসর্গের নিয়ম ভেঙ্গে স্বার্থপরভাবে মাংস দাবি করে এবং এভাবে আরাধনাকারীদেরকে অপমানিত করে, ঈশ্বরকেও অপমানিত করে। তা ছাড়া তারা এমন মহিলাদের সাথে ব্যভিচার করে যারা সেবা-কাজের জন্য মিলন-তাম্বুর দরজার কাছে আসত (১ শমূয়েল ২:১২-১৭,২২,৩:১৩)।
- যখন ছেলেদের খারাপ ব্যবহারের খবর এলির কাছে আসে তিনি তাদেরকে হালকাভাবে ধমক দেন, কিন্তু শাসন করেন না বা প্রকৃতপক্ষে বাধা দেন না (১ শমূয়েল ২:২৩-২৫, ৩:১৩)। ঈশ্বর একজন ভাববাদী দ্বারা এলিকে তাঁর মূল্যায়ন জানান: তিনি উৎসর্গগুলোর অসম্মান করেছে, লোভ করেছেন এবং ঈশ্বরের চেয়ে নিজের ছেলেদের বড় করে দেখেছেন (১ শমূয়েল ২:২৯-৩০, ৩:১৩)। এসবের কারণে ঈশ্বর এলি ও তার বংশকে শাস্তি দেবেন, তিনি তার দু’জন ছেলেদের মেরে ফেলবেন এবং এখন থেকে এলির বংশ প্রায় দুর্ভিক্ষ, দুর্বলতা, কষ্ট ও অবেলা মৃত্যু ঘটবে (১ শমূয়েল ২:৩১-৩৬)। ঈশ্বর একজন নতুন বিশ্বাস্ত পুরোহিত খোঁজ করেন।
- প্রথম এবং দ্বিতীয় ধমক ও শাস্তির ঘোষণা শুনে এলি মাত্র বলেন “তিনি সাপ্রভু; তাঁর কাছে যা ভাল মনে হয় তিনি তা-ই করুন” (১ শমূয়েল ৩:১৮)। ঈশ্বর যখন সংশোধন করেন তিনি ‘মেনে নেওয়া’ দেখতে চান না বরং মনেপ্রাণে অনুতাপ! কেন এলি এর চেয়ে সাড়া দেন না? তিনি কি অনিচ্ছুক? ক্লান্ত? মানুষের ভয় করে? নিজের ব্যবহারের জন্য দায়িত্ব নিতে চান না?
- দেখা যায় যে, ইস্রায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক এবং আত্মিক নেতৃত্ব এমন দুর্নীতিগ্রস্ত যে নেতৃত্ব দানের জন্য ঈশ্বর কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না।
- যদিও সরকার ও যাজকত্ব দুরাবস্থার মধ্যে আছে, এমন পরিবার আছে যারা বিশ্বস্ত: ইলকানা ও তার দু’জন স্ত্রী বিশ্বাস ধরে রাখেন এমন সময় যখন চারিদিকে দেবতাপূজা চলে এবং সদাপ্রভুর পুরোহিতেরাও দুর্নীতিগ্রস্ত।
- হান্না বন্ধা। যদি হান্না ইলকানার এমাত্র স্ত্রী হত তবে তারা দম্পত্তি হিসাবে নিঃসন্তান হওয়ার কষ্ট একসাথে বহন করত। কিন্তু ইলকারার দ্বিতীয় স্ত্রী পন্নিনা দ্বারা সন্তান আছে বলে হান্না এই বিষয়ে একদম একা হয়ে পড়ে। যখন পরিবার আবাস-তাম্বুতে যায় হান্ন্ সেখানে কান্না করে ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি ছেলে-সন্তান দাবি করে এবং প্রতিজ্ঞা দেন যে, সে সন্তানটিকে অবশ্যই ঈশ্বরের উদ্দেশ্য আলাদা করা নাসরীয় হিসাবে দান করবে।
- এলি তার আবেগীয় কান্না শুনে হান্নাকে মাতাল মনে করে, কিন্তু তার ভুল চিন্তা বুঝে তিনি হান্নাকে আশীর্বাদ করে নিশ্চয়তা দেন যে, ঈশ্বর তার বিনতি শুনেছেন। হান্না এই কথায় বিশ্বাস রেখে তার হতাশা ভাঙ্গতে সক্ষম।
- ঈশ্বরের কথা অনুসারে হান্নার শমূয়েল রামে একটি ছেলে হয় এবং তাকে বুকের দুধ থেকে ছাড়ানোর পরে (সম্ভবত কিছু বছর) হান্না শমূয়েলকে আবাস-তাম্বুর কাছে নিয়ে এসে ঈশ্বকে দান করেন। ছেলেটিকে দুর্নীতিগ্রস্ত পুরোহিতদের যত্নের অধীনে সমর্পিত করা অবশ্যাই ছিল কষ্টের এবং ঈশ্বরের উপর গভীর বিশ্বাস রাখার বিষয়।
- ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা দেন যে, “আমি আমার জন্য একজন বিশ্বস্ত পুরোহিতহ দাঁড় করাব, যে আমার মন বুঝে আমার ইচ্ছামত কাজ করবে। আমি তার বংশকে স্থায়ী করব এবং সে সব সময় আমার অভিষেক-করা লোকের সেবা করবে” (১ শমূয়েল ২:৩৫)। প্রতিজ্ঞাটি প্রাথমিকভাবে পূর্ণ হয় শমূয়েল দ্বারা, কিন্তু তা আরো চুড়ান্তভাবে পূর্ণ হয় যীশুর মধ্য দিয়ে। যীশু সেই বিশ্বস্ত পুরোহিত, যিনি সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছার মত কাজ করবেন।
- লেখক লক্ষ্য করেন যে, “সে সময় সদাপ্রভুর বাণী খুব কমই শোনা যেত এবং তাঁর দর্শনও যখন-তখন পাওয়া যেত না” (১ শমূয়েল ৩:১)।
- ঈশ্বর একটি সন্তানকে বাছাই করে তাঁর মনোযোগ নতুন একটি প্রজন্মের উপর দাস করেন। ঈশ্বর অবশ্যই প্রতেকটি প্রজন্মকে ব্যবহার করতে চান, কিন্তু প্রত্যেকটি প্রজন্ম তাঁর ডাকে একইবাবে সাড়া দেয় না (যাত্রা ১৩-১৪)।
- ঈশ্বর শমূয়েলকে প্রস্তুত করতে শুরু করেন এবং অল্প বসয় থেকে তার সাথে কথা বলতে শুরু করেন।
- শমূয়েলের কাছে ঈশ্বরের প্রথম বাণী হল এলির বিরুদ্ধে একটি কঠিন বিচারবাণী, যা এলিকে জানানো অবশ্যই ছিল শমূয়েলের জন্য খুব চ্যালেঞ্জের (১ শমূয়েল ৩:১১-১৪, ১৮)।
- বিচারবাণী পেলেও এলি এখানে শমূয়েলকে উৎসাহ দান করতে জানেন।
- “এইভাবে শমূয়েল বেড়ে উঠতে লাগলেন আর সদাপ্রভু তাঁর সংগে রইলেন এবং নবী হিসাবে বলা তাঁর কোন কথাই সদাপ্রভু বিফল হতে দিতেন না। আর শমূয়েল যা বলতেন তা সমস্ত ইস্রায়েলীয়দের কাছে পৌঁছে যেত” (১ শমূয়েল ৩:১৯-৪:১)। কি অদ্ভুত কথা – ইস্রায়েলের জন্য নতুন একটি সুযোগ!
- পলেষ্টীয়রা ইস্রায়েলকে আবারও আক্রমণ করে। ইস্রায়েল এখনও বোঝে যে নিয়ম-সিন্দুক ঈশ্বরের ক্ষমতার একটি চিহ্ন, কিন্তু তারা আর ঈশ্বর পথ ও ইচ্ছা বোঝে না, কারণ তারা মনে করে সদাপ্রভুর নিয়ম সিন্দুক তাবিজের মত ব্যবহার করা যায়। ঈশ্বর এই ধরণের কুসংস্কার বা মিথ্যা বিশ্বাস উৎসাহিত করতে রাজি না, তাই তিনি ইস্রায়েলকে পরাজিত হতে দেন এবং নিয়ম-সিন্দুক পলেষ্টীয়দের হাতে পড়তে দেন।
- নিয়ম-সিন্দুকের উপস্থিতির খবর পেয়ে পলেষ্টীয়রা ভয় পায়, যা থেকে বুঝা যায় যে, তাদের সদাপ্রভুর ক্ষমতার বিষয়ে কিছুটা জ্ঞান আছে। কিন্তু তারা সাহস করে ইস্রায়েলীয়দের পরাজিত করে। এলির ছেলেরা, যারা নিয়ম-সিন্দুক যুদ্ধে নিয়ে এসেছিল, তাদের মেরে ফেলা হয়, এছাড়া ৩০ হাজার ইস্রায়েলীয়দের প্রাণ নষ্ট হয়। নিয়ম-সিন্দুক পলেষ্টীয়দের হাতে পড়ে গেছে শুনে এলি পড়ে গিয়ে মারা যান। সব কিছু হারানো, এমন দেখা যায়।
- পলেষ্টীয়রা নিয়ম-সিন্দুক দখল করে তা তাদের প্রধান দেব দাগোনের মন্দিরে রাখে। ঈশ্বর নিজেকে পলেষ্টীয়দের কাছে প্রকাশ করতে শুরু করেন: দাগোনের মূর্তি নিয়ম-সিন্দুকের সামনে পড়তে থাকে এবং পলেষ্টীয়রা ফোড়ায় ও ইঁদুরের বন্যায় আক্রান্ত হয়। তারা নিয়ম-সিন্দুক এক শহর থেকে আর এক শহরে নিয়ে যায় কিন্তু ভয়ে কেউ তা আর রাখতে চায় না। অবশেষে তারা নম্রভাবে এবং উপহার হিসাবে সোনার জিনিস দিয়ে নিয়ম-সিন্দুক ইস্রায়েলে ফেরত পাঠায়। ঈশ্বর নিজের সিন্দুক রক্ষা করতে কঠিন মনে করেন না!
পুরোহিত হিসাবে শমূয়েলের ভূমিকা
- শমূয়েল হলেন লেবীয় গোষ্ঠির কহাতীয় পরিবারের ছেলে (তাই হতে পারে তিনি পুরোহিত পরিবারের নন, ১ বংশা ৬:১৬-৩০)।
- তার মা তাকে জন্ম থেকে নাসরীয় হিসাবে সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরকে দান করে (১ শমূয়েল ১:২৮)।
- শমূয়েল অল্প বয়স থেকে মহা পুরোহিত এলির শিষ্য হয়ে যায় (১ শমূয়েল ২:১১), পরোহিতদের মত মসীনা সূতার এফোদ পরেন (১ শমূয়েল ২:১৮), আবাস-তাম্বুতে বাস করেন (১ শমূয়েল ৩:৩) এবং উৎসর্গ দান করেন (১ শমূয়েল ৭:৯, ১৫:৮-৯)।
ভাববাদী হিসাবে শমূয়েলের ভূমিকা
- ঈশ্বর শমূয়েলকে ভাববাদী হিসাবে আহ্বান করেন (১ শমূয়েল ৩:২-১৮)।
- শমূয়েলের সর্বপ্রথম ভাববাদী হল এলির বিরুদ্ধে বিচারবাণী (১ শমূয়েল ৩:১০-১৪)।
- “সমস্ত ইস্রায়েলীয়েরা জানতে পারল যে, শমূয়েল সদাপ্রভুর ভাববাদী হিসাবে প্রমাণিত হয়েছেন” (১ শমূয়েল ৩:১৯-৪:১), তার বাণীগুলো পূর্ণ হয় (১ শমূয়েল ৯:৬), তিনি রাজা শৌল (১ শমূয়েল ১০:১) এবং রাজা দায়ূদকে অভিষিক্ত করেন (১ শমূয়েল ১৬:১২)।
- এছাড়া তিনি অন্য ভাববাদীদের নেতৃত্ব দেন (১ শমূয়েল ১৯:২০)।
বিচাক হিসাবে শমূয়েলের ভূমিকা
- শমূয়েলকে বিচারক বলা হয় এবং তিনি তার সমস্ত দিন ধরে দবোরার মত লোকদের জন্য ন্যায় বিচারের ব্যবস্থা করেন (১ শমূয়েল ৭:৬, ৭:১৫-১৭)। তিনি ঈশ্বরের কথার বিরুদ্ধে নিজের ছেলেদেরকে বিচারক হিসাবে নিযুক্ত করেন (১ শমূয়েল ৮:১-৩)। শমূয়েল খুব সৎ, তিনি ক্ষমতা ভুলভাবে ব্যবহার করেন না এবং কখনও দুর্নীতিগ্রস্ত হন না (১ শমূয়েল ১২:১-৫)।
- শমূয়েল লোকদেরক মন ফিরাতে বলেন এবং তার উৎসাহে ইস্রায়েলের একটি জাগরণ ঘটে: “সেই সময় সদাপ্রভুর কাছে ফিরে আসবার জন্য ইস্রায়েলীয়দের প্রাণ কাঁদছিল” (১ শমূয়েল ৭:২)।
- বোধ হয় যে, ইস্রায়েলের মন ফিরানো কার্যকারী হয় নি যখন পলেষ্টীয়রা ঠিক সেই সময় তাদেরকে আক্রমণ করেন। কিন্তু শমূয়েল সামরিক উদ্ধারকর্তার ভূমিকার মত নেতৃত্ব নিয়ে ঈশ্বরকে ডাকেন। ঈশ্বর উত্তরে মেঘ ডাকার ব্যবস্থা করেন, পলেষ্টীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ঘটান এবং এভাবে পলেষ্টীয়দের তাড়ান (১ শমূয়েল ৭:৭-১৪)। এভাবে ইস্রায়েলের সীমানা সুরক্ষা করে শান্তির সময় স্থাপন হয় এবং শমূয়েল কেন্দ্রীয় সরকারি ভূমিকা ছেড়ে দিয়ে আবার বিচারক হিসাবে কাজ করেন – যেমন হওয়ার কথা।
- ঈশ্বর শমূয়েলকে ইস্রায়েলের একটি পরিবর্তনের সময়ে ব্যবহার ব্যবহার করেন। তিনি কিছুটা মোশির মত: মোশি, যিনি লেবীয় এবং ইস্রায়েলের উভয় আত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, তিনি আত্মিক নেতৃত্ব হারোণকে দিয়ে দেন, যিনি ইস্রায়েলের মহাপুরোহিত হয়ে যান। শমূয়েলও তার জীবনের শুরুতে উভয় আত্মিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব নতুন নিযুক্ত রাজা শৌলকে হস্তান্তর করেন। কিছু চরম সময়ে হয়তো একজন নেতা উভয় ভূমিকা পালন করেন, কিন্তু তা স্থায়ীভাবে না হোক।
- শমূয়েল একদম সৎ এবং লোকেরা সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি তার ক্ষমতা কোনভাবে নিজের সুবিধার জন্য ভুল ব্যবহার করেন নি (১ শমূয়েল ১২:৩-৫)। কিন্তু “শমূয়েল বুড়ো বয়সে ইস্রায়েলীয়দের শাসনকর্তা হিসাবে তাঁর ছেলেদের নিযুক্ত করলেন” (১ শমূয়েল ৮:১)। মোশির আইন-কানুন অনুসারে বিচারকদের নিযুক্ত করার অধিকার জনগণের (দ্বিতীয় বিবরণ ১:৯-১৮) কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, এই ক্ষেত্রে শমূয়েলের দুর্বলতা প্রকাশিত হয় (১ শমূয়েল ৮:৪-৫)। সাথে সাথে দুর্নীতি দেখা যায়: তার ছেলেরা ঘুষ খায়। এইটা অবাক লাগার কিছু না, এরজন্য তো রাজনৈতিক ক্ষমতা এক পরিবারে থাকুক, ঈশ্বর তা নিষেধ করেছেন। দ্বিতীয় বিবরণ ১৬:১৯ পদ অনুসারে ঘুষ নেওয়ার লোকদেরকে বিচারক হিসাবে নিযুক্ত করা নিষেধ। ইস্রায়েলীয়রা শমূয়েলকে সম্মান করে, কিন্তু তার ছেলেদের একদম মানতে রাজেি না (১ শমূয়েল ৮:৩)।
- ঈশ্বর শমূয়েলকে প্রতিজ্ঞা দিয়েছেন যে, তিনি তার “বংশকে স্থায়ী করাব”, কিন্তু প্রতিজ্ঞাটি শর্তাধীন (১ শমূয়েল ২:৩৫)। শমূয়েল অনেক বছর আগে এলির বিরুদ্ধে ঈশ্বরের বিচারবাণী দিলেন কারণ এলি তার ছেলেদের নিয়ন্ত্রণ করেন নি, এখন শমূয়েলের জীবনে একই দুর্বলতা দেখা যায় (১ শমূয়েল ৩:১১-১৪)।
- এলির সমস্যা হয়ে যায় শমূয়েলের সমস্যা – এবং দুঃখের বিষয় যে, তা দায়ূদের সমস্যাও হয়ে যাবে: ছেলেরা মন্দ কাজ করলেও তাদেরকে শাসন বা বাধা না দেওয়া, হয়তো এই চিন্তা করে যে, ঈশ্বর তাদেরকে তারপরেও ব্যবহার করবেন। নিজের পরিবারের লোকদেরকে সুযোগ-সুবিধা দান – এই সমস্যা ইস্রায়েলকে যেমন ক্ষতি করেছে, তা আজ পর্যন্ত অনেক দেশগুলোর ক্ষতি করে।
- শমূয়েলের ছেলেদের দুর্নীতির কারণে সাথে সাথে একটি বড় ক্ষতি ঘটে: ইস্রায়েলীয়রা একটি রাজা চাওয়ার পিছনে একটি কারণ হল শমূয়েলের ছেলেদের দুর্নীতি (১ শমূয়েল ৮:৫), এদের দিকে তাকিয়ে ইস্রায়েল কোন আশা দেখে না। রাজা চাওয়া মানে রাজতন্ত্র চাওয়া এবং এর ফলে ইস্রায়েলে আর অনেক ক্ষতি হবে।
ইস্রায়েল রাজা চায় (ইস্রায়েল রাজতন্ত্রে পরিণত হয়)
- শমূয়েল বুড়ো হয়ে গেছে এবং তার ছেলেরা ভাল নয় বলে ইস্রায়েল শমূয়েলের কাছে এসে রাজা চায়, অর্থাৎ ইস্রায়েল কিভাবে নিজেকে রাজত্ব করবে, তা তারা পরিবর্তন করতে চায়। মোট কথা এখানে তার সংবিধান পরিবর্তন করতে যাচ্ছে।
- এপর্যন্ত ইস্রায়েলে শুধুমাত্র সংকটের সময়ে একজন বিচারক-উদ্ধারকর্তা থাকত, কিন্তু এখন ইস্রায়েল চারিপাশের জাতিদের মত একজন স্থায়ী জাতীয় নেতা চান। ইস্রায়েল এখানে “অন্য জাতিদের মত” হতে চায়, যা অতন্ত দুঃখের বিষয়, কারণ তা হল ইস্রায়েলের আহ্বান অগ্রাহ্য করা। মোশির সময়ে ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতির সাথে চুক্তি স্থাপন করেছিলেন এবং তাদেরকে “পুরোহির রাজ্য” হিসাবে আদর্শ হয়ে অন্য জাতিদের আকৃষ্ট করার আহ্বান দিয়েছিলেন (যাত্রা ১৯:৪-৬)। কিন্তু এখন জাতিগুলো তাদের মত হতে চায় না, তারা অন্য জাতিদের মত হতে চায়! কারা কাদেরকে শিষ্যত্ব দিচ্ছে??
- তাদের এই দাবি শুনে শমূয়েল অখুশি এবং তিনি এই বিষয়ে ঈশ্বরকে অন্বেষণ করেন। তারা যে রাজা চায়, ঈশ্বর তা নিজের ব্যক্তিকে অগ্রাহ্য করা হিসাবে বোঝেন: “তারা তোমাকে অগ্রাহ্য করে নি, আসলে আমাকেই অগ্রাহ্য করেছে যেন আমি তাদের উপর রাজত্ব না করি” (১ শমূয়েল ৮:৭)।
- ঈশ্বর শমূয়েলের মধ্য দিয়ে ইস্রায়েলকে সাবধানবাণী করে বলেন, রাজতন্তে পরিণত হওয়ার খারাপ ফলাফল কি কি (১ শমূয়েল ৮:১০-১৮):
- সরকার চালানো দামী, সরকার তাদের উপরে করের দাবি বিস্তার করবে এবং সবচেয়ে ভাল সম্পত্তি নিয়ে ফেলবে।
- রাজতন্ত্রে পরিণত হওয়া মানে যে, সাধারণ লোকদের দায়িত্বে কম থাকবে কিন্তু তাদের সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতাও কম থাকবে।
- তারা জাতি হিসাবে আর ঈশ্বরের উপর নির্ভর না করে বরং রাজার দিকে তাকিয়ে নিরাপত্তার আশা করবে।
- তারা চায় যে, রাজা তাদের সুরক্ষা করুক, এমন কি যখন তারা ঈশ্বর থেকে সরে যায়।
- রাজা তাদের ছেলেদেরকে সেনা হিসাবে দাবি করবেন (১ শমূয়েল ৮:১২), এমন কি স্থায়ীভাবে তাদের সেনা বানাবেন।
- তাদের মেয়েদেরকে বিভিন্ন কাজে লাগানো হবে যেখানে তারা সরকার কে সেবা করবে (১ শমূয়েল ৮:১৩-১৪)।
- রাজা সবচেয়ে ভাল ক্ষেত-খামারগুলো দাবি করবেন (১ শমূয়েল ৮:১৪), জোরপূর্বক শ্রম ও পশু-পাখি ও ফসল দাবি করবে (১ শমূয়েল ৮:১৬)।
- রাজা এবং রাজকর্মচারীরা শক্তিশালী থেকে আরো শক্তিশালী হয়ে যাবেন এবং সাধারণ লোকেরা আস্ত আস্তে দাস হয়ে যাবে।
- “লোকেরা কিন্তু শমূয়েলের এই সব কথা শুনতে রাজী হল না। তারা বলল, “না, আমরা একজন রাজা চাই। তাহলে আমরা অন্য সব জাতির মত হতে পারব। আমাদের রাজা আমাদের শাসন করবেন এবং আমাদের আগে আগে থেকে যুদ্ধ করবেন।” শমূয়েল লোকদের … তাতে সদাপ্রভু শমূয়েলকে বললেন, “তুমি তাদের কথা শোন এবং তাদের জন্য তুমি একজন রাজা নিযুক্ত কর” (১ শমূয়েল ৮:১৯-২১)।
- দ্বিতীয় বিবরণ ১ অধ্যায়ে ঈশ্বর লোকদেরকে নিজের উপর নেতাদের নিযুক্ত করার অধিকার দিয়েছিলেন, অর্থাৎ রাজত্ব করার ধরণও তারা নিজের জন্য ঠিক করতে পারে। ঈশ্বর তাদেরকে বলেছিলেন, সরকারের ক্ষেত্রে কি করা ভাল (নির্বাচিত, প্রতিনিধি, প্রজ্ঞা ও দ্ক্ষতার ব্যক্তি) কিন্তু সিদ্ধান্ত তাদেরই। যেহেতু ঈশ্বর তাদেরকে সরকার ঠিক করার অধিকার দিয়েছিলেন, তিনি এখন এই অধিকার অমান্য করেন না। তারা রাজা চাচ্ছে, তারা রাজা পেতে পারে। ঈশ্বর নিজের নীতিগুলো পালন করেন।
- রাজতন্ত্রের খারাপ ফলাফরের কথা শুনে তারা বলে “না, কিন্তু আমরা রাজা চাই”। এই উত্তর যত স্বাভাবিক তত মুর্খ, তারা সিদ্ধান্ত নিতে চায় কিন্তু তারা সিদ্ধান্তের ফলাফল চায় না। কিন্তু বাস্তবতা এমন নয়, ‘যে জলে যতটুক নামবে, সে ততটুক ভিঝবে’।
- তাদের সিদ্ধান্ত স্থির আছে বলে শমূয়েল ইস্রায়েল গণতন্ত্র থেকে রাজতন্ত্রের পরিণতা হওয়ার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। একবার নতুন রাজা ঠিক হয়েছে, শমূয়েল শান্তভাবে ও বিশ্বস্তভাবে বিচারক হিসাবে তার সমস্ত রাজনেতিক ভূমিকা ছেড়ে দেন (১ শমূয়েল ১২)।
- শমূয়েল পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করেন, যে তিনি রাজতন্ত্র চান নি, রাজাও চান নি। তিনি বলেন “তোমাদের রাজা, যাঁকে তোমরা চেয়েছ আর বেছে নিয়েছ … যিনি তোমাদের শাসন করবেন সেই রাজা” (১ শমূয়েল ১২:১৩,১৫)।
- শমূয়েল তার রাজনৈতিক ভূমিকাগুলো ছেড়ে দেওয়ার সময় নিজেকে লোকদের কাছে দায়বদ্ধ করেন। তিনি তার নেতৃত্ব নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ দেন এবং তার দুর্নীতির বিষয়ে তাদের সাক্ষ্য দিতে বলেন। সবাই শমূয়েলকে তার দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব ঘোষণা করে। কেন শমূয়েল এইভাবে করেন? তিনি কি ভয় করেন যে, নতুন রাজা তার বিরুদ্ধে কিছু করবে? তিনি কি ভয় করেন যে রাজতন্ত্রের খারাপ ফলাফল যখন লোকদের উপরে পড়ে, তখন তারা তারপরেও তাকে দায়ব্ধ করবে? অথবা তিনি নতুন রাজাকে আদর্শ দেখান, নেতৃত্ব কিভাবে লোকদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা উচিত?
- শমূয়েল তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ঈশ্বরের নীতি যেমন আগে ছিল, ঠিক তেমনি এখনও প্রযোজ্য, শর্তও একই থেকে গেছে। ঈশ্বর তাদেরকে এবং তাদের রাজাকে আশীর্বাদ করতে রাজি আছেন “তোমরা যদি সদাপ্রভুকে ভক্তিপূর্ণ ভয় কর, তাঁর সেবা কর ও তাঁর বাধ্য হয়ে তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে না চল, আর যিনি তোমাদের শাসন করবেন সেই রাজা ও তোমরা যদি তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ইচ্ছামত চল, তবে ভালই। কিন্তু যদি তোমরা সদাপ্রভুর বাধ্য না হও এবং তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে চল, তবে তিনি যেমন তোমাদের পূর্বপুরুষদের শাস্তি দিয়েছিলেন তেমনি তোমাদেরও দেবেন” (১ শমূয়েল ১২:১৪-১৫)।
- তবুও তারা এইমাত্র রাজত্বের একটি স্তর বাড়িয়ে দিয়েছে (একজন রাজা), এবং এর সাথে দাবিরও আর একটি স্তর যুক্ত হবে।
- শমূয়েল শক্তিশালীভাবে ঘোষণা করেন যে, রাজা থাকলেও সাধারণ লোকদের দৈনিক সিদ্ধান্তের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে: “তোমরা ভয় কোরো না। তোমরা যদিও এই সব অন্যায় করেছ তবুও সদাপ্রভুর কাছ থেকে সরে না গিয়ে সমস্ত অন্তর দিয়ে তাঁর সেবা কর। তোমরা তাঁর কাছ থেকে সরে যেয়ো না, কারণ তা করলে তোমরা অসার দেব-দেবতার পিছনে যাবে।… আমি যেন কখনও তোমাদের জন্য প্রার্থনা করা বন্ধ করে সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ না করি। আমি তোমাদের সৎ ও ন্যায়পথে চলতে শিক্ষা দেব। তোমরা কেবল সদাপ্রভুকে ভক্তিপূর্ণ ভয় করবে এবং তোমাদের সমস্ত অন্তর দিয়ে বিশ্বস্তভাবে তাঁর সেবা করবে। ভেবে দেখ, তিনি তোমাদের জন্য কত বড় বড় কাজ করেছেন। কিন্তু যদি তোমরা অন্যায় কাজ করতেই থাক তবে তোমরা ও তোমাদের রাজা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে” (১ শমূয়েল ১২:২০-২৫)।
- শমূয়েল পরিষ্কারভাবে বলেন যে, রাজা ইস্রায়েলকে রক্ষা করবেন বা ধ্বংস করবেন, এমন নয়, তার চেয়ে সাধারণ লোকদের সিদ্ধান্ত আর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাজা থাকলে বা না থাকলে, যদি তারা বাধ্য হয় তবে তারা আশীর্বাদ পাবে। যদি তারা ও তাদের রাজা ঈশ্বরের দিকে মন ফিরায়, তবে ঈশ্বর তাদেরকে অবশ্যই আশীর্বাদ করবেন। তারা যদি ঈশ্বর থেকে সরে যায়, তখন ঈশ্বর আশীর্বাদ দিতে পারবেন না। আশীর্বাদ থাকবে কিনা, তা লোকদের উপর নির্ভর করে।
- এখানে আমরা শমূয়েলের আর একটি ভূমিকা দেখতে পায়, তিনি ইস্রায়েল জাতির জন্য বিনতিকারী ছিলেন, এবং এই ভূমিকা বাদ দেবেন না (১ শমূয়েল ১২:২৩)।
ভাববাদী শমূযেল ইস্রায়েলের প্রথম রাজাকে অভিষেিক্ত করেন
- শমূয়েল তাই ইস্রায়েলের রাজতন্ত্র স্থাপন করার দায়িত্ব পেয়েছেন। গণতন্ত্রে প্রজন্ম পর প্রজনম নতুন নেতাদের নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু রাজতন্ত্রে এক রাজপরিবার স্থায়ীভাবে রাজত্ব করে। তাহলে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়: কোন পরিবারকে বাছাই করা ভাল?
- যদিও ইস্রায়েল রাজতন্ত্র চাওয়ার ক্ষেত্রে ঈশ্বরের ইচ্ছার বাইরে চলে গেছে, ঈশ্বর তারপরেও তাদেরকে এই রাজতন্ত্রের মধ্যে আশীর্বাদ করতে চিন। তাই ঈশ্বর মুহূর্তে পাওয়া যাওয়ার সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে সবচেয় ভাল নেতাকে খোঁজেন।
- সম্ভবত শমূয়েরও এই বিষয়ে চিন্তা ও প্রার্থনা করেন। এক দিনে তিনি ঈশ্বরের কাছ থেকে নির্দেশনা পান যে, পবর্তী দিনে তার একটি যুবকের সাথে দেখা হবে, যাকে তিনি ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে অভিষিক্ত করবেন (১ শমূয়েল ৯:১৬)।
- খুব সম্ভবত, শমূয়েল এই নিদেশনা পেয়ে বেশ উত্তেজিত এবং চিন্তিত থাকবেন। এর মধ্যে তার ভূমিকা কি, তা নিয়েও চিন্তা করবেন।
- পরবর্তী দিনে ঠিকই শৌল নামে একজন যুবকের সাথে তার দেখা হয়। ঈশ্বর শমূয়েলকে শৌলের বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট জ্ঞান দান করেন (হারানো গাধাগুলো পাওয়া গেছে) এবং তিনি শৌলকে তার সাথে খাওয়া-দাওয়া করার নিমন্ত্রণ দেন। তিনি শৌলকে যত্ন নিয়ে এবং সবার সামনে খাবারের সবচেয়ে ভাল অংশ দিয়ে তাকে সম্মান দেখান। তাকে সেখানে রাত কাটাতেও বলেন (১ শমূয়েল ৯:১৫-২৬)।
- শৌলের কাছে শমূয়েলের প্রথম কথা অবশ্যই বিশেষ: “ইস্রায়েলের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা কি তোমার ও তোমার আর তোমার বাবার বংশের উপরে নয়?” (অনুবাদ ইব্রীয় ভাষা অনুসারে, ১ শমূয়েল ৯:২০)।
- কথাটি হল ভারী, ভবিষ্যৎ সম্বন্ধীয় ও সম্মানের। হয়তো তাতে ইস্রায়েলের রাজা চাওয়ার বিষয়ে শমূয়েলের দুঃখ, হতাশা এবং হয়তো এমন কি বিরক্তিও প্রকাশিত।
- হয়তো শমূয়েল ঈশ্বরের পক্ষ হয়ে অপমান বোধ করে যে, ইস্রায়েল সয়ং ঈশ্বরের চেয়ে এই যুবকের উপর সব ভরাসা রাখে?
- অথবা শমূয়েল কি মনে মনে আর একবার নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ছেড়ে দেন? শমূয়েল কি শৌলকে দেখাতে চান যে, রাজা হওয়া অবশ্যই সুযোগ-সুবিধার সাথে আসে, কিন্তু এই আহ্বানের সঙ্গে অনেক দায়িত্বও আসে?.
- পরবর্তী দিনে ভোর সকালের শমূয়েল রাজা হিসাবে অভিষিক্ত করেন “সদাপ্রভু তাঁর লোকদের উপরে তোমাকে নেতা হিসাবে অভিষেক করলেন” (১ শমূয়েল ১০:১)।
- ঈশ্বর শমূয়েলের মধ্য দিয়ে শৌলকে বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট অলৌকিক চিহ্ন দেখান যার মধ্য দিয়ে শৌল উৎসাহ ও ঈশ্বরের বিশ্বস্ততা উপলব্দি করতে পারেন (১ শমূয়েল ১০:১-৮)। অভিষেকের পরে ঈশ্বর শৌলকে কিছু সময় দেন যেন তিনি তার নতুন ভূমিকা ও দায়ীত্বের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন.
প্রথম রাজা নিযুক্ত ও রাজতন্ত্র স্থাপিত
- শমূয়েল এখন জানেন ঈশ্বর কাকে প্রথম রাজা হিসাবে নিযুক্ত করেছেন, তাই তিনি এখন রাজতন্ত্রে আসার প্রক্রিয়া আগায়, অর্থাৎ তিনি সারা ইস্রায়ল জাতি মিসপা শহরে একত্রিত হতে বলেন (১ শমূয়েল ১০:১৭)।
- শমূয়েল ইস্রায়েলকে আর একবার শুনিয়ে দেন যে, রাজাকে চাওয়া মানে ঈশ্বরকে অগ্রাহ্য এ অপমান করা (১ শমূয়েল ১০:১৭-১৯)।
- শমূযেল গুলিবাট দিয়ে প্রথম ইস্রায়েলের মধ্যে কোন গোষ্ঠি (> বিন্যামিন ধরা পড়ে), পরবর্তীতে বিন্যামিন গোষ্ঠির সব পরিবার (মাত্রিরা ধরা পরে), পরবর্তীতে পরিবারের মধ্যে কোন প্রত্যেকটি পুরুষ (> শৌল ধরা পড়ে) ঠিক করেন।
- কিভাবে শমূয়েল গুলিবাট কিভাবে করেন? খুব সম্ভবতা তিনি মহাপুরোহিতের ঊরীম আর তুম্মীমের মধ্য দিয়ে তা করেন। এভাবে সারা ইস্রায়েল জানবেন যে, শৌল শমূয়েল দিয়ে না বরং ঈশ্বর দিয়ে নিযুক্ত। হয়তো শমূয়েল তা করলেন যেন তার বিরুদ্ধে ‘নিজের লোকদেরকে পছন্দ করার অভিযোগ আনা না হয়: শমূয়ের হলেন লেবীয় বংশের এবং তিনি ইফ্রায়ীম গোষ্ঠির মধ্যে বাস করেন, তবুও বিন্যামিন বংশের একজন রাজা হতে যাচ্ছে।
- যদিও শৌল ঈশ্বর দিয়ে নিযুক্ত এবং শমূয়েল দিয়ে অভিষিক্ত, তিনি শুধুমাত্র রাজা হয়ে যান যখন লোক তাতে রাজা হিসাবে চায়।
- শৌল, যিনি মাল-পত্রের মধ্যে লুকিয়েছিলেন যখন সবার সামনে দাঁড় করারনো হয় তখন সবাই তার সুন্দর মুখ ও লম্বা গঠন দেখে খুশি হয় “তিনি সকলের চেয়ে প্রায় এক ফুট লম্বা”, এবং তারা শৌলকে অনুমোদন দেয় “সমস্ত লোকের মধ্যে তাঁর মত আর কেউ নেই” (১ শমূয়েল ১০:২৪)। এখন শৌল লোকদের ইচ্ছা অনুসারে তাদের রাজা হয়ে গেছেন।
- দেখা যায় যে, শমূয়েল শৌলকে অনেক ভালবাসেন (১ শমূয়েল ১৫:৩৫-১৬:১) এবং খুব সম্ভবত, তিনি অনেক উদ্বোগ নিয়ে নতুন রাজাকে শিক্ষা দিতে ও সমর্থন করতে গুরুত্ব দেন এবং তার জন্য প্রার্থনা করেন।
- যখন শৌল তার প্রথম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় এবং অত্যাচারী অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় করেন (১ শমূয়েল ১১), তখন শমূয়েল খুব সম্ভবত অনেক খুশি হন। ১ শমূয়েল ১১:১২-১৩ পদ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, শমূয়েল শৌলের সাথে যুদ্ধে গেলেন। কম পক্ষে তিনি জয়ের সময়ে উপস্থিত।
- যখন যুদ্ধের পরে শৌল বিরুদ্ধীয় লোকদের উপর প্রতিশোধ না নেন বরং অপমানটি বড় মনে ছেড়ে দেন, খুব সম্ভবত সেই সময়ও শমূয়ের খুব খুশি হলেন (১ শমূয়েল ১১:১৩)।
- যুদ্ধের জয়ের সেই আনন্দের মুহূর্তে শময়েল ইস্রায়েলের মধ্যে একতা এবং রাজা হিসাবে শৌলের অনুমোদ আরো শক্তিশালী করে তোলাজ জন্য ব্যবহার করেন: “তখন শমূয়েল লোকদের বললেন, “চল, আমরা গিল্গলে গিয়ে শৌলের রাজপদের কথা আবার ঘোষণা করি।” এতে লোকেরা সবাই গিল্গলে গিয়ে সদাপ্রভুর সামনে শৌলকে রাজপদে বহাল করল। সেখানে তারা সদাপ্রভুর উদ্দেশে যোগাযোগ-উৎসর্গের অনুষ্ঠান করল এবং শৌল ও ইস্রায়েলের লোকেরা খুব আনন্দ-উৎসব করল” (১ শমূয়েল ১১:১৪-১৫)।
- শমূয়েল কি হঠ্যাৎ করে রাজতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ান? না, যেমন পরবর্তী অধ্যায়ে বুঝা যায়। কিন্তু ইস্রায়েল মধ্যে যদি রাজত্বের বিষয়ে একমত না থাকে, তবে তা বড় সমস্যা কারণ এভাবে দেশটি শৃঙ্খলভাবে চালানো যাবে না (দ্বিতীয় বিবরণ ১:১৪) এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বা স্বৈরাচারী নেতারা ক্ষমতা দখল করার সম্ভাবনা আছে।
শমূয়েল রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করেন
- শমূয়েল একটি শান্তপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ইস্রায়েল রাজতন্ত্রে পরিনত করতে সক্ষম হয়েছেন এবং নতুন সরকারকে সমর্থন করেছেন। যে কাজ বাকি আছে হল নিজের ভূমিকা পরিষ্কারভাবে ইস্রায়েলের কাছে যোগাযোগ করা:
- আবারও শমূয়েল ইস্রায়েলকে একত্রিত করেন এবং সবার সামনে তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব হস্তান্তর করেন (১ শমূয়েল ১২:১-২)।
- তিনি নিজেকে লোকদের কাছে দায়ব্ধ করেন “আমার বিরুদ্ধে যদি তোমাদের কিছু বলবার থাকে তবে সদাপ্রভু ও তাঁর অভিষেক-করা লোকের সামনেই তা বল। তোমরা সাক্ষ্য দাও, আমি কার বলদ বা কার গাধা অন্যায়ভাবে নিয়েছি? আমি কার উপর অত্যাচার করেছি? কার উপর খারাপ ব্যবহার করেছি? কার কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছি? এর কোনটা যদি আমি করে থাকি তবে তার ক্ষতিপূরণ দেব।” লোকেরা বলল, “না, আপনি আমাদের কারও উপর অত্যাচার করেন নি, কারও উপর খারাপ ব্যবহার করেন নি এবং কারও কাছ থেকে কিছু নেন নি” (১ শমূয়েল ১২:৩-৫)।
- এখানে তিনি অন্যায় লাভ বা নিজের ক্ষমতা বা বিলাসিতা বাড়ানোর জন্য নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার নিয়ে কথা বলেন, এমন নেতৃত্ব যা লোকদের অত্যাচার করে, যা অন্যায্য বিচার করে অথবা নিজেকে আইনের উর্দ্ধে মনে করে।
- আমরা এখানে শমূয়েলের ব্যক্তগত সততা, স্ব-নিয়ন্ত্রণ ও চমৎকার নেতৃত্ব নিয়ে সাক্ষ্য পাই।
- কেন তিনি এই সব বলেন? কেন লোকদের অনুমোদন লাগে যখন তিনি নেতৃত্বের ভূমিকা হস্তআন্তর করেন?
- হয়তো ভালভাবে শেষ করার জন্য? সুন্দরভাবে হস্তান্তর করার জন্য? নতুন নেতৃত্ব থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য? ভবিষ্যতে যখন লোকেরা রাজতন্ত্রের খারাপ ফল পেয়ে অখুশি হবে, নিজেকে সেই সময় রক্ষা করার জন্য?
- খুব সম্ভবত শমূয়েলের প্রধান উদ্দেশ্য হল চমৎকার ও দায়বদ্ধ নেতৃত্বের আদর্শ দেখানো: আইন-শৃঙ্খলার গুরুত্বে, লোকদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া, ক্ষমতা জোর করে ধরে না রাখা, সততার সৌন্দর্য। তিনি তা ইস্রায়েলের সামনে করেন এবং বিশেষভাবে রাজার সামনে করেন, যিনি এই সম্পূর্ণ প্রকিয়া দেখছেন। এইটা শমূয়েলের এই কথায় পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত: “সদাপ্রভু ও তাঁর অভিষেক-করা লোকের সামনেই”।
- যখন শৌল তার জীবনের শেষে নেতৃত্ব হস্থান্তর করেন তখন তিনি কি এ্কই কথা বলতে পারেন?
- বাস্তব উত্তর হল: না। শৌল ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না, তিনি তার ক্ষমতা উপযুক্তভাবে ব্যবহার করবেন না, তিনি নিজের উদ্দেশ্য পূর্ণ করা জন্য তার রাজপদ ব্যবহার এবং অন্যায় বিচার করবেন।
- শমূয়েল সেই সময় ইস্রায়েলকে তার জাতীয় ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন (১ শমূয়েল ১২:১-১১)। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেখান যে, ঈশ্বর বিশ্বস্তভাবে বিচারক-উদ্ধাকর্তা উঠিয়েছিলেন, যার অর্থ এইও যে, ইস্রায়েলের রাজা চাওয়া ভুল হয়েছিল।
- শমূয়েল স্মরণ করিয়ে দেন যে, সব কিছু রাজার সিদ্ধান্তের উপর এবং আরো বেশি সাধারণ লোকদের সিদ্ধান্তের উপরে নির্ভর করে। যদি তারা ঈশ্বরের প্রতি বাধ্য হয়, তবে ঈশ্বর তাদেরকে রাজতন্ত্র হিসাবেও আশীর্বাদ করবে।
- কিন্তু বিষয় বাস্তবে আরো জটিল হয়েছে: এখন ভাল হওয়ার জন্য উভয় রাজার এবং লোকদের বাধ্যতা লাগে “তোমরা যদি” এবং “রাজা যদি”। তারা সরকারের আর একটি স্তর যোগ দিয়েছে।
- ইস্রায়েলীয়েরা শমূয়েলের সাবধানবাণী বুঝতে পারে। তারা তাদের সিদ্ধান্তের ভার উপলব্দি করে শমূয়েলের বিনতি চায় (১ শমূয়েল ১২:১৯)।
- শমূয়েল আবারও সাধারণ লোক হিসাবে তাদের নিজের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন (১ শমূয়েল ১২:২০-২৫)। শমূয়েল নিজের ভূমিকা নতুন করে ঘোষণা করেন: তিনি বিনতি করা ও শিক্ষা দান – উভয় হল পুরুোহিতের ভূমিকা।
- বিনতিকারী হিসাবে শমূয়েলের গুরুত্ব অনেক বছর পরে নবী যিরমিয় পুস্তকের একটি পদে উল্লখ করা হয় যেখানে ঈশ্বর যুবক যিরমিয়কে বলেন “মোশি ও শমূয়েলও যদি আমার সামনে এসে দাঁড়ায় তবুও আমার অন্তর এই লোকদের জন্য নরম হবে না” (যিরমিয় ১৫:১)। এই পদ থেকে বুঝা যায় যে, এখানে শমূয়েলকে বিনতিকারী মোশির মত সুপারিশ করা হয়।
- এর পরে শমূয়েলের আর কোন বিচার বা রাজনৈতিক কাজ করে না, যদিও তিনি তার নিজের ছেলেরদেরকে বিচারক পদ থেকে সরিয়ে দেন না “আমি তো বুড়ো হয়ে গেছি, আমার চুল পেকে গেছে, আর আমার ছেলেরা তোমাদের সংগেই রয়েছে” (১ শমূয়েল ১২:২)। দেখা যায় যে এই বিষয়টি হল শমূয়েলের মাত্র দুর্বলতা।
শমূয়েল ভাববাদী ও পুরোহিত ভূমিকায়
- এই সময় থেকে আমরা শমূয়েল শুধুমাত্র ভাববাদী ও পুরোহিত পালন করতে দেখি।
- পলেষ্টীয়রা আবারও ইস্রায়েলকে আক্রমণ করে। ভাববাদী শমূয়ল যুদ্ধের আগে উৎসর্গ করার কথা কিন্তু তার পৌঁছাতে দেরি হয়। যখন ইস্রায়েলীয় সেনারা যুদ্ধের ভয়ে চুপিচুপি পালাতে থাকে তখন শৌল নিজের হাতে সেই উৎসর্গেগুলো দান করেন।
- শমূয়েল পৌঁছিয়ে দেখেন যে, শৌল আইনের বিরুদ্ধে পুরোহিত ভূমিকা দখল করে উৎসর্গ দিয়েছেন তিনি রেগে যান, হয়তো কারণ শৌল তারই ভূমিকা দখর করেছেন অথবা কারণ তিনি শৌলের নেতৃত্ব নিয়ে গভীর হতাশায় পড়ছেন: চাপ আসলে শৌরের বাধ্য থাকার জন্য যে প্রয়োজনীয় শক্তি নেই। এছাড়া তিনি জানেন যে, শৌলের এই আচরণে ঈশ্বর ফলাফল বিস্তার করবে।
- শমূয়েল শৌলকে ধমক দেন: “তুমি বোকার মত কাজ করেছ। তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু যে আদেশ তোমাকে দিয়েছিলেন তা তুমি পালন কর নি। যদি তুমি তা করতে তবে ইস্রায়েলের উপর তোমার রাজত্ব তিনি চিরকাল স্থায়ী করতেন। কিন্তু এখন তোমার রাজত্ব আর বেশী দিন টিকবে না। সদাপ্রভু তাঁর মনের মত একজন লোককে খুঁজে নিয়েছেন এবং তাঁকেই তাঁর লোকদের নেতা নিযুক্ত করেছেন, কারণ তাঁর আদেশ তুমি পালন কর নি” (১ শমূয়েল ১৩:১৩-১৪)। এই ভবিষ্যদ্বাণীতে শমূয়েল ঘোষণা করেন, এর ফলে কি ঘটবি: শৌলের রাজবংশ স্থির থাকবে না।
- এই ঘটনার পরে আর একটি খারাপ ঘটনা ঘটে। এইবার শৌল অমালেক জাতির বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে ঈশ্বরের নির্দেশনা অমান্য করেন কারণ ইস্রায়েলীয় সেনারা ধ্বংস করার চেয়ে অমালেকীয় মালপত্র লুট করতে চায়। আবারও সেনারা যখন চাপ দেয় তখন ঈশ্বরের একটি অপ্রিয় আদেশ অনুসারে কাজ করার জন্য যে প্রয়োজনীয় নৈতিক শক্তি বা ঈশ্বরের প্রতি ভয় নেই ।
- ঈশ্বর শমূয়েলকে বলেন: “শৌলকে রাজা করাটা আমার দুঃখের কারণ হয়েছে, কারণ সে আমার কাছ থেকে সরে গেছে এবং আমার আদেশ অমান্য করেছে।” এই কথা শুনে শমুয়েল উত্তেজিত হলেন এবং গোটা রাতটা তিনি সদাপ্রভুর কাছে কান্নাকাটি করে কাটালেন” (১ শমূয়েল ১৫:১০-১১)।
- শমূয়েলের এই আবেগীয় প্রতিক্রিয়া দেখায় যায় যে, তিনি শৌলকে অনেক ভালবাসেন। কিন্তু অবশেষে তিনি এই ভাববাণী শৌলের কাছে পৌঁছান: “চুপ কর। গত রাতে সদাপ্রভু আমাকে যা বলেছেন তা আমি তোমাকে বলি … একদিন তুমি নিজের চোখে খুবই সামান্য ছিলে, কিন্তু তবুও কি তুমি ইস্রায়েলীয়দের সমস্ত গোষ্ঠীর মাথা হও নি? সদাপ্রভুই তোমাকে ইস্রায়েল দেশের উপরে রাজা হিসাবে অভিষেক করেছেন। তিনি তোমাকে একটা কাজে পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘তুমি গিয়ে সেই পাপীদের, অর্থাৎ অমালেকীয়দের একেবারে শেষ করে ফেলবে। তারা একেবারে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগে যুদ্ধ করবে।’ তুমি সদাপ্রভুর আদেশ পালন কর নি কেন? কেন তুমি লুটের জিনিসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে এবং সদাপ্রভুর চোখে যা খারাপ তা-ই করলে?” (১ শমূয়েল ১৫:১৬-১৯)।
- শমূয়েল এখানে শৌলের আসল সমস্যা তুলে ধরেন: তিনি “নিজের চোখে খুবই সামান্য”। একারণে তিনি সবাইকে খুশি করে জনপ্রিয় হতে চান, তিনি লোকদের ভয় পেয়ে ঈশ্বরকে ভয় না করেন, তিনি চাপে বাধ্য হন না এবং ধার্মিক অনুশিলনের পিছনে নিজেকে লুকান। দেখা যায় যে, ঈশ্বরের সাথে শৌলের প্রকৃত কোনো সম্পর্ক নেই, ভক্তিপূর্ণ ভয় নেই, ঈশ্বরের জ্ঞানও নেই।
- শৌল উত্তরে প্রথম বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং পরে অজুহাত দেখান। চেতনার রব শোনা ও সাড়া দেওয়া, এর ইঙ্গিত দেখা যায় না। রাজার এই প্রতিক্রিয়া দেখে শমূয়েল অবশ্যই আরো হতাশায় পড়েছেন, কিন্তু সাথে তা ঈশ্বরের সিদ্ধান্তের উপযুক্ততা প্রমাণ করে: “তখন শমূয়েল বললেন, “সদাপ্রভুর আদেশ পালন করলে তিনি যত খুশী হন, পোড়ানো-উৎসর্গ ও পশু-উৎসর্গে কি তিনি তত খুশী হন? পশু-উৎসর্গের চেয়ে তাঁর আদেশ পালন করা আর ভেড়ার চর্বির চেয়ে তাঁর কথার বাধ্য হওয়া অনেক ভাল। বিদ্রোহ করা আর গোণাপড়ার কাজ করা একই পাপ; অবাধ্যতা আর প্রতিমাপূজা একই অন্যায়। তুমি সদাপ্রভুর আদেশ অগ্রাহ্য করেছ তাই তিনিও তোমাকে রাজা হিসাবে অগ্রাহ্য করেছেন” (১ শমূয়েল ১৫:২২-২৩)।
- শমূয়েল অতি স্পষ্টভাবে দেখান ঈশ্বর কি চান: বাহ্যিক ধর্মকর্ম নয় বরং তার নির্দেশ পালন করা, উৎসর্গ নয় বরং বাধ্য হওয়া, অবাধ্যতা মানে প্রতিমাপূজা, অর্থাৎ ঈশ্বরের চেয়ে অন্য কিছুতে প্রাধান্য দেওয়া।
- শমূয়েলকে ঘোষণা করতে হয়, যা তিনি কখনও ঘোষণা করতে চান নি: ঈশ্বর শৌলকে রাজা হিসাবে অগ্রাহ্য করেছেন। কিন্তু এমন কি এই মারাত্মক ঘোষনা শুনে শৌল মাত্র হালকাভাবে অনুতপ্ত হয় এবং বেশিরভাগ এক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত: লোকদের সামনে তা কেমন দেখায়: “আমি পাপ করেছি; তবুও আমার অনুরোধ এই যে, আমার জাতির বৃদ্ধ নেতাদের ও ইস্রায়েলীয়দের সামনে আমার সম্মান রাখুন। আমি যাতে আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপাসনা করতে পারি সেইজন্য আপনি আমার সংগে চলুন” (১ শমূয়েল ১৫:২৫-৩১)।
- শৌলের ভক্তিপূর্ণ ভায় নেই এবং তার অনুতাপেরও গভীরতা নেই বলে, শমূয়েল সম্ভবত আরো হতাশায় পড়েন, কিন্তু তিনি শৌলের অনুরোধ অনোসারে করেন। একন আর কিছু যায়-আসে না, যেমন রাজা শৌলের হওয়ার কথা, তেমন রাজা তিনি নন।
- এখানে শমূয়েলের ও শৌলের শেষ দেখা। “ইস্রায়েলীয়দের উপর শৌলকে রাজা করাটা সদাপ্রভুর দুঃখের কারণ হয়েছিল বলে শমূয়েল তাঁর জন্য দুঃখ করতেন” (১ শমূয়েল ১৫:৩৫), আবারও দেখা যায় শমূয়েল শৌল নিয়ে কত বড় আশা করেছিলেন এবং এখন তার কারণে শমূয়েলের হতাশা কত বেশি।
শমূয়েল ও দায়ূদ
- ঈশ্বর শমূয়েলকে তার আফসোস থেকে বের হতে বলেন: “আমি শৌলকে ইস্রায়েলীয়দের রাজা হিসাবে অগ্রাহ্য করেছি, কাজেই তুমি আর কতকাল তার জন্য দুঃখ করবে? এখন তুমি তোমার শিঙায় তেল ভরে নিয়ে বেরিয়ে পড়। আমি তোমাকে বৈৎলেহম গ্রামের যিশয়ের কাছে পাঠাচ্ছি” (১ শমূয়েল ১৬:২)।
- শমূয়েলের উত্তর দেখে অনেক কিছু বুঝা যায়: “শমূয়েল বললেন, “আমি কি করে যাব? শৌল এই কথা শুনলে তো আমাকে মেরে ফেলবে” (১ শমূয়েল ১৬:২)। যদিও শমূয়েল শৌলের বিষয়ে দুঃখিত, তার বাস্তব ধারণা আছে, শৌল একজন প্রতিযোগী পেয়ে কি করবেন: শৌল রাজত্ব ছেড়ে দেবেন না (যদিও ঈশ্বর তা করতে বলেনছেন), তিনি যতদূর পারেন আর একজন রাজপদ পাওয়া প্রতিরোধ করবেন, তিনি সব কিছু ‘তার বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র বলেবেন, তিনি যতজন নতুন রাজাকে সমর্থন না করবে, ততজনই তিনি মেরে ফেলবেন, এমন কি শমূয়েলকেও।
- শমূয়েল ঈশ্বরের নির্দেশনা অনুসারে একটি ছদ্মবেশ ধারণ করিয়ে যিশয়ের ছেলেদের মধ্যে একজনকে নতুন রাজা হিসাবে অভিষিক্ত করার জন্য বৈৎলেহমে যান। শমূয়েল যিশয়ের প্রথম ছেলে ইলীয়াবের চেহারা দেখে মনে করেন যে, সে সেই মনোন্বিত লোক, কিন্তু ঈশ্বর না বলেন। শৌল দেখতেও খুব ভাল ছিলেন। ঈশ্বরের পরিচালনায় শমূয়েল যিশয়ের ৮ম ছেলে দায়ূদকে নতুন রাজা হিসাবে অভিষিক্ত করেন। যদিও এই ঘটনা অবশ্যই পরিবারের জন্য খুব গুরুত্বের ছিল, দায়ূদকে আসলে প্রথমে ডাকা হয় নি। এই বিষয় থেকে কেউ কেউ উপসংহারে আসর যে, দায়ূদ সম্ভবত অবৈদ্য ছেলে ছিলেন বা একটি উপস্ত্রীর ছেলে।
- শমূয়েল যে, এর পরে শৌলের সাথে দেখা হয়েছে, তার উল্লেখ নেই। হতে পারে শমূয়েল শৌলের বাজবাড়ীতে আর যাওয়া অনুমতি ছিল না অথবা তিনি শৌলের জন্য ঈশ্বর থেকে আর কোনো বাণী পান নি। তবুও শমূয়েল অবশ্যই শমূযেল অবশ্যই খোজ-খবর রাখতেন, দায়ূক কিভাবে শৌলের কর্মী হয়ে যান, গোলিয়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়ে কিভাবে তিনি সবার চোখে পড়ে, তাকে কিভাবে ইস্রায়েলের সৈন্যে সেনাপতি করা হয় এবং কিভাবে তিনি যুদ্ধের পর যুদ্ধে জয় করেন। ‘গোপনে’ করা একটি অভিষেক কতদিন লুকানো যায়?
- সম্ভবত শমূয়েল দায়ূদকে দেখে চিন্তা করেন যে, ইস্রায়েল রাজা যদি দাবি না করত, দায়ূদ এখন হতেন ঈশ্বর দ্বারা উঠানো ইস্রায়েলের বিচারক-উদ্ধারকর্তা।
- শমূয়েল আর দায়ূদের আর একবার দেখা হয়: দায়ূদ এখন হয়ে গেছেন ইস্রায়েলের সৈন্যের অতিপ্রিয় সেনাপতি এবং শৌলের জামাই, যদাএ শৌলের রাজপ্রাসাদে দায়ূদের অবস্থা দিনের পর দিন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
- শৌলের হিংসা, রাগ ও হিংস্রতার চিহ্ন যখন ঘনঘন দেখা যায় এবং যখন যোনাথনের বিনতিতে আর কাজ হয় না দায়ূদ অবশেষে শৌলের রাজপ্রাসাদ থেকে পালিয়ে রামার নায়োৎ শহরে শমূয়েলের কাছে পালিয়ে যান (১ শমূয়েল ১৯:৮-১০,১৮)। কেন তিনি শমূয়েলের কাছে যান? আসলে তা অনেক স্বাভাবিক:
- শমূয়েলের অভিষেক দ্বারা সব কিছু শুরু হয়েছিল।
- শমূয়েলের কাছে ঈশ্বরের বাণী আছে।
- শমূয়েল তাকে তার আহ্বানের নিশ্চয়তা দিতে পারেন।
- শমূয়ল হয়তো তাকে আইন-কানুন থেকে শিক্ষা দিতে পারেন তার এখন কেমন ব্যবহার করা উচিত: রাজার কর্মী হিসাবে তার কতদূর বাধ্য হতে হবে? কখন একজন কর্মীর অবাধ্য হওয়া ঠিক হবে?
- শমূয়েল তাকে প্রজ্ঞা ও পরিচালনা দিতে পারেন তার এখন কি করা উচিত? তার ভূমিকা কি? ‘অগ্রাহ্য করা ব্যক্তি’, এমন কি তাড়ানো ব্যক্তি হিসাবে এখন তার কি নিয়ম অনুসারে চলতে হবে?
- শমূয়েল ও দায়ূদের এই দেখার খোজ পেয়ে শৌল লোক পাঠান এবং শেষে নিজেই চলে আসেন। শমূয়েল একটি ভাববাদী দলের নেতা হিসাবে দাঁড়িয়ে আছেন এবং শৌলও ঈশ্বরের আত্মা তার উপর এসে নবী হিসাবে কথা বলেন। এর ফলাফল হয় যে, শৌল এভাবে আটকে পড়ে দায়ূদের পালানোর সুযোগ হয় (১ শমূয়েল ১৯:১৮-২৪)।
- এমন কি বুড়ো হিসাবে শমূয়েল এখানে আত্মিক নেতা হিসাবে ভূমিকা পালন করেন, এমন কি বুড়ো হিসাবে শৌল তাকে ‘অতিক্রম’ করতে পারেন না। তার নেতৃত্ব ফলবান ও কার্যকারী হতে থাকে। এভাবে তিনি শেষ বারের মত একজন রাজাকে শিষ্যত্ব করেন, অন্য রাজাকে সাহায্য করেন।
- শমূয়েল মারা যান এবং তাকে রামা শহরে কবর দেওয়া হয়। তারই জীবন ছিল বিশ্বস্ততার ও সফলতার, তাই সারা ইস্রায়েল তার জন্য শোক প্রকাশ করে (১ শমূয়েল ২৮:৩)।
