রোমীয় ৯-১১ অধ্যায়ের ভূমিকা

  • এই ৩টি অধ্যায়ে পৌল বেশ আবেগীয়ভাবে নিজের জাতির ব্যার্থতা নিয়ে কথা বলেন।
  • তিনি নাটকীয়ভাবে তার জাতির কাহিনী বলেন, তার আবেগের প্রকাশে কিছুটি ‘অতিরিক্ত কথা’ও বলেন।
  • তাই এই ৩টি অধ্যায় থেকে যদি আমরা কেটে কেটে এক একটি করে পদ বের করে তুলে ধরি, তবে এমন কি ‘ভুল কথা’ পাওয়া যায় অথবা চাইলে এমন কি ‘বিপরীত কথা’ খুঁজে পাওয়া যায়।
  • পৌলের কথার সঠিকার অর্থ বুঝতে গেলে আমাদের কিছু ধাপ পিছিয়ে, যা তিনি পটভূমি হিসাবে বড় করে আঁকেন, তা সব একসাথে এক নজরে দেখতে হবে।
  • তাই এই ৩টি অধ্যায়ে পৌলের কথা তার অন্যান্য সব কথার সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।
  • এই ৩টি অধ্যায় পড়ার সময় অতি সরু ও আক্ষরিকভাবে নেওয়ার চেয়ে তা একটু ‘বড় মনে’ ব্যাখ্যা করতে হবে।

রোমীয় ৯ অধ্যায় - নিজের জাতির বিষয়ে পৌলের দঃখ

নির্দেশনা

রোমীয় ৯:১-৫ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৯:৪-৫ পদে পৌল তালিকা করে উল্লেখ করেন, যিহূদীদের কি কি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো লিখুন।
  • রোমীয় ৯:১-২ পদে পৌল বেশ আবেগীয় ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি আবেগ প্রকাশ করার কি কি শব্দ ব্যবহার করেন?
  • রোমীয় ৯:৩ পদে পৌল আর একটি অদ্ভুৎ কথা বলেন। তা হল কি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৯:৪-৫ পদে পৌল তালিকা করে উল্লেখ করেন, যিহূদীদের কি কি দেওয়া হয়েছিল: পুত্রের অধিকার দান, ঈশ্বরের মহিমা দেখা, ব্যবস্থা স্থাপন, আইন-কানুন দান, সেবা ও উপাসনার উপায় স্থাপন, প্রতিজ্ঞা দান, ভক্ত পূর্বপুরুষ ও তাদের বংশে মশীহের জন্ম গ্রহণ।
  • রোমীয় ৯:১-২ পদে পৌল বেশ আবেগীয় ভাষা ব্যবহার করেন। আবেগ প্রকাশ করার শব্দগুলো হল: অন্তরে গভীর দুঃখ ও অশেষ কষ্ট। কথাটি সত্যি, মিথ্যা নয়। বিবেক ও পবিত্র আত্মা ডেকে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
  • রোমীয় ৯:৩ পদে পৌল আর একটি অদ্ভুৎ কথা বলেন। তা হল কি? > যদি সম্ভব হত নিজেই খ্রীষ্টের কাছ থেকে দূরে গিয়ে যদি যিহূদী জাতি খ্রীষ্টের কাছে নিয়ে আসা যেত, তবে পৌল তা করতে রাজি হতেন।

পৌলের কথাগুলো অত্যন্ত আবেগীয় এবং এতে নিজের জাতির জন্য পৌলের গভীর আগ্রহ প্রকাশ পায়। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যখন তিনি ‘যিহূদীরা বঞ্চিত হয়েছে’, তা নিয়ে কথা বলেন, তার হৃদয়ে কোনো ‘জেদি অত্যাচারী যিহূদীদের দুর্দশা নিয়ে আনন্দ’ নেই। পৌল সহ-যিহূদীদের হাত দিয়ে অনেক অত্যাচার ও কষ্ট পেয়েছিলেন (প্রেরিত পুস্তকে এর বর্ণনা পাওয়া যায়), তবুও পৌলের হৃদয়ে নিজের জাতির জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা আছে।

রোমীয় ৯ অধ্যায় - সব ইস্রায়েলীয়েরা সঠিকার ইস্রায়েলীয় নয়

নির্দেশনা

নিচের পদগুলো পড়ে উত্তর লিখুন।

  • রোমীয় ৯:৬ – পৌল এখানে একটি সাহসী ও অপ্রিয় কথা ঘোষণা করেন। তা হল কি?
  • রোমীয় ৯:৬-১৩ – পৌল এখানে ইস্রায়েলের আদিপিতাদের জীবন থেকে দু’টি উদাহরণ দেখান। কোন ২’টি উদাহরণ?
  • রোমীয় ৯:৬-১৩ – পৌল এই দু’টি উদাহরণ তুলে কি দেখাতে চান?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৯:৬ – পৌল এখানে একটি সাহসী ও অপ্রিয় কথা ঘোষণা করেন। তা হল কি? > যিহূদী হিসাবে জন্ম গ্রহন করা যথেষ্ট নয়। তা ‘জাতিগত পরিচয়’, ‘জীন্স’ বা ‘রক্ত-মাংসের’ বিষয় নয়।
    লক্ষ্য করুন যে, যীশু যখন একই ধরণের কথা বলেছিলেন, শ্রোতারা খুব রাগান্বিত হয়েচিল (লূক ৪:২৫-২৮, যোহন ৮:৩৯-৪৪)।
  • রোমীয় ৯:৬-১৩ – পৌল এখানে ইস্রায়েলের আদিপিতাদের জীবন থেকে দু’টি উদাহরণ দেখান। কোন ২’টি উদাহরণ? > অব্রাহামের যদিও মোট ৮টি ছেলে হয়েছিল (হাগার দ্বারা ইশ্মায়েল, কটূরা দ্বারা ৬জন ছেলে), তবে মাত্র সারা দ্বারা ইসহাকের বংশধরদের ‘অব্রাহামের বংশ’ বলা হবে। ইসহাক ও রিবিকার দু’টি ছেলে হয়েছিল (এষৌ ও যাকোব), কিন্তু এষৌ নয় বরং যাকোব থেকে ‘ইস্রায়েল জাতি’ গুনা হয়।
  • রোমীয় ৯:৬-১৩ – পৌল এই দু’টি উদাহরণ তুলে কি দেখাতে চান? > তিনি দেখান যে, শুধুমাত্র ‘অব্রাহামের রক্ত-মাংসের বংশধর’ হলেই হয় না। আরো বংশধর আছে, কিন্তু তাদের ‘ঈশ্বরের জাতির অংশ’ হিসাবে ধরা হয় না। পৌল দেখান বিষয়টি শুধুমাত্র ‘জাতিগত পরিচয়’, ‘জীন্স’ বা ‘রক্ত-মাংসের’ উপর নির্ভর করে না।

রোমীয় ৯ অধ্যায় - ঈশ্বর যাদেরকে চান, তাদেরকে বাছাই করেন

নির্দেশনা

রোমীয় ৯:১৪-১৮ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দিন:

  • রোমীয় ৯:১৫ পদে পৌল সাহসের সঙ্গে কি দাবি করেন?
  • রোমীয ৯:১৬ পদে আগের কথার সমান্তরালে পৌল কি দাবি করেন? 
  • এই ধরণের কথা শুনে মানুষ হিসাবে আমরা বিঘ্ন পাই: যদি সব কিছু ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে এবং আমাদের উপর কিছুই নির্ভর করে না, তবে ঈশ্বর আমাদের কেন দায়বদ্ধ করে রাভেন? যদি তার ইচ্ছা এড়িয়ে যাওয়া যায় না, তবে আমাদের দোষ কি? একই বিষয রোমীয় ৯:১৪ পৌল নিজেই কিবাবে প্রকাশ করেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায

  • রোমীয় ৯:১৫ পদে পৌল সাহসের সঙ্গে কি দাবি করেন? > ঈশ্বর সার্বভৌম ঈশ্বর হিসাবে যাদেরকে চান, তাদেরকে বাছাই করতে পারেন বা করুণা দেখাতে পারেন।
  • রোমীয ৯:১৬ পদে আগের কথার সমান্তরালে পৌল কি দাবি করেন? > বিষয়টি মানুষের প্রচেষ্টা বা ইচ্ছা বা যোগ্যতার উপর নির্ভর করে না, তা শুধুমাত্র ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।
  • এই ধরণের কথা শুনে মানুষ হিসাবে আমরা বিঘ্ন পাই: যদি সব কিছু ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে এবং আমাদের উপর কিছুই নির্ভর করে না, তবে ঈশ্বর আমাদের কেন দায়বদ্ধ করে রাভেন? যদি তার ইচ্ছা এড়িয়ে যাওয়া যায় না, তবে আমাদের দোষ কি? একই বিষয রোমীয় ৯:১৪ পৌল নিজেই কিবাবে প্রকাশ করেন? > “তাহলে আমরা কি বলব ঈশ্বর অন্যায় করেন?”
  • পৌল এখানে বিষয়টির সমাধান দেন না, তিনি শুধুমাত্র শক্তির সঙ্গে দাবি করেন যে, এটা করার অধিকার ও ক্ষমতা ঈশ্বরের ঠিকই আছে। তিনি আরো দাবি করেন এর অর্থ এই নয় যে, তিনি অন্যায় করেন।
  • পৌল এভানে এমন কি মিসরের ফরৌণের উদাহরণ উল্লেখ করেন – আর একটি গল্প যা দিয়ে আমরা বিঘ্ন পাই। তা নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে।

রোমীয় ৯ অধ্যায় - ঈশ্বরের ক্রোধ ও ঈশ্বরের দয়া

নির্দেশনা

  • পৌল মিসরের ফরৌণের উদাহরণ উল্লেখ করেন – এমন একটি গল্প, যা দিয়ে আমরা বিঘ্ন পাই। তার কথার বিষয়েয়ে পৌল নিজেই আপত্তি উঠিয়ে দেন। রোমীয় ৯:১৯ পদে পৌল আপত্তিটি কিভাবে প্রকাশিত করেন?
  • রোমীয় ৯:১৭ পদে তিনি মিসরের ফরৌণের বিষয় তুলেছেন। তিনি বিষয়টি পৌল বিষয়টি রোমীয় ৯:২২-২৩ পদে আরো ধারালো বা জোরালো বানিয়ে প্রকাশ করেন। সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন, তিনি এই পদগুলোতে কি বলেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • পৌল মিসরের ফরৌণের উদাহরণ উল্লেখ করেন – এমন একটি গল্প, যা দিয়ে আমরা বিঘ্ন পাই। তার কথার বিষয়েয়ে পৌল নিজেই আপত্তি উঠিয়ে দেন। রোমীয় ৯:১৯ পদে পৌল আপত্তিটি কিভাবে প্রকাশিত করেন? >
    “তবে ঈশ্বর মানুষের দোষ ধরেন কেন? কেউ কি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যকে বাধা দিতে পারে?”
  • রোমীয় ৯:১৭ পদে তিনি মিসরের ফরৌণের বিষয় তুলেছেন। তিনি বিষয়টি পৌল বিষয়টি রোমীয় ৯:২২-২৩ পদে আরো ধারালো বা জোরালো বানিয়ে প্রকাশ করেন। সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন, তিনি এই পদগুলোতে কি বলেন? > ঈশ্বর তাঁর ক্রোধ দেখানোর জন্য কিছু মানুষদেরকে ঠিক করেছেন। তাদেরকে তিনি ‘ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করেন’। তিনি কাউকে কাউকে ক্রোধের জন্য এবং অন্যদেরকে তাঁর মহিমা পাওয়ার জন্য ঠিক করে রেখেছেন।

যদি ঈশ্বর ক্রোধের জন্যই লোক বানান, তবে তাদের দোষ কি?? এই আপত্তিতে উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদেরকে মিসরের ফরৌণের গল্প বিস্তারিতভাবে দেখতে হবে।

রোমীয় ৯ অধ্যায় - ফরৌণের কঠিন হৃদয়ের বিষয়ে অধ্যয়ন

  • প্রকৃতপক্ষে, ফরৌণের কঠিন হৃদয়ের বিষয়ে অধ্যয়ন করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রমবৃদ্ধি পাওয়া যায়। নিচে যাত্রাপুস্তকে সব পথ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ফরৌণের কঠিন হৃদয় উল্লেখ করা হয়েছে। পদগুলো ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হয়েছে। ফরৌণ নিজেই তার হদয় কঠিন করে দিয়েছেন অথবা ঈশ্বর তার হৃদয কঠিন করে তুলেছেন, উভয় পদগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
  • প্রথমত আমরা ঈশ্বরের মুখ থেকে অঘ্রিম ঘোষনা (বা ভবিষ্যদ্বাণী) পাই যে, তিনি অবশেষে ফরৌণের হৃদয় কঠিন করবেন (যাত্রা ৪:২১, ৭:২-৩)। ঈশ্বর তা মোশিকে আগে থেকে জানান, যেন তিনি ফরৌণের বিরুদ্ধিতার সম্মুখীন হয়ে ভেঙ্গে না পাড়েন।
  • দ্বিতীয়ত আমরা ধীরে ধীরে একটি অবনতি দেখি। ঈশ্বর একটি পর একটি আঘাতের কথা নির্দিষ্টভাবে অগ্রিম ফরৌণকে জানান, আঘাতগুলো বাস্তবায়ন করেন এবং তার অনুরোধ অনুসারে আঘাতগুলো আবার তুলেও নেন। ফরৌণ একটি পর একটি আঘাত দেখে বুঝতে পারেন যে, ঈশ্বর নিজের হাতেই সেগুলো ঘটান। কিভাবে প্রমাণিত যে ঈশ্বর আঘাতগুলো ঘটান? তা বিভিন্নভাবে প্রাণিত হয়: আঘাতের নির্দিষ্ট অগ্রিম বর্ণনা, আঘাত ঘটার সময়টি অগ্রিম ঘোষণা, আঘাত তুলে নেওয়ার সময় অগ্রিম ঘোষণা, আঘাত শুধুমাত্র মিসরীয়দের উপর পড়ে, ইস্রায়েলীয়দের উপরে নয় – এসব দিয়ে ঈশ্বরের হাত পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত। প্রত্যেকটি আঘাত তুলে নেওয়ার পরে ফরৌণ স্বেচ্ছায় নিজের হৃদয় কঠিন করে ফেলেন: ১ম আঘাতে (যাত্রা ৫:১-৯, ৭:১৩, ৭:১৪, ৭:২২), ২য় আঘাত (যাত্রা ৮:১৫), ৩য় আঘাত (যাত্রা ৮:১৯), ৪র্থ আঘাত (যাত্রা ৮:৩১, ৯:৭), ৬ম আঘাত (যাত্রা ৯:১২)।
  • তৃতীয়ত ৬ম আঘাতে (হতে পারে ফরৌণকে সাবধান করার জন্যই) ঈশ্বর প্রথম বার ফরৌণের হৃদয় কঠিন করে দেন (যাত্রা ৮:৩১) – ঈশ্বর ফরৌণকে দেখান যে, তার বাছাই করা জেদের পথ বিপজ্জনক এবং শীঘ্রই মন পরিবর্তনের সুযোগ আর থাকবে না।
  • পরবর্তীতে ৭ম আঘাতে ফরৌণ সব সাবধানবাণী অগ্রাহ্য করে আবারও স্বেচ্ছায় নিজের হৃদয় কঠিন করে তুলেন (যাত্রা ৯:১৪)। ঈশ্বরের রব ও বাস্তব প্রমাণ অগ্রাহ্য করতে করতে ফরৌণের মনের অবস্থা এমন হয়ে যায়, যাতে চেতনার রব আর পৌঁছায় না। ফলে তিনি আর অনুতপ্ত হন না, যার ফলে তিনি আর ক্ষমা পান না।
  • সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে চলে গেছে, যা থেকে আর ফেরার পথ নেই। এর পর থেকে ঈশ্বর নিজেই ফরৌণের মন কঠিন করে তোলেন: ৮ম আঘাত (যাত্রা ১০:১), ৯ম আঘাতে (যাত্রা ১০:২৭), ১০ম আঘাতে (যাত্রা ১১:১০) এবং আর একবার সুফ সাগের পারে (যাত্রা ১৪:৪ ইত্যাদি)।
  • আমরা এই অধ্যয়নে কি সারাংশে আসতে পারি? হ্যাঁ, আমরা ফরৌণকে ‘ঈশ্বরের ক্রোধের পাত্র’ বলতে পারি, কিন্তু ঈশ্বর যে ফরৌণকে শুরু থেকে মন ফিরানোর সুযোগ দিলেন না এবং ফরৌণের এতে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না – এমন নয়। তার চেয়ে বলা ঠিক হবে যে, ঈশ্বর অবশেষে মানুষের সিদ্ধান্ত মেনে নেন (অনেক প্রকাশ দান করার পরে, অনেক মন ফিরার সুযোগ দেওয়ার পরে, অনেক সাবধানবাণী দেওয়ার পরে)। তাই আমরা এখানে আবারও পাই, যা রোমীয় ১:২৪১:২৬ পদে পেলাম: ঈশ্বর মানুষকে অবশেষে নিজের সিদ্ধান্তের হাতে “ছেড়ে দেন”। যদিও পৌল এখানে ফরৌণ ঈশ্বরের সার্বভৌম ইচ্ছার উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার করেন, তবুও দেখা যায় যে, ফরৌণের যথেষ্ট সুযোগ ছিল। আরো দেখা যায় যে, ঈশ্বরের সিদ্ধান্ত অন্যায়ের বিষয় নয় বরং তা হল মানুষের স্বাদীন ইচ্ছা নষ্ট না করার বিষয়।
  • আমরা কত সহজে ঈশ্বরকে কঠোর মনে করি, কত সহজে আমরা তাঁর আচরণ ‘অন্যয্য’ বলি, কত তাড়াতাড়ি আমরা নিজের পাপ বা জেদের জন্য ঈশ্বরকে দোষ দেই! এক মিনিট চিন্তা করুন, আপনি কোন বিষয়ে ঈশ্বরের দোষ ধরেন? এই বিষয়ে ঈশ্বর আপনাকে কি বলতে চান?

রোমীয় ৯ অধ্যায় - ঈশ্বরের বার্বভৌমতা কিন্তু দয়ালু ইচ্ছা

নির্দেশনা

রোমীয় ৯:২৪-২৯ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৯:২৩-২৪ – পৌল এখানে কাদের ‘দয়ার পাত্র’ বলেন?
  • রোমীয় ৯:২৫-২৯ – পৌল এখানে বিভিন্ন পুরাতন নিয়মের উদ্ধৃতি দ্বারা কি দেখাতে চান?
  • আপনার সুবিধার জন্য:
    • রোমীয় ৯:২৫ হল হোশেয় ২:২৩            পদের উদ্ধৃতি।
    • রোমীয় ৯:২৬ হল হোশেয় ১:১০            পদের উদ্ধৃতি।
    • রোমীয় ৯:২৯ হল যিশাইয় ১০:২২,২৩, ১:৯ পদের উদ্ধৃতি।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৯:২৩-২৪ – পৌল এখানে কাদের ‘দয়ার পাত্র’ বলেন? > আমাদেরকে, অর্থাৎ বিশ্বাসীদেরকে, উভয় যিহূদী এবং অযিহূদী বিশ্বাসীদেরকে।
  • রোমীয় ৯:২৫-২৯ – পৌল এখানে বিভিন্ন পুরাতন নিয়মের উদ্ধৃতি দ্বারা কি দেখাতে চান? > ঈশ্বর যিহূদীদের অবশ্যই নিজের লোক হিসাবে চেয়েছেন, কিন্তু অনেকে তার আহ্বান অগ্রাহ্য করেছে। সাথে ঈশ্বর এমন কি পুরাতন নিয়মের সময়েও অন্য জাতিদর সুযোগ দিতে শুরু করেছিলেন।
  • আমরা দেখলাম যে, ফরৌণ মূলত নিজের সিদ্ধান্তে ‘ক্রোধের পাত্র’ হয়ে গিয়েছিলেন। আমরা রোমীয় ৯:২৪ পদ থেকে বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রেও এই উপসংহারে আসতে পারি যে, তারা ‘দয়ার পাত্র’ হয়েছে কিভাবে? তাও মূলত নিজের সিদ্ধান্তের কারণে হয়েছিল, অর্থাৎ তারা যীশুর উপর বিশ্বাস রেখেছে বলে, – যিহূদী ও অযিহূদী উভয়।
  • সারাংশে বলা যায়: যদিও পৌল এখানে বড় করে ঈশ্বরের সার্বভৌম ইচ্ছা নিয়ে কথা বলেন, তবুও দেখা যায় যে, ঈশ্বরের ইচ্ছা মানুষের ইচ্ছা বাতিল করে না। বরং মানুষেরই সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে স্থায়ী বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায় এবং ঈশ্বর তা মেনে নেন।

রোমীয় ৯ অধ্যায় - ইস্রায়েল কাজের উপর নির্ভর করেছে

নির্দেশনা

রোমীয় ৯:৩০-৩৩ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন। পৌল এখানে অধ্যায়ের শুরুতে যেমন, ঠিক তেমনি নিজের জাতি নিয়ে তার দুঃখ প্রকাশ করেন।

  • রোমীয় ৯:৩১-৩৩ পদে যিহূদীদের বঞ্চিত হওয়ার কারণ উল্লেখ করেন। কোন কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছে?
  • কথাটির অবশ্যই রোমীয় ৭ অধ্যায়ের কথার সাথে মিল আছে: যিহূদীদের আইন-কানুনের কাছে মরতে হয়, অর্থাৎ আইন-কানুন পালনের উপর বা নিজের প্রচেষ্টার উপর মিথ্যা ভরাসা ছেড়ে দিতে হয়। সাথে জাতীয় অহংকারও ছেড়ে দিতে হয়। হয়তো এরজন্য পৌল প্রায় টিটকারীর মত রোমীয় ৯:৩০ পদ বলেছেন। টিটকারী ঠিক কি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৯:৩১-৩৩ পদে যিহূদীদের বঞ্চিত হওয়ার কারণ উল্লেখ করেন। কোন কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছে? > ইস্রায়েরীয়রা যীশুতে বিশ্বাসরের উপর নির্ভর না করে বরং আইন-কানুন পালন করার মধ্য দিয়েই ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য হতে চেষ্টা করছে।
  • রোমীয় ৯:৩০ পদে টিটকারী ঠিক কি? > যারা গ্রহণযোগ হতে চেষ্টা করেছে (যিহুদী), তারা তা পারে নি। কিন্তু যারা চেষ্টা করে নি (অযিহূদী), তারা গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
  • অবশ্যই মনে রাখেন যে, পৌল এখানে বড় ছবি আঁকছেন।
  • আমরা প্রেরিত পুস্তক থেকে জানি যে অনেক যিহূদীরা সুসমাচারে সাড়া দিয়ে বিশ্বাসী হয়েছিল, এমন কি পৌল তাদের মধ্যে একজন।
  • ‘যিহূদীরা বঞ্চিত হয়েছে’, তা আক্ষরিক অর্থে ঠিক না, সব যিহূদীরা বঞ্চিত হয় নি।
  • কিন্তু বড় ছবি হিসাবে কথাটি ঠিক: যিহুদীরা তাদের মশীহকে গ্রহণ করেন নি এবং অনেক অযিহূদীরা তাঁর উপর বিশ্বাস কেখেছে।

রোমীয় ১০ অধ্যায় - যিহূদীদের কি দরকার ছিল?

নির্দেশনা

রোমীয় ১০:১-৪ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১০:১ – পৌলের গভীর আকাঙ্ক্ষা কি?
  • রোমীয় ১০:২ – পৌল তার জাতির লোকদের সম্বন্ধে কি সাক্ষ্য দিচ্ছেন?
  • রোমীয় ১০:৩ পৌল এখানে যিহূদীরা বঞ্চিত হওয়ার আর দু’টি কারণ দেখান, সেগুলো কি?
    • ১) …………………………………………………………………………………………………………………………..…..
    • ২) …………………………………………………………………………………………………………………………..…..
  • যিহূদীদের উদ্যোগ আছে, প্রচেষ্টা, আইন-কানুনে গুরুত্ব দান, ঈশ্বরের প্রতি আকাঙ্ক্ষা – এইসব কি যথেষ্ট নয়? আমরা তো বলতাম এগুলো থাকলে তবে খুব ভাল! যা যিহূদীদের নেই, তা ঠিক কি? সমস্যাটি ঠিক কি? তাদের কি নেই?
  • রোমীয় ১০:১-৫ আর একবার কেরী অনুবাদে পড়ুন। ‘নিজের ধার্মিকতা স্থাপন করার প্রচেষ্টা’, এর অর্থ কি? ‘ঈশ্বরের ধার্মিকতার বশীভূত না হওয়া’, এর অর্থ কি? নিজের কথায় উভয়টা বর্ণনা করুন।
  • এর পিছনে মনোভাব ঠিক কি? সমস্যাটি কোথায়?
  • এই মনোভাবে আরো কি কি ফল আছে?
  • ‘নিজেকে প্রমাণিত করা’, ‘নিজের যোগ্যতা বা দক্ষতা দিয়ে অর্জন করা’, ‘ঈশ্বরের সাথে দামাদামি করা’, অহংকার – এই সব আমার জীবনে কোথায় দেখা যায়? এক মিনিট প্রার্থনা করে আপনাকে চেতনা দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে সুযোগ দিন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১০:১ – পৌলের গভীর আকাঙ্ক্ষা কি? > তার জাতি যেন পাপ থেকে উদ্ধার পায়।
  • রোমীয় ১০:২ – পৌল তার জাতির লোকদের সম্বন্ধে কি সাক্ষ্য দিচ্ছেন? > তাদের ঈশ্বরের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা আছে কিন্তু কি করে ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য হওয়া যায়, অর্থাৎ ধার্মিকতা কিভাবে লাভ করা যায়, তা তারা জানে না।
  • রোমীয় ১০:৩ পৌল এখানে যিহূদীরা বঞ্চিত হওয়ার আর দু’টি কারণ দেখান, সেগুলো কি? >
    • ১) যিহূদীরা মনোযোগ দেয় নি, কি করে ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য বা ধার্মিক হওয়া যায়।
    • ২) ঈশ্বর যে উপায় দিয়েছেন, তা তারা মেনে নেয় নি।
  • যিহূদীদের উদ্যোগ আছে, প্রচেষ্টা, আইন-কানুনে গুরুত্ব দান, ঈশ্বরের প্রতি আকাঙ্ক্ষা – এইসব কি যথেষ্ট নয়? আমরা তো বলতাম এগুলো থাকলে তবে খুব ভাল! যা যিহূদীদের নেই, তা ঠিক কি? সমস্যাটি ঠিক কি? তাদের কি নেই? > তাদের নিজেদের প্রচেষ্টার উপর মিথ্যা ভরাসা আছে, তারা মনে করে আইন-কানুন পালন দ্বারা তারা কোনো রকম গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এই মিথ্যা আশার কারণে তার মনে করেছে যে যীশু দরকার নেই।
  • রোমীয় ১০:১-৫ আর একবার কেরী অনুবাদে পড়ুন। ‘নিজের ধার্মিকতা স্থাপন করার প্রচেষ্টা’, এর অর্থ কি? ‘ঈশ্বরের ধার্মিকতার বশীভূত না হওয়া’, এর অর্থ কি? নিজের কথায় উভয়টা বর্ণনা করুন। >
    ১) নিজের ধার্মিকতা স্থাপন করার প্রচেষ্টা মানে ঈশ্বরের আইন-কানুন পালন করা দ্বারা নিজের ধার্মিকতা প্রমাণ করা। ‘সম্পূর্ণভাবে না হলেও তবে কম পক্ষে তো অন্যদের চেয়ে বেশি করছি!’
    ২) ঈশ্বর যীশুর মধ্য দিয়ে যখন ‘ধার্মিক হওয়ার পথ’ খুলে দেন, তা যদি মেনে না নেই, রাজি না হই, এর উপর নির্ভর করা প্রয়োজন মনে না করি, ‘দামাদামি করি’ বা মনে করি যীশু বাদ দিয়েও অর্জন করা যায়, তবে তা হল সেই মনোভাব যা ঈশ্বর গ্রহণ করতে পারেন না।
  • এর পিছনে মনোভাব ঠিক কি? সমস্যাটি কোথায়? > এক কথায়: তা হল অহংকার। নিজেদের উপর নির্ভর করা, মনে করা যে, আমি ঈশ্বরকে যা দিতে রাজি আছি, তাতে তাঁর খুশি হতে হবে। এই মনোভাব দেখায় যে, আমি নিজের অযোগ্যতা ও অক্ষমতা এখনও বুঝি নি। আমি এখনও মনে করি যে কিছুটা অর্জন করতে পারি, আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারি, যীশু ছাড়া একটি উপায় পেতে পারি।
  • এই মনোভাবে আরো কি কি ফল আছে? > নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করা, প্রতিযোগিতা, আত্ম-ধার্মিকতা, অন্যদের তুচ্ছ করা, ভান করা, লুকানো, নিজেকে উপস্থাপন করা ইত্যাদি।

রোমীয় ১০ অধ্যায় - আইন-কানুন পালন যদি করি ...

নির্দেশনা

রোমীয় ১০:৫ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোময়ী ১০:৫ – কথাটি কি ঠিক?
  • রোমীয় ১০:৫ – এই বিষয়ে সমস্যা ঠিক কি? কেন আইন জীবন দেয় না?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোময়ী ১০:৫ – কথাটি কি ঠিক? > হ্যাঁ, যদি আমি আইন-কানুন পালন করতাম, যদি আমি প্রত্যেক মুহূর্তে প্রত্যাকটি বিষয়ে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে চলতাম তবে তা ‘জীবন’ হত।
  • রোমীয় ১০:৫ – এই বিষয়ে সমস্যা ঠিক কি? কেন আইন জীবন দেয় না? > কারণ আমরা প্রকৃতপক্ষে তা পালন করি না।
  • আবারও মনে রাখুন, আইনের ভূমিকা ঠিক কি? এবং আইনের ভূমিকা কি নয়? (ইউনিট ৫/২ দেখুন!)। স্মরণ করুন: আইন-কানুন থেকে আইন-কানুন পালন করার ক্ষমতা বা অনুপ্রেরণা আসে না। আইন-কানুন শুধুমাত্র বলে দেয়, কি ভাল, অর্থাৎ ঈশ্বর কি চান।
    • এভাবেও বলা যায়: যদি আইন-কানুন পালন করি তবে ধার্মিক।
    • একইভাবে বলা যায: যদি ধার্মিক তবে আইন-কানুন পালন করি।
  • যীশুই আইন-কানুন পালন করেন এবং তাঁর মধ্য দিয়ে আইন-কানুন পূর্ণ হয় (মথি ৫:১৭)। যীশুতে যদি আসি তবে তিনিই আমাদের মধ্যে আইন-কানুন পালন করেন। আইন-কানুন পালন করার ক্ষমতা ও অনুপ্রেরণা যীশু থেকে আসে।

রোমীয় ১০ অধ্যায় - ঈশ্বর ধার্মিক বা গ্রহণযোগ্য পথ খুলে দিয়েছেন

নির্দেশনা

  • এই অনুচ্ছেদে পৌল দেখান যে, ঈশ্বর তাঁর কাছে আসার পথ খুলে দিয়েছেন, তাঁর কাছে আসা এমন কি সহজ করে দিয়েছেন। উদ্ধৃতিগুলো:
    • রোমীয় ১০:৫ উদ্ধৃতি করে লেবীয় ১৮:৫
    • রোমীয় ১০:৬-৭ উদ্ধতি করে দ্বিতীয় বিবরণ ৩০:১২-১৩
    • রোমীয় ১০:৮ উদ্ধৃতি করে দ্বিতীয় বিবরণ ৩০:১৪
  • রোমীয় ১০:৬-৭ পদে উল্লিখিত প্রশ্নগুলো কি বুঝায়? কে এই প্রশ্নগুলো করে? প্রশ্নগুলোর পিছনে চিন্তা বা মনোভাব কি?
  • রোমীয় ১০:৮ পদে পৌলের উত্তর কি? 
  • ঈশ্বর যে সৎ-সরল পথ খুলে দিয়েছেন, পৌল রোমীয় ১০:৯-১১ পদে তার বর্ণনা করেন। পদগুলো পড়ুন এবং ঈশ্বরের ধার্মিক হওয়ার পথ কি, তা এই পদগুলো দেখে বর্ণনা করুন।
  • ঠিক কি বিশ্বাস করতে হবে? তা এই পদগুলো থেকে আর একবার ভাল করে দেখে লিখুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১০:৬-৭ পদে উল্লিখিত প্রশ্নগুলো কি বুঝায়? কে এই প্রশ্নগুলো করে? প্রশ্নগুলোর পিছনে চিন্তা বা মনোভাব কি? > হতে পারে তা প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়ের প্রশ্ন। আমরা মনে করি ঈশ্বর রহস্যজনক বা তাঁর ইচ্ছা জানা যায় না। অথবা তাঁর ইচ্ছা জানলেও তা পালন করা সম্ভব না। ঈশ্বর মানুষ থেকে বেশি দাবি করেন, এই ধরণের একটি ভাব আছে।
  • রোমীয় ১০:৮ পদে পৌলের উত্তর কি? > প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি কঠিন হওয়ার কথা না। চেতনা ও সাধারণ জ্ঞান থেকে মানুষ ঠিকই বুঝতে পারে, ঈশ্বর কি চান। ঈশ্বরের ইচ্ছা বোঝা রহস্যজনক কিছু না, কঠিন কিছুও না, তিনি তা জটিলও বানান নি।
  • ঈশ্বর যে সৎ-সরল পথ খুলে দিয়েছেন, পৌল রোমীয় ১০:৯-১১ পদে তার বর্ণনা করেন। পদগুলো পড়ুন এবং ঈশ্বরের ধার্মিক হওয়ার পথ কি, তা এই পদগুলো দেখে বর্ণনা করুন। > প্রেরিতেরা সুসমাচার, অর্থাৎ ঈশ্বরের বাক্য ঘোষণা করেছেন এবং যতজন তা অন্তরে বিশ্বাস করে এবং মুখ দিয়ে যীশুকে প্রভু হিসাবে স্বীকার করে, ততজনই পরিত্রাণ পায়।
  • ঠিক কি বিশ্বাস করতে হবে? > যীশুতে বিশ্বাস দ্বারা পরিত্রাণ, ঈশ্বর যীশুকে মৃত্যু থেকে জিবিত করে তুলেছেন।
  • লক্ষ্য করুন যে, পৌলের চিন্তায় যীশুর মৃত্যু হল উদ্ধারের ভিত্তি এবং যীশুর পুনরুত্থান হল তাঁর প্রত্যকটি প্রতিজ্ঞা ও দাবির প্রমাণ বা সীলমোহর।

রোমীয় ১০ অধ্যায় - ধার্মিক হওয়ার পথ কাদের জন্য?

নির্দেশনা

রোমীয় ১০:১২-১৩ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১০:১২ – পৌল তুরীধ্বনির মত আর একবার কি মৌলিক সত্য ঘোষণা করেন?
  • রোমীয় ১০:১৩ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌল যোয়েল ২:৩২ পদ উদ্ধৃতি করে কি ঘোষণা করেন? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১০:১২ – পৌল তুরীধ্বনির মত আর একবার কি মৌলিক সত্য ঘোষণা করেন? > যিহূদী-অযিহূদী (এখানে অযিহূদীদের ‘গ্রীক’ বলা হয়) দু’জনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ঈশ্বর দু’জনের প্রতি দয়া দেখান। দু’জনই তাঁকে ডাকলে উদ্ধার পাবে।
  • রোমীয় ১০:১৩ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌল যোয়েল ২:৩২ পদ উদ্ধৃতি করে কি ঘোষণা করেন? > “যে কেউ প্রভুকে ডাকে সে উদ্ধার পাবে।”
  • এভাবে যীশু দ্বারা মানুষের মধ্যে তফাৎ বলতে যে কোনো কিছু বাতিল করা হয়। জাতি, গোষ্ঠি, ভাষা, শ্রেণী, লিঙ্গ, পদ-মর্যাদা ইত্যাদি, এই সম পার্থক্যগুলো যীশুতে বাতিল করা হয়েছে। লজ্জা করার আর কোনো কারণ নেই। অহংকার করার আর কোনো কারণ নেই। সত্যিই ‘ক্রুশের চারিপাশের মাটি সমতল’।
  • লক্ষ্য করুন যে, ঈশ্বেরের ক্ষমা, ঈশ্বরের দয়া, উদ্ধার বা আশীর্বাদের কোনো অভাব বা সীমা নেই। যতজন … ততজনই।
  • ঈশ্বরের কাছ থেকে কোনো সীমা আসে না, শুধুমাত্র সীমানা হল মানুষের অনুতাপ বা অনুতাপের অভাব।
  • প্রায়ই আমরা চিন্তা করি যে, ঈশ্বরের আশীর্বাদ সীমিত, অর্থাৎ ‘অন্য একজন বেশি পেলে মানে যে, আমি কম পাব’।
  • এই চিন্তা প্রচলিত, কিন্তু কোনো মতেই বাইবেলীয় নয়। ঈশ্বরের আশীর্বাদের কোনো সীমানি নেই। যতজন অনুতপ্ত হয়, যতজন বাধ্য হয়, ততজনই আশীর্বাদ লাভ করবে।
  • আপনি কোন ক্ষেত্রে ঈশ্বরের আশীর্বাদ বা দয়া সীমিত বলে মনে করেন? আপনার মধ্যে এই ভাব ‘অন্যরা পেলে মানে আমি কম পাব’ – কি আছে? ঈশ্বর আপনাকে এতে কি বলতে চান?

রোমীয় ১০ অধ্যায় - এই চমৎকার সংবাদ সবার শোনা প্রয়োজন

নির্দেশনা

রোমীয় ১০:১৪-১৫ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • পৌল এখন কিছুটা প্রশ্ন দিয়ে, অর্থাৎ প্রশ্নের একটি ক্রমবৃদ্ধি দিয়ে আগান। রোমীয় ১০:১৪-১৭ পদ পড়ুন এবং প্রশ্নগুলো ধারাবাহিকভাবে লিখুন।
  • একই বিষয় ইতিবাচক ক্রমবৃদ্ধি হিসাবে আর একবার লিখুন।
  • পৌল এখানে যিশাইয় ৫২:৭ বা নহূম ১:১৫ পদ উদ্ধৃতি করেন। পৌলের উৎসাহ কি?
  • রোমীয় ১০:১৭ পদে পৌল বিষয়টি আর একবার সারাংশ করে প্রকাশ করেন। পদটি লিখুন।
  • আপনি এই সপ্তায় কার সাথে আপনার জীবন থেকে একটি সাক্ষ্য শেয়ার করবেন?

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১০:১৪-১৭ পদ পড়ুন এবং প্রশ্নগুলো ধারাবাহিকভাবে লিখুন। > যাঁর উপর বিশ্বাস করেন নি, তাঁকে কেমন করে ডাকবে? < যাঁর বিষয় শোনো নি, তাঁর উপর কেন করে বিশ্বাস করবে? < প্রচারক না থাকলে মোন করেই বি শুনবে? < কেউ না পাঠালে কেমন করে প্রচারকেরা প্রচার করবে?
  • একই বিষয় ইতিবাচক ক্রমবৃদ্ধি হিসাবে আর একবার লিখুন। > প্রচারক পাঠানো > প্রচার > বাক্য শোনা > বিশ্বাস করা > যীশুকে ডাকা।
  • পৌল এখানে যিশাইয় ৫২:৭ বা নহূম ১:১৫ পদ উদ্ধৃতি করেন। পৌলের উৎসাহ কি? > যেন আমরা যীশুর সুসংবাদ অন্যদের কাছে পৌঁছাই।
  • রোমীয় ১০:১৭ পদে পৌল বিষয়টি আর একবার সারাংশ করে প্রকাশ করেন। পদটি লিখুন। > “তাহলে দেখা যায়, ঈশ্বরের বাক্য শুনবার ফলেই বিশ্বাস আসে, আর খ্রীষ্টের বিষয় প্রচারের মধ্য দিয়ে সেই বাক্য শুনতে পাওয়া য়ায়।” অথবা কেরী অনুবাদে: “অতএব বিশ্বাস শ্রবণ হইতে এবং শ্রবণ ক্রীষ্টের বাক্য দ্বারা হয়।”

রোমীয় ১০ অধ্যায় - সংবাদটি গ্রহণ করার বা অগ্রাহ্য করার অধিকার লোকদের আছে

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১০:১৬-২১ পদ পড়ুন। এই পদগুলোতে পৌল বিভিন্ন পুরাতন নিয়মের উদ্ধৃতি একসাথে দিয়ে একটি মূল চিন্তা প্রকাশ করতে চান। মূল চিন্তাটি কি? 
  • এখানে পৌল তা বিশেষভাবে যিহূদীদের ক্ষেত্রে বলেন: তারা মশীহকে পেয়েছে, তাঁর কথা শুনেছে, তাঁর প্রেরিতদের সাক্ষ্য শুনেছে – কিন্তু সাড়া দেয় নি। তাদেরকে ‘উষ্কিয়ে তোলার জন্য’ পৌল পুরাতন নিয়মে তিনটি উদ্ধৃতি করেন।
    • ১) রোমীয় ১০:১৯ পদ যেখানে         দ্বিতীয় বিবারণ ৩২:২১ পদ উদ্ধৃতি করা হয়। পদের অর্থ কি?
    • ২) রোমীয় ১০:২০ পদ যেখানে         যিশাইয় ৬৫:১-২      পদ উদ্ধৃতি করা হয়। পদের অর্থ কি? 
    • ৩) রোমীয় ১০:২১ পদ যেখানে আবারও যিশাইয় ৬৫:১-২       পদ উদ্ধৃতি করা হয়। পদের অর্থ কি? এখানে ঈশ্বরের কি আবেগ প্রকাশিত?

খুঁকে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১০:১৬-২১ পদে মূল চিন্তাটি কি? > সুসমাচার বা সত্য শোনার পরেও সবাই ইতিবাচক সাড়া দেয় না। সংবাদ ঠিকই যায়, বুঝার ক্ষমতাও আছে, কিন্তু মানুষ গ্রহন নাও করে।
  • ১) রোমীয় ১০:১৯ পদ যেখানে তিনি দ্বিতীয় বিবারণ ৩২:২১ পদ উদ্ধৃতি করেন। পদের অর্থ কি? > মনোন্বিত জাতি হিসাবে যিহূদীদের অহংকার চ্যালেঞ্জ করে বলা হয় যে, যিহূদীরা যে জাতিগুলো তুচ্ছ করে, তাদেরকে নিয়ে ঈশ্বর যিহূদীদের “আগ্রহ জাগিয়ে” তুলবেন, বা (কেরী অনুবাদে) “অন্তর্জ্বালা জন্মাবেন” বা (ইংরেজি অনুবাদে) “তাদের হিংসা জাগিয়ে তুলবেন”
  • ২) রোমীয় ১০:২০ পদ যেখানে যিশাইয় ৬৫:১-২ পদ উদ্ধৃতি করা হয়। পদের অর্থ কি? > উদ্ধৃতিটি দেখায়, ঈশ্বর কিভাবে – যিহূদীদের সাড়া না পেয়ে – শেষে এমন জাতিদের গ্রহণ করেন, যা তাঁকে খোঁজে নি। অর্থাৎ তিনি অযিহূদীদের গ্রহণ করবেন।
  • ৩) রোমীয় ১০:২১ পদ যেখানে আবারও যিশাইয় ৬৫:১-২ পদ উদ্ধৃতি করা হয়। পদের অর্থ কি? এখানে ঈশ্বরের কি আবেগ প্রকাশিত? > ঈশ্বরের দুঃখ, হতাশা ও বিরক্ত প্রকাশিত। তিনি ইস্রায়েলের পিছনের কত চেষ্টা করেছেন কিন্তু সাড়া পান নি।

রোমীয় ১১ অধ্যায় - যদিও অধিকাংশ যিহূদীরা সাড়া দেয় নি, সাড়া দেওয়ার মত যিহূদীরা আছে

নির্দেশনা

  • পৌল এইমাত্র বড় ছবি এঁকে দেখিয়েছেন, যিহূদীরা কিভাবে নিজেদেরকে উদ্ধার থেকে বঞ্চিত করেছেন। তাই এখন পৌলের প্রশ্ন এই:
  • রোমীয ১১:১ পড়ুন এবং সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন। তিনি মূলত কি বলতে চান? 
  • প্রকৃতপক্ষে, প্রেরিত পুস্তকে আমাদের দেখায়, কিভাবে হাজার হাজার যিহূদীরা যীশুকে মশীহ হিসাবে গ্রহণ করে পরিত্রাণ পায়।
  • রোমীয় ১১:২-১০ পদ পড়ুন। লক্ষ্য করুন, পৌল এখানে অনেক উদ্ধৃতি করেন:
    • রোমীয় ১১:৪ পদ উদ্ধৃতি করে ১ রাজাবলি ১৯:১৮ পদ
    • রোমীয় ১১:৮ পদ উদ্ধৃতি করে যিশাইয় ২৯:১০ পদ
    • রোমীয় ১১:৯-১০ পদ উদ্ধৃতি করে গীত ৬৯:২২-২৩ পদ
  • কেন মনে করেন, পৌল এখানে এলিয়ের নিরাশার কথা তুলে ধরেন? পৌল এটা দ্বারা কি দেখাতে চান?
  • রোমীয় ১১:৭ পড়ুন এবং আগে যা বলা হয়েছে, তার আলোতে ব্যাখ্যা করুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয ১১:১ পড়ুন এবং সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন। তিনি মূলত কি বলতে চান? > “ঈশ্বর কি তাঁর লোকদের অগ্রহ্য করেছেন? কখনও না। আমি নিজেই একজন ইস্রায়েলীয়, অব্রাহামের বংশের এবং বিন্যামীন-গোষ্ঠীর লোক।” পৌল দেখান যে, যদিও যিহূদীরা জাতি হিসাবে পাঠানো মশীহকে অগ্রাহ্য করেছেন, অনেক যিহূদীরা তারপরেও সাড়া দিয়েছেন, যেমন প্রেরিতেরা, প্রথম মণ্ডলীর প্রত্যেকটি বিশ্বাসী, পৌলের প্রচার দ্বারা বিভিন্ন জায়গায় অনেকজন এবং পৌল নিজেই।
  • প্রকৃতপক্ষে, প্রেরিত পুস্তকে আমাদের দেখায়, কিভাবে হাজার হাজার যিহূদীরা যীশুকে মশীহ হিসাবে গ্রহণ করে পরিত্রাণ পায়।
  • কেন মনে করেন, পৌল এখানে এলিয়ের নিরাশার কথা তুলে ধরেন? পৌল এটা দ্বারা কি দেখাতে চান? > আমরা এলিয়ের মত অনেক সহজে নিরাশিত হয়ে যাই মনে করে যে, ভক্ত বা বিশ্বস্ত কেউ নেই, আমরা একা আছি। কিন্তু তা কখনও ঠিক না। সব সময় লোক আছে, ‘বাকি লোকেরা’, যারা বিশ্বস্ত হতে থাকে, যারা ঈশ্বরের কথা শুনে ও সাড়া দেয়। পৌল এখানে যিহূদীদের বিষয়ে তার নিরাশা প্রকাশ করেন, কিন্তু স্মরণ করিয়ে দেন যে, অনেক যিহূদীরা তারপরেও সাড়া দিয়েছে এবং দিতে থাকে। পৌল তাদের মধ্যে একজন।
  • রোমীয় ১১:৭ পড়ুন এবং আগে যা বলা হয়েছে, তার আলোতে ব্যাখ্যা করুন। > পৌল এখানে নাটকীয়ভাবে এবং বড় ছবি আঁকার মত দেখান যে, যিহূদীরা (অনেকে) সুসমাচার বা মশীহ গ্রহণ করেন নি এবং অযিহূদীরা (অনেকে) গ্রহণ করেছেন। “যাদের ঈশ্বর বেছে রেখেছিলেন” – এই বর্ণনা হয়তো আমরা বিঘ্ন পাই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে (ফরৌণের মত) এর অর্থ এই: ‘যারা সাড়া দিয়ে বিশ্বাস করেছে’। ‘মন শক্ত হয়ে গেছে’ মানে এই যে, তারা সাড়া দেয় নি। সিদ্ধান্ত আসলে মানুষের।
  • ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, কারণ তিনি ইচ্ছুক মানুষদের মধ্যে একজনও বাদ দেবেন না!

রোমীয় ১১ অধ্যায় - পৌলের কথা যেন আমরা ভুল না বুঝি

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১১:১১ বলে “যিহূদীরা পড়ে গেল … তাদের পাপের দুরনই অযিহূদীরা উদ্ধার পাবার সুযোগ পেল যেন যিহূদীরা আগ্রহে জেগে ওঠে”। এখানে আমরা একটি উদাহরণ পাই, যেখানে পৌলের কথা একটু বড় মনে ব্যাখ্যা করতে হবে। পৌল বলেন:
  • ১) যিহূদীদের পাপের কারণেই অযিহূদীরা উদ্ধার পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
    • আক্ষুরিকভাবে ব্যাখ্যা করলে কথাটি আসলে ভুল। প্রথম কথার (১) বিরুদ্ধে আপনার কি বলার আছে? 
  • পৌল আরো বলেন:
  • ২) অযিহূদীদের উদ্ধারের পিছনে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য হল যিহূদীদের আগ্রহে জেগে ওঠানো।
    • আবারও, আক্ষুরিকভাবে নিলে কথাটি আসলে ভুল। এই দ্বিতিয় কথার ২) বিরুদ্ধে আপনার কি বলার আছে?

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১১:১১ বলে “যিহূদীরা পড়ে গেল … তাদের পাপের দুরনই অযিহূদীরা উদ্ধার পাবার সুযোগ পেল যেন যিহূদীরা আগ্রহে জেগে ওঠে”। এখানে আমরা একটি উদাহরণ পাই, যেখানে পৌলের কথা একটু বড় মনে ব্যাখ্যা করতে হবে। পৌল বলেন:
  • ১) যিহূদীদের পাপের কারণেই অযিহূদীরা উদ্ধার পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
    • আক্ষুরিকভাবে ব্যাখ্যা করলে কথাটি আসলে ভুল। প্রথম কথার (১) বিরুদ্ধে বলা দরকার যে: > ঈশ্বর শুরু থেকে যিহূদী এবং অযিহূদীদের উভয় উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন। যিহূদীরা ভাল সাড়া দিলেও ঈশ্বর অযিহূদীদের পরিত্যাগ করতেন বা বাদ দিতেন না।
  • পৌল আরো বলেন:
  • ২) অযিহূদীদের উদ্ধারের পিছনে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য হল যিহূদীদের আগ্রহে জেগে ওঠানো।
    • আবারও, আক্ষুরিকভাবে নিলে কথাটি আসলে ভুল। এই দ্বিতিয় কথার ২) বিরুদ্ধে বলা দরকার যে: > ঈশ্বর অযিহূদীদের উদ্ধার করার একমাত্র উদ্দেশ্য যে, যিহূদীদের আগ্রহে জেগে ওঠানো, এমন নয়। ঈশ্বর এমনি অযিহূদীদের উদ্ধার করতে চেয়েছেন। তিনি তা শুরু থেকে ঘোষণাও করেছেন (আদি ১২:৩ ইত্যাদি)।

রোমীয় ১১ অধ্যায় - হতাশার কারণ নেই

নির্দেশনা

  • তাই পৌল এখানে নাটকীয়ভাবে এবং বড় ছবি এঁকে কথা বলেন। রোমীয় ১১:১১-১২ পদের অর্থ তাহলে কি? সংক্ষিপ্ত করে লিখুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • তাই পৌল এখানে নাটকীয়ভাবে এবং বড় ছবি এঁকে কথা বলেন। রোমীয় ১১:১১-১২ পদের অর্থ তাহলে কি? > পৌল এখানে যিহূদীদের এবং অযিহূদীদের জন্য আশা জাগাতে চান। ঈশ্বর তাঁর মহত্বে অযিহূদীদেরকেও তার উদ্ধার-প্রাপ্ত জাতির অংশ করেছেন। ঈশ্বর তাঁর মহত্বে ইচ্ছুক যিহূদীদের অবশ্যই গ্রহণ করেন।
  • যিহূদীদের কারণে অযিহূদীরা উদ্ধার পায়, এমন নয়। অযিহূদীদের কারণে যিহূদীরা উদ্ধার পায় না, এমন নয়!

রোমীয় ১১ - অযিহূদীরা যেন যিহূদীদের নিচু চোখে না দেখে

নির্দেশনা

রোমীয় ১১:১৩-১৬ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১১:১৩ – প্রেরিত হিসাবে পৌলের আহ্বান প্রাথমিকভাবে কাদের কাছে?
  • রোমীয় ১১:১৪ – অযিহূদীদের মধ্যে পৌলের ফলবান পরিচর্যা দ্বারা পৌল কি আশা করেন?
  • রোমীয় ১১:১৫ পদে পৌল একটি চমৎকার শর্ত বা ক্রমবৃদ্ধি দেখান। শর্ত বা ক্রমবৃদ্ধিটি ঠিক কি? নিজের কথায় লিখুন।
  • রোমীয় ১১:১৫ পৌল এই পদের মধ্য দিয়ে অযিহূদীদের কি মনোভাব রাখতে বলেন?
  • অন্য জাতির বা ধর্মের লোক যখন পরিত্রাণ পায়, তবে আমাদের কেমন মনোভাব থাকা দরকার?
  • রোমীয় ১১:১৬ – আপনি কি মনে করেন, পৌল এখানে বলতে চাচ্ছেন? কেন কথাটি এখানে বলেন?

খুজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১১:১৩ – প্রেরিত হিসাবে পৌলের আহ্বান প্রাথমিকভাবে কাদের কাছে? > অযিহূদীদের কাছে।
  • রোমীয় ১১:১৪ – অযিহূদীদের মধ্যে পৌলের ফলবান পরিচর্যা দ্বারা পৌল কি আশা করেন? > তিনি আশা করেন, অযিহূদীদের মধ্যে তার ফলবান পরিচর্যা দ্বারা তিনি যেন কম পক্ষে কিছু যিহূদীদের আগ্রহ জাগাতে পারেন এবং এভাবে কিছু যিহূদীদের উদ্ধার ঘটাতে পারেন।
  • রোমীয় ১১:১৫ পদে পৌল একটি চমৎকার শর্ত বা ক্রমবৃদ্ধি দেখান। শর্ত বা ক্রমবৃদ্ধিটি ঠিক কি? নিজের কথায় লিখুন। > যিহূদীদের অগ্রাহ্য যদি জগতের জন্য মিলন – তবে যিহূদীদের পুনরায় গ্রহণ জগতের জন্য কি হবে? > মৃতের জীবন পাওয়ার মত!
  • রোমীয় ১১:১৫ পৌল এই পদের মধ্য দিয়ে অযিহূদীদের কি মনোভাব রাখতে বলেন? > যেন অযিহূদীরা যিহূদীদের তুচ্ছ না করে, তাদের অগ্রাহ্য নিয়ে আনন্দ না করে। পৌল চান যেন অযিহূদীরা তাদের সুযোগের জন্য কৃতজ্ঞ হয় এবং যেন তারা যিহূদীদের পুনরায় গ্রহণের জন্য আগ্রহী ও খুশি হয়।
  • অন্য জাতির বা ধর্মের লোক যখন পরিত্রাণ পায়, তবে আমাদের কেমন মনোভাব থাকা দরকার? > আমাদেরকে নতুন বিশ্বাসীদেরকে খোলা হৃদয়ে এবং আগ্রহ ও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত।
  • রোমীয় ১১:১৬ – আপনি কি মনে করেন পৌল এখানে বলতে চাচ্ছেন? কেন কথাটি এখানে বলেন? > সম্ভবত, অযিহূদীদেরকে পবিত্র করা হয়েছে এবং গ্রহণ করা হয়েছে, পৌল এই কথা বলেন যেন তারা এর জন্য কৃতজ্ঞ হয়। যেন তারা বুঝতে পারে, তাদের পরিত্রাণ কোথা থেকে এসেছে।

রোমীয় ১১ অধ্যায় - ভাঙ্গা ডাল ও জুড়ে দেওয়া ডাল

নির্দেশনা

রোমীয় ১১:১৭-২৪ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন।

  • পৌল যখন ‘ভাঙ্গা ডালপালা’ বলেন, তিনি কাদের বুঝান? 
  • পৌল যখন ‘জুড়ে দেওয়া ডালপালা’ বলেন, তিনি কাদের বুঝান? 
  • পৌল যখন ‘জলপাই গাছ’ বলেন, তিনি কি বুঝান? রূপকের অর্থ কি? 
  • ডালপালা কিভাবে ভেঙ্গে গেছে? 
  • ডালপালা কিভাবে জুড়ে দেওয়া হল? কি কি ডালপালা জোড়ে দেওয়া হবে? 
  • রোমীয় ১১:২০-২২ পদে পৌল কিছু আদেশ দেন, একটি সাবধানবাণীও দেন। কি আদেশ? কি সাবধানবাণী?
  • রোমীয় ১১:২৩-২৪ এই পদগুরো অনুসারে, ডাল ভাঙ্গা বা ডাল জুড়ে দেওয়া কি সের উপর নির্ভর করে?
  • তা কি সের উপর নির্ভর করে না?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • পৌল যখন ‘ভাঙ্গা ডালপালা’ বলেন, তিনি যিহূদীদেরকে বুঝান।
  • পৌল যখন ‘জুড়ে দেওয়া ডালপালা’ বলেন, তিনি কাদের বুঝান? > পৌল অযিহূদীদেরকে বুঝান। কিন্তু বলা যায়, যে কেউ যীশুর উপর বিশ্বাস করে, তাকে গ্রহণ করা হয়।
  • পৌল যখন ‘জলপাই গাছ’ বলেন, তিনি কি বুঝান? রূপকের অর্থ কি? > জলপাই গাছ রূপক পৌল ‘সত্য ধর্ম’, ‘সত্যিকারের ইস্রাযেল’, ‘সত্যিকারের ঈশ্বরের লোকেরা’।
  • ডালপালা কিভাবে ভেঙ্গে গেছে? > অবিশ্বাস দ্বারা। যিহূদীরা যীশুকে এবং সুসমাচার অগ্রাহ্য করেছে।
  • ডালপালা কিভাবে জুড়ে দেওয়া হল? কি কি ডালপালা জোড়ে দেওয়া হবে? > বিশ্বাস দ্বারা। ঈশ্বরের দয়ায় যারা যীশুর উপর বিশ্বাস রাখে, তাদেরকে জুড়ে দেওয়া হয়। অযিহূদীদের জুড়ে দেওয়া হয় এবং যিহূদীদের ‘পুনরায়’ জুড়ে দেওয়া হয়।
  • রোমীয় ১১:২০-২২ পদে পৌল কিছু আদেশ দেন, একটি সাবধানবাণীও দেন। কি আদেশ? কি সাবধানবাণী?
    • আদেশ:      অযিহূদীদের কাছে আদেশ, যেন তারা অহংকার না করে, যিহূদীদের তুচ্ছ না করে, যেন বরং ঈশ্বরের ভক্তিপূর্ণ ভয়ে চলে।
    • সাবধানবাণী:  ঈশ্বর যেমন যিহূদীদের বিচার করেছেন, ঠিক তেমনি তিনি অযিহূদীদেরও বিচার করবেন।
  • রোমীয় ১১:২৩-২৪ এই পদগুরো অনুসারে, ডাল ভাঙ্গা বা ডাল জুড়ে দেওয়া কি সের উপর নির্ভর করে? > তা মানুষের নম্রতা, নিজের অযোগ্যতা স্বীকার করা এবং যীশুতে বিশ্বাস রাখার উপর নির্ভর করে।
  • তা কি সের উপর নির্ভর করে না? > যিহূদী হওয়া বা অযিহূদী হওয়া, এর উপর নির্ভর করে না। তা জাতি বা ব্যাকগ্রাউণ্ডের উপর নির্ভর করে না, বরং ঈশ্বরের প্রতি সাড়া দেওয়ার উপর নির্ভর করে।

রোমীয় ১১ অধ্যায় - গাছ ও ডালপালার রূপক ছবি

নির্দেশনা

রোমীয় ১১:১৭-২৪ পড়ুন। 
নিচের ছবি দেখুন এবং এই অনুচ্ছেদে প্রকাশিত মৌলিক সত্যগুলোর সাথে মিলান।

রোমীয় ১১ অধ্যায় - গোটা ইস্রায়েল উদ্ধার পাবে

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১১:২৫-৩২ পদ পড়ুন। আবারও পৌল একটু নাটকীয়ভাবে বড় ছবি আঁকেন। রোমীয় ১১:২৫-২৬ পদগুলো আসলে বেশ তর্কের এবং পদগুলোর মূলত দু’টি ব্যাখ্যা আছে:
    • ১) কেউ কেউ বলে, ভবিষ্যতে যখন ‘অযিহূদীদের সংখ্যা পূর্ণ’ হবে, তখন ঈশ্বর যিহূদীদের থেকে সেই ‘কঠিন হওয়া অবস্থা’ তুলে নিবেন এবং ফলে সেই দিন “গোটা ইস্রায়েল পরিত্রান পবে” (কেরী), অর্থাৎ ঈশ্বর প্রত্যাকটি যিহূদীকে উদ্ধার করবেন। (তাই উদ্ধার রক্ত-মাংসের সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল)।
    • ২) কেউ কেউ বলে, ‘অযিহূদীদের সংখ্যা পূর্ণ হবে’ এবং যিহূদীদের ‘কঠিন হওয়ার অবস্থা’, সেগুলো হল (আগের অনুচ্ছেদের মত) পৌলের বড় ছবি আঁকার ভাষা, যার অর্থ এই: অযিহূদী এবং যিহূদী যীশুর সুসমাচারে সাড়া দেওয়ার সুযোগ পেতে থাকবে এবং যতজন যীশুর উপর বিশ্বাস রাখে, ততজনই পরিত্রাণ পাবে। যখন পৌল বলেন ‘গোটা ইস্রায়েল পরিত্রাণ পাবে’, তিনি ‘গোটা ইস্রায়েল’ রূপক অর্থে ‘আসল গাছ’ বুঝান, অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের সব লোকেরা’, তাই ঈশ্বরের সব বিশ্বাসীরা পরিত্রাণ পাবে। ‘ইস্রায়েল’ মানে: যারা যীশুকে মেনে নিয়ে তাঁর উপর ভরাসা রাখে, যে কোনো জাতির লোক। (তাই উদ্ধার মানুষের সাড়ার উপর নির্ভর্শীল)।
  • আগে যখন প্রচার বা শিক্ষা শুনেছিলেন, তা কি ১) না ২) নম্বর ব্যাখ্যা অনুসারে প্রচার বা শিক্ষা ছিল?
  • রোমীয় পত্র যতদূর অধ্যয়ন করেছি, এর আলোতে আপনি কোন ব্যাখ্যাটি ঠিক মনে করেন? ১) বা ২)?

বিবেচনা করুন

  • ১) ব্যাখ্যা আরো প্রচলিত কারণ মনে করা হয় কারণ কথাটি সরাসরি অর্থে নেওয়া সহজ।
  • কিন্তু আমার মতামত যে ২) ব্যাখ্যা রোমীয় চিঠিতে পৌলের মূল সংবাদ ও চিঠির যুক্তির ধারাবাহিকতার সাথে আর অনেক ভালভাবে মিলে।
    • প্রথম ব্যাখ্যা যদিও ‘আরো আক্ষরিক’ বোধ হয়, তা প্রকৃতপক্ষে পৌলের অনেক মৌলিক কথা বা শিক্ষা উল্টায়।
    • হঠ্যাৎ করে পরিতাণ তারপরেও জাতিগত পরিচয় বা জীন্সের উপর নির্ভর করে??
    • দ্বিতীয় ব্যাখ্যা যদিও ‘আরো রূপক’, তা পৌলের আগে ঘোষিত সত্যের সাথে হুবহু মিলে।
    • আগেও আমরা দেখেছি, ‘হৃদয় কঠিন’ হওয়ার বিষয়ে এবং ‘আগে অযিহূদীরা, পরে যিহূদীরা জুড়ে দেওয়ার’ বিষয়ে পৌল কিভাবে ভাষা ব্যবহার করেছেন।
    • তাই এখানে তিনি আগের সব কথা উপসংহারে নিয়ে আসেন, কিন্তু পদটি আগের কথার চেয়ে ভিন্ন নয়, তা আগের কথা উল্টায়ও না।

রোমীয় ১১ অধ্যায় - "গোটা ইস্রায়েল উদ্ধার পাবে হৃদয়ের বিষয়ে অধ্যয়ন

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১১:২৬-৩২ পদ পড়ুন। পৌল এখানে আবারও বিভিন্ন উদ্ধৃতি নিয়ে এসে কথা বলেন:
    • রোমীয় ১১:২৬ পদ উদ্ধৃতি করে যিশাইয় ৫৯:-২০-২১
    • রোমীয় ১১:২৭ পদ উদ্ধৃতি করে যিশাইয়া ২৭:৯, যিরমিয় ৩১:৩৩
  • রোমীয় ১১:২৮-৩২ পৌল আর একবার নাটকীয়ভাবে ছবি এঁকে অনেক বড় কথা বলেন, যেমন ‘যিহূদীদের অবাধ্যতার কারণে কারণে অযিহূদীরা দয়া পেয়েছে’। যদি আমরা তা অতি সরুভাবে ব্যাখ্যা করি, তবে কথাটি আসলে সত্য নয়। ঈশ্বর শুরু থেকে অযিহূদীদেরও উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন এবং সব যিহূদীরা যে অবাধ্য হয়েছে, এমন নয়।
  • পৌল রোমীয় ১১:৩২ পদে সব কিছু একটি সারাংশে নিয়ে আসেন। এই পদে তার মূল কথা সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • পৌল রোমীয় ১১:৩২ পদে সব কিছু একটি সারাংশে নিয়ে আসেন: ঈশ্বর সবাইকে অবাধ্যতার মধ্যে বন্দী করে রেখেছেন যেন তিনি সবার কাছে দয়া দেখাতে পারেন।
  • এখানে যিহূদী অযিহূদী বিষয় আর আসে না।

রোমীয় ১১ অধ্যায় - ঈশ্বরের প্রশংসা

  • রোমীয় ১১ অধ্যায়ের সব কথার মধ্য দিয়ে পৌল সবার জন্য ঈশ্বরের অদ্ভুত পরিত্রাণের মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন।
  • তিনি এখানে তাতে নিজেই সাড়া দিয়ে ঈশ্বরকে প্রশংসা করতে শুরু করেন।
  • তিনি এখানে নিজের ভাষায় এবং পুরাতন নিয়মের উদ্ধৃতি দ্বারা ঈশ্বরের অতুলনীয় দয়া ও তাঁর জ্ঞানের বিশালতা প্রকাশ করেন।
    • রোমীয় ১১:৩৪ পদে তিনি যিশাইয় ৪০:১৩-১৪  পদ উদ্ধৃতি করেন।
    • রোমীয় ১১:৩৫ পদে তিনি ইয়োব ৪১:১১       পদ উদ্ধৃতি করেন।
  • রোমীয় ১১:৩৩-৩৬ জোরে পড়ুন এবং হৃদয় থেকে ঈশ্বরের প্রশংসা করুন। পদগুলো মুখস্ত করবেন?

রোমীয় ১২ অধ্যায় - দ্বিতীয় বিভাগের শুরু

নির্দেশনা

রোমীয় ১২:১-২ পদ কেরী ও সাধারণ অনুবাদে পড়ুন।

  • কেরী অনুবাদে দ্বিতীয় বিভাগের প্রথম শব্দ কি?
  • সাধারণের দ্বিতীয় বিভাগের প্রথম শব্দ কি?
  • কেন পৌল এভাবে নতুন বিভাগ এভাবে শুরু করেন, মনে করেন?
  • পৌল এখানে “ঈশ্বরের দয়ার জন্যই”, এই কথা দিয়ে শুরু করেন। এর গুরুত্ব কি?
  • রোমীয় ১২:১ পদে পৌল আমাদের কি আদেশ দেন? আদেশের অর্থ কি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • কেরী অনুবাদে দ্বিতীয় বিভাগের প্রথম শব্দ কি? > “এতএব”
  • সাধারণের দ্বিতীয় বিভাগের প্রথম শব্দ কি? > “তাহলে”
  • কেন পৌল এভাবে নতুন বিভাগ এভাবে শুরু করেন, মনে করেন? > পৌল এখন যা বলতে যাচ্ছেন, এই শব্দের মধ্য দিয়ে তিনি এর সঙ্গে আগের সমস্ত কথা সংযুক্ত করেন। যত যা বলেনছেন, এখন পৌল এর ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখাবেন।
  • পৌল এখানে “ঈশ্বরের দয়ার জন্যই”, এই কথা দিয়ে শুরু করেন। এর গুরুত্ব কি? > প্রথম বিভাগের মূল সংবাদ ছিল: পাপী মানুষ, অর্থাৎ যিহূদী অযিহূদী উভয়ের জন্য ঈশ্বরের অদ্ভূত দয়া। এই মহা দয়ায় পরিক্রাণ পেয়ে এখন আমাদের কি সাড়া দেওয়া উচিত, তা হল দ্বিতীয় বিভাগের মূল সংবাদ।
  • রোমীয় ১২:১ পদে পৌল আমাদের কি আদেশ দেন? আদেশের অর্থ কি? > 
    • পৌলের আদেশ: বিশ্বাসীরা যেন নিজের দেহকে জীবিত, পবিত্র ও ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য উৎসর্গ হিসাবে ঈশ্বরের হাতে তুলে ধরে।
    • আদেশের অর্থ: প্রত্যেক মুহূর্তে ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে জীবন-যাপন করা, নিজেকে ঈশ্বরের কাজে দান করা, নিজের স্বার্থপর ইচ্ছা দিয়ে চালিত না হওয়া।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - জীবিত উৎসর্গ

নির্দেশনা

রোমীয় ১২:১-২ পদ পড়ুন। পদগুলোর অর্থ ও গুরুত্ব কি?

  • পৌল এখানে অদ্ভুত একটি রূপক ব্যবহার করেন, “জীবিত উৎসর্গ”। কেন এই রূপক অদ্ভুত? রূপকের অর্থ কি? 
  • নিজের “দেহকে জীবিত, পবিত্র ও ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য উৎসর্গ হিসাবে ঈশ্বরের হাতে” দান করা মানে কি?
  • কেন পৌল এটাকে “উপযুক্ত সেবা” (সাধারণ) বা “চিত্ত-সঙ্গত আরাধনা” (কেরী) বলেন? 
  • রোমীয় ১২:২ পদে দুটি আদেশ আছে। সেগুলো কি?
    ১) ………………………………………………………………..……………………………………………………………..
    ২) ………………………………………………………………..……………………………………………………………..
  • পৌল অনুসারে, কিভাবে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হতে পারি?
  • এই কাজটি কি আমি করি? না ঈশ্বর করেন? 
  • “যেন তোমরা ঈশ্বরের ইচ্ছা জানতে পার। ঈশ্বরের ইচ্ছা ভাল, সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং তাদতে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন” (সাধারণ) অথবা “যেন তোমরা পরীক্ষা করিয়া জানিতে পার, ঈশ্বরের ইচ্ছা কি; যাহা উত্তম ও প্রীতিজনক ও সিদ্ধ” (কেরী) – পৌল এই কথা দ্বারা কি বুঝান?
  • ঈশ্বরের ইচ্ছাকে নতুন চোখে দেখার জন্য ঈশ্বর আপনাকে কি করতে বলেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • পৌল এখানে অদ্ভুত একটি রূপক ব্যবহার করেন, “জীবিত উৎসর্গ”। কেন এই রূপক অদ্ভুত? রূপকের অর্থ কি? >
    • অদ্ভুত কেন? > একটি পশুকে মেরে না ফেলা পর্যন্ত তা ‘উৎসর্গ’ বলা হয় না। উৎসর্গ করা মানে জন্তুর মৃত্যু, অর্থাৎ উৎসর্গ করা প্রাণীর প্রাণ নষ্ট করা। কিন্তু এখানে পৌল ‘জীবিত উৎসর্গ’ বলেন।
    • রূপকের অর্থ কি? পৌল এখানে এমন একটি জীবন বুঝায়, যেখানে আমি ‘পাপের কাছে মরি’, অর্থাৎ পাপ আর করি না বরং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে আত্মার পরিচালনায়, অর্থাৎ বাধ্যভাবে জীবন-যাপন করি।
  • নিজের “দেহকে জীবিত, পবিত্র ও ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য উৎসর্গ হিসাবে ঈশ্বরের হাতে” দান করা মানে কি? > আমি আমার দেহ, আমার জীবন, আমার সময়, আমার কাজ, আচরণ, মনোভাব ও কথা সব ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে ব্যবহার করি। আমি নিজেকে ঈশ্বরের হাতে দেই, অর্থাৎ এখন তিনি আমাকে তার নিজের ইচ্ছা অনুসারে ব্যবহার করতে পারেন।
  • কেন পৌল এটাকে “উপযুক্ত সেবা” (সাধারণ) বা “চিত্ত-সঙ্গত আরাধনা” (কেরী) বলেন? > প্রকৃতপক্ষে মানুষকে শুরু থেকে এর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল – যেন আমরা প্রত্যেক মুহূর্তে ঈশ্বরের সঙ্গে সহভাগিতা রেখে তাঁর ইচ্ছা অনুসারে চলি এবং এভাবে পৃথিবীতে যে ভূমিকার জন্য ঈশ্বর আমাদের রেখেছেন, তা পূর্ণ করতে পারি। আরাধনা শুধুমাত্র ‘গান গাওয়া’ বুঝায় না, বরং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে জীবন-যাপন।
  • রোমীয় ১২:২ পদে দুটি আদেশ আছে। সেগুলো কি?
    • ১) সাধারণ: “এখানকার মন্দ জগের চালচলনের মধ্যে তোমরা নিজেদের ডুবিয়ে দিয়ো না!” কেরী: “এই যুগের অনুরূপ হইও না!”
    • ২) সাধারণ: “ঈশ্বরকে তোমাদের মনকে নতুন করে গড়ে তুলতে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন হয়ে ওঠো!” কেরী: “মনের নূতনীকরণ দ্বারা স্বরূপান্তরিত হও!”
  • পৌল অনুসারে, কিভাবে পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হতে পারি? > মনকে পরিচালনা করা দ্বারা। মনকে ডুবিয়ে না দেওয়া, মনকে নতুন করে গড়ে তোলা দ্বারা।
  • এই কাজটি কি আমি করি? না ঈশ্বর করেন? > আমি করি এই অর্থ যে, আমি নিজের মনকে পরিচালনা দেই। ঈশ্বর করেন এই অর্থে যে, ঈশ্বর আমার মন নতুন করে গড়ে তোলেন।
    দেকা যায়, রূপান্তরিত হতে গেলে আমাকে তা চাইতে হবে, কিন্তু ঈশ্বর ছাড়া নিজের শক্তিতে বা উদ্যোগে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।
  • “যেন তোমরা ঈশ্বরের ইচ্ছা জানতে পার। ঈশ্বরের ইচ্ছা ভাল, সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং তাদতে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন” (সাধারণ) অথবা “যেন তোমরা পরীক্ষা করিয়া জানিতে পার, ঈশ্বরের ইচ্ছা কি; যাহা উত্তম ও প্রীতিজনক ও সিদ্ধ” (কেরী) – পৌল এই কথা দ্বারা কি বুঝান? > আমরা প্রায়ই ঈশ্বরের আইন, আদেশ বা ইচ্ছা নেতিবাচক কিছু হিসাবে দেখি (‘ঈশ্বর আমাদের বাধ্যতা পরীক্ষা করেন’), আমরা তাঁর ইচ্ছা সরু, কঠোর ও কঠিন মনে করি (‘যত যা মজা তত তা নিষেধ’)। কিন্তু যেমন ঈশ্বর মঙ্গলময়, আমাদের জন্য তাঁর ইচ্ছাও মঙ্গলময়। যা উত্তম, যা ন্যায্য, যা উপযুক্ত, যা নির্ভুল, যা প্রজ্ঞাপূর্ণ, যা প্রশংসাযোগ্য, যাতে আসলে তৃপ্তি আছে – এইটা হল ঈশ্বরের ইচ্চার উপযুক্ত বর্ণনা।
  • “যেন তোমরা ঈশ্বরের ইচ্ছা জানতে পার” – কি হলে জানতে পারব? তা বুঝার জন্য পর্ববর্তী কথা লক্ষ্য করুন: যদি আমি নিজকে বাধ্য হয়ে উৎসর্গ হিসাবে দান করি তবে আমি তাঁর ইচ্ছা জানতে পারব।
  • এর অর্থ কি? এর অর্থ এই যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি বাধ্য নই, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাঁর ইচ্ছা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারি না। এটা গুরুত্বপূর্ণ! ‘ঈশ্বরের ইচ্ছা জানতে চাওয়া’ তা বুদ্ধি, জ্ঞান বা তথ্য জানার বিষয় নয়, তা হল বাধ্য হয়ে প্রয়োগ করার বিষয়। যত থিওলজি পড়বেন না কেন, আপনার চেয়ে বেশি বুঝবে যারা আসলে বাধ্য!

রোমীয় ১২ অধ্যায় - নিজেকে বেশী বড় মনে করো না

নির্দেশনা

রোমীয় ১২: ৩ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:

  • পৌলের আদেশের অর্থ কি?
  • এই পত্রের প্রেক্ষাপট দেখে পৌলের এই আদেশের গুরুত্ব কি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

রোমীয় ১২: ৩ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:

  • পৌলের আদেশের অর্থ কি? > এটা সঠিক মনোভাব রাখার একটি আদেশ, নিজেকে ও অন্যদেরকে উপযুক্ত দৃষ্টিতে দেখার আদেশ। অহংকার বা আত্ম-কেন্দ্রিক দৃষ্টি নয়, হীনমনতার দৃষ্টিও নয়।
  • এই পত্রের প্রেক্ষাপট দেখে পৌলের এই আদেশের গুরুত্ব কি? > পৌল এই পত্রটিতে অহংকারের বিরুদ্ধে বা মিথ্যা আশার বিরুদ্ধে অনেক কথা লিখেছিলেন। তিনি যিহূদীদের গর্ব না করতে বলেছেন, অযিহূদীদের গুরুত্ব দিতে বলেছেন। উপযুক্ত দৃষ্টি মানে নিজের পাপ বা অযোগ্যতা বুঝা, সবার পাপ বা অযোগ্যতা বুঝা। কিন্তু অপর পক্ষে ঈশ্বর যে অতুলনীয় মূল্য সবার উপর দিয়েছেন, তাও জানা।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - খ্রীষ্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক দেহ

নির্দেশনা

রোমীয় ১২: ৩-৫ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:

  • পৌল এখানে কি রূপক ব্যবহার করেন?
  • রূপকের অর্থ কি? গুরুত্ব কি? রূপকের উল্লেখ করা দ্বারা পৌল কি চান?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • পৌল এখানে কি রূপক ব্যবহার করেন? > দেহ ও অংগ, অর্থাৎ বিভিন্ন অংগ যা এক দেহে যুক্ত করা হয়েছে।
  • রূপকের অর্থ কি? গুরুত্ব কি? রূপকের উল্লেখ করা দ্বারা পৌল কি চান? > প্রকৃতপক্ষে দেহের গঠণ চমৎকার। বিভিন্ন পরস্পর উপর নির্ভরশীল অংগ – কিন্তু এক দেহ। দেহ হল বিশ্বাসীদের বা মণ্ডলীর একটি ছবি। যীশুর সাথে যুক্ত হয়েছি বলে আমরা পরস্পরের সাথেও যুক্ত হয়েছি।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - আমরা ভিন্ন ভিন্ন দান পেয়েছি

নির্দেশনা

রোমীয় ১২: ৬-৮ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:

  • কি অনুসারে আমরা ভিন্ন ভিন্ন দান পেয়েছি? এই কথার গুরুত্ব কি? 
  • পৌল এখানে কি কি দান উল্লেখ করেছেন?
  • আপনি কি মনে করেন, এই পদগুলোতে দেওয়া দানের তালিকার পাশাপাশি আরো দান থাকতে পারে?
  • দান প্রাপ্ত বিশ্বাসী হিসাবে নম্রতা দেখতে কেমন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • কি অনুসারে আমরা ভিন্ন ভিন্ন দান পেয়েছি? এই কথার গুরুত্ব কি? > এই দান বা তালন্ত হল ঈশ্বরের দয়া অনুসারে দেওয়া। এখানে অর্জন করা, গর্ব করা বা লজ্জা করার কিছু নেই।
  • পৌল এখানে কি কি দান উল্লেখ করেছেন? > ভাববাণী বলা, সেবা কাজ, শিক্ষা দান, উৎসাহিত করার ক্ষমতা, দান দেওয়া, সাহায্য করার ক্ষমতা।
  • আপনি কি মনে করেন, এই পদগুলোতে দেওয়া দানের তালিকার পাশাপাশি আরো দান থাকতে পারে? > হ্যাঁ, আরো থাকতে পারে। পৌল যখন করিন্থীয় পত্রতে দানের তালিকা দেন, এই রোমীয় পত্রটিতে দেওয়া তালিকার সাথে বেশ মিল আছে, কিন্তু তালিকাগুলো ঠিক একই নয়। পরিষ্কারভাবে বুঝা যায়, পৌল কয়েকটি উদাহরণ দেখানোর জন্য কিছুটা দান উল্লেখ করেছেন কিন্তু উল্লিখিত দানের পাশাপাশি যে আর কোনো দান নেই, এমন নয়।
  • দান প্রাপ্ত বিশ্বাসী হিসাবে নম্রতা দেখতে কেমন? > নম্রতা মানে না, নিজের দান অস্বীকার করা বা নিজের দান লুকানো। বরং নম্রতা মানে দানটি বিশ্বস্তভাবে অন্যদের সেবায় ব্যবহার করা, তা নিয়ে স্লাঘা না করা, নিজেকে বিশেষ মনে না করা বরং কৃতজ্ঞ হওয়া।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - পৌলের মৌলিক ও ব্যবহারিক আদেশ

নির্দেশনা

রোমীয় ১২: ৯-১৩ পদ পড়ুন। আদেশগুলো অল্প সময়ে পড়া যায়, কিন্তু সেগুলো প্রয়োগ করতে গেলে, সারা জীবন লাগবে! প্রত্যেকটি আদেশ নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন, এই আদেশ মানে কি?

  • ১) ভালবাসার মধ্যে ভণ্ডামি না থাকুক! 
  • ২) যা মন্দ তা ঘৃণা কর! 
  • ৩) যা ভাল তা শক্তভাবে ধরে রাখ!
  • ৪) একে অন্যকে ভাইয়ের মত গভীরভাবে ভালবাস! 
  • ৫) নিজের চেয়ে অন্যকে বেশী সম্মান কর!
  • ৬) ঈশ্বরে প্রতি সব সময় তোমাদের আগ্রহ থাকুক!
  • ৭) তোমাদের অন্তর ভক্তিতে ভরা থাকুক! 
  • ৮) তোমরা প্রভুর কাজে লেগে থাক! 
  • ৯) তোমাদের সামনে যে আশা রয়েছে তার জন্য আনন্দ কর!
  • ১০) দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধর! 
  • ১১) অনবরত প্রার্থনা কর!
  • ১২) ঈশ্বরের লোকদের অভাবের সময় সাহায্য কর!
  • ১৩) অতিথিদের সেবা করতে আগ্রহী হও।

ঈশ্বর আপনাকে এই সপ্তাহে কোন আদেশটি বিশেষভাবে চর্চা করতে চ্যালেঞ্জ করেন, মনে করেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

রোমীয় ১২: ৯-১৩ পদ পড়ুন। আদেশগুলো অল্প সময়ে পড়া যায়, কিন্তু সেগুলো প্রয়োগ করতে গেলে, সারা জীবন লাগবে! প্রত্যেকটি আদেশ নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন, এই আদেশ মানে কি?

  • ১) ভালবাসার মধ্যে ভণ্ডামি না থাকুক! >ঈশ্বর আমাদের সম্পরকের ক্ষেত্রে সৎ ও সরল হতে বলেন, ভান বা নাটক যেন না করি, এড়িয়ে যেন না যাই।
  • ২) যা মন্দ তা ঘৃণা কর! > অনেক বার আমরা হিংসার চোখে পাপ বা পাপীদের দিকে তাকাই। এর চেয়ে আমার বুঝতে হবে, মন্দ কাজ করলে আমি নিজেকে এবং চারিদিকে সবাইকে ক্ষতি করি। ঈশ্বর যা ঘৃণা করেন, তা যেন লোভের চোখে না দেখি!
  • ৩) যা ভাল তা শক্তভাবে ধরে রাখ! > আগের আদেশের বিপরীত আদেশ। ঈশ্বর যা ভাল বলেন, তাতে সমর্পিত থাকা, তার গুরুত্ব বুঝে লেগে থাকা, তাতে প্রাধান্য দেওয়া।
  • ৪) একে অন্যকে ভাইয়ের মত গভীরভাবে ভালবাস! > সবচেয়ে মৌলিক আদেশ। অন্যের মঙ্গল খোঁজা, তাকে সেবা করা, তার যত্ন নেওয়া।
  • ৫) নিজের চেয়ে অন্যকে বেশী সম্মান কর! > অন্যদের গুরুত্ব বুঝা, তাদেরকে উপযুক্ত দৃষ্টিতে দেখা, তাদের অবদান গ্রহণ করা, তাদের বুঝতে চেষ্টা করা।
  • ৬) ঈশ্বরে প্রতি সব সময় তোমাদের আগ্রহ থাকুক! > মনের আকাঙ্ক্ষা ঈশ্বরের দিকে দেওয়া, সময় ও গুরুত্ব দেওয়া, ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওযার আশা করা।
  • ৭) তোমাদের অন্তর ভক্তিতে ভরা থাকুক! > প্রত্যেক মুহূর্তে ঈশ্বরকে খেয়াল করা, তাঁর উপস্থিতি বুঝা, তার ভক্তিপূর্ণ ভায়ে চলা, তার ‘সামনে’ জীবন-যাপন করা।
  • ৮) তোমরা প্রভুর কাজে লেগে থাক! > সহজে নিরাশিত না হওয়া, ঈশ্বর যে কাজ দিয়েছেন, তাতে গুরুত্ব দেওয়া ও লেগে থাকা, নিজেকে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দিয়ে দেওয়া।
  • ৯) তোমাদের সামনে যে আশা রয়েছে তার জন্য আনন্দ কর! > ঈশ্বরের পরিত্রাণ এবং ভবিষ্যৎ উদ্ধার স্মরণ করা, তার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া ও আনন্দ করা।
  • ১০) দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধর! > কষ্টেও বিশ্বস্ত থাকা ও লেগে থাকা, জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মেনে নেওয়া, ঈশ্বরের ভালবাসা নিয়ে সন্দেহ না করা।
  • ১১) অনবরত প্রার্থনা কর! > প্রত্যেক মুহূর্তে ঈশ্বরের দিকে মন দেওয়া, তাঁকে প্রত্যেকটি দৈনন্দিন বিষয়ে আমন্ত্রণ করা, তাঁর উপর নির্ভর করা।
  • ১২) ঈশ্বরের লোকদের অভাবের সময় সাহায্য কর! > অন্যদের চ্যালেঞ্জ বুঝা ও প্রয়োজন মেটাতে আগ্রহী থাকা, সময় দেওয়া, দানশীল হওয়া, ভার বহন করা।
  • ১৩) অতিথিদের সেবা করতে আগ্রহী হও। > স্বাগতম জানানোর হৃদয় রাখা, নিজের জীবন ও বাসা খোলা রাখা, অন্যদের প্রয়োজন বা অবস্থা বুঝা, নিজের জীবনে অংশ গ্রহণ করতে দেওয়া।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - মন্দ জগতের মধ্যে কিভাবে আচার-আচরণ করব?

নির্দেশনা

পৌল ভালভাবে জানেন যে, রোমীয় বিশ্বাসীদের আশাপাশের লোকদের থেকে বিভিন্ন ধরণের চাপ বা অত্যাচার পায়। রোম শহরে বেশিরভাগ লোকেরা ছিল দেবতাপূজারী এবং সংখ্যালঘু দল হিসাবে তারা একটি দমনকারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের অধীনে এবং সাধারণ মানুষদের ঝগড়া-বিভাদের মধ্যে বাস করে। পৌল তাদের কি ধরণের আচরণ করতে বলেন? রোমীয় ১২: ১৪-২১ পদ পড়ুন। বিশ্বাসীদের পরিস্থিতি নিয়ে বাস্তব চিন্তা করে প্রত্যেকটি আদেশের অর্থ ও গুরুত্ব কি, তা সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন।

  • ১) যারা তোমাদের অত্যাচার করে তাদের অমংগল চেয়ো না বরং মংগল চেয়ো!
  • ২) যারা আনন্দ করে তাদের সংগে আনন্দিত হও!
  • ৩) যারা কাঁদে তাদের সংগে কাঁদ!
  • ৪) তোমাদের একের প্রতি অন্যের মনোভাব যেন একই রকম হয়!
  • ৫) বড়লোকের ভাব না দেখিয়ে বরং যারা বড়লোক নয় তাদের সংগে মেলামেশা কর!
  • ৬) নিজেকে জ্ঞানী মনে কোরো না!
  • ৭) মন্দের বদলে কারও মন্দ কোরো না!
  • ৮) সমস্ত লোকের চোখে যা ভাল সেই বিষয়ে মনোযোগ দাও!
  • ৯) তোমাদের দিক থেকে যতদূর সম্ভব সমস্ত লোকের সংগে শান্তিতে বাস কর!
  • ১০) তোমরা নিজেরা প্রতিশোধ নিয়ো না, বরং ঈশ্বরকেই শাস্তি দিতে দাও!
  • ১১) শাস্ত্রের কথামত বরং “তোমার শত্রুর যদি খিদে পায় তাকে খেতে দাও!”
  • ১২) “যদি তার পিপাসা পায় তাকে জল দাও! এই রকম করলে তুমি তার মাথায় জ্বলন্ত কয়লা গাদা করে রাখবে!”
  • ১৩) মন্দের কাছে হেরে যেয়ো না, বরং ভাল দিয়ে মন্দকে জয় কর!

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • ১) যারা তোমাদের অত্যাচার করে তাদের অমংগল চেয়ো না বরং মংগল চেয়ো! > কষ্ট পেলেও অন্যদের এমন মানুষ হিসাবে দেখতে হয়, যারা ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্টি এবং যাদের পরিত্রাণ প্রয়োজন। তাদের ক্ষমা করা দরকার, উলটা তাদের ভাল চাওয়া ও চেষ্টা করা দরকার।
  • ২) যারা আনন্দ করে তাদের সংগে আনন্দিত হও!
  • ৩) যারা কাঁদে তাদের সংগে কাঁদ! > দু’দিকে চিন্তা করা যায়:
    • ১) অবিশ্বাসীদের মঙ্গল চাওয়া এবং তাদের কাছে সুসমাচার পৌঁছানো ঠিক এভাবে দেখা দিতে পারে: তাদের আনন্দ নিয়ে আনন্দিত হওয়া এবং তাদের কষ্টের সময় পাশে দাঁড়ানো।
    • ২) পৌল তা সহ-বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে বলেন: যখন বিশ্বাসীদেরকে অত্যচার বা কষ্ট দেওয়া হয়, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো আরো আবশ্যক।
  • ৪) তোমাদের একের প্রতি অন্যের মনোভাব যেন একই রকম হয়!
  • ৫) বড়লোকের ভাব না দেখিয়ে বরং যারা বড়লোক নয় তাদের সংগে মেলামেশা কর! > সংখ্যলঘু দলের লোক হলে সহজে এই চিন্তা আসতে পারে: যারা প্রভাবশালী, অর্থাৎ যারা আমাকে ক্ষতি করতে পারে, তাদের প্রতি আমি ভদ্র ও বাধ্য, কিন্তু যারা গরীব বা দুর্বল, ওদের নিয়ে কষ্ট না করলেও হয়। পৌল সব মানুষকে একই দৃষ্টিতে দেখতে বলেন, শক্তিশালী বা প্রভাবশালী বা ধনী হোক, অথবা সাধারণ মানুষ হোক।
  • ৬) নিজেকে জ্ঞানী মনে কোরো না! > নম্র হওয়া ও নিজের জ্ঞানের সীমা বুঝা। অন্যদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার মনোভাব রাখা।
  • ৭) মন্দের বদলে কারও মন্দ কোরো না!
  • ৮) সমস্ত লোকের চোখে যা ভাল সেই বিষয়ে মনোযোগ দাও! > যীশু যেমন দেখিয়েছিলেন, মন্দকে মন্দ কাজ দ্বারা পরাজিত করা যায় না। বরং যারা মন্দ করেছে, তাদের ক্ষমা করা, আশীর্বাদ করা, সেবা করা। এটা দ্বারা অন্যরা অন্য ধরণের একটি প্রজ্ঞা, মনোভাবে বা আত্মা দেখবে। তাদের স্বীকার করতে হবে যে তা আসলে সবার জন্য আরো ভাল।
  • ৯) তোমাদের দিক থেকে যতদূর সম্ভব সমস্ত লোকের সংগে শান্তিতে বাস কর! > পৌল নিশ্চিত করেন, বিশ্বাসীরা যেন ঝগড়া-বিবাদের বা তর্কের কারণ না হয়। বরং তারা যেন ক্ষমা করার, গ্রহণ করার, মেনে নেওয়ার ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করার মনোভাব দেখায়। পৌল অসরাসরি স্বীকার করেন যে, কিছু লোকদের মনোভাব এমন যে ,তাদের সাথে ‘শান্তিতে থাকা যায় না’।
  • ১০) তোমরা নিজেরা প্রতিশোধ নিয়ো না, বরং ঈশ্বরকেই শাস্তি দিতে দাও! > অত্যাচার বা অন্যায় ব্যবহারের শিকার হলেও যেন বিশ্বাসীরা রেগে গিয়ে ন্যায় বিচার নিজের হাতে না নেয়, নিজের বুদ্ধি অনুসারে প্রতিশোধ না নেয়। এভাবে করলে বেশিরভাগ সময় আমার বিচার বা প্রতিশোধ নতুন অন্যায় বা সমস্যা তৈরি করে। হিংস্রতা বা প্রতিশোধ হল এমন চক্র, যা থামাতে অনেক কঠিন।
  • ১১) শাস্ত্রের কথামত বরং “তোমার শত্রুর যদি খিদে পায় তাকে খেতে দাও!”
  • ১২) “যদি তার পিপাসা পায় তাকে জল দাও! এই রকম করলে তুমি তার মাথায় জ্বলন্ত কয়লা গাদা করে রাখবে!” > প্রতিশোধের চক্র থামাতে গেলে এই মনোভাব প্রয়োজন: অন্যকে মানুষ হিসাবে দেখা, তার মঙ্গল চাওয়া, তাকে সেবা করা। “মাথায় জ্বলন্ত কয়লা গাদা করে রাখ”, এই কথার অর্থ কি? এখানে দু’টি ব্যাখ্যা প্রচলিত:
    • ১) জ্বলন্ত কয়লা গাদা করে রাখা হল চেতনার একটি ছবি। আমার আচারণ ভাল হলে সে লজ্জা বা চেতনা পাবে।
    • ২) জ্বলন্ত কয়লা গাদা করে রাখা হল একটি রূপক, যার অর্থ হল “স্বার্থহীন সেবা”। জ্বলন্ত কয়লা প্রত্যেকটি সংসারে লাগত। একজনের আগুন নিভে গেলে সে বন্ধু থেকে জ্বলন্ত কয়লা দেওয়ার অনুরোধ করত। বেশি জ্বলন্ত কয়লা দান করা মানে ‘অন্যকে স্বার্থহীনভাবে সেনা করা’, কারণ দাতারও কয়লা প্রয়োজন।
  • ১৩) মন্দের কাছে হেরে যেয়ো না, বরং ভাল দিয়ে মন্দকে জয় কর! > এটি আগের আদেশের সারাংশ। মন্দকে পরাজিত করার জন্য মাত্র একটি পথ আছে: ভাল কাজ করা।

পৌল এখানে এমন একটি মনোভাব, এমন আচার-ব্যবহারের কথা বলেন, যা মুখ দিয়ে প্রচারের চেয়ে অনেক শক্তিশালী ও কার্যকারী সাক্ষ্য।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - সরকারের প্রয়োজনীয়তা ও ভূমিকা

নির্দেশনা

বিশ্বাসী হিসাবে সরকার কোন দৃষ্টিতে দেখব? এই অনুচ্ছেদে পৌল এই প্রশ্নের উত্তর দেন। রোমীয় ১৩:১-৭ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৩:১-২ পদে পৌলের মৌলিক আদেশ কি? 
  • রোমীয় ১৩:১-২ পদে সরকারকে মানার পিছনে পৌল কি কারণ দেখান? এর অর্থ ঠিক কি? এর অর্থ কি নয়? 
  • রোমীয় ১৩:১-২: ‘সরকার ঈশ্বরের দ্বারা দেওয়া’ – এর অর্থ কি এই যে, প্রত্যেকটি সরকার বা নেতা ঈশ্বরের দ্বারা অনুমোদিত (নেতা যত নিষ্ঠুর হোক না কেন)? অথবা এর অর্থ এই যে, সাধারণভাবে বলা যায় যে, সরকার হল ঈশ্বরের দ্বারা স্থাপিত প্রতিষ্ঠা, যদিও একজন নির্দিষ্ট নেতার প্রকৃতপক্ষে রাজত্ব করার অধিকার আছে কিনা, তা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে (লোকেরা তাকে চায় কিনা, রাজত্বে ন্যায্যতা আছে কিনা ইত্যাদি)। কি মনে করেন? 
  • রোমীয় ১৩:৩-৪ এই পদগুলো অনুসারে সরকারের ভূমিকা ঠিক কি? সরকারের অধিকার ঠিক কি?
  • রোমীয় ১৩:৩-৪ – কেমন হয় যদি সরকার নিজেই অন্যায় করে? যদি সরকার ন্যায় বিচারের চেয়ে অন্যায় বিচার করে? যদি অন্যায়কারীদেরকে না থামায়? যদি শান্ত লোকেরা নির্ভয়ে বাস করতে পারে না?
  • এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যাতে নাগরিক হিসাবে আমার সরকারের প্রতি অবাধ্য হওয়ার অনুমতি আছে? এমন কি, অবাধ্য হওয়া উচিত? নতুন নিয়মে কোনো ঘটনা বা পদ আছে, যেখানে বিশ্বাসীরা অবাধ্য হয়েছিল?
  • রোমীয় ১৩:৫ – সরকারের আইন মানার জন্য আমার অনুপ্রেরণা কি হওয়া উচিত? 
  • কেন ‘ভয়ে বাধ্য হওয়া’ যথেষ্ট নয়, মনে করেন? 
  • রোমীয় ১৩:৬-৭ – কেন সরকারকে কর দিব?
  • রোমীয় ১৩:৭ – পৌল এখানে ৪ ধরণের দাবি উল্লেখ করেন, সেগুলো কি?
  • রোমীয় ১৩:৭ – এই পদ দ্বারা পৌল মূলত কি বলতে চান? 
  • মোট কথা আপনি কি মনের করেন, পৌল অনুসারে বিশ্বাসীরা সমাজে কি ধরণের ভূমিকা পালন করবে?
  • আপনি ব্যক্তিগতভাবে এই সরকার, সরকারের নিয়ম বা দেশের আইন কোন দৃষ্টিতে দেখেন? কোনো ক্ষেত্রে আপনাকের কি আপনার মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৩:১-২ পদে পৌলের মৌলিক আদেশ কি? > সরকারকে মেনে চল!
  • রোমীয় ১৩:১-২ পদে সরকারকে মানার পিছনে পৌল কি কারণ দেখান? এর অর্থ ঠিক কি? এর অর্থ কি নয়? > সরকার ঈশ্বরকে দ্বারা দেওয়া বলে আমাদের সরকারকে মানা দরকার। যদিও নেতারা আছে, যারা সরকারি ক্ষমতা দখল করে নিজের রাজত্ব বিস্তার করেছে, তবুও সরকার না থাকার চেয়ে সরকার থাকা ভাল।
  • রোমীয় ১৩:১-২: ‘সরকার ঈশ্বরের দ্বারা দেওয়া’ – এর অর্থ কি এই যে, প্রত্যেকটি সরকার বা নেতা ঈশ্বরের দ্বারা অনুমোদিত (নেতা যত নিষ্ঠুর হোক না কেন)? অথবা এর অর্থ এই যে, সাধারণভাবে বলা যায় যে, সরকার হল ঈশ্বরের দ্বারা স্থাপিত প্রতিষ্ঠা, যদিও একজন নির্দিষ্ট নেতার প্রকৃতপক্ষে রাজত্ব করার অধিকার আছে কিনা, তা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে (লোকেরা তাকে চায় কিনা, রাজত্বে ন্যায্যতা আছে কিনা ইত্যাদি)। কি মনে করেন? > এখানে বাইবেল পণ্ডিতদের মধ্যে দ্বিমত আছে। সম্ভবত, দ্বিতীয় সংজ্ঞাটি সঠিক সংজ্ঞা।
  • রোমীয় ১৩:৩-৪ এই পদগুলো অনুসারে সরকারের ভূমিকা ঠিক কি? সরকারের অধিকার ঠিক কি? > সরকারের কাজ হল অন্যায়কারীদের ভয় দেখানো এবং তাদেরকে শাস্তি দেওয়া, অর্থাৎ ন্যায় বিচার বিস্তার করা। সরকার যদি ন্যায় বিচার নিশ্চত করে, তবে তা দেশের জন্য মঙ্গল নিয়ে আসবে এবং শান্ত লোকেরা নির্ভয়ে দেশে বাস করতে পারে।
  • রোমীয় ১৩:৩-৪ – কেমন হয় যদি সরকার নিজেই অন্যায় করে? যদি সরকার ন্যায় বিচারের চেয়ে অন্যায় বিচার করে? যদি অন্যায়কারীদেরকে না থামায়? যদি শান্ত লোকেরা নির্ভয়ে বাস করতে পারে না? > এখানে খ্রিষ্টানদের মধ্যে দ্বিমত আছে। কেউ কেউ বলে, অন্যায় বিচার করলে সরকার তার রাজত্ব করার অধিকার হারিয়েছে। কেউ কেউ বলে, অন্যায় বিচার হলেও সরকার না থাকার চেয়ে সরকার থাকা ভাল।
  • এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যাতে নাগরিক হিসাবে আমার সরকারের প্রতি অবাধ্য হওয়ার অনুমতি আছে? এমন কি, অবাধ্য হওয়া উচিত? নতুন নিয়মে কোনো ঘটনা বা পদ আছে, যেখানে বিশ্বাসীরা অবাধ্য হয়েছিল? > বাইবেলে একটি উদাহরণ যখন প্রেরিতেরা সরকার (এখানে: যিহূদী পরিষদের) একটি আদেশ অমান্য করে হল পিতর ও যোহন, যারা সুসমাচার প্রচারের নিষেদ্ আজ্ঞা অসীকার করেন (প্রেরিত ৪:১৮-২০)। যা মন্দ, যা অনৈতিক, যা বে-আইনি যদি সরকার তা দাবি করে, তবে সরকারকে আপত্তি জানানো দরকার। কিন্তু কিভাবে? অমত প্রকাশ? বাধ্যতা অস্বীকার? মন্দ কাজে অংশ গ্রহণ অস্বীকার? মন্দ কাজের স্বক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ? সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন? বিষয়টি সহজ না। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি খুব জটিল এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হয়তো ভিন্ন উত্তর থাকতে পারে।
  • রোমীয় ১৩:৫ – সরকারের আইন মানার জন্য আমার অনুপ্রেরণা কি হওয়া উচিত? > মাত্র শাস্তি পাওয়ার ভয় না, বরং বিবেক পরিষ্কার রাখার জন্য সরকারের প্রতি বাধ্য হওয়া দরকার।
  • কেন ‘ভয়ে বাধ্য হওয়া’ যথেষ্ট নয়, মনে করেন? > অবাধ্য হওয়ার চেয়ে বাধ্য হওয়া ভাল, কিন্তু তা যদি শুধুমাত্র ভয়ের কারণে করি, তবে তা যথেষ্ট নয়, কারণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সব নাগরিকদের খেয়াল করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দোষ ছাপানো সম্ভব হবে না। যখন সরকারের গুরুত্ব এবং আইনগুলোর মঙ্গলময়তা বুঝি, শুধুমাত্র তখনই বাধ্যতা পূর্ণ হয়। জোর করে বাধ্যতা বিস্তার, এটা ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
  • রোমীয় ১৩:৬-৭ – কেন সরকারকে কর দিব? > সরকার যদি ঈশ্বরের দ্বারা দেওয়া প্রতিষ্ঠা তবে সরকার চালানোর জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, সেই অর্থ আদায় করার অধিকার সরকারের অবশ্যই আছে। সরকার যদি কোনো ভূমিকা পালন করে, তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করতে হয়, অর্থাৎ কর আদায় করতে হয়।
  • রোমীয় ১৩:৭ – পৌল এখানে ৪ ধরণের দাবি উল্লেখ করেন, সেগুলো কি? > কর, শুল্ক, শ্রদ্ধা, সম্মান।
  • রোমীয় ১৩:৭ – এই পদ দ্বারা পৌল মূলত কি বলতে চান? > যত প্রতিষ্ঠা বা লোক নির্দিষ্ট একটি ভূমিকা বা দায়িত্ব পালন করে, ততজনের কিছু না কিছু অধিকার বা উপযুক্ত দাবি আছে। যা তাদের পাওনা, তা তাদের দেওয়া উচিত।
  • মোট কথা আপনি কি মনের করেন, পৌল অনুসারে বিশ্বাসীরা সমাজে কি ধরণের ভূমিকা পালন করবে? > পৌল চান যেন বিশ্বাসীরা প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠা, প্রত্যেকটি ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্মান করে, মানে, এর গুরুত্ব বুঝে এবং সমর্থন করে। যেন বিশ্বাসীরা তাদের সমাজের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হয়।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - কারও কাছে ঋণী থাকার বিষয়

নির্দেশনা

রোমীয় ১৩:৮ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৩:৮ পদে পৌল ‘ঋণ’ বলতে শব্দটি কি রূপক অর্থে ব্যবহার করেন? না সাধারণ অর্থে? না উভয়?
  • রোমীয় ১৩:৮ পদ কি বুঝায় যে, অর্থনৈতিক ঋণ কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদিত নয়? আপনার উত্তরটি দ্বিতীয় বিবরণ ১৫:৭-৮ পদের সাথে কিভাবে মিলাবেন?
  • আপনার এই মুহূর্তে কোনো ঋণ আছে? আপনি কি কথা অনুসারে পরিশোধ করছেন? কোনো ক্ষেত্রে দেরি করছেন? না কি একজনের ‘বড় মন’ দেখে সুবিধা নিচ্ছেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৩:৮ পদে পৌল ‘ঋণ’ বলতে শব্দটি কি রূপক অর্থে ব্যবহার করেন? না সাধারণ অর্থে? না উভয়? > ‘ভালবাসার ঋণ’ হল রূপক অর্থ। আমরা সবাই সবার প্রতি ভালবাসার ক্ষেত্রে ঋণী। কিন্তু আদেশটি অর্থনৈতিক ঋণও বুঝায়, অর্থাৎ আমাদের টাকা সঠিক সময়ের মধ্যে ফেরত দেওয়া দরকার।
  • রোমীয় ১৩:৮ পদ কি বুঝায় যে, অর্থনৈতিক ঋণ কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদিত নয়? আপনার উত্তরটি দ্বিতীয় বিবরণ ১৫:৭-৮ পদের সাথে কিভাবে মিলাবেন? > ঋণ নেওয়া বা ঋণ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমন নয়।

প্রকৃতপক্ষে ঋণ নেওয়া ও ঋণ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবুও বাইবেলে বেশ কয়েকটি শর্ত রাখা হয়, কোন কোন পরিস্থিতিতে ঋণ উপযুক্ত বা কোন কোন পরিস্থিতিতে তা উপযুক্ত নয়। এই সব এখানে আলোচনা করা সম্ভব না। কিন্তু অবশ্যই এই উপসংহারে আসা যায়: পৌল চান যেন বিশ্বাসীরা তাদের কথা না ভাঙ্গে। যদি প্রতিজ্ঞা দিলাম ‘ফেরত দিব’, তবে ফেরত দিতেই হবে। যে সময়ে বলেছি, সেই সময়ই ফেরত দিতে হবে। যে পরিমাণ বলা হয়েছে, সেই পরিমাণে দিতে হবে। যে পরিকল্পনা রাজি হওয়া হয়েছিল যদি আমি তা অনুসারে ফেরত দেই, তবে তা অনুমোদিত।

  • আপনার এই মুহূর্তে কোনো ঋণ আছে? আপনি কি কথা অনুসারে পরিশোধ করছেন? কোনো ক্ষেত্রে দেরি করছেন? না কি একজনের ‘বড় মন’ দেখে সুবিধা নিচ্ছেন? তাই যদি হয়, তা অবশ্যই আজকে বিষয়টি সমাধান করুন! কাউকে ঘুরাবেন না। দেরিও করবেন না।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - অন্যের প্রতি ভালবাসা আইন পূর্ণ করে

নির্দেশনা

রোমীয় ১৩:৮-১০ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৩:৮-১০ পদে পৌলের মূল কথা কি? 
  • পৌল এই কথাটি যীশুর কথার উপর ভিত্তি করেই বলেন। যীশু আইন ও ভালবাসার ক্ষেত্রে কি বলেছিলেন? কোনো বাইবেল পদ মনে পড়ে?
  • পৌল এখানে আবারও আইন-কানুনের খুব ইতিবাচক দৃষ্টি দেখান। “খ্রীষ্টেতে স্বাধীনতা”, “আত্মা দিয়ে পরিচালিত হওয়া”, “যীশুর মত হওয়া”, এই সব মানেই আইন-কানুন পালন করা। আপনি কি তা গভীরভাবে বুঝতে পেরেছেন, না কি এখনও আইন ‘কঠোর’ মনে করেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৩:৮-১০ পদে পৌলের মূল কথা কি? > যদি আমরা পরস্পর্কে ভালবাসি, তবে আমরা পরস্পরের প্রতি ন্যায্য আচরণ করব। আইন-কানুনের উদ্দেশ্য ঠিক এই: অন্যের প্রতি ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা। তাই যদি আমি প্রকৃতপক্ষে অন্যদেরকে ভালবাসি, আমি আইন পূর্ণ করছি।
  • পৌল এই কথাটি যীশুর কথার উপর ভিত্তি করেই বলেন। যীশু আইন ও ভালবাসার ক্ষেত্রে কি বলেছিলেন? কোনো বাইবেল পদ মনে পড়ে? > যীশু বলেছিলেন যে, ঈশ্বরকে ভালবাসা ও প্রতিবেশীকে ভালবাসা হল আইন-কানুনের সারাংশ, আইন-কানুনের মূল বিষয় (মথি ২২:৩৮-৩৯)। অন্য কথায়, যীশু বলেছেন যে, এই দু’টি আদেশের চেয়ে বড় কোনো আদেশ নেই (মার্ক ১২:৩১)।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - পৌলের জরুরী ভাব

নির্দেশনা

রোমীয় ১৩:১১-১৪ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৩:১১-১২ পদে পৌল একটি জরুরী ভাব প্রকাশ করেন, জাগানোর সময় হয়েছে, এগিয়ে যাওয়ার ও যুদ্ধ করার সময় হয়ে গেছে বলে। আপনি কি মনে করেন, পৌলের এই জরুরী ভাবের কারণ তি গদে পারে? 
  • রোমীয় ১৩:১২ পদে যখন পৌল বলেন “এখনই উদ্ধার পাবার সময় কাছে এসে গেছে” (সাধারণ) বা “যখন আমরা বিশ্বাস করিয়াছিলাম, তখন অপেক্ষা এখন পরিত্রাণ আমাদের আরো সন্নিকট” (কেরী) – তিনি কি বুঝাচ্ছেন? আমরা বলি ‘উদ্ধার বা পরিত্রাণ পেয়েছি’ কিন্তু এখানে পৌল বলেন ‘পরিত্রাণ কাছে এসে গেছে’ – এর অর্থ কি? 
  • রোমীয় ১৩:১৩-১৪ পদে পৌল দেখান, জরুরী ভাবের কারণে বিশ্বাসীদের কি করা উচিত। তার নীতির বা আদেশের একটি তালিকা বানান।
    নিষেদ্ধাজ্ঞা: …………………………………………………………………………………………..………………
    ইতিবাচক আজ্ঞা: ……………………..……………………………………………………..…………………….

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১৩:১১-১২ পদে পৌল একটি জরুরী ভাব প্রকাশ করেন, জাগানোর সময় হয়েছে, এগিয়ে যাওয়ার ও যুদ্ধ করার সময় হয়ে গেছে বলে। আপনি কি মনে করেন, পৌলের এই জরুরী ভাবের তারণ তি গদে পারে? > যীশুর আগমন শীঘ্রই হবে, হয়তো একারণে পৌল এভাবে বলেন। অথবা পত্রটি লেখার সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেল, একারণে।
  • স্মরণ করুন, পত্রটি ৫৬ খ্রীষ্টাব্দে লেখা হয়েছে। ৫৪ খ্রীষ্টাব্দে ১৭ বছরের যুবক নীরো রোম রাজ্যের নতুন সম্রাট হিসাবে হয়ে রাজত্ব শুরু করেছেন। বিভিন্নদিকে সমস্যা দেখা যায়: নীরো আপন মাকে খুন করেন, তিনি বিলাসিতা ও অনৈতিক আচরণে নিজেকে সমর্পিত করেন। তিনি রাজ্যের নিরাপত্তা বা ন্যায্যতা নিশ্চিত করার কাজের চেয়ে শিল্পী কাজে ও খেলা-ধূলায় ব্যস্ত। ৮ বছরের মধ্যে নীরো খ্রিষ্টান্দের অত্যাচার করতে শুরু করবেন। হয়তো পৌল এই আসন্ন অস্থিরতার প্রথম কিছু চিহ্ন দেখতে পান।
  • রোমীয় ১৩:১২ পদে যখন পৌল বলেন “এখনই উদ্ধার পাবার সময় কাছে এসে গেছে” (সাধারণ) বা “যখন আমরা বিশ্বাস করিয়াছিলাম, তখন অপেক্ষা এখন পরিত্রাণ আমাদের আরো সন্নিকট” (কেরী) – তিনি কি বুঝাচ্ছেন? আমরা বলি ‘উদ্ধার বা পরিত্রাণ পেয়েছি’ কিন্তু এখানে পৌল বলেন ‘পরিত্রাণ কাছে এসে গেছে’ – এর অর্থ কি? > আমরা ঠিকই পরিত্রাণ পেয়েছি, আমরা যীশুর সঙ্গে জীবন-যাপন করছি কিন্তু আরো বড় একটি উদ্ধার আমাদের জন্য অপেক্ষা করে।
  • নতুন নিয়মের বিভিন্ন পদে পরিত্রাণের তিনটি বর্ণনা পাই:
    • ১) আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি (অর্থাৎ আমাদের নির্দেষ বলে গ্রহণ করা হয়েছে, ঈশ্বরের সন্তান হিসাবে দত্তক নেওয়া হয়েছে, আমরা তাঁর রাজ্যের নাগরিক হয়েছি ইত্যাদি, ইংরেজী ‘justification’)।
    • ২) আমরা পরিত্রাণ পাচ্ছি (অর্থাৎ পবিত্র আত্মা দ্বারা আমাদের জীবন পরিবর্তিত হচ্ছে, আমরা তাঁর পবিত্রতায় হাঁটে শিখছি, ইংরেজী ‘sanctification’)।
    • ৩) আমরা পরিত্রাণ পাব (অর্থাৎ যীশুর আগমনে যখন তিনি মন্দতা সরিয়ে সব প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করবেন, ইংরেজী ‘glorification’)।
  • রোমীয় ১৩:২৩ পদে পৌল ‘পরিত্রাণ’ তৃতীয় অর্থে বলেন।
  • রোমীয় ১৩:১৩-১৪ পদে পৌল দেখান, জরুরী ভাবের কারণে বিশ্বাসীদের কি করা উচিত। তার নীতির বা আদেশের একটি তালিকা বানান। > 
    • নিষেদ্ধাজ্ঞা: হৈ-হল্লা বাদ দাও! মাতলামি, ব্যভিচার ও বিশৃঙ্খলায় জীবন করো না! ঝগড়াঝাটি বা হিংস্রতায় চলাফেরা করো না!
    • ইতিবাচক আদেশ: আলোয় চলাফেরা লোকদের মত উপযুক্তভাবে জীবন কাটাও! কাপড়ের মত প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে দিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলো! পাপ-স্বভাবের ইচ্ছা পূর্ণ করবার দিকে মন দিয়ো না!
  • একটি মন্তব্য: আমাদের যুগে যখন যীশুর দ্বিতীয় আগমন নিয়ে জরুরী ভাব তেরি করা হয়, প্রায়ই দেখা যায় যে, লোকেরা ঠিক বিপরীত আচরণ করে: তারা মাতলামি করে, তাড়াহুড়া বিয়ে করে বা ভয় পেয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। লক্ষ্য করুন, পৌল তার পাঠকদের সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের মনোভাব ও আচরণ করতে বলেন।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - খাবারের বিষয়ে বিশ্বাসীদের মধ্যে মতের অমিল

নির্দেশনা

রোমীয় ১৪:১-৪ পদ পড়ুন। স্মরণ করুন, পত্রটি লেখার জন্য পৌলের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হল: যিহূদী এবং অযিহূদীদের মধ্যে সুসম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করা। এখানে আমরা বিশ্বাসীদের মধ্যে মতের অমিলের একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ পায়: খাবারের নিয়ম। যিহূদীরা শুধুমাত্র এমন মাংস খেত, যা মোশির আইন-কানুন অনুসারে অনুমোদিত (গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি) কিন্তু অযিহূদীরা সব ধরণের মাংস খেত। এমন পরিস্থিতিতে যেখানে নিশ্চিত ছিল না, কিভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেখানে যিহূদীরা হয়তো “কেবল সব্জী” বা “শাক” খেত (যেমন দানিয়েলও করেছিলেন, দানিয়েল ১:১২)।
নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৪:১-৪ পদে পৌল দু’পাশের লোকদের কাছে কি নির্দিষ্ট আদেশ দেন?
  • পরস্পর্কে ভালবাসা ও সম্মান করা, এটা পৌলের কথা অনুসারে দেখতে কেমন হবে?
  • রোমীয় ১৪:৪ পদের অর্থ কি? পৌল এখানে কি বুঝাতে চান? 
  • রোমীয় ১৪:৪ “তুমি কে, যে অন্যের চাকর বিচার কর?” এই কথার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর আপনাকে কোনো চেতনা দিতে চাচ্ছেন? তাতে কি করবেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৪:১-৪ পদে পৌল দু’পাশের লোকদের কাছে কি নির্দিষ্ট আদেশ দেন? >
    • তিনি শক্তিশালীদের বলেন, যেন দুর্বলদের তুচ্ছ না করে বা তাদের সাথে তর্ক না করে।
    • তিনি দুর্বলদের বলেন, স্বাধীনদের যেন তারা বিচার না করে বা তাদের ঘৃণা না করে।
  • পরস্পর্কে ভালবাসা ও সম্মান করা, এটা পৌলের কথা অনুসারে দেখতে কেমন হবে? > বিশ্বাসীরা পরস্পর্কে মানবে, তারা এই ধরণের বিষয়ের কারণে অন্যকে বিচার করবে না, তুচ্ছও করবে না।
  • রোমীয় ১৪:৪ পদের অর্থ কি? পৌল এখানে কি বুঝাতে চান? > প্রত্যেক বিশ্বাসী প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরের কাছে দায়ী। প্রত্যেকজন তার চেতনা যেমন বলে, তার তা অনুসারে আচারণ করা উচিত। ঈশ্বর সবার হৃদয় দেখে তাদের গ্রহণ করেন এবং অন্যদের বিচার থেকে রক্ষা করবেন।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - আর একটি ব্যবহারিক উদাহরণ: দিবস পালন

নির্দেশনা

রোমীয় ১৪:৫-৬ পদ পড়ুন। অনুচ্ছেদটি হল আগের অনুচ্ছেদের সমান্তরাল। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • এখানে উল্লিখিত বিশেষ দিন মানা বা না মানা, এই বিষয়টি কি হতে পারে? 
  • রোমীয় ১৪:৫ পৌলের “এই ব্যাপারে কে কি করবে না করবে, তাতে যেন তার মন পুরোপুরিভাবে সায় দেয়” (সাধারণ) এবং “প্রত্যেক ব্যক্তি আপন আপন মনে সুনিশ্চিত হউক” (কেরী) – এই কথার অর্থ কি?
  • বর্তমান যুগের বিশ্বাসীরা কি কি বিষয় নিয়ে তর্ক করে, যা আপনি মনে করেন, পৌল এই বিষয়ে বলতেন যে, ‘দ্বিমত হওয়া যায়’? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • এখানে উল্লিখিত বিশেষ দিন মানা বা না মানা, এই বিষয়টি কি হতে পারে? > হয়তো যিহূদীদের বিশ্রাম বার এবং বিভিন্ন পর্ব পালন করার বিষয়ৈ মণ্ডলীতে তর্ক হয়েছিল। হয়তো যিহূদীরা অযিহূদীদের এগুলো পালন করতে বাধ্য করতে চেয়েছিল।
  • যিহূদীরা বিশ্রাম বার এবং বিভিন্ন বাৎসরিক পর্ব পালন করত (লেবীয় ২৩ দেখুন)। কিছু পর্ব মোশির পরে যোগ দেওয়া হয়েছিল (যেমন পূরীম পর্ব, ইষ্টের ৯:৩০-৩২)। বেশ কিছু পর্ব ইস্রায়েল জাতির ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, যাতে অযিহুদী বিশ্বাসীরা কম গুরুত্ব দিত। সহজে বুঝা যায় যে, এই ধরণের বিষয় তর্কের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
  • রোমীয় ১৪:৫ পৌলের “এই ব্যাপারে কে কি করবে না করবে, তাতে যেন তার মন পুরোপুরিভাবে সায় দেয়” (সাধারণ) এবং “প্রত্যেক ব্যক্তি আপন আপন মনে সুনিশ্চিত হউক” (কেরী) – এই কথার অর্থ কি? > পৌল দেখান যে, এই বিষয়ে বিশ্বাসীদের মধ্যে দ্বিমত হতে পারে, কিন্তু যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হল এই: বিশ্বাসী যেন নিজের চেতনা বা নিজের মনের চিন্তার বিরুদ্ধে আচারণ না করে। যদি আমি মনে করি, বিশেষ দিনগুলো পালন করা উচিত, তবে আমার সেগুলো পালন করা দরকার। যদি আমি মনে করি, এতে গুরুত্ব নেই, তবে আমার এই বিষয়ে স্বাধীনতা আছে।
  • পোলের সারাংশ এই: নিজের চেতনার বিরুদ্ধে, নিজের মনের নিশ্চয়তার বিরুদ্ধে কিছু করো না! পৌল আরো দেখান যে, এমন বিষয় আছে, যা নিয়ে বিশ্বাসীদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে। অর্থাৎ এমন বিষয় আছে, যাতে ঈশ্বর স্বাধীনতা দিয়েছেন।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - যা করো না কেন, সব কিছু ঈশ্বরের গৌরবের জন্য করো!

নির্দেশনা

রোমীয় ১৪:৭-৮ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন।

  • এই পদগুলোতে পৌলের মূল সংবাদ কি?
  • পৌলের এই কথা আগের কথার সাথে কিভাবে সম্পর্কিত?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

রোমীয় ১৪:৭-৮ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন।

  • এই পদগুলোতে পৌলের মূল সংবাদ কি? > যত যা আমরা করি, যেন আমরা প্রভুর জন্যই তা করি। জীবিত থাকি বা মরি, তা যেন প্রভুর জন্যই হয়।
  • পৌলের এই কথা আগের কথার সাথে কিভাবে সম্পর্কিত? > বাঁচি বা মরি (রোমীয় ১৪:৭-৯), বিশেষ দিন পালন করি বা না করি (রোমীয় ১৪:৫-৬), মাংস খাই বা না খাই (রোমীয় ১৪:১-৫), সব কিছু যেন প্রভুর জন্যই করি। পৌল এই বিষয়গুলোতে স্বাধীনতা দেন, এবং তিনি চান যেন প্রত্যেক বিশ্বাসী তার মনের চিন্তা ও চেতনা অনুসারে কাজ করে, তা প্রভুরই জন্য করে।
  • অন্যান্য বিশ্বাসীরা কি করে বা না করে, আমার মত করে বা না করে, আমরা তা নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত। পৌল আমাদের সব কিছুতে প্রভুকে গৌরব দেওয়ার বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে বলেন!

রোমীয় ১২ অধ্যায় - সবাই ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরের কাছে দায়ী

নির্দেশনা

রোমীয় ১৪:১০-১২ পদ পড়ুন। রোমীয় ১৪:১১ পদ হল যিশাইয় ৪৫:২৩ পদের উদ্ধৃতি। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • এই পদগুলোতে পৌলের মূল সংবাদ কি?
  • পৌলের এই কথা আগের কথার সাথে কিভাবে সম্পর্কিত?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • এই পদগুলোতে পৌলের মূল সংবাদ কি? > ঈশ্বর প্রত্যেকজন বিশ্বাসীর থেকে ব্যক্তিগতভাবে হিসাব নিবেন। অন্যরা কি করে, তা নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার চেয়ে আমি কি করি, আমার তাতে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
  • পৌলের এই কথা আগের কথার সাথে কিভাবে সম্পর্কিত? > অন্যদের আচারণ, অনুশীলন বা অভ্যাসগুলো মূল্যায়ন করা ও বিচার করা, অর্থাৎ অন্যদের দোষ ধরা, এইটা আমার কাজ নয়। এর চেয়ে বরং আমার নিজের মন, হৃদয় ও চেতনার বিষয়ে আমার ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা দরকার।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - তোমার স্বাধীনতা যেন আর একজন্যের বিঘ্ন না হয়

নির্দেশনা

রোমীয় ১৪:১৩-২৩ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৪:১৩ – আগের কথার সারাংশ পৌল এখানে কিভাবে দেন?
  • রোমীয় ১৪:১৫ – নিজের স্বাধীনতার চেয়ে পৌল ঠিক কি আরো গুরুত্বপূর্ণ বলেন? 
  • রোমীয় ১৪:১৬ – এই পদ দ্বারা পৌল কি বুঝান?
  • রোমীয় ১৪:১৭ – আগের ও পরের পদের আলোতে ১৭ পদে পৌল কি বুঝাতে চান? 
  • রোমীয় ১৪:১৯ – পৌল এই পদে একটি সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালি উপসংহারে আসেন। তা কি? তিনি কিতে প্রাধান্য দেন?
  • রোমীয় ১৪:২০-২১ – পৌল ১৯ পদে যা ইতিবাচক আদেশ হিসাবে বলেছেন, তিনি এখন তা নেতিবাচক আদেশ হিসাবে আর একবার বলেন। এই পদগুলোতে তার আদেশ কি?
  • রোমীয় ১৪:২২-২৩ – পৌল এখানে (আবারও) একটি নীতি প্রকাশ করেন। নীতিটি কি? 
  • এই অনুচ্ছেদের সংক্ষিপ্ত সারাংশ লিখুন! 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৪:১৩ – আগের কথার সারাংশ পৌল এখানে কিভাবে দেন? > এমন কোন কাজ করব না যা দেখে কোনো ভাই মনে বাধা পেতে পারে বা পাপে পড়তে পারে।
  • রোমীয় ১৪:১৫ – নিজের স্বাধীনতার চেয়ে পৌল ঠিক কি আরো গুরুত্বপূর্ণ বলেন? > স্বাধীনতার চেয়ে প্রতিবেশীকে ভালবাসা, ভালবাসার মনোভাবে নিয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। একজন ব্যক্তি যার জন্য যীশু মারা গেছেন, তার সর্বনাশের কারণ যেন আমি না হই – খাবারের কারণে বা আমার স্বাধীনতা রক্ষা করার কারণে।
  • রোমীয় ১৪:১৬ – এই পদ দ্বারা পৌল কি বুঝান? > ‘খ্রীষ্টেতে স্বাধীনতা’ ভাল বিষয়, কিন্তু অন্য একজনের জন্য যদি তা কষ্টের কারণ বা বিঘ্ন হয়ে দাঁড়ায, তবে তা আর ভাল নয়।
  • রোমীয় ১৪:১৭ – আগের ও পরের পদের আলোতে ১৭ পদে পৌল কি বুঝাতে চান? > নিজের ইচ্ছার মত খাবার খেলাম, নিজের স্বাধীনতা প্রকাশ করলাম – এর চেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হল “সৎ পথে চলা” (কেরী: “ধার্মিকতা”), অর্থাৎ এমনভাবে জীবন-যাপন করা, যাতে ঈশ্বর খুশি হন এবং যাতে অন্যের প্রতি ন্যায্য ব্যবহার করি। শান্তি, অর্থাৎ অন্য বিশ্বাসীদের সাথে শান্তিতে থাকা এবং আনন্দ হল উপযুক্ত ও স্বার্থহীন ব্যবহারের একটি ফল।
  • রোমীয় ১৪:১৯ – পৌল এই পদে একটি সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালি উপসংহারে আসেন। তা কি? তিনি কিতে প্রাধান্য দেন? > উপসংহার: “এইজন্য যা করলে শান্তি হয় এবং যার দ্বারা আমরা একে অন্যকে গড়ে তুলতে পারি, এস, আমরা তারই চেষ্টা করি।”  নিজের স্বাধীনতা প্রকাশ ও প্রয়োগ করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এই: শান্তিতে একসাথে বাস করা এবং একে অন্যকে গড়ে তোলা।
  • রোমীয় ১৪:২০-২১ – পৌল ১৯ পদে যা ইতিবাচক আদেশ হিসাবে বলেছেন, তিনি এখন তা নেতিবাচক আদেশ হিসাবে আর একবার বলেন। এই পদগুলোতে তার আদেশ কি? > “কোন খাবারের জন্য ঈশ্বরের কাজ নষ্ট কোরো না!” “কেউ কিছু খেয়ে যদি অন্যের মনে বাধার সৃষ্টি করে তবে তা খাওয়া তার পক্ষে অন্যায়।” “এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে তোমার কোন ভাই মনে বাধা পায়”
  • রোমীয় ১৪:২২-২৩ – পৌল এখানে (আবারও) একটি নীতি প্রকাশ করেন। নীতিটি কি? > এমন বিষয় আছে, যা নিয়ে দ্বিমত হওয়া যায়। যা তুমি সঠিক মনে কর, তা অনুসারে করো। যদি তোমার সন্দেহ থাকে বা তোমার চেতনা আপত্তি জানাচ্ছে, তবে তা করা ঠিক হবে না। “বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোন কিছু করাই পাপ”
  • এই অনুচ্ছেদের সংক্ষিপ্ত সারাংশ লিখুন! > কিছু বিষয় আছে, যাতে দ্বিমত হওয়া যায় এবং যাতে ঈশ্বর স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু নিজের স্বাধীনতা নিয়ে শ্লাঘা করার চেয়ে আমাকে নিশ্চিত করতে হয় যে, আমার ব্যবহার দ্বারা কোন ভাইএর জন্য কষ্ট, বিঘ্ন বা প্রলোভান তৈরি না হয়।
  • মোট কথা: স্বাধীনতা ভাল – অন্যকে প্রেম করা আরো ভাল!

রোমীয় ১২ অধ্যায় - নিজেকে না বরং ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করো

নির্দেশনা

রোমীয় ১৫:১-৪ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৫:১-২ – কাকে সন্তুষ্ট করব? কাকে সন্তুষ্ট করব না? কোন উদ্দেশ্যে তা করব?
  • রোমীয় ১৫:৩-৪ – কেন পৌল খ্রীষ্টের আদর্শ নিয়ে কথা বলেন?
  • রোমীয় ১৫:৪ – পৌল এখানে গীত ৬৯:৯ পদ উদ্ধৃতি করেন। বিশ্বাসীরা পবিত্র শাস্ত্র থেকে কি পাবে, পৌল বলেন?
  • আপনি শাস্ত্রপাঠ থেকে তা-ই পাচ্ছেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৫:১-২ – কাকে সন্তুষ্ট করব? কাকে সন্তুষ্ট করব না? কোন উদ্দেশ্যে তা করব? > নিজেদেরকে সন্তুষ্ট করব না, বরং বিশ্বাসী ভাইকে সন্তুষ্ট করবে। বিশ্বাসী ভাইকে গড়ে তুলার জন্যই তা করি।
  • রোমীয় ১৫:৩-৪ – কেন পৌল খ্রীষ্টের আদর্শ নিয়ে কথা বলেন? > কারণ যীশু ঠিক তা-ই করতেন। নিজের সুযোগ-সুবিধা না বরং অন্যের মঙ্গলের জন্যই তিনি সব কাজ করতেন। অপমানিত হলেও তা করতেন।
  • রোমীয় ১৫:৪ – পৌল এখানে গীত ৬৯:৯ পদ উদ্ধৃতি করেন। বিশ্বাসীরা পবিত্র শাস্ত্র থেকে কি পাবে, পৌল বলেন? > পৌল চান যেন তারা পবিত্র শাস্ত্র থেকে শিক্ষা পায়, যেন ধৈর্য ও উৎসাহ লাভ করে এবং যেন ফলে আশ্বাস পায়।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - রোমীয় চিঠির মূর কথা

নির্দেশনা

রোমীয় ১৫:৫-৬ পদ কেরী অনুবাদে পড়ুন। এই দু’টি পদ হল রোমীয় পত্রটির একটি চমৎকার সারাংশ এবং রোমীয় মণ্ডলীর জন্য পৌলের প্রার্থনা। পৌল এখানে কি বলেন, তা সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন!

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৫:৫-৬ পদ কেরী অনুবাদে পড়ুন। এই দু’টি পদ হল রোমীয় পত্রটির একটি চমৎকার সারাংশ এবং রোমীয় মণ্ডলীর জন্য পৌলের প্রার্থনা। পৌলের কথা সংক্ষিপ্তভাবে বলা: > পৌল প্রার্থনা করেন যেন ধৈর্যের ও সাস্ত্বনাদাতা ঈশ্বর তাদেরকে একমনা হতে দেন (যিহূদী ও অযিহূদী), যেন তারা একচিত্তে এক মুখে যীশুর ও পিতর গৌরব করে।
  • এখানে অবশ্যই যীশুর এই কথা মনে পড়ে (যোহন ১৭:২০-২১) “অনুরোধ করছি, যেন তারা সকলে এক হয় … যেন আমাদের সংগে যুক্ত থাকতে পারে। তাতে জগতের লোকেরা বিশ্বাস করতে পারবে যে, তুমিই আমাকে পাঠিয়েছ।” বিশ্বাসীদের মধ্যে একতা থাকলে জগত জানবে যে, পিতা যীশুকে পাঠিয়েছেন!

রোমীয় ১২ অধ্যায় - একে অন্যকে আপন করে নাও

নির্দেশনা

রোমীয় ১৫:৭-৯ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৫:৭ – পৌল এখানে একটি তুলনা দেখান, একটি উদ্দেশ্য দেখান এবং সাথে একটি আদেশ দেন।
    তুলনা: ………………………………………………………………………………..………………………………………..
    উদ্দেশ্য: ……………………………………………………………………………..………………………………………..
    আদেশ: ………………………………………………………………………………..………………………………………..
  • রোমীয় ১৫:৮-৯ – খ্রীষ্ট কার সেবাকারী বা দাস হয়েছিলেন? তা দ্বারা তিনি কোন দু’টি উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছিলেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৫:৭ – পৌল এখানে একটি তুলনা দেখান, একটি উদ্দেশ্য দেখান এবং সাথে একটি আদেশ দেন। >
    তুলনা: যেমন খ্রীষ্ট আমাদের আপন করে নিয়েছেন তেমনি তোরাও একে অন্যকে আপন করে নাও।
    উদ্দেশ্য: ঈশ্বরের গৌরব যাতে হয়।
    আদেশ: একে অন্যকে আপন করে নাও!
  • রোমীয় ১৫:৮-৯ – খ্রীষ্ট কার সেবাকারী বা দাস হয়েছিলেন?
  • তা দ্বারা তিনি কোন দু’টি উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছিলেন? > তিনি যিহূদীদের (ত্বকছেদ প্রাপ্ত) সেবাকারী হয়েছিলেন।
     তাঁর উদ্দেশ্য? > 
    • ১) পূর্বপূরুষদের কাছে যেন প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়।
    • ২) যেন অযিহূদীরা তার দয়া পেয়ে তাঁকে গৌরব করবে।
  • পৌল আবারও দেখানে যে, ঈশ্বর যিহূদীদের দয়া দেখানোর মধ্য দিয়ে অযিহূদীদেরও দয়া দেখান।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - সব সময় ঈশ্বরের উদ্ধারের পরিকল্পনা যিহূদী অযিহূদী উভয়ের জন্য

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১৫:৯-১৩ পদ পড়ুন। পৌল এখানে পুরাতন নিয়ম থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি দেখান:
    • রোমীয় ১৫:৯  পদ উদ্ধৃতি করে গীত ১৮:৪৯, ২ শমূয়েল ২২:৫০ পদ।
    • রোমীয় ১৫:১০ পদ উদ্ধৃতি করে দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪৩          পদ।
    • রোমীয় ১৫:১১ পদ উদ্ধৃতি করে গীত ১১৭:১                   পদ।
    • রোমীয় ১৫:১২ পদ উদ্ধৃতি করে যিশাইয় ১১:১০                পদ।
  • পৌল এই উদ্ধতিগুলো দ্বারা কি দেখাতে চান? আগের দু’টি পদ (রোমীয় ১৫:৭-৮) বিবেচনা করে উত্তর দিন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • পৌল এই উদ্ধতিগুলো দ্বারা কি দেখাতে চান? আগের দু’টি পদ (রোমীয় ১৫:৭-৮) বিবেচনা করে উত্তর দিন। > আগের দু’টি পদে পৌল যা বলেছেন, তা প্রমাণ করার জন্য তিনি এখানে পুরাতন নিয়ম থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি দেখান। এই উদ্ধৃতি দ্বারা পৌল দেখাতে চান যে, যিহূদীদের বিশেষ ভূমিকার জন্য আহ্বান করলেও ঈশ্বর সব সময় অযিহূদীদের জন্যও কাজ করেছিলেন এবং তাদেরকে তাঁর উদ্ধারে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন।
  • যা পৌল রোমীয় পত্রটিতে বিভিন্নভাবে বলেছিলেন, তা তিনি এখানে পত্রটি সমাপ্ত করার সময়ে আর একবার বলেন: ঈশ্বরের খেয়াল, ভালবাসা ও উদ্ধারের পরিকল্পনা সব সময় যিহূদী ও অযিহূদী উভয়ের জন্য ছিল। সেই বড় মনের ঈশ্বর “তোমাদের বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে অসীম আনন্দ ও শান্তিতে তোমাদের পরিপূর্ণ করুন। তাহলে পবিত্র আত্মার শক্তিতে তোমাদের অন্তরে আশা উপ্‌চে পড়বে” (রোমীয় ১৫:১৩)।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - পৌলের উদ্দেশ্য ও রোমীয় মণ্ডলীকে সেবা কাজে লাগানো

নির্দেশনা

রোমীয় ১৫:১৪-৩৩ পদ পড়ুন। রোমীয় পত্রের অধ্যয়নের শুরুতে আমরা এই পদগুলোর আলোচনা ইতিমধ্যে করেছিলাম। সম্পূর্ণ পত্রের আলোতে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৫:১৪-২১ – কেন পৌল তার চিঠির শেষে আবারও তার আহ্বান নিয়ে কথা বলেন?
  • রোমীয় ১৫:২২-৩৩ – কেন পৌল চিঠির শেষে রোমীয় বিশ্বাসীদেরকে তার রোমে আসার পরিকল্পনা জানান?

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১৫:১৪-২১ – কেন পৌল তার চিঠির শেষে আবারও তার আহ্বান নিয়ে কথা বলেন? > তিনি যিহূদী হিসাবে অযিহূদীদের জন্য তার আহ্বান ও হৃদয় দেখান। তিনি এভাবে তার প্রৈরিতিক অধিকারও দেখান।
  • রোমীয় ১৫:২২-৩৩ – কেন পৌল চিঠির শেষে রোমীয় বিশ্বাসীদেরকে তার রোমে আসার পরিকল্পনা জানান? > তিনি কথাটি বলেন যেন রোমীয় বিশ্বাসীরা তার পরিদর্শন সম্বন্ধে জানে এবং প্রস্তুত হয়। যেন তারা স্পেনে যাওয়ার জন্য তার পরিকল্পনা জানে এবং সমর্থন করে (হয়তো যোগান, প্রার্থনা ও কর্মীর ক্ষেত্রে)।
  • পৌল তার এই পত্র দ্বারা একটি বিভক্ত রোমীয় মণ্ডলীর জন্য একতার ভিত্তি স্থাপন করেন এবং তিনি তাদেরকে ‘আসল কাজে’, অর্থাৎ অন্যদের সেবা করা ও সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে লাগান।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - সুপারিশ ও সুভেচ্ছা: ফৈবী

নির্দেশনা

তার পত্রের শেষ অধ্যায়ে পৌল অনেক বিশ্বাসীদেরকে ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখ করে সুভেচ্ছা দেন। রোমীয় ১৬:১-২৩ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

১) ফৈবী

  • রোমীয় ১৬:১-২ – ফৈবী কে? তিনি রোমীয় পত্রের ক্ষেত্রে কি ভূমিকা পালন করেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৬:১-২ – ফৈবী কে? তিনি রোমীয় পত্রের ক্ষেত্রে কি ভূমিকা পালন করেন?> ফৈবী হলেন কিংক্রিয়া শহরের মণ্ডলীর পরিচালিকা। ফৈবী অনেক লোকদের সাহায্য করেছেন, পৌলকেও সাহায্য করেছেন। পৌল তার সুপারিশ করেন। ফৈবী হলেন রোমীয় পত্রের বাহক, তিনি চিঠিটি রোম শহরে নিয়ে গিয়ে সেখানকার বিশ্বাসীদের কাছে পৌঁছিয়ে দেবেন। এর জন্য পৌল রোমীয়দের তাকে “আপন করে নেওয়ার” আদেশ দেন।
  • পৌল তার সবচেয়ে লম্বা ও বিখ্যাত চিঠি একজন মহিলার হাতে সমর্পিত করে রোম শহরে পাঠান। যারা চিঠিগুলো বহন করে পৌঁছাতেন, তারা লেখকের প্রতিনিধি হিসাবেও দাঁড়াতেন, তারা লেখকের কথা, সুভেচ্ছা ও খোঁজ-খবর পৌঁছিয়ে দিতেন। উদাহরণ হিসাবে কলসীয় ৪:৭-৮ পদ তুখিক দেখুন।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - পৌল প্রিস্কিল্লা ও আকিলা

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১৬:৩-৫ – পৌল প্রিস্কিল্লা ও আকিলা কিভাবে বর্ণনা করেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৬:৩-৫ – পৌল প্রিস্কিল্লা ও আকিলা কিভাবে বর্ণনা করেন? >
    তারা পৌলের সঙ্গে পরিশ্রম করেছেন, তার প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের মৃত্যুর মুখে ফেলেছিলেন। পৌল এবং সমস্ত অযিহূদী মণ্ডলীগুলোও তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা বর্তমানে রোম শহের একটি গৃহ মণ্ডলীর নেতারা।
  • প্রিস্কিল্লা ও আকিলা হলেন প্রেরিতদের যুগে একটি শক্তিশালী পরিচর্যা দম্পত্তি। তারা করিন্থ, ইষিষ এবং রোমে মণ্ডলীতে বিভিন্ন ধরণের ভূমিকা পালন করে নেতৃত্ব দেন। আমরা নতুন নিয়ম থেকে তাদের জীবনের সময় তালিকা তৈরি করতে পারি। নিচে দেওয়া বর্ণনা পড়ুন এবং চিন্তা করেন, তাদের জীবন থেকে আপনি কি উৎসাহ পেতে পারেন।
    • ৪৯ খ্রীঃ ক্লৌদিয়ের আদেশে তারা ইটালী ছেড়ে করিন্থ শহরে আসে (প্রেরিত ১৮:২) কারণ আকিলা পন্ত থেকে একজন যিহূদী। তার নামের অর্থ হর ‘ঈগল’, এটা হল ল্যাটিন শব্দ। প্রিষ্কিল্লার নামও ল্যাটিন। তিনি যিহূদী কিনা, তা জানা যায় না। তিনি ইটালিয়ানও হতে পারেন।
    • ৫০-৫১ খ্রীঃ পৌলের সাথে তাদের দেখা হয়, তারা একসাথে বাস, তাম্বু সেলাই ও পরিচর্যা কাজ করেন (প্রেরিত ১৮:১-১১)।
    • ৫২ খ্রীঃ পৌল তাদের ইফিষ শহরে রেখে যিরূশালেমে যান। তারা ইফিষে পরিচর্যা কাজ শুরু করেন। তারা আপ্পোল্লকে পেয়ে তাকে আরো শিক্ষা ও শিষ্যত্ব দান করেন “ঈশ্বরের পথের বিষয় আরও ভাল করে তাঁকে বুঝিয়ে দিলেন” (প্রেরিত ১৮:২৬)।
    • ৫৫ খ্রীঃ তারা এখনও ইফিষ শহরে আছেন। তাদের বাড়ীতে মণ্ডলী মিলিত হয় (১ করিন্থীয় ১৬:১৯)।
    • ৫৬ খ্রীঃ রোম শহরে ফিরে এসে তাদের বাড়ীতে আবারও মণ্ডলী মিলিত হয়। পৌল তাদের খুব উঁচু মানের সুপারিশ দেন: তারা পৌলকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের মৃত্যুর মুখে ফেলেছিলেন। ২ করিন্থীয় ১:৮ পদ বলে যে, পৌল যখন আড়াই বছর ইফিষে পরিচর্যা করেন তিনি অনেক কষ্টের ও চাপের মধ্যে আচেন। হয়তো সেই সময় প্রিস্কিল্লা ও আকিলা তাঁকে বাঁচানোর জন্য অনেক ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
    • ৬৪ খ্রীঃ তারা আবার ইফিষ শহরে (মনে করা যায় যে, তীমথিয় ইফিষে) এবং পৌল তাদেরকে ২ তীমথিয় ৪:১৯ পদে সুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

নির্দেশনা

  • তাদের জীবন থেকে কি উৎসাহ নিতে পারেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • তাদের জীবন থেকে কি উৎসাহ নিতে পারেন? >
    • যেখানে তারা থাকে না কেন (করিন্থ, ইফিষ, রোম, অন্যান্য জায়গায়) তারা মণ্ডলীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বিভিন্নভাবে নেতৃত্ব দেন।
    • প্রিস্কিল্লার নাম প্রায়ই তার স্বামীর নামের আগে উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ এই যে, প্রিস্কিল্লারও নেতৃত্ব ছিল এবং দেখা যায় যে, বিশেষভাবে শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে তিনি চমৎকার ভূমিকা পালন করেন।
    • তারা এমন লোক, যাদের উপর পৌল যে কোনো মুহূর্তে নির্ভর করতে পারেন।
    • তারা পৌলের জন্য এবং হতে পারে অন্যান্য বিশ্বাসীদের জন্য যথেষ্ট ত্যাগ-স্বীকার করেন এবং এমন কি বড় ঝুঁকি নেন।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - আরো রোমীয় বিশ্বাসীদের সুপারিশ ও সুভেচ্ছা

পৌল আর অনেক লোকদেরকে সুপারিশ করেন এবং সুভেচ্ছা পাঠান। নিচে দেওয়া লোকদের বর্ণনা পড়ুন এবং চিন্তা করুন, পৌল থেকে আপনি এখানে কি শিখতে পারেন?

  • ১) ইপেনিত           (রোমীয় ১৬:৫) “এশিয়া প্রদেশে প্রথম যিনি খ্রীষ্টকে গ্রহণ করেছিলেন আমার সেই প্রিয় বন্ধু ইপেনিতকে শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    পুরুষ। ল্যাটিন নাম। হয়তো পৌলের ৩য় যাত্রার সময়ের এশিয়াতে প্রথম বিশ্বাসী? তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • ২) মরিয়ম            (রোমীয় ১৬:৬) “মরিয়ম যিনি তোমাদের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন, তাঁকে শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    মহিলা। প্রচলিত নাম। যিহূদী নাম?। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা নেই।
  • ৩) আন্দ্রনীক ও যূনিয়  (রোমীয় ১৬:৭) “আন্দ্রনীক ও যূনিয়কে শুভেচ্ছা জানায়ো। তাঁরা আমারই মত যিহূদী এবং আমার সঙ্গে তাঁরাও জেলে বন্দী ছিলেন। প্রেরিতদের মধ্যে তাঁরা খুব সম্মানিত লোক। তাঁরা আমার আগেই খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাস করেছিলেন।”
    যূনিয় গ্রীকে ‘যূনিয়াস্’, যা মহিলার নামও হতে পারে। সম্ভবত তারা স্বামী-স্ত্রী প্রেরিত। দু’জনই প্রেরিত, এমন কি প্রেরিতদের মধ্যে সম্মানিত। তারা যিহূদী। তারা পৌলের আগে বিশ্বাসী হয়েছিলেন, তাই মণ্ডলীর শুরুদিকে বিশ্বাসী হয়েছিলেন (৩০-৩৪ খ্রীঃ)। তারা পৌলের সঙ্গে পরিচর্যা করেছিলেন এবং পৌলের সঙ্গে বন্দীও ছিলেন।
  • ৪) আমপ্লিয়াত         (রোমীয় ১৬:৮) “প্রভুর সঙ্গে যুক্ত আমার প্রিয় বন্ধু আমপ্লিয়াতকে শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    পুরুষ। ল্যাটিন নাম। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না। আমপ্লিয়াত ছিল প্রচলিত দাসের নাম। রোমে খ্রীষ্টান ক্যাটাকোম্বে (গুপ্ত গুহায় যেখানে খ্রীষ্টানরা অত্যাচারের সময়ে লুকানো থাকত) একটি কবর আছে যার পাথরে লেখা বলে: ‘আমপ্লিয়াত’। বাবার নাম ছাড়া লেখা দেওয়া আছে বলে বুঝা যায় যে, তিনি দাস ছিলেন। কবরের পাথরে লেখা আছে বলে বুঝা যায় যে বিশ্বাসীদের মধ্যে তার অনেক সম্মান ছিল। এইটা থেকে দেখা যায় যে মণ্ডলীতে শ্রেণীর পার্থক্য করা হত না। এই তথ্য পাওয়া যায় ‘ডোমাতিল্লার কোমেন্ট্যারী’-তে।
  • ৫) উর্বাণ              (রোমীয় ১৬:৯) “উর্বাণ, যিনি আমাদের সঙ্গে খ্রীষ্টের জন্য কাজ করেন … শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    পুরুষ। ল্যাটিন নাম। দাসদের মধ্যে প্রচলিত নাম। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • ৬) স্তখিস              (রোমীয় ১৬:৯) “আমার প্রয় বন্ধু স্তখিসকে শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    পুরুষ। গ্রীক নাম যার অর্থ ‘শীষ’। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • আপিল্লিস              (রোমীয় ১৬:১০) “আপিল্লিসকে শুভেচ্ছা জানায়ো। খ্রীষ্টের লোক হিসাবে তাঁকে যাচাই করে দেখা হয়েছে।”
    পুরুষ। গ্রীক নাম। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • আরিষ্টবুলো ও তার বাড়ীর লোকেরা (রোমীয় ১৬:১০) “আরিষ্টবুলোর বাড়ীর লোকদের শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    ‘বাড়ীর লোকেরা’ সম্ভবত তার পরিবার বা তার সংসারের লোকদেরকে বুঝায়, কিন্তু এই শব্দ গৃহ মণ্ডলীকে বুঝানোর জন্যও ব্যবহারিত। মণ্ডলীর ঐতিহ্য বলে: আরিষ্টবুলো ছিলেন যীশুর ৭০জন শিষ্যদের মধ্যে একজন এবং তিনি ব্রীট্যান পর্যন্ত গিয়ে প্রচার করেছেন। আবার আরিষ্টবুলো নামে হোরোদের একজন নাতী ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্ত প্রকৃতির। হেরোদ তাকে কোনো উত্তরাধিকার দেন নি। এইটা কি সেই আরিষ্টবুলো কিনা, তা নিশ্চিত জানা যায় না।
  • হোরোদিয়োন            (রোমীয় ১৬:৯) “হেরোদিয়োন যিনি আমার মতই যিহূদী, তাঁকে শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    পুরুষ। রোম বাসি যিহূদী। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • নার্কিসের বাড়ীর লোকেরা (রোমীয় ১৬:১১) “নার্কিসের বাড়ীর মধ্যে যাঁরা প্রভুর লোক তাঁদের শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    আবারও নার্কিসের পরিবার, সংসারের লোক অথবা গৃহ মণ্ডলী। কেউ কেউ বলে: ‘যাঁরা প্রভুর লোক’ মানে যে তার বাড়ীর সবাই বিশ্বাসী না, তাই হয়তে কথাটি গৃহ মণ্ডলীর চেয়ে তার পরিবার বা সংসার বুঝায়।
    নার্কিস পুরুষ। ল্যাটিন নাম। প্রচলিত নাম। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না। নার্কিস নামে সম্রাট ক্লৌদিয়ের একজন সচিব ছিল। সচিব হিসাবে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন একটি চিঠি সম্রাটের কাছে পৌছাবে কিনা। তাই এই সুযোগ ব্যবহার করে দূর্নীতির মাধ্যমে তিনি ধনী হয়ে যান। পরে সম্রাট নীরো নার্কিসের ধন পাওয়ার জন্য তাকে ‘আত্ম-হত্যায়’ বাধ্য করান। যদি নার্কিস এই নার্কিস হন, তাহলে পৌল হতে পারে তার সংসারের দাস-দাসীদের বুঝাচ্ছেন।
  • ত্রফেণাত্রফোষা        (রোমীয় ১৬:১২) “ত্রফেণা ও ত্রফোষাকে শুভেচ্ছা জানায়ো। এই স্ত্রীলোকেরা প্রভুর জন্য পরিশ্রম করেন।”
    মহিলা। ল্যাটিন নাম। হয়তো দুই বোনে। হয়তো সহ-পরিচালিকা। তাদের সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • পর্ষিস                   (রোমীয় ১৬:১২) “স্নেহের পর্ষিসকেও শুভেচ্ছা জানায়ো। এই স্ত্রীলোকটিও প্রভুর জন্য অনেক কাজ করেছেন।”
    মহিলা। গ্রীক নাম। পৌল তার পরিচর্য্যা বা কাজের সুপারিশ করেন। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • রূফ                     (রোমীয় ১৬:১৩) “খ্রীষ্টের উপর ভাল বিশ্বাসী বলে যাঁর সুনাম আছে সেই রূফকে … শুভেচ্ছা জানায়ো।”
    পুরুষ। ল্যাটিন নাম। তার দেশ উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া প্রদেশের কুরীণী। হতে পারে যিহূদী যেহেতু তার বাবা নিস্তার পর্বের সময়ে যিরূশালেমে আছেন। মার্ক ১৫:২১ বলে যে কুরীণীর শিমোন, যিনি যীশুর ক্রুশ বহন করেন, তিনি রূফ ও আলেকসান্দারের বাবা। রূফ ও আলেকসান্দার রোম মণ্ডলীর সদস্য বলে মার্ক যখন রোমীয়দের জন্য তার সুসমাচার লিখেন তখন তিনি শিমোনের পরিচয় রূফ ও আলেকসান্দারের বাবা হিসাবে দেন।
  • রূফের মা                (রোমীয় ১৬:১৩) “রূফ … ও তাঁর মাকে শুভেচ্ছা জানায়ো। তার মা আমার কাছে আমার মায়ের মতই।”
    মহিলা। হতে পারে যিহূদী। হতে পারে তার দেশ লিবিয়ার কুরীণী। তিনি পৌলকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন, হয়তো পৌল কোনো সময়ে তার বাসায় থেকেছিলেন বা তারা একসঙ্গে পরিচর্য্য করেছিলেন। কেউ কেউ বলে প্রেরিত ১৩:১ পদে আন্তিয়খিয়ার শিক্ষক ও ভাববাদীদের মধ্যে উল্লিখিত ‘নীগের নামে পরিচিত শিমোন’ হতে পারে সেই কুরীণীর শিমোন, কারণ নীগের শব্দের অর্থ ‘কালো’, যেমন আফ্রিকার লোকেরা সাধারণত কালো চামড়ার। যদি তাই হয়, পৌল হয়তো কম পক্ষে এক বছরের জন্য আন্তিয়খিয়ায় শিমোন ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন ও হয়তো বাসও করেছিলেন। হয়তো পরে এই পরিবার রোমে আসে।
  • অসুংক্রিত                (রোমীয় ১৬:১৪) “শুভেচ্ছা জানায়ো।”             পুরুষ। গ্রীক নাম। হয়তো গৃহ মণ্ডলীর নেতা বা সদস্য। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • ফ্লিগোন                  (রোমীয় ১৬:১৪) “শুভেচ্ছা জানায়ো।”             পুরুষ। গ্রীক নাম। হয়তো গৃহ মণ্ডলীর নেতা বা সদস্য। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • হের্মেস                   (রোমীয় ১৬:১৪) “শুভেচ্ছা জানায়ো।”             পুরুষ। গ্রীক নাম। হয়তো গৃহ মণ্ডলীর নেতা বা সদস্য। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • পাত্রোবাস                (রোমীয় ১৬:১৪) “শুভেচ্ছা জানায়ো।”             পুরুষ। গ্রীক নাম। হয়তো গৃহ মণ্ডলীর নেতা বা সদস্য। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • হের্মাস                   (রোমীয় ১৬:১৪) “শুভেচ্ছা জানায়ো।”             পুরুষ। গ্রীক নাম। হয়তো গৃহ মণ্ডলীর নেতা বা সদস্য। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • সঙ্গে ভাইয়েরা            (রোমীয় ১৬:১৮) “শুভেচ্ছা জানায়ো।”
  • ফিললগ                  (রোমীয় ১৬:১৫)                                পুরুষ। গ্রীক নাম। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • যুলিয়া                   (রোমীয় ১৬:১৫)                                 মহিলা। ল্যাটিন নাম। হয়তো ফিললগের স্ত্রী। হয়তো নিরীয়ের সঙ্গে একই পরিবারের। আর জানা নেই।
  • নিরীয়                   (রোমীয় ১৬:১৫)                                 পুরুষ। ল্যাটিন নাম। তারা সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • নিরীয়ের বোন            (রোমীয় ১৬:১৫)                                 মহিলা। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • ওলুম্প                   (রোমীয় ১৬:১৫)                                 পুরুষ (?)। হয়তো গৃহ মণ্ডলীর নেতা। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • সঙ্গে লোকেরা            (রোমীয় ১৬:১৫) “তাঁদের সঙ্গে ঈশ্বরের যে সব লোক আছেন তাঁদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানায়ো।”

নির্দেশনা

  • পৌল আর অনেক লোকদেরকে সুপারিশ করেন এবং সুভেচ্ছা পাঠান। নিচে দেওয়া লোকদের বর্ণনা পড়ুন এবং চিন্তা করুন, পৌল থেকে আপনি এখানে কি শিখতে পারেন?
  • মণ্ডলীর ঐতিহ্য বলে: ৯৫ খ্রীঃ রোমে উচু শ্রেণীর একজন দম্পতিকে বিশ্বাসী বলে রায় দেওয়া হয়, তাদের নাম ছিল ফ্লাভিয়াস ক্লীমেন্ত ও তার স্ত্রীর নাম ছিল ডোমাতিল্লা। তাদের নিরীয়ের নামে একজন দাস-গৃহাধ্যক্ষ ছিল, যিনি হয়তো স্বামী-স্ত্রীকে সুসমাচার দিয়েছিলেন। ফ্লাভিয়াস ক্লিমেন্টের বাবা ছিলেন ফ্লাবিয়াস সুবিনাস, যিনি ছিলেন সম্রাট নীরোর জল্লাদ। তাই নীরোর অত্যাচারের ৩০ বছর পরে তার ছেলে শহীদ মৃত্যু গ্রহণ করেন। ফিললগ, যুলিয়া, নীরীয়, তার বোন ও ওলুম্প হতে পারে এক পরিবারের লোক … অথবা তারা এক গৃহ মণ্ডলীর সদস্য।
  • চিন্তা করুন, পৌল থেকে আপনি এখানে কি শিখতে পারেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • পৌল একবারও রোম শহরে যান নি এবং তিনি ২৬জন মত স্থানীয় বিশ্বাসীদের চিনেন, তাদের সুপারিশ করেন এবং সুভেচ্ছা পাঠান। পৌলের কথায় অন্তরঙ্গ সম্পর্ক প্রকাশ পায়।
  • তিনি অনেকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন এবং বিভিন্নভাবে তাদের সাহায্য ও সেবা পেয়ে কৃতজ্ঞ। সম্পর্কে গুরুত্ব দেওয়া, লোকদের জন্য প্রার্থনা করা, খোঁজ নেওয়া, অতিথিপরায়ন হওয়া, এইসব খুব গুরুত্বপূর্ণ।
  • পৌল ‘দূর থেকে’ নেতা নন, তিনি বিশ্বাসীদের সাথে ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রাখেন।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - রোমীয় মণ্ডলী সম্বন্ধে আরো তথ্য

  • আমরা আগের পৃষ্ঠায় রোমীয় ১৬ অধ্যায়ে উল্লিখিত লোকদের সম্বন্ধে অনেক তথ্য জমিয়েছি।
  • এই তথ্য একসাথে দেখে কিছু মজার বিষয় প্রকাশ পায়।
  • নিচের পরিসংখ্যান পড়ুন।
  • চিন্তা করুন, এইসব তথ্য বিবেচনা করে আপনি কি শিখতে পারেন?

যদি আমরা নামের তালিকা নিয়ে একটু পরিসংখ্যান করি তবে অনুমান করে বলা যায় যে:

  • পুরুষ          ১৭জন      ৬৫%       তাদের মধ্যে ৫জন প্রশংসিত         ২৯% পুরুষ প্রশংসিত
  • মহিলা           ৯জন     ৩৫%        তাদের মধ্যে ৭জন প্রসংসিত         ৭৮% মহিলা প্রশংসিত
  • ল্যাটিন নাম    ১২ জন     ৪৬%
  • অন্যান্য নাম   ১৪ জন     ৫৪%
  • যিহূদী           ৭জন     ২৭%
  • অযিহূদী        ১৯জন     ৭৩%
  • যাদের নাম সম্রাটের রাজবাড়ীর কর্মীদের তালিকায়ও পাওয়া যায়       ১৩জন     ৫০%
  • যাদের নাম সম্রাটের রাজবাড়ীর কর্মীদের তালিকায় পাওয়া যায় না      ১৩জন     ৫০%

যদি ধরি যে, উর্বাণ, স্তখিস, আপিল্লিস ও আমপ্লিয়াত প্রচলিত দাসের নাম ছিল, তবে:

  • দাস সর্বনিম্ন      ৪জন     ১৫%
  • স্বাধীন সর্বোচ্চ   ২২জন     ৮৫%

আমরা আরো উপসংহারে আসতে পারে যে, রোম শহরে কম পক্ষে ৭টি গৃহ মণ্ডলী ছিল:

  • ১ প্রিষ্কিল্লা ও আকিলা
  • ২ মরিয়ম, আন্দ্রনীক ও যূনিয়, ইপেনিত …
  • ৩ আরিষ্টবুলের লোকেরা
  • ৪ নার্কিসের লোকেরা
  • ৫ ত্রফেণা, ক্রফোষা, পর্ষিস, রূফ, রূফের মা …
  • ৬ অসুংক্রিত …
  • ৭ ফিললগ, যুলিয়া, নীরীয়, তার বোন …

নির্দেশনা

এই সব তথ্য বিবেচনা করে আপনি কি শিখতে পারেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

এইসব তথ্য বিবেচনা করে আপনি কি শিখতে পারেন? >

  • পৌল অনেক মহিলাদেরও সহকর্মী ও পরিচর্যাকারী বলেন, তিনি তাদের সেবা ও সাহায্য গ্রহণ করেন এবং তাদের উপর নির্ভর করেন। তাদের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্কও রাখেন।
  • দেখা যায় যে, রোমীয় মণ্ডলী অনেক মিশানো, পরুষ ও মহিলা, যিহূদী ও অযিহূদী, স্থানীয় ও বিদেশী (রোম তো রাজধানী!), দাস ও স্বাধীন।
  • আসলে এভাবে হওয়া উচিত, কিন্তু একতা রক্ষা করা দরকার, পরস্পর্ক গ্রহণ করা দরকার। পৌল এই চিঠি দ্বারা তা-ই চেষ্টা করেন।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - পৌলের কয়াকটি শেষ উপদেশ

নির্দেশনা

রোমীয় ১৬:১৭-২০ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ১৬:১৭ – পৌলের বিশেষ অনুরোধ কি?
  • রোমীয় ১৬:১৮ – পৌল এর জন্য কি কারণ দেখান?
  • রোমীয় ১৬:১৯ – পৌল রোমীয় বিশ্বাসীদের থেকে কি দেখতে যান?
  • পৌল একটি প্রতিজ্ঞা দিয়ে শেষ করেন: “শান্তিদাতা ঈশ্বর শীঘ্রই শয়তানকে তোমাদের পায়ের নীচে ফেলে গুঁড়িয়ে দেবেন।” কেন মনে করেন যে তিনি এই কথা বলেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১৬:১৭ – পৌলের বিশেষ অনুরোধ কি? > পৌল অনুরোধ করেন, যারা দলাদলি ও বাধা সৃষ্টি করে, তাদের প্রতি যেন তারা লক্ষ্য রাখে এবং তাদের থেকে দূরে থাকে।
  • রোমীয় ১৬:১৮ – পৌল এর জন্য কি কারণ দেখান? > এই সব লোকেরা খ্রীষ্টের সেবা না করে বরং নিজের পেটের সেবা করে। তারা মিষ্টি ও খোশামোদের কথা বলে সরল মনাদের ঠকাচ্ছে।
  • রোমীয় ১৬:১৯ – পৌল রোমীয় বিশ্বাসীদের থেকে কি দেখতে যান? > যেন তারা বাধ্য হতে থাকে, যেন ভালকে চিনে গ্রহণ করে এবং মন্দ থেকে দূরে থাকে।
  • পৌল একটি প্রতিজ্ঞা দিয়ে শেষ করেন: “শান্তিদাতা ঈশ্বর শীঘ্রই শয়তানকে তোমাদের পায়ের নীচে ফেলে গুঁড়িয়ে দেবেন।” কেন মনে করেন যে তিনি এই কথা বলেন? > শয়তান রোমীয় মণ্ডলীর বিশেষ ইতাহাস (৪৯-৫৪ খ্রীষ্টান্দে যিহূদীদের তাড়ানো) বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করেছে। পৌল আশা প্রকাশ করেন, যে শয়তান জয় করতে পারবে না।
  • পৌল এই আশাবাণী দিয়ে তার চিঠির মূল অংশ সমাপ্ত করে দেন।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - করিন্থীয় লোকদের থাকে সুভেচ্ছা

নির্দেশনা

রোমীয় মণ্ডলীর অনেক কর্মীদের ব্যক্তিগত সুপারিশ ও সুভেচ্ছা দেওয়া পরে পৌল করিন্থ শহরে তার সহকর্মী ও বিশ্বাসীদের থেকেও সুভেচ্ছা পাঠান। রোমীয় ১৬:২১-২৩ পদ পড়ুন। নিচে দেওয়া বর্ণনা পড়ুন এবং চিন্তা করুন, আপনি এই পদগুলো থেকে কি শিখতে পারেন।

  • তীমথিয় (রোমীয় ১৬:২১) “আমার সঙ্গে যিনি কাজ করেন সেই তীমথিয় তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন”
    • তিনি ৫৬ খ্রীঃ পৌলের সাথে ৩য় প্রচার যাত্রায় করিন্থ শহরে আছেন ও রোমীয় বিশ্বাসীদের শুভেচ্ছা পাঠাছেন।
    • পৌলের বহু বছরের সহকর্মী।
  • লুকিয় (রোমীয় ১৬:২১) “লুকিয় … তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাঁরাও আমার মত যিহূদী জাতির লোক।”
    • পুরুষ। ল্যাটিন নাম। যিহূদী।
    • প্রেরিত ১৩:১ পদে আন্তিয়খিয়া মণ্ডলীর শিক্ষক ও ভাববাদীদের মধ্যে একজন কুরীণীর লুকিয় উল্লিখিত।
    • এইটা সে একই লুকিয় কিনা তা নিশ্চিত বলা যায় না।
    • তিনি ৫৬ খ্রীঃ পৌলের সঙ্গে করিন্থে আছেন ও রোমীয় বিশ্বাসীদের শুভেচ্ছা পাঠাছেন।
    • তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • যাসোন (রোমীয় ১৬:২১) “যাসোন … তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাঁরা আমার মত যিহূদী জাতির লোক।”
    • পুরুষ। গ্রীক নাম। যিহূদী।
    • প্রেরিত ১৭:৫ থিষলনীকীয় স্থাপনের গল্পে একজন যাসোন উল্লিখিত যিনি পৌল ও তার দলকে আশ্রয় দেন।
    • যিহূদীরা গোলমাল বাধিয়ে দেয়, যাসোনের বাড়ীকে আক্রমন করে ও যাসোনকে ধরে স্থানীয় সরকারের সামনে আনে।
    • এইটা সেই একই যাসোন কিনা নিশ্চিত বলা যায় না।
    • তিনি ৫৬ খ্রীঃ পৌলের সঙ্গে করিন্থে আছেন ও রোমীয়দের শুভেচ্ছা পাঠাছেন।
    • তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • সোষিপাত্র (রোমীয় ১৬:২১) “সোষিপাত্র্র … তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাঁরা আমার মত যিহূদী জাতির লোক।”
    • পুরুষ। গ্রীক নাম। যিহূদী।
    • তিনি ৫৬ খ্রীঃ পৌলের সঙ্গে করিন্থে আছেন ও রোমীয় বিশ্বাসীদের শুভেচ্ছা পাঠাছেন।
    • তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
  • তর্তিয় (রোমীয় ১৬:২২) “আমি, তর্তিয়, পৌলের এই চিঠিখানা লিখছি। প্রভুর লোক হিসাবে আমিও তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
    • পুরুষ। ল্যাটিন নাম। পৌলের চিঠি লেখার সাহায্যকারী।
    • তিনি ৫৬ খ্রীঃ পৌলের সঙ্গে করিন্থে আছেন ও রোমীয় বিশ্বাসীদের শুভেচ্ছা পাঠাছেন।
    • কেউ কেউ মনে করেন যে তর্তীয় হলেন সীল (সীলবান)।
    • সীল নামের অর্থ ইব্রীয়তে হল ‘তৃতীয়’।
    • তর্তিয় শব্দের ল্যাটিন অর্থও ‘তৃতীয়’ বলে চিন্তা করা হয় যে এটা একই লোকের পরিচয়।
  • গাইয় (রোমীয় ১৬:২৩) “আমি যাঁর বাড়ীতে থাকি এবং মণ্ডলীর লোকেরা যাঁর বাড়ীতে একসঙ্গে মিলিত হয় সেই গাইয় তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।”
    • পুরুষ। ল্যাটিন নাম।
    • ২ করিন্থীয় ১:১৪ পদে করিন্থের পরিচর্য্যায় পৌলের একজন বিশ্বাসী উল্লিখাত যার নাম গাইয়।
    • পৌল তাকে বাপ্তিস্মও দেন। তার বাড়ীতে মণ্ডলী হিসাবে মিলিত হত।
    • এটা থেকে বুঝা যায় যে তার মণ্ডলীতে নেতৃত্ব ছিল।
    • তিনি ৫৬ খ্রীঃ পৌলের সঙ্গে করিন্থে আছেন ও রোমীয় বিশ্বাসীদের শুভেচ্ছা পাঠাছেন।
    • তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
    • গাইয় নামে নতুন নিয়মের আরো লোক আছে:
      • প্রেরিত ১৯:২৯ পদে ম্যাসিডোনিয়ার একজন গাইয় পৌলের সহকর্মী হিসাবে ইফিষে আছেন।
      • প্রেরিত ২০:৪ পদে দর্বী শহরের একজন গাইয় পৌলের সহকর্মী হিসাবে ৩য় যাত্রায় উল্লিখিত আছেন।
      • যোহনের তৃতীয় চিঠি (৩ যোহন ১) এশিয়া মাইনেরর একজন প্রাচীন গাইয়কে পাঠানো হয়।
  • ইরাস্ত (রোমীয় ১৬:২৩) “এই শহরের চাকা-পয়সার হিসাব রাখবার ভার যাঁর উপরে আছে সেই ইরাস্ত … শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।”
    • পুরুষ। কম প্রচলিত নাম। করিন্থ শহরের হিসাব রক্ষক।
    • করিন্থ শহরের একটি ৫০ খ্রীষ্টাব্দের পাথরের পুরোন লেখা পাওয়া যায় যে ‘এই পাকা রাস্তার টাকা দিল ইরাস্ত’।
    • যিহূদী।
    • তিনি ৫৬ খ্রীঃ পৌলের সঙ্গে করিন্থে আছেন ও রোমীয় বিশ্বাসীদের শুভেচ্ছা পাঠাছেন। তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।
    • ইরাস্ত নামে নতুন নিয়মে আরো লোক পাওয়া যায়: ইফিষে পৌলের একজন সাহায্যকারীল নাম ইরাস্ত (প্রেরিত ১৯:২২) এবং আর ২ তীমথিয় ৪:২০ পৌল তীমথিয়কে জানান যে একজন ইরাস্ত করিন্থে থেকে গেছেন।
  • কার্ত (রোমীয় ১৬:২৩) “আমাদের ভাই কার্ত তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।”
    • পরুষ। ল্যাটিন নাম।
    • করিন্থে একজন বিশ্বাসী।
    • যিহূদী।
    • তিনি ৫৬ খ্রীঃ পৌলের সঙ্গে করিন্থে আছেন ও রোমীয় বিশ্বাসীদের শুভেচ্ছা পাঠাছেন।
    • তার সম্বন্ধে আর কিছু জানা যায় না।

নির্দেশনা

  • রোমীয় বিশ্বাসীদের কাছে করিন্থীয় বিশ্বাসীদের ও পৌলের অন্যান্য সহকর্মীদের সুভেচ্ছা থেকে আপনি কি শিখতে পারেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় বিশ্বাসীদের কাছে করিন্থীয় বিশ্বাসীদের ও পৌলের অন্যান্য সহকর্মীদের সুভেচ্ছা থেকে আপনি কি শিখতে পারেন? >
    • দেখা যায় যে, মণ্ডলীগুলোর মধ্যে অনেক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। তারা পরস্পর্কে চিনে ও খোঁজ নেয়।
    • বিশ্বাসীরা যাত্রা করলে তারা অন্য শহরে বিশ্বাসীদের সাথে থাকত।
    • তারা অতিথী সেবা চর্চা করত।

রোমীয় ১২ অধ্যায় - পৌলের চূড়ান্ত আশীর্বাদ

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১৬:২৫-২৭ পদ পড়ুন। পৌল এখানে আর একবার পত্রটির মূল বিষয়গুলো প্রকাশ করেন। এই চমৎকার প্রশংসা ও আশীর্বাদ নিজের কথায় সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • এই চমৎকার প্রশংসা ও আশীর্বাদ নিজের কথায় সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করুন। > পৌলের আহ্বান হল সুসমাচার প্রচার করা যেন সবাই খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাস করে ঈশ্বরের প্রতি বাধ্য হতে সুযোগ পায়। আগে থেকে যেমন পবিত্র শাস্ত্রে, অর্থাৎ ভাববাদীদের বাণীতে প্রকাশি হয়েছিল, ঈশ্বরের গুপ্ত উদ্দেশ্য হল এই: শুধুমাত্র যিহূদী নয় বরং সব জাতিগুলো খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে উদ্ধার পেতে পারে।
  • এভাবে এই চমৎকার পত্র ও আমাদের অধ্যয়ন সমাপ্ত হয়ে যায়: “একমাত্র তিনিই ঈশ্বর, তিনিই জ্ঞানী। যীশু খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে চিরকাল তাঁরই গৌরব হোক। আমেন।”