আইন-কানুন – ভিত্তিক প্রশ্ন
  • পুরাতন নিয়মের আইন-কানুন এখনও কি গুরুত্বপূর্ণ?
  • পুরাতন নিয়মের আইন-কানুন আমাদের কি পালন করতে হবে?
  • পুরাতন নিয়মের আইন-কানুনের অধীনে না থাকলে কেন তা নিয়ে ব্যস্ত থাকব?
 
পুরাতন নিয়মের আইন-কানুন নিয়ে নতুন নিয়মের কথা

রোমীয় ৭:৬  ‘তখন আমাদের যা বেঁধে রাখত তার দাবি-দাওয়ার কাছে আমরা মরেছি। সেইজন্য আইন-কানুন থেকে এখন আমরা মুক্ত। তার ফলে আমরা এখন লেখা আইন-কানুনের সেই পুরানো জীবন-পথের দাস নই, কিন্তু পবিত্র আত্মার দেওয়া নতুন জীবন-পথের দাস হয়েছি।’         

  • আমরা আইন-কানুন থেকে মুক্ত।
  • আমরা আইন-কানুনের দাস আর নই।

গালাতীয় ২:১৬  ‘কিন্তু তবুও আমরা এই কথা জানি যে, আইন-কানুন পালনের জন্য ঈশ্বর মানুষকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করেন না, বরং যীশু খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাসের জন্যই তা করেন। সেইজন্য আমরাও খ্রীষ্ট যীশুর উপর বিশ্বাস করেছি, যেন আইন-কানুন পালনের জন্য নয় বরং খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাসের জন্যই আমাদের নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হয়; কারণ আইন-কানুন পালন করবার ফলে কাউকেই নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হবে না।’

  • আইন পালন করা দ্বারা নির্দোষ বলে গ্রহণযোগ্য বা ধার্মিক হওয়া যায় না।
  • তা কখনও সম্ভব নি, হচ্ছেও না, হবেও না।
  • পরিত্রাণ যীশুতে বিশ্বাস দ্বারা, আইন পালন করা বা নিজের প্রচেষ্টা দ্বারা নয়।

রোমীয় ৩:৩১  ‘এই বিশ্বাসের জন্য কি আমরা তাহলে আইন-কানুন বাতিল করে দিচ্ছি? কখনও না, বরং আইন-কানুনের কথা যে সত্যি তা-ই আমরা প্রমাণ করছি’             

  • বিশ্বাস আইন-কানুন বাতিল করে দেয় নি।
  • আইন-কানুন সত্য।

রোমীয় ৭:১২  ‘তবে এই কথা ঠিক যে, আইন-কানুন পবিত্র এবং তার আদেশও পবিত্র, ন্যায্য ও উপকারী।’

মথি ৭:১২  ‘তোমরা অন্য লোকদের কাছ থেকে যে রকম ব্যবহার পেতে চাও তোমরাও তাদের সঙ্গে সেই রকম ব্যবহার কোরো। এটাই হল মোশির আইন-কানুন ও নবীদের শিক্ষার মূল কথা।’

  • যীশু আইন বাতিল করেন না বরং তার ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখান।
  • আইনের মূল কথা = শান্তিতে, সম্মানে ও ন্যায্যতায় একসাথে বাস করা।

মথি ৫:১৭-১৮  ‘এই কথা মনে কোরো না, আমি মোশির আইন-কানুন আর নবীদের লেখা বাতিল করতে এসেছি। আমি সেগুলো বাতিল করতে আসি নি বরং পূর্ণ করতে এসেছি। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, আকাশ ও পৃথিবী শেষ না হওয়া পর্যন্ত, যতদিন না আইন-কানুনের সমস্ত কথা সফল হয় তত দিন সেই আইন-কানুনের এক বিন্দু কি এক মাত্রা মুছে যাবে না।’

  • যীশু আইন বাতিল করেন নি।
  • যীশু আইন পূর্ণ করছেন।
  • আইন অনন্ত… আইন অপরিবর্তনশীল।

মথি ৫:১৯  ‘তাই আদেশগুলোর মধ্যে ছোট একটা আদেশও যে কেউ অমান্য করে এবং লোকদের তা অমান্য করতে শিক্ষা দেয় তাকে স্বর্গ-রাজ্যে সবচেয়ে ছোট বলা হবে। কিন্তু যে কেউ সেই আদেশগুলো পালন করে ও শিক্ষা দেয় তাকে স্বর্গ-রাজ্যে বড় বলা হবে।

  • স্বর্গ-রাজ্যেও আইন পালন করা হবে।
  • স্বর্গ-রাজ্যে কে কে থাকবে, তা আইন পালনের উপরে নির্ভরশীল নয়। যিনি অমান্য করে (ছোট) এবং যিনি মানে (বড়) উভয়ই স্বর্গ-রাজ্যে।
  • যারা আইন পালন করে তারাই ‘বড়’, কার্যকারী ও সফল এবং ঈশ্বরকে গৌরব দেবে।
 
আইন-কানুন কেন দেওয়া হয়েছিল?
  • আইন = ঈশ্বরের ইচ্ছা কি, তার প্রকাশ > ঈশ্বর কি চান এবং কি চান না।
  • আইন = ঈশ্বরের চরিত্র কেমন, তার প্রকাশ > ঈশ্বর ন্যায্য বলে তিনি চান যে মানুষের মধ্যেও ন্যায্যতা থাকুক।
  • আইন = কি ভাল, কি মন্দ, তার প্রকাশ।
  • আইন = কি ঠিক, কি ভুল, তার প্রকাশ।
  • আইন = কি করা উচিত, কি করা উচিত নয় তার প্রকাশ।
  • কিন্তু যেহেতু আমি আইন পালন করি না…
    • আইন আমাকে দোষী হিসাবে প্রমাণিত করে।
    • আইন আমাকে বিচার করে।
    • আইন আমাকে আমার পাপ দেখায়।
    • আইন আমাকে দেখায় যে আমি আশাহীন।
    • আইন আমাকে বুঝায় আমার কতটাই না সাহায্যের প্রয়োজন।
    • আইন আমাকে দেখায় ক্ষমা পাওয়া গেলে যেন অবশ্যই গ্রহণ করি।
    • আইন আমাকে পরিত্রাতার দিকে ঠেলে দেয়।

উপমা:  সাঁতার কাটার সময় ডুবে গেলে একটি স্পীড বোট আমার কাছে আসলে খুশি হব। বিপদ না হলে কাছে আসলে বিরক্ত হব।

 
আইন-কানুন কেন দেওয়া হয় নি?
  • কিন্তু… আইনের আমাকে রক্ষা করার, আমাকে ধার্মিক বানানোর, আমাকে গ্রহণ যোগ্য করার বা পরিত্রাণ দেওয়ার কোনো ক্ষমতাই নেই।
  • উপমা: আইন = আলো। আলো আমার অবস্থা প্রকাশ করে কিন্তু আমাকে পরিষ্কার করে না।
  • উপমা: আইন = ডাক্তারের নির্ণয়। কিন্তু যীশু = চিকিৎসা। নির্ণয় জানার লাভ আছে কিন্তু তা সুস্থ করে না।
  • উপমা: আইন = পথ নির্দেশক চিহ্ন। এটা দিক দেখায় কিন্তু আমাকে নিয়ে যায় না।
  • উপমা: আইন = রেল ট্র্যাক। যাওয়ার দিক দেখায় কিন্তু ইঞ্জিন ছাড়া ট্রেন আগায় না।
  • আইন আমাকে আইন পালন করতে কোন সাহায্য করে না।
  • আইনের কোনো ক্ষমতা নেই আমাকে ‘ভাল বানাতে’।
  • আইন থেকে দাবী করবেন না যা আইন দিতে অক্ষম!
  • কিন্তু আইন পরিত্রাণ দিতে অক্ষম মানে এই না যে আইনের কোন ভূমিকা নেই।
  • যদি প্রশ্ন করি: পরিত্রাণ কিভাবে পাব? – আইন এই প্রশ্নের কোন উত্তর দেয় না।
  • যদি প্রশ্ন করি: ঈশ্বর কেমন? তিনি কি ধরণের জীবন চান? – তাহলে আইন থেকে অনেক উত্তর পাই।
  • পরিত্রাণ পেয়েছি বলে… বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের পুত্র হয়েছি বলে… ঈশ্বরের রাজ্যে এসেছি বলে…
    • রাজ্যের রাজাকে খুশি করার জন্য কি করতে পারি?
    • বাধ্যতা বা আইন পালন…    রাজ্য পাওয়ার জন্য না, কিন্তু রাজ্য পেলাম বলে।
    • বাধ্যতা বা আইন পালন…     শর্ত হিসাবে না, কিন্তু কৃতজ্ঞতা থেকে॥
  • উপমা:  ঈশ্বরের রাজ্য। যীশু = দরজা, আইন = বাইরের ধাক্কা দানকারী, আইন = রাজ্যের দিক নির্দেশনাদানকারী।
  • উপমা:  আইন = সীমানা / লাঠি / মাপকাঠি।
  • আইন আমাকে বুঝায় কত উঁচু পর্যন্ত লাফ দিতে হবে, কিন্তু আইন আমাকে লাফাতে সাহায্য করে না।
  • যীশু আমার পক্ষে লাফ দেন। যদি আমি যীশুতে আছি (বিশ্বাস দ্বারা) তিনি আমার পক্ষে শর্ত পূর্ণ করেন।
‘পুরাতন নিয়মে: মাপকাঠি উঁচু ছিল > শাস্তি। নতুন নিয়মে: মাপকাঠি নিচু > দয়া’ > এই চিন্তা সম্পূর্ণ ভুল!
  • আইন পবিত্র, ভাল, অনন্ত, অপরিবর্তনীয় …কেন? – কারণ আইন = ঈশ্বরের চরিত্রের প্রকাশ। ঈশ্বরের চরিত্র কখনও পরিবর্তিত হয় না।

ইব্রীয় ১৩:৮  ‘যীশু খ্রীষ্ট কালকে যেমন ছিলেন, আজকেও তেমনি আছেন এবং চিরকাল তেমনি থাকবেন।’  

যাকোব ১:১৭  ‘আলোর পিতা… চঞ্চল ছায়া মত করে তিনি বদলে যান না’              

  • ঈশ্বর অন্যায় ঘৃণা করতেন পুরাতন নিয়মে। ঈশ্বর অন্যায় ঘৃণা করেন নতুন নিয়মে।
  • পুরাতন নিয়মে খুন করা পাপ । নতুন নিয়মে কি ‘বড় ব্যাপার নয়’???
  • পুরাতন নিয়মে কি ঈশ্বর রাগী কিন্তু নতুন নিয়মে (ভাগ্য ভাল!) যীশু দয়ালু??? > ত্রিত্ব ঈশ্বরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
নতুন নিয়মে কি ‘লাঠি বা মাপকাঠি নেমে এসেছে’?

মথি ৫:২১-২২  ‘আগেকার লোকদের বলা হয়েছে, ‘খুন কোরো না’…কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যে কেউ তার ভাইয়ের উপর রাগ করে সে বিচারের দায়ে পড়বে।’

  • নতুন নিয়মে লাঠি কোন রকম নামানো হয় নি। নামালে যীশুর মৃত্যু প্রয়োজন পড়ত না! পুরাতন এবং নতুন নিয়মে তাঁর ন্যায্যতার কারণে ঈশ্বর অবশ্যই পাপকে বিচার করেন।
  • ঈশ্বর কি ন্যায্য বা দয়ালু? – ঈশ্বর সব সময় ন্যায্য এবং দয়ালু।
  • ঈশ্বরের বিচারই দয়া > আপনি কি চান মন্দকে থামানো না হোক?
  • ঈশ্বরের ক্ষমাই ন্যায্যতা > আপনি কি মনে করেন ‘যীশু মারা না গেলেও’ হত?
 
আইন-কানুন কিভাবে পূর্ণ হয়?
  • যীশু আসেন নি আইন বাতিল করতে বরং তা পূর্ণ করতে।
  • যীশু আমার পক্ষে আইন পালন করেন (আমাকে ধার্মিক / নির্দোষ / গ্রহণযোগ্য করেন)।
  • যীশু আমার মধ্যে আইন পালন করেন।
  • যীশু আমার হৃদয়ে আছেন বলে…পবিত্র আত্মা আমাকে পরিচালনা করেন বলে…
    • তারাই আমার মধ্যে আইন পূর্ণ করেন।
    • তাদের স্থান দিতে দিতে আমি আইন-শৃঙ্খলে পূর্ণ জীবন-যাপন করতে সক্ষম হই।

… কিন্তু ঈশ্বরের রাজ্যে আইন পালন করা হবেই।