রোমীয় ১ অধ্যায় - মূল শব্দ "সুসমাচার"

নির্দেশনা

পত্রের প্রারম্ভিকায় সুখবরের বা সুসমাচারের বিষয়ে পৌল কি বলেন? নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন। পৌল সুসমাচারের বর্ণনায় বা বিষয়ে কি বলেন, তা লক্ষ্য করুন।

  • রোমীয় ১:১
  • রোমীয় ১:২
  • রোমীয় ১:৪
  • রোমীয় ১:৯
  • রোমীয় ১:১৫
  • রোমীয় ১:১৬
  • রোমীয় ১:১৭

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১:১ ঈশ্বর পৌলকে তাঁর দেওয়া সুখবর প্রচার করবার জন্য বেছে নিয়েছেন।
  • রোমীয় ১:২ ঈশ্বর এই সুখবর ভাববাদীদের দ্বারা আগে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
  • রোমীয় ১:৪ সুখবর হল ঈশ্বরের পুত্র সম্বন্ধীয় (দেহের দিক: দায়ূদের বংশধর, আত্মার দিকে পুনরুত্থান দ্বারা ঈশ্বরের পুত্র হিসাবে প্রকাশিত)।
  • রোমীয় ১:৯ পৌল পুত্রের সুসমাচার প্রচারের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে সেবা করেন।
  • রোমীয় ১:১৫ পৌল রোম শহরেও সুসমাচার প্রচার করতে আগ্রহী।
  • রোমীয় ১:১৬ সুসমাচার নিয়ে পৌলের লজ্জা নেই কারণ এই সুসমাচার হল ঈশ্বরের শক্তি, যা দ্বারা যতজন বিশ্বাস করে ততজনই পাপ থেকে উদ্ধার পায় (যিহূদী / অযিহূদী)।
  • রোমীয় ১:১৭ সুখবরে প্রকাশ করা হয়েছে, ঈশ্বর পাপী মানুষকে কিভাবে নির্দোষ বলে গ্রহন করেন (english: in the gospel the righteousness of God is revealed through faith for faith > বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের ধার্মিকতা।

‘সুসমাচার’ বা ‘সুখবর’, এই শব্দের অর্থ কি?

  • বাংলায় ‘সুসমাচার’ বা ‘সুখবর’ বা ‘সুসংবাদ’ হল গ্রীক শব্দ (G2098) εὐαγγέλιον “euaggelion” (ইংরেজীতে ‘gospel’), যা নতুন নিয়মে ৭৭ বার ব্যবহৃত।
  • শব্দটির অর্থ কি? প্রধান শব্দ হল ‘aggelion’, যার অর্থ হল খবর, সংবাদ (ইংরেজী শব্দ ‘angel’, অর্থাৎ ‘দূত’, ‘পাঠানো লোক’, ‘সংবাদদাতা’ শব্দটিতে দেখা যায়)। ‘eu’ হল ইতিবাচক শব্দ, যেমন বাংলা ‘সু’। তাই সু-খবর, সু-সংবাদ, ইংরেজী ‘good news’।
  • এই শব্দ থেকে আমরা পায় খ্রিষ্টান অনেক শব্দ, যেমন ‘evangelical’ বা ‘evangelism’।
  • খ্রীষ্টানরা এই শব্দটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহার করেছে বলে, শব্দটি সম্পূর্ণ ‘খ্রিষ্টান’ হয়ে গেছে।
  • কিন্তু যখন নতুন নিয়মে শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয়, তখন তা ‘খ্রিষ্টান’ শব্দ ছিল না বরং তা ছিল ‘সরকারি শব্দ’।
  • যখন নতুন রোমীয় সম্রাট সিংহাসনে উঠলেন অথবা যখন বর্তমান সম্রাটের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছিল, তখনই সরকারি ঘোষকেরা শহরের পর শহরে গিয়ে ঘোষণা করত: “সুখবর, সুখবর, সুখবর, আগষ্ট নতুন রোমীয় সম্রাট”।
  • আমরা বলি ‘সুসমাচার’ মানে ‘পরিত্রাণ পাওয়া যায়!’ এবং হ্যাঁ, সুসমাচার হল “বিশ্বাসীর পক্ষে পরিত্রাণার্থে ঈশ্বরের শক্তি” (রোমীয় ১:১৬)।
  • কিন্তু সুসমাচারের আসল অর্থ হল: ‘নতুন রাজা সিংহাসনে বসেছে’। এক কথায়: সরকার পরিবর্তন! এখন যীশুর রাজত্ব শুরু!
  • একারণে মার্ক যখন সুসমাচারের সারাংশ দেন, তিনি এভাবে বলেন: যীশু “সুখবর প্রচার করতে লাগলেন, “সময় হয়েছে, ঈশ্বরের রাজ্য কাছে এসে গেছে। আপনারা পাপ থেকে মন ফিরান এবং এই সুখবর বিশ্বাস করুন” (মার্ক ১:১৪-১৫)। রাজ্য এসে গেছে! নতুন রাজা এসে গেছে! তাকে মানতে হবে! তাকে স্বীকার করতে হবে!
  • তিনি মঙ্গলময় রাজা, এর জন্য তাঁর আগমন হল সুখবর। এই রাজার হাতে আছে মন্দ থেকে, পাপ থেকে, দোষ থেকে আমাদেরকে মুক্ত করার ক্ষমতা!
  • তাই এই রাজার অধীনতা মেনে নাও! তার বাধ্য হয়ে চল! পৌলের কথায় (রোমীয় ১:৪) “যেন সব জাতির মধ্য থেকে লোকে বিশ্বাস করে ঈশ্বরের বাধ্য হতে পারে”

নির্দেশনা

রোমীয় ১:৩-৪ পদ পড়ুন। যীশু সম্বন্ধীয় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১:৩ যীশু দেহের দিকে রাজা দায়ূদের বংশধর।
  • রোমীয় ১:৪ আত্মার দিক থেকে তিনি মহাশক্তিতে মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে ঈশ্বরের পুত্র হিসাবে প্রকাশিত (ইংরেজীতে ‘ঘোষিত’, কেরী ‘ঈশ্বরের পুত্র বলিয়া নির্দিষ্ট’)।
  • যীশু সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি কেউ হন, তা শুরুদিকে পরিস্কার ছিল না। ১২জন শিষ্যেরা যীশুকে সাধারণ মানুষ হিসাবে বুঝতেন। কিছু আশ্চর্য কাজ দেখে তারা অবশ্যই বলেন “ইনি তবে কে যে, বায়ু এবং সমুদ্রও তাঁর আজ্ঞা মানে?”
  • শুধুমাত্র যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যু এবং আরো বেশি করে তার পুনরুত্থান দ্বারা প্রমানিত হয় যে, যীশুতে মানুষের চেয়ে বেশি উপস্থিত, তিনি আসলেই ঈশ্বরের পুত্র, তিনিই সয়ং ঈশ্বর।
  • পৌল এই সত্য তার পত্রের শুরুতে শক্তিশালীভাবে প্রকাশ করেন।
  • পরবর্তীতে মণ্ডলীর আদিপিতারা (নেতারা) বিষয়টির সারাংশ এভাবে দেন: যীশু ১০০ ভাগ মানুষ এবং একই সাথে ১০০ ভাগ ঈশ্বর।

রোমীয় ১ অধ্যায় - মানুষের পতন

নির্দেশনা

রোমীয় ১:১৮-৩২ পড়ুন। পদগুলো বেশ কঠিন বলে সাধারণ অনুবাদে পড়ুন। এই পদগুলোতে একটি দুঃখজনক অবনতি বা পতন বা ক্ষয়ের বর্ণনা পাওয়া যায়। লক্ষ্য করুন কোন কারণে মানুষ ঈশ্বরের ক্রোধের পাত্র হয়ে যায়? পথ বা অবনতিটা ঠিক কিভাবে? ………………. > ………………….. > ………………………………..

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১:১৮-৩২ পদে বর্ণিত ধারাবাহিকতা বা ক্রমবৃদ্ধি এই: 
  • সৃষ্টি > মানুষের কাছে প্রকাশ ঈশ্বর কে > সিদ্ধান্ত: ঈশ্বরকে গৌরব না দেওয়া, কৃতজ্ঞ না হওয়া > চিন্তা অসার হওয়া > অন্তর অন্ধকারে পূর্ণ > ঈশ্বরের উপসনা ছেড়ে দিয়ে > প্রাণীর পূজা > ঈশ্বর তাদেরকে জঘন্য কাজে ও কামনা-বাসনায় ছেড়ে দিয়েছেন।

রোমীয় ১ অধ্যায় - জ্ঞান বা সত্য বনাম ইচ্ছা বা সিদ্ধান্ত

নির্দেশনা

নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ে বুঝতে চেষ্টা করুন: জ্ঞান/সত্য সম্বন্ধে কি বলা হচ্ছে? মানুষের ইচ্ছা সম্বন্ধে কি বলা হচ্ছে? জ্ঞান/সত্য এবং ইচ্ছা/সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্পর্ক আসলে কি? সত্য বা প্রকাশ সম্বন্ধে এই পদগুলো থেকে কি কি মৌলিক নীতি বুঝতে পারেন?

  • রোমীয় ১:১৮
  • রোমীয় ১:১৯
  • রোমীয় ১:২০
  •  রোমীয় ১:২১
  • রোমীয় ১:২২
  • রোমীয় ১:২৩
  • রোমীয় ১:২৪
  • রোমীয় ১:২৫
  • রোমীয় ১:২৬
  • রোমীয ১:২৮
  • রোমীয় ১:৩২ 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১:১৮ মানুষ ঈশ্বরের সত্যকে অন্যায় দিয়ে চেপে রাখে।
  • রোমীয় ১:১৯ সত্য স্পষ্ট, ঈশ্বর তা প্রকাশ করেছেন।
  • রোমীয় ১:২০ ঈশ্বরের গুণ, ক্ষমতা ও স্বভাব সৃষ্টি দেখলে বুঝা যায়, অজুহাত নেই
  • রোমীয় ১:২১ মানুষ জেনে বুঝে ঈশ্বরকে গৌরব দেয় নি / তাকে স্বীকার করে নি
  • রোমীয় ১:২২ নিজেদের জ্ঞানী বলে দাবি > মুর্খ হয়েছে
  • রোমীয় ১:২৩ মানুষ ঈশ্বরের উপাসনা ছেড়ে দিয়ে সৃষ্টির পূজা শুরু।
  • রোমীয় ১:২৪ ঈশ্বর তাদেরকে নিজের কাজে / কামনা-বাসনায় ছেড়ে দিয়েছেন।
  • রোমীয় ১:২৫ ঈশ্বরের সত্যকে ফেলে তারা মিথ্যাকে গ্রহণ করেছে।
  • রোমীয় ১:২৬ ঈশ্বর তাদেরকে লজ্জাপূর্ণ কামনার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
  • রোমীয ১:২৮ মানুষ ঈশ্বরকে মানতে চায় নি > পাপপূর্ণ মনের হাতে তাদেরকে ছেড়ে
  • রোমীয় ১:৩২ তারা বিচারের কথা > খারাপ কাজ, খারাপ যারা করে তাদেরকে সমর্থন
  • সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এবং মানুষের বিবেকের মধ্য দিয়ে, অর্থাৎ বাস্তবতা লক্ষ্য করলে এবং নিজের হৃদয় মূল্যায়ন করলে মানুষ ঈশ্বর সম্বন্ধে কিছু না কিছু বুঝতে পারে।
  • তারা বুঝতে পারে ঈশ্বরের গুণ, ঈশ্বরের ক্ষমতা ও ঈশ্বরের স্বভাব।
  • ‘জ্ঞান ছিল না’, ‘আমি জানতাম না’, এই অজুহাত কোন মানুষ দাঁড় করাতে পারবে না।
  • ঈশ্বর নিজেকে নির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন: অব্রাহামের আহ্বান, মোশির আইন-কানুন, ভাববাদীদের বাণী এবং চুড়ান্তভাবে তাঁর পুত্রের মধ্য দিয়ে। পুনসংস্কারকারীরা তা বলত “ঈশ্বরের প্রথম বই” (বাইবেল)।
  • ঈশ্বর নিজেকে সাধারণভাবে প্রকাশ করেছেন: সৃষ্টি, মানুষের চারিপাশের বাস্তবতা, মানুষের হৃদয়, চিন্তা, আবেগ, বিবেকের মধ্য দিয়ে। পুনসংস্কারকারীরা তা বলত “ঈশ্বরের দ্বিতীয় বই” (বস্তু জগত)।
  • সবাই একই পরিমাণে জ্ঞান বা প্রকাশ পায় নি (যিহূদীরা বেশি, অযিহূদীরা কম) তবুও সবাই কোন না কোন জ্ঞান বা প্রকাশ পেয়েছে। এজন্য কারও অজুহাত নেই।
  • ঈশ্বরের মানুষকে যে পরিমাণে প্রকাশ পেয়েছে, সেই পরিমাণ অনুসারে দায়বদ্ধ করবেন ও বিচার করবেন। যারা বেশি প্রকাশ পেয়েছে তারা এর জন্য দায়ী, যারা কম প্রকাশ পেয়েছে তারা সেই পরিমাণ প্রকাশের জন্য দায়ী। কিন্তু সবাই দায়ী কারণ সবাই কোন না কোন জ্ঞান পেয়েছে।

নির্দেশনা

জ্ঞান বা প্রকাশ এবং ইচ্ছা বা সিদ্ধান্ত – এই দু’টি বিষয়ের সম্পর্ক ঠিক কি?

বিবেচনা করুন

  • নিজের জীবনে সত্যকে অগ্রাহ্য করার, অস্বীকার করার বা চেপে রাখার ক্ষমতা মানুষের আছে। ঈশ্বর প্রকাশ দান করেন, কিন্তু মানুষকে ‘জোর করে’ রাজি করান না।
  • আরো জ্ঞানলাভ করতে গেলে, জ্ঞান লাভ চাইতে হয়। একজন মানুষ নিজের জন্য নির্ধারণ করে, সে কতদূর জানবে, বুঝবে এবং কতদূর মানবে।
  • বিষয়টি যীশুর কথায়ও প্রকাশিত, “চাও, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ কর, পাবে; দরজায় ঘা দেও, তোমাদের জন্য খোলা হবে” (লূক ১১:৯) এবং “আমার কথামত যদি আপনারা চলেন তবে সত্যই আপনারা আমার শিষ্য … সত্যকে জানতে পারবেন” (যোহন ৮:৩১-৩২)।
  • জ্ঞান লাভ বা সত্য জানা, তা বুদ্ধি বা দক্ষতার উপর নির্ভর করে কম, এর চেয়ে নির্ভর করে আগ্রহ, ইচ্ছুক হৃদয় ও প্রয়োগ করার বিশ্বস্ততার উপর।
  • আমরা বলি: সমস্যা হল জ্ঞানের অভাব। ঈশ্বর বলেন: সমস্যা হল মানার অভাব।
  • ঈশ্বর মানুষকে নিজের উপর সার্বভৌম দান করেছেন। মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে কি বিশ্বাস করবে, কি মানবে বা না মানবে।

রোমীয় ১ অধ্যায় - কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব

নির্দেশনা

রোমীয় ১:১৮-৩২ পদে পৌল কৃতজ্ঞতার বিষয়ে কি বলেন? বিশেষভাবে রোমীয় ১:২১ এবং রোমীয় ১:২৮ (কেরী) পদ দেখুন। কৃতজ্ঞতা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কৃতজ্ঞতা কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ? কৃতজ্ঞ না হলে সমস্যা কি?

বিবেচনা করুন

আমরা কৃতজ্ঞতা ভাল গুণ বলি, কিন্তু সাধারণত আমরা কৃতজ্ঞতা প্রয়োজন বা আবশ্যক গুণ বলি না। কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব ঠিক কি:

  • কৃতজ্ঞতা আমাদের নম্রতা বাড়ায়, আমি স্মরণ / খেয়াল / স্বীকার করি কোথা থেকে আশীর্বাদ / সাহায্য / শক্তি / দক্ষতা / জ্ঞান পেলাম।
  • অহংকার সব কিছু নিজেই-কেন্দ্রিক এবং নিজেরই-সম্বন্ধীয় মনে করে। অহংকারী মানুষ অনেক কিছু মনে করে কিন্তু আসলে অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অন্ধ। কৃতজ্ঞতা অহংকারকে ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
  • কৃতজ্ঞতা আমাকে ঈশ্বরকে, পৃথিবীকে এবং নিজেকে সঠিক আলোতে দেখতে সাহায্য করে।
  • কৃতজ্ঞতা হল সঠিক মনোভাবের ভিত্তি।
  • মানুষদের মধ্যে কৃতজ্ঞতা ‘আবহওয়া’ সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে পারে এবং সেবা সহজ করতে পারে।

রোমীয় ১ অধ্যায় - "ঈশ্বরের তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন"

নির্দেশনা

রোমীয় ১:২৪ এবং ১:২৬ পদ পড়ুন এবং পদগুলোতে কি বিষয় পুনরুক্তি করে বলে হয়েছে, তা লক্ষ্য করুন। ঈশ্বর তাদেরকে নিজের বাজে কাজে ,কামনা-বাসনায়, পাপপূর্ণ মনে “ছেড়ে দিয়েছেন”। কেরী “হৃদয়ের নানা অভিলাষে সমর্পণ করিলেন”। চিন্তা করুন, এই কথার অর্থ কি? 

বিবেচনা করুন

  • ছবিটি এরকম: মানুষ ঈশ্বরের ইচ্ছা, প্রভাব, চেতনা বা কথা অগ্রাহ্য করে এবং একগুঁয়েভাবে নিজের ইচ্ছা অনুসারে চলে।
  • ঈশ্বর যে, মানুষকে ভালদিকে ‘টানতে’ চেষ্টা করেন, অর্থাৎ ঈশ্বরের চেতনা, সাবধানবাণী বা বাধা দান – এগুলোতে তাঁর দয়া প্রকাশ পায়।
  • যতক্ষণ পর্যন্ত অনুতাপের আশা আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঈশ্বর চেষ্টা করতে থাকেন।
  • কিন্তু একবার মানুষ একদম কঠিন হৃদয়ের হয়েছে, ঈশ্বর তাদেরকে “ছেড়ে দেন”, অর্থাৎ তাদের স্বাধীন ইচ্ছার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে যেতে দেন।
  • C.S. Lewis নামে একজন বিখ্যাত খ্রিষ্টান লেখক বিষয়টি এভাবে বলেছেন: ‘শেষে শুধুমাত্র দু’ধরণের মানুষ থাকবে। এক দলে এমন লোক যারা বলে ‘প্রভু, তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হোক’ এবং অন্য দলে এমন লোক যাদের কাছে ঈশ্বর বলেন ‘তোমার ইচ্চা পূর্ণ হোক’। অন্য কথায়, তিনি একই বিষয়টি এভাবে প্রকাশ করেছিলেন: ‘আপনার সিদ্ধান্ত শেষে এই, হয় আপনি স্বর্গে সেবা করবেন, না হয় আপনি নরকে রাজত্ব করেন’।

রোমীয় ১ অধ্যায় - মানুষের পাপে পতন

নির্দেশনা

পৌল রোমীয় ১:১৮-৩২ পদে বিভিন্ন ধরণের পাপ উল্লেখ করেন। পাপগুলোর একটি তালিকা বানিয়ে সাথে চিন্তা করুন: কোন পাপগুলো আমরা হালকা মনে করি, কোনগুলো আমরা ‘বড় পাপ’ মনে করি?
১) ….…………………………..……     ২) ………..……….………………….     ৩) ………………………..………
৪) ….…………………………..……     ৫) ………..……….………………….     ৬) ……………………..…………
৭) ….…………………………..……     ৮) ………..……….………………….     ৯) ………………………………
১০).…………………………..……      ১১) ………..……..………………….      ১২) ………………………………
১৩).…………………………..……      ১৪) ………..……..………………….      ১৫) ………………………………
১৬).…………………………..……      ১৭) ………..……..………………….      ১৮) ………………………………
১৯).…………………………..……      ২০) ………..……..………………….      ২১) ………………………………

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

১) সব রকম অন্যায়                   ২) মন্দতা                            ৩) লোভ
৪) নীচতা                            ৫) হিংসা                             ৬) খুন
৭) মারামারি                          ৮) ছলনা                             ৯) অন্যের ক্ষতি করার ইচ্ছা
১০)গুজব-গল্প                        ১১) নিন্দা                            ১২) ঈশ্বরকে ঘৃণা
১৩) বদ্ মেজাজী                      ১৪) অহংকারী                        ১৫) গর্বিত
১৬) অন্যায় কাজের নতুন কৌশল       ১৭) মা-বাবার অবাধ্য                 ১৮) ভাল-মন্দ জ্ঞান নেই
১৯) অন্তরে দয়া-মায়া নেই              ২০) শাস্তির বিষয়ে জেনেও তা করে    ২১) পাপে গর্বিত, পাপীকে প্রশংসা

  • আমরা প্রায়ই লোভ, হিংসা, গুজব-গল্প বলা বা অবিশ্বস্থতা হালকা পাপ হিসাবে ধরি। কিন্তু আমরা এভাবে এক পাপ খারাপ বলি অন্যটা ‘বড় পাপ’ বলি, কিন্তু তা কি ঠিক?
  • আর একটি বিষয়: লক্ষ্য করুন যে, তালিকাটি উদাহরণগুলোর তালিকা মাত্র, অর্থাৎ আরো অনেক কিছু তালিকায় উঠানো যেত।
  • প্রকৃতপক্ষে মোশির আইন-কানুনে আরো অনেক অপরয়ের উল্লেখ আছে।
  • তাই পৌল এখানে একটি ‘সমাপ্ত তালিকা’ দেন না, বরং উদাহরণগুলোর একটি তালিকা।
  • আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পৌল এখানে অযিহূদীদের দোষ ধরেন? বা যিহূদী-অযিহূদী উভয়ের দোষ ধরেন? বলা যায় যে, পাপগুলোর একটি ‘অযিহূদী ভাব’ আছে।
  • কিছু পাপটির উল্লেখ আছে (যেমন ঈশ্বরকে ঘৃণা, শাস্তির বিষয়ে জেনেও খারাপ কাজ), এগুলো ধর্মিক যিহূদীদের ক্ষেত্রে কম প্রযোজ্য, তাই চিন্তা করা যায় যে, পৌল এখানে বিশেষভাবে অযিহূদীদের কাছে কথা বলেন।
  • তবুও দেখা যায় যে, প্রকৃতপক্ষে সব মানুষ একভাবে না অন্যভাবে এই পাপগুলো করে। মোট কথা কথাটি সবার কাছে।

রোমীয় ১ অধ্যায় - মানুষের পাপে পতন ও সমকামিতা

নির্দেশনা

পৌল যখন মানুষের মন অসার হওয়ার এবং তাদের ব্যবহার খারাপের দিকে যাওয়ার বর্ণনা করেন, তখন তিনি অস্বাভাবিক বা সমকামি আকর্ষণ ও আচরণ উল্লেখ করেন, উভয় পুরুষ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে। আমরা কথাটি কিভাবে বুঝব? ব্যাখ্যাটি কমবেশি দু’ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:

  • ১) সমকামিতা হল পাপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণার, তাই পৌল এখানে সমকামিতা উল্লেখ করেন।
  • ২) ঈশ্বরকে অগ্রাহ্য করার ফলে মানুষের মন কিভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসার, বিকৃত ও মন্দ হয়ে যায়, তার একটি উদাহরন হিসাবে পৌল এখানে সমকামিতা উল্লেখ করেন। এর অর্থ এই নয় যে, সমকামিতার পাপগুলোর মধ্যে

বিশেষ স্থান বা স্তর আছে।
আপনি কোন উত্তর সঠিক উত্তর মনে করেন?

বিবেচনা করুন

অনেক বিশ্বাসীরা সমকামিতা বিশেষভাবে ঘৃণার মনে করেন, এবং সমকামিদের বিরুদ্ধে বেষ কঠোরভাবে আচরণও করে। কিন্তু এভাবে বিভিন্ন পাপের মধ্যে পার্থক্য করা কি আসলে যা পৌল এখানে শেখাতে চান?

  • পৌল রোমীয় ১:২৯-৩২ একটি বড় তালিকায় বিভিন্ন ধরণের পাপ উল্লেখ করেন, তাই তিনি পরিষ্কারভাবে আরো পাপগুলো ইঙ্গিত করতে চান।
  • এছাড়া পৌল ১ তীমথিয় ৬:১০ পদে বলেন “সব রকম মন্দের গোড়াতে রয়েছে টাকা-পয়সার প্রতি ভালবাসা।” তাই পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পায় যে, পৌল সব সময় যে সমকামিতা ‘সেই পাপ’ হিসাবে ঘোষণা করেন, এমন নয়।
  • আর একটি চিন্তার বিষয়: মোশির আইন-কানুনে উভয় সমকামি আচরণ এবং ব্যভিচার (এবং আর অনেক কিছু!) অনৈতিক, অর্থাৎ পাপ হিসাবে ঘোষিত। ব্যভিচার ছিল মৃত্যুদণ্ড যোগ্য অপরাধ, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড যোগ্য অপরাধের
  • তালিকায় (লেবীয় ২০ অধ্যায়) সমকামির উল্লেখ নেই। অনৈতিক এবং বেআইনি, এই দু’টি বিষয় একই নয়।
    খ্রিষ্টান হিসাবে আমাদের প্রায়ই সমকামিদের বিরুদ্ধে অনেক কিছু বলার থাকে, কিন্তু মণ্ডলীতেও ব্যভিচার চলছে, এই বিষয় নিয়ে আমাদের কথা কম। এই দৃষ্টি কিন্তু ঈশ্বরের নয়।

রোমীয় ১ অধ্যায় - ঈশ্বরের ক্রোধ

নির্দেশনা

  • রোমীয় ১:১৮ “মানুষ ঈশ্বরের সত্যকে অন্যায় দিয়ে চেপে রাখে, আর তাই তাঁর প্রতি ভক্তির অভাব ও সমস্ত অন্যায় কাজের জন্য স্বর্গ থেকে মানুষের উপর ঈশ্বরের ক্রোধ প্রকাশ পেয়ে থাকে।”
  • রোমীয় ১:২৪ “ঈশ্বর তাদেরকে … ছেড়ে দিয়েছেন”
  • এই দু’টি পদ নিয়ে চিন্তা করুন। ঈশ্বরের ক্রোধ কেন? ভালবাসার ঈশ্বরের কেন ক্রোধ করেন?

বিবেচনা করুন

  • ঈশ্বরের ক্রোধ শুধুমাত্র এমন কিছুর উপর, যা মানুষকে ধ্বংস করে। ঈশ্বর দয়া করেন এবং করতে থাকেন। যখন মানুষ চেতনা ও প্রতাশ জেনে বুঝে বার বার অগ্রাহ্য করে, কোনোভাবে আর সংশোধিত হতে রাজি না এবং সাথে অন্যদের প্রতি অন্যায় করতে থাকে, শুধুমাত্র তখনই ঈশ্বর তাঁর ক্রোধ প্রকাশ করেন।
  • “ছেড়ে দেওয়া” এই কথাটি কেমন অবস্থা বর্ণনা করে? এমন অবস্থা যেখানে মানুষের খারাপের দিকে যাওয়ার বিষয়ে ঈশ্বর প্রতিরোধ করা বাদ দেন। মানুষ নিজের ইচ্ছা মত করতে থাকে এবং নিজের আচরণের ফলাফল উপভোগও করে।
  • হয়তো যা আমরা ‘ঈশ্বের শাস্তি’ বলি, তা আসলে আমাদের আচরণের বাস্তব ফলাফল।
  • ঈশ্বর ভালভাবে জানেন এই ধরণের আচরণের শেষ ফল কি, এরজন্যই তিনি এই আচারণগুলো নিষেধ করেছিলেন।
  • আমরাই আমাদের আচরণের মধ্য দিয়ে নিজের উপরে কষ্ট এবং এমন কি সর্বনাশ নিয়ে আসি।

রোমীয় ২ অধ্যায় - পৌলের এই কথা কাদের কাছে?

নির্দেশনা

রোমীয় ২:১-১১ পৌল ঠিক কার কাছে কথা বলেন? বিশেষভাবে রোমীয় ২:১, ২:৯ এবং ২:১০ পদ দেখুন। চিন্তা করুন, পৌল এই পদগুলো দিয়ে কি বলতে চান? গুরুত্বপূর্ণ নীতি কি এখানে?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ২:১ যিহূদীদের কাছে “যখন তুমি অন্যদের দোষ দাও তখন কি তুমি নিজেকেই দোষী বলে প্রমাণ কর না? তুমি অন্যদের দোষ দাও অথচ তুমি সেই একই কাজ করে থাক।”
  • রোমীয় ২:৯ যারা অবাধ্য > ঈশ্বরের ক্রোধ > দুর্দশা “প্রথমে যিহূদীদের, আর পরে অযিহূদীদের।”
  • রোমীয় ২:১০ যারা ভাল কাজ করে > গৌরব, সম্মান, শান্তি – “প্রথমে যিহূদীরা, তারপর অযিহূদীরা।”
  • যদি আমি অন্যদের একটি বিষয় নিয়ে দোষ ধরি, তবে আমি স্বীকার করি যে, সেই কাজটি খারাপ।
  • যদি আমি একই কাজ নিজেও করি, আমি নিজের দোষ প্রমান করেছি, কারণ আমি জেনে বুঝে তা করেছি।
  • ‘আমি জানতাম না’, এই অজুহাত আর দেওয়া সম্ভব হবে না।
  • অন্য কথায়: যে আচরণ আমি অন্যায় বলি যখন আমার বিরুদ্ধে করা হয়, সেই আচরণটি যদি নিজেই করি, তবে আমি অপরাধী।
  • যীশু এই একই চিন্তা ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করেছেন: “রোকের কাছ থেকে তোমরা যেমন ব্যবহার পেতে চাও তোমরাও তাদের সঙ্গে তেমনই ব্যবহার করেন” (লূক ৬:৩১), যা ‘সোনার আইন’ও বলা হয়।
  • এখানে অবশ্যই যীশুর আরো কথা মনে পড়ে “তোমরা অন্যের দোষ ধরে বেড়িয়ো না যেন তোমাদেরও দোষ ধরা হয় না” (মথি ৭:১-২) এবং “আপনার কথার দ্বারাই আপনাকে দোষী বলা হবে” (মথি ১২:৩৭)।
  • সারাংশ: পৌল এই অনুচ্ছেদে যিহূদী-অযিহূদী উভয়ের কাছে কথা বলেন।
  • তবে বিষয়টি বিশেষভাবে যিহূদীদের বিরুদ্ধে, কারণ তারা নিজেদেরকে অযিহূদীদের চেয়ে আইন-কানুনের ক্ষেত্রে জ্ঞানী ও বাধ্য মনের করে।

রোমীয় ২ অধ্যায় - বিচার করার মনোভাব, অর্থাৎ যে মনোভাব ঈশ্বর বিচার করেন

নির্দেশনা

‘অন্যদের বিচার করার মনোভাব’, পৌল এর সাথে এমন মনোভাব উল্লেখ করেন, যা ঈশ্বরের ক্রোধে পড়বে। রোমীয় ২:৫ পদ পড়ুন এবং চিন্তা করুন, ঠিক কি যে মনোভাব, যাতে ঈশ্বরের ক্রোধ নিয়ে আসে?

বিবেচনা করুন

  • রোমীয় ২:৫ কঠিন মন, অননুতপ্ত বা অনিচ্ছুক হৃদয়।
  • পৌল আমাদের এখানে একটি কঠোর সাবধানবাণী দেন: যারা অন্যদের বিচার করে বা অন্যদের ভুল ধরতে থাকে, তারা ঠিক সেই লোক, যারা নিজেই সংশোধন মেনে নেয় না ও অনুতপ্ত হয় না।
  • প্রক্রিয়া হল: অন্যদের বিচার করা > অহংকার > নিজের ভুল বুঝতে না চাওয়া > অনুতপ্ত না হওয়া > ক্রোধের পাত্র হওয়া।
  • প্রয়োগ হিসাবে এক মিনিট চিন্তা বা আলোচনা করুন: এই মুহূর্তে আমি কার ব্যবহারে বিরক্ত পাচ্ছি? আসলে ঠিক কি বিষয় নিয়ে বিরক্ত লাগে? আমি কি একই ধরণের কাজ নিজেও করি? যদি কেউ কিছু বলে, তবে আমার প্রতিক্রিয়া কি?
  • যারা দয়া দেয়, তারা দয়া পাবে। যারা ক্ষমা করে, তারা ক্ষমা পাবে। যীশুর জীবনে আমরা দেখতে পাই, কিভাবে তিনি লোকদেরকে চ্যালেঞ্জ করতেন কিন্তু সাথে অদ্ভুত দয়াও দেখাতেন।

রোমীয় ২ অধ্যায় - কি দেখে মানুষ অনুতপ্ত হয়?

নির্দেশনা

  • রোমীয় ২:৪ পদ কেরী অনুবাদে পড়ুন এবং চিন্তা করুন, ঠিক কি দেখে বা পেয়ে মানুষ অনুতপ্ত হয়?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ২:৪ ঈশ্বরের মধুর ভাব, ধৈর্য ও চিরসহিষ্ণুতারূপ ধন লাভ।
  • আগের বিষয়ের সাথে এখানে মিল পাই: দয়া কত আকর্ষণীয়! মণ্ডলীর অনেক প্রচারকেররা শ্রোতাদের সাড়া বা বাধ্যতা নিশ্চিত করার জন্য ঈশ্বরের ক্রোধ ও বিচার নিয়ে ভয় দেখানো হয়।
  • রোমীয় এই পদ অনুসারে তা কি কার্যকারী? তা কতক্ষণ কার্যকারী মনে করেন? দেখা যায় যে হয়তো মুহূর্তে কার্যকারী, কিন্তু স্থায়ীভাবে না।
  • রোমীয় এই পদ অনুসারে ঠিক কি কার্যকারী? আমাদের প্রচারের মূল বিষয় তাহলে কি হওয়া দরকার? > ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা, ঈশ্বরের চমৎকার চরিত্র।
  • কোন বিষয়ে আপনার বিচার করার মনোভাব আছে? কোন বিষয়ে আপনি কঠোর?

রোমীয় ২ অধ্যায় - আইন-কানুন এবং যিহূদীদের মনোভাব

নির্দেশনা

রোমীয় ২:১২-১৬ পদ পড়ুন। পৌল এখানে রোমীয় ১ অধ্যায়ের একটি বিষয় পুনরায় তোলেন: যিহূদীরা নির্দিষ্ট প্রকাশ পেয়েছিল (অব্রাহামের আহ্বান, মোশির আইন-কানুন, ভাববাদীদের বাণী) এবং অযিহূদীরা নির্দিষ্ট প্রকাশ না পেলেও সৃষ্টি থেকে প্রকাশ পেয়েছিল।
এইবার পৌল এতে গুরুত্বের সঙ্গে আর একটি বিষয় যোগ দেন। রোমীয় ২:১৪-১৫ পদে তিনি অযিহূদীদের প্রকাশ পাওয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্টির পাশাপাশি আর কি বিষয় উল্লেখ করেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

রোমীয় ২:১৪-১৫ পদে পৌল অযিহূদীদের প্রকাশ পাওয়ার ক্ষেত্রে বলেন যে, আইন তাদের হৃদয়ে লেখা আছে, চেতনা দ্বারা ঈশ্বর তাদের কাছে কথা বলেন।

আমরা ছবি তাহলে এভাবে দেখাতে পারি (বামের ছবি দেখুন)।

নির্দেশনা

এই অনুচ্ছেদে যিহূদী এবং অযিহূদীদের বিষয়ে পৌল কি বলেন? রোমীয় ২:১২ পদ ও ২:১৬ পদ লক্ষ্য করুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

রোমীয় ২:১২ ২:১৬ পদে পৌল বলেন যে, যিহূদী ও অযিহূদী উভয় পাপ করেছে এবং ঈশ্বর উভয়কে বিচার করেবেন। সারাংশে বলা যায় যে, যিহূদী অযিহূদী উভয় প্রকাশ পেয়েছে এবং যিহূদী অযিহূদী উভয়ই প্রকাশ অনুসারে জীবন-যাপন না করার কারণে দোষী ও বিচারের যোগ্য হয়েছে।

রোমীয় ২ অধ্যায় - যিহূদীদের মনোভাব চ্যালেঞ্জ

নির্দেশনা

পৌল এখানে টিটকারি ব্যবহার করে যিহূদীদের অহংকার চ্যালেঞ্জ করেন। যিহূদীদের সম্বন্ধে তিনি ৯টি বর্ণনা করেন। সেগুলো কি? রোমীয় ২:১৭-২০ পদ দেখুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • ১) রোমীয় ২:১৭ – তারা মোশির আইন-কানুনের উপর নির্ভর করে।
  • ২) রোমীয় ২:১৭ – তারা নিজেদেরকে ঈশ্বরের লোক বলে গর্ববোধ করে।
  • ৩) রোমীয় ২:১৮ – তারা দাবি করে তারা জানে ঈশ্বর কি চান এবং তা মেনে নেয়।
  • ৪) রোমীয় ২:১৮ – তারা আইন-কানুনের শিক্ষা লাভ করেছে।
  • ৫) রোমীয় ২:১৯ – তারা মনে করে তারা অন্ধদের পথ দেখায়।
  • ৬) রোমীয় ২:১৯ – তারা ভাবে যে, যারা অন্ধকারে আছে, তারা তাদের জন্য আলোর মত।
  • ৭) রোমীয় ২:২০ – তারা ধারণা করে, যারা বিবেচনাহীন তারা তাদেরকে সংশোধন করতে পারে।
  • ৮) রোমীয় ২:২০ – তারা মনে করে তারা অন্যদের আইনের শিক্ষা দিতে পারে।
  • ৯) রোমীয় ২:২০ – তারা ধারণা করে, তারা আইন-কানুনের মধ্যে জ্ঞান ও সত্য পেয়েছে।

লক্ষ্য করুন, পৌল এখানে কত স্বাধীনভাবে নিজের সংস্কৃতি নিয়ে হাসাহাসি করে, আসলে তিনি তো নিজেই ঠিক এই ধরণের অহংকারী যিহূদী ছিলেন এবং অযিহূদীদের নীচু চোখ দেখতেন। আপনি কি নিজের সংস্কৃতির দুর্বলতা দেখতে পান? না মাত্র অন্য সংস্কৃতির লোকদের দুর্বলতা দেখতে পান?

নির্দেশনা

রোমীয় ২:২১-২৪ পদ পড়ুন এবং লক্ষ্য করুন, কিভাবে পৌল ৫টি চেতনাদায়ক প্রশ্নের মধ্য দিয়ে যিহূদীদের চ্যালেঞ্জ করেন। চিন্তা করুন, আপনি কি কোনো বিষয়ে একইভাবে করেন কিনা?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ২:২১ তুমি যখন শিক্ষা দিয়ে থাক তখন নিজেকে শিক্ষা দাও না কেন?
  • রোমীয় ২:২১ তুমি প্রচার করছ ‘চুরি করো না’, কিন্তু তুমি নিজেই চুরি করছ না?
  • রোমীয় ২:২২ তুমি বলে থাক ‘ব্যভিচার কোরো না’ কিন্তু নিজেই ব্যভিচার করছ?
  • রোমীয় ২:২২ তুমি তো প্রতিমা ঘৃণা কর, কিন্তু তুমি কি নিজেই মন্দিরে চুরি করছ?
  • রোমীয় ২:২৩ আইন-কানুন নিয়ে গর্ববোধ, কিন্তু নিজেই কি আইন অমান্য কর?
  • রোমীয় ২:২৪ পৌলের সারাংশ: তোমাদেরই জন্য অযিহূদীরা ঈশ্বরের নামের নিন্দা করে।

আমরা কত সহজে নিজের পরিবার, জাতি বা সংস্কৃতির জন্য অজুহাত দেখাই। আমরা নিজেদের দুর্বলতাগুলোর প্রতি কত অন্ধ! এর তুলনা পৌলের কথা লক্ষ্য করুন। তিনি নিজেকে নিয়ে এবং নিজের সংস্কৃতি নিয়ে কত সৎ!

রোমীয় ২ অধ্যায় - ত্বচ্ছেদ বা সুন্নতের বিষয়

নির্দেশনা

রোমীয় ২:২৫-২৯ পদ পড়ুন এবং নিচের প্রশ্নগুলোর দিন:

  • কারা ত্বচ্ছেদ বা সুন্নত অনুশীলন করত, যিহূদী বা অযিহূদী?
  • যিহূদীদের জন্য ত্বচ্ছেদ বা সুন্নতের অর্থ কি ছিল?
  • পৌল কি বলেন, একজন ব্যক্তি যদি ত্বচ্ছেদ প্রাপ্ত হয় কিন্তু আইন-কানুন অমান্য করে, তবে তার কি লাভ আছে?
  • পৌল এখানে দেহ ত্বচ্ছেদ এবং অন্তরে ত্বচ্ছেদ বা সুন্নতের কথা বলেন। তিনি এতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন? 
  • ‘অন্তরে সুন্নত বা ত্বচ্ছেদ’, এই রূপক বা চিন্তাটি কি পুরাতন নিয়মেও পাওয়া যায়, না এটা হল পৌল থেকে নতুন চিন্তা? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • কারা ত্বচ্ছেদ বা সুন্নত অনুশীলন করত, যিহূদী বা অযিহূদী? > যিহূদীরা।
  • যিহূদীদের জন্য ত্বচ্ছেদ বা সুন্নতের অর্থ কি ছিল? > তা ছিল মনোন্বিত জাতির একজন হওয়ার একটি চিহ্ন।
  • পৌল কি বলেন, একজন ব্যক্তি যদি ত্বচ্ছেদ প্রাপ্ত হয় কিন্তু আইন-কানুন অমান্য করে, তবে তার কি লাভ আছে? > না।
  • পৌল এখানে দেহ ত্বচ্ছেদ এবং অন্তরে ত্বচ্ছেদ বা সুন্নতের কথা বলেন। তিনি এতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন? > দেহের সুন্নত হল ঈশ্বরের আদেশ অনুসারে যিহূদী ছেলেদের ৮ নম্বর দিনে পুরুষাঙ্গে চামড়া কাটা। অন্তরের সুন্নত দ্বারা পৌল ‘নম্র হৃদয়’ বুঝায়, যা ঈশ্বরকে মানে। যারা ঈশ্বরের বাক্য, চেতনা বা সংশোধন মানে, তাদের ‘অন্তরে সুন্নত’ করা হয়েছে।
  • ‘অন্তরে সুন্নত বা ত্বচ্ছেদ’, এই রূপক বা চিন্তাটি কি পুরাতন নিয়মেও পাওয়া যায়, না এটা হল পৌল থেকে নতুন চিন্তা? > আসলে যিরমিয় এই রূপকও ব্যবহার করেন। যিরমিয় ৪:৪ পদ বলে “হে যিহূদা ও যিরূশালেমের লোকেরা, সদাপ্রভুর বাধ্য হবার জন্য তোমাদের নিজেদের সুন্নত কর, অর্থাৎ তোমাদের অন্তরের ময়লা দূর কর।”

রোমীয় ৩ অধ্যায় - যিহূদীদের কি লাভ হয়েছিল?

নির্দেশনা

রোমীয় ৩:১-৮ পড়ুন। পৌল দাবি করেছেন যে, অযিহুদীদেরকেও প্রকাশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো দাবি করেছেন যে, আইন-কানুন পালন না করলে ত্বচ্ছেদ বা সুন্নতের কোন লাভ নেই। এটি শুনে অনেকে, বিশেষভাবে যিহূদীরা আপত্তি উঠাবে। পৌল এই আপত্তিগুলো নিজেই তুলে তা প্রশ্ন হিসাবে রাখেন: “তা-ই যদি হয় তবে যিহূদীদের বিশেষ কি লাভ হয়েছে? সুন্নত করাবারই বা মূল্য কি?”
পরবর্তী পদে তিনি উত্তর দিতে যাচ্ছেন: সব দিকেই লাভ হয়েছে। যিহুদীদের কি লাভ হয়েছে? রোমীয় ৩:২ পদ থেকে উত্তর দিন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

রোমীয় ৩:২ ঈশ্বর তাদেরকে তাঁর বাক্য দিয়েছিলেন।

নির্দেশনা

  • আবারও কিছু লোক আপত্তি উঠাতে পারে: যিহূদীরা অবিশ্বস্ত ছিল, মনোন্বিত জাতি তেরি করা ঈশ্বরের এই পরিকল্পনা নিষ্ফল হয়েছিল। আইন-কানুন দেওয়ার পরেও লাভ হয় নি, কারন যিহূদীরা তা অনুসারে জীবন-যাপন করে নি। সব কিছু নিষ্ফল যদি হয়, তবে এখানে মানুষের তো তেমন কিছু করার ছিল না। তাই এখানে ঈশ্বরের ক্রোধও উপযুক্ত নয় (রোমীয় ৩:৭)।
  • এই ধরণের চিন্তা বা যুক্তি পৌল একদম অগ্রাহ্য করেন। তিনি গীত ৫১:৪ পদে বলেন “কাজেই তোমার রায় ঠিক, তোমার বিচার নিখুঁত।” পৌল জোরের সঙ্গে বলেন যে, ঈশ্বরই সত্য যদিও মানুষ মিথ্যা। ঈশ্বরই ন্যায্য যদিও মানুষ অন্যায় করতে থাকে।
  • রোমীয় ৩:৮ পদে পৌল তার শিক্ষার বিরুদ্ধে আর একটি সম্ভাব্য আপত্তি তোলেন। কিছু লোক পৌলের শিক্ষা কিভাবে সারাংশ করেছে? “চল আমরা মন্দ কাজ করতে থাকি যাতে ভাল আসতে পারে।”
    এখানে লোকদের কি কি ভুল চিন্তা ছিল?

বিবেচনা করুন

  • এখানে লোকদের কি কি ভুল চিন্তা ছিল? > সম্ভবত তারা পৌলের সুসমাচার প্রচার ভুল বুঝে বলেছে যে, পৌল মাত্র ‘অনুগ্রহ’ প্রচার করেন, কোন দাবি নেই, কোন শর্ত নেই, তাই মানুষ যা চায় তা-ই করতে পারে কারণ তাতে ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও ক্ষমা আরো প্রকাশ পায়। তারা বলে যে, পৌলের প্রচার হল ‘অতি সহজ’, তা হল ‘সস্তা অনুগ্রহ’। পৌল এই কথার বিরুদ্ধে দাঁড়ান।

রোমীয় ৩ অধ্যায় - যুক্তির সমর্থনে পুরাতন নিয়ম থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি

নির্দেশনাৃ

রোমীয় ৩:৯ পদে পৌল এখানে বিগত ২ অধ্যায়ের সারাংশ দেন: যিহূদী-অযিহূদী সবাই পাপের অধীনে। পৌল এখানে তার কথা আরো প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন পুরাতন নিয়মের উদ্ধৃতি নিয়ে আসেন। রোমীয় ৩:১০-১৮ পড়ুন। পাশের ছকে রোমীয় পুস্তকে পুরাতন নিয়মের সব উদ্ধৃতির একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে।

আপনি কেন মনে করেন পৌল এখানে এত উদ্ধৃতি করেন? তা বিশেষভাবে যিহূদীদের কাছে কি দেখাবে?

বিবেচনা করুন

যিহূদীরা পুরাতন নিয়ম সম্মানের চোখ দেখত, তাই পুরাতন নিয়ম থেকে প্রমাণ দেখানো মানে শক্তিশালীভাবে প্রমাণিত করা। এছাড়া পৌল যিহুদীদের আত্ম-ধারমিকতা আর একবার চ্যালেঞ্জ করেন এই বলে যে, ‘তোমাদের নিজেদের শাস্ত্রে লেখা আছে যে, তোমাদের ধার্মিকতা যথেষ্ট নয়!’

রোমীয় ৩ অধ্যায় - সবাই আইন জানলেও পাপ করেছে

নির্দেশনা

পৌল রোমীয় ৩:১৯-২০ পদে আইন-কানুন সম্বন্ধে কি কি বলেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৩:১৯ সবাই এক রকম না অন্য রকম আইনের অধীনে (যিহূদী: মোশির আইন-কানুন, অযিহূদী: সৃষ্টি ও চেতনা থেকে প্রকাশ)।
  • রোমীয় ৩:১৯ কেউ আইন-কানুন সম্পূর্ণভাবে পালন করে না।
  • রোমীয় ৩:২০ এরজন্য আইন-কানুন পালন করা দ্বারা কাউকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হয় না।
  • রোমীয় ৩:২০ আইন-কানুন দ্বারা পাপের চেতনা আসে, অর্থাৎ আইন দিয়ে আমার দোষ প্রমাণিত।
    সারাংশে বলা যায় যে, আইন-কানুন প্রকাশ, চেতনা ও জ্ঞান দান করে, কিন্তু আইনই আইন পালন করার ক্ষমতা যোগান করতে পারে না। আইন-কানুনের বিষয়ে পরে আরো আলোচনা করা হবে।

রোমীয় ৩ অধ্যায় - কিভাবে মানুষ গ্রহণযোগ্য বা ধার্মিক হয়

নির্দেশনা

রোমীয় ৩:২১-২৬ পদ পড়ুন এবং পদ থেকে  প্রশ্নের উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৩:২১ – আইন-কানুন ছাড়া কি প্রকাশ করা হয়েছে?
  • রোমীয় ৩:২১ – মানুষকে গ্রহণযোগ্য হওয়ার সেই নতুন পথ কোথায় আগে প্রকাশিত হয়েছে? 
  • রোমীয় ৩:২২ – কিভাবে মানুষকে ‘ধার্মিকতা’ দেওয়া হবে? কিভাবে মানুষকে ‘নির্দোষ বলে গ্রহণ’ করা হবে? 
  • রোমীয় ৩:২৪ – যীশুতে বিশ্বাস করা দ্বারা গ্রহণযোগ্য হওয়া, তা কিভাবে বর্ণিত?
  • রোমীয় ৩:২৫ – যীশুকে কিভাবে এই পথ তৈরি করেছেন?
  • রোমীয় ৩:২৬ – যীশুর ধার্মিকতা কিভাবে বিশ্বাসীকে ধার্মিক গণনা হয? যীশু যে নির্দোষ হন, তা দ্বারা কিভাবে বিশ্বাসীকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হবে? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৩:২১ – আইন-কানুন ছাড়া কি প্রকাশ করা হয়েছে? > মানুষকে কিভাবে নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হয়।
  • রোমীয় ৩:২১ – মানুষকে গ্রহণযোগ্য হওয়ার সেই নতুন পথ কোথায় আগে প্রকাশিত হয়েছে? > আইন-কানুন এবং ভাববাদীদের কথা দ্বারা।
  • রোমীয় ৩:২২ – কিভাবে মানুষকে ‘ধার্মিকতা’ দেওয়া হবে? কিভাবে মানুষকে ‘নির্দোষ বলে গ্রহণ’ করা হবে? > যীশু খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাস করে।
  • রোমীয় ৩:২৪ – যীশুতে বিশ্বাস করা দ্বারা গ্রহণযোগ্য হওয়া, তা কিভাবে বর্ণিত? > তা হল দয়া (অনুগ্রহ), তা হল দান, তা হল যীশুর মধ্য দিয়ে।
  • রোমীয় ৩:২৫ – যীশুকে কিভাবে এই পথ তৈরি করেছেন? > তাঁর রক্ত দ্বারা (অর্থাৎ ক্রুশে তার জীবন উৎসর্গ দ্বারা) ঈশ্বর সন্তুষ্ট হয়েছে (প্রায়শ্চিত করেছেন)।
  • রোমীয় ৩:২৬ – যীশুর ধার্মিকতা কিভাবে বিশ্বাসীকে ধার্মিক গণনা হয? যীশু যে নির্দোষ হন, তা দ্বারা কিভাবে বিশ্বাসীকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হবে? > ঈশ্বরের অনুগ্রহ এই যে, যতজন যীশুর উপর বিশ্বাস করবে তা পাবে।

রোমীয় ৩ অধ্যায় - একতার ভিত্তি

নির্দেশনা

কেন মনে করেন পৌল রোমীয় ৩:২৯ পদে বলেন যে, গর্ব করার বা স্লাঘা করার কিছু নেই? তা কিভাবে আগের কথার উপসংহার?

বিবেচনা করুন

  • পৌল শক্তিশালী বলেছেন যে, এই ধার্মিকতা বা গ্রহণযোগ্যতা হল ঈশ্বরের দান, অর্থাৎ এই সব কিছু যীশুর অনুগ্রহ ও আত্ম-ত্যাগ দ্বারা সম্ভব হয়েছে। তাই এখানে গর্ব, স্লাঘা, আত্ম-গুরুত্ব, আত্ম ধার্মিকতা ও ‘অর্জন করার মনোভাব’ বলতে কিছু থাকতে পারে না।
  • এই বিষয়ের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ আছে: রোমীয় ৩:২৯-৩০ পদে পৌল বলেন যে, ঈশ্বরের অনুগ্রহ বা দয়া দ্বারাই যিহূদী ও অযিহূদীর একতার ভিত্তি স্থাপিত হয়। সবাই একইভাবে অযোগ্য। সবাই একইভাবে দয়া পেয়েছে।
  • বামে দেওয়া রোমীয় চিঠির কাঠামো আর একবার দেখে লক্ষ্য করি, কতদূর আমরা এসেছি।
  • সারাংশে বলা যায় যে, পৌল এই ৩টি অধ্যায়ে প্রমাণ করেছেন যে:
    • যিহূদী-অযিহূদী উভয় প্রকাশ পেয়েছে এবং এক ধরণের আইনের অধীনে আছে।
    • যিহূদী-অযিহূদী উভয় প্রকাশ পেয়ে ও আইন জেনে তা অমান্য করেছে। তাই দ’জনই পাপি, দু’জনই ঈশ্বরের ক্রোধের পাত্র।
    • যিহূদী-অযিহূদী উভয় যীশুতে বিশ্বাস রেখে ঈশ্বরের চোখে গ্রহণযোগ্য বা ধার্মিক হয়।
    • তাই যিহূদী-অযিহূদী উভয় ঈশ্বরের অনুগ্রহ পায় এবং এই অনুগ্রহ দু’জনের জন্য কার্যকারী।
  • এভাবে পৌল শক্তিশালীভাবে দুই দলের মধ্যে একতার ভিত্তি স্থাপন করেছেন।
  • আমরা খ্রিষ্টান মণ্ডলী হিসাবে অনেক বিচ্ছেদে ভুগছি। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত হওয়া যায়, কি কি যে মৌলিক সত্য বা বিষয় যাতে আমরা সবাই একমত হতে পারি?
  • আমরা একই যীশুতে বিশ্বাস করি, সবাই যে পাপী, দোষী, সীমিত জ্ঞানের। যীশু তার অনুগ্রহে সবার জন্য ক্রুশীয় মৃত্যুবরণ এবং পরিত্রাণ অর্জন করেছেন। তার ক্ষমা, দয়া ও পরিবর্তনকারী ক্ষমতা সব বিশ্বাসীদের জন্য আছে। এক প্রভু, এক বিশ্বাস, এক পিতা, এক পরিবার, এক স্বর্গ।

রোমীয় ৪ অধ্যায় - যিহূদীদের জন্য অব্রাহামের গুরুত্ব

নির্দেশনা

রোমীয় ৪:১ পদে পৌল অব্রাহামের বিষয় তোলেন। আপনি কি মনে করেন, অব্রাহামের কথা পৌল কেন উল্লেখ করেন? অব্রাহামের জীবন থেকে তিনি কেন শিক্ষা নেন? যিহূদীদের দৃষ্টিতে অব্রাহাম কে ছিলেন?

বিবেচনা করুন

  • অব্রাহাম ছিলেন তাদের সম্মানিত জাতীয আদিপিতা।
  • তিনি তাদের পূর্বপুরুষ এবং তারই কাছে ঈশ্বরের আহ্বান দিয়ে সব কিছু শুরু হয়েছিল।
  • অব্রাহাম বিশেষভাবে যিহূদীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তাই অব্রাহামের কথা বা জীবন থেকে শিক্ষা নিলে বা কিছু প্রমাণ করতে পারলে, তবে তা অবশ্যই খুব কার্যকারি ও শক্তিশালী।
  • পৌল এখানে বিশেষভাবে যিহূদীদের কানের জন্য কথা বলেন।

রোমীয় ৪ অধ্যায় - আদিপিতা অব্রাহাম থেকে শিক্ষা: বিশ্বাস বনাম সুন্নত

নির্দেশনা

রোমীয় ৪:১-৮ পড়ুন। পৌল এখানে অব্রাহামের জীবনের কিছু ঘটনা বা কথা তোলেন। অব্রাহামের জীবনের ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে। নিচে দেওয়া পদগুলো থেকে কি গুরুত্বপূর্ণ নীতি পাওয়া যায়?

  • আদি ১৫:১-৬
  • আদি ১৫:১৮-২১
  • আদি ১৭:১১-১২ 
  • ত্বচ্ছেদ বা সুন্নত এখানে ‘প্রথম আইন’ হিসাবে দাঁড় করানো হয়। গল্প দেখে উত্তর দেন: বিশ্বাস করার আগে কি সুন্নতের আদেশ দেওয়া হয়েছিল? না কি বিশ্বাসের পরে?
  • যখন সুন্নতকে ‘চুক্তির চিহ্ন’ বলা হয়, তবে তার গুরুত্ব কি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • আদি ১৫:১-৬ অব্রাহাম ঈশ্বরের বিশ্বস্ততার উপর নির্ভর করেন এবং তাঁর প্রতিজ্ঞা বিশ্বাস করার করেন। একারণে তাকে ‘ধার্মিক গণিত’ বলা হয় বা ‘নিদোষ বলে গ্রহণ’ করা হয়।
  • আদি ১৫:১৮-২১ অব্রাহামের সঙ্গে ঈশ্বরের চুক্তি, কনান দেশের অধিকার পাওয়ার প্রতিজ্ঞা।
  • আদি ১৭:১১-১২ চুক্তির চিহ্ন হিসাবে ত্বচ্ছেদ বা সুন্নত করার আদেশ।
  • বিশ্বাস করার আগে কি সুন্নতের আদেশ দেওয়া হয়েছিল? না কি বিশ্বাসের পরে? > আগে বিশ্বাস, পরে সুন্নত।
  • ত্বচ্ছেদ বা সুন্নত করার আদেশ কি অব্রাহামের সাথে ঈশ্বরের চুক্তির আগে না পরে ছিল? > পরে।
  • যখন সুন্নতকে ‘চুক্তির চিহ্ন’ বলা হয়, তবে তার গুরুত্ব কি? > তা হল পরে করা চিহ্ন, চুক্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে শর্ত নয়!

সারাংশে বলা যায যে, অব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা বিশ্বাস করেছেন বলেই তাকে ‘ধার্মিক’ বা ‘নির্দোষ’ হিসাবে ঘোষিত করা হয়েছে। বিশ্বাস তাই আগে। পরে ঈশ্বর তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে চুক্তির চিহ্ন হিসাবে সুন্নতের আদেশ দেন। কিন্তু সুন্নত করা, অর্থাৎ আইন-কানুন পালন করা হল চুক্তির ‘চিহ্ন’, চুক্তির বা গ্রহণযোগ্যতার শর্ত নয়।

রোমীয় ৪ অধ্যায় - অব্রাহাম হলেন যিহূদীদের এবং অযিহূদীদের পিতা

নির্দেশনা

এখন পৌল এই বিষয়টি কাজে লাগাবেন। রোমীয় ৪:৯-১২ পদ পড়ুন এবং পৌল কিভাবে যুক্তিগতভাবে শ্রোতাদের একটি উপসংহারে নিয়ে আসেন, তা লক্ষ্য করুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করুন।

  • রোমীয় ৪:১১ – পৌল সুন্নতের বর্ণনায় একটি রূপক ব্যবহার করেন। তা কি?
  • রোমীয় ৪:১০ – পৌলের প্রশ্নের উত্তর দিন, ধার্মিক হওয়ার বিষয় কি সুন্নতের আগে না পরে?
  • রোমীয় ৪:১১ – অব্রাহাম কি সুন্নত করানো বা না করানো অবস্থায় ধার্মিকতা লাভ করেছিলেন?
  • রোমীয় ৪:১১ – পৌল অব্রাহামকে কি টাইটেল দেন?
  • রোমীয ৪:১২ – পৌল অব্রাহমকে আর কি টাইটেল দেন?
  • রোমীয় ৪:১২ – পৌল কি উপসংহারে আসেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৪:১১ – পৌল সুন্নতের বর্ণনায় একটি রূপক ব্যবহার করেন। তা কি? > ‘প্রমাণ’, ‘চিহ্ন’, ‘মুদ্রাঙ্ক’।
  • রোমীয় ৪:১০ – পৌলের প্রশ্নের উত্তর দিন, ধার্মিক হওয়ার বিষয় কি সুন্নতের আগে না পরে? > সুন্নতের আগে।
  • রোমীয় ৪:১১ – অব্রাহাম কি সুন্নত করানো বা না করানো অবস্থায় ধার্মিকতা লাভ করেছিলেন? > সুন্নত না করানো অবস্থা।
  • রোমীয় ৪:১১ – পৌল অব্রাহামকে কি টাইটেল দেন? > সুন্নত না করানোদের পিতা।
  • রোমীয ৪:১২ – পৌল অব্রাহমকে আর কি টাইটেল দেন? > সুন্নত-প্রাপ্তদের পিতা।
  • রোমীয় ৪:১২ – পৌল কি উপসংহারে আসেন? > সুন্নত-প্রাপ্তরা অব্রাহামের মত বিশ্বাস করুক।

বামের ছবিটি ভাল করে দেখুন। ছবিতে পৌলের কথার সারাংশ দেখানো হয়েছে। পৌল চান যেন যিহূদীরা তাদের আদিপিতা অব্রাহামের মত বিশ্বাস করে ধার্মিকতা লাভ করে। তিনি চান অযিহূদীরা যেন জানে যে, অব্রাহামের মত বিশ্বাস করেই তারাও তার সন্তান হয়েছে।
এই চমৎকার ব্যাখ্যা দ্বারা পৌল যিহূদী-অযিহূদীদের মধ্যে একতার ভিত্তি আরো মজবুত করেছেন।

রোমীয় ৪ অধ্যায় - আদিপিতা অব্রাহাম থেকে শিক্ষা: আইন-কানুন অনুসারে ভাল বা খারাপ ফলাফল

নির্দেশনা

পৌল তার যুক্তি-তর্কে আগান।

  • রোমীয় ৪:১৩ পদে পৌল বলেন যে, জগত অব্রাহামের হবে, এই প্রতিজ্ঞা অব্রাহাম ও তার বংশধরেরা আইন-কানুনের মধ্য দিয়ে পায় নি, বরং বিশ্বাস দ্বারা পেয়েছে।
  • চিন্তা করুন: পৌল এখানে কি বুঝাচ্ছেন? ‘জগত অব্রাহামের হবে’ এই প্রতিজ্ঞাটা কোথা থেকে আসল?

বিবেচনা করুন

  • হতে পারে পৌল আদি ১২:৩ পদ বুঝায়, যেখানে অব্রাহামকে পৃথিবীর সব পরিবার বা সব জাতিদের আশীর্বাদের কারণ বলা হয়।
  • অব্রাহামের আহ্বান (আদিপুস্তক ১২:১-৩) এবং তাকে ‘নির্দোষ বলে গ্রহণ’ (আদিপুস্তকে ১৫:৬), উভয় ছিল আইন-কানুন বা ব্যবস্থার আগে। আইন-কানুন এখানে হয়তো সুন্নতের আদেশ বুঝায় (আদিপুস্তক ১৭:১১-১২) অথবা ৪০০ বছর পরের মোশির আইন-কানুন বুঝায়।
  • যেভাবে হোক, তা ছিল পরে।

নির্দেশনা

  • রোমীয় ৪:১৪ পদে পৌল বলেন “যদি আইন-কানুন পালন করেই কেউ জগতের অধিকার পায় তবে বিশ্বাস ও ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা অকেজো হয়ে পড়ে।”
  • রোমীয় ৪:১৫ পদ পড়ুন এবং লক্ষ্য করুন, আইন-কানুনের বিষয়ে পৌল কি ২টি কথা বলেন। 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৪:১৫ পদে পৌল আইন-কানুনের বিষয়ে পৌল কি ২টি কথা বলেন:
    • ১) আইন-কানুন শাস্তি ডেকে আনে।
    • ২) আইন-কানুন না থাকলে তবে অমান্য করার প্রশ্ন ওঠে না।
  • ১৫ পদে পৌল বলেন যে, আইন-কানুন ঈশ্বরের শাস্তিকে ডেকে আনে। প্রকৃতপক্ষে আইন যে শাস্তি ডেকে আনে, তা শুধুমাত্র এক কারণে: কারণ মানুষ আইন ভাঙ্গে। আইন-কানুন মাত্র প্রকাশ করে ‘কি করলে কি হয়’। আইন কারণ ও ফলাফল বুঝায়। আইন হল সূত্র, কিন্তু মানুষের সিদ্ধান্ত তাদেরই। যদি মানুষ মন্দ কাজ করে তবে খারাপ ফলাফল বা শাস্তি হয়। মানুষ ভাল কাজ করলে তবে ভাল ফলাফল বা আশীর্বাদ পায়।
  • পৌল রোমীয় ১৪:১৫ পদে আরো বলেন যে, আইন-কানুন যদি না থাকত তবে আইন অমান্য করার প্রশ্ন উঠত না। তা অবশ্যই ঠিক, কিন্তু মনে রাখুন যে, পৌল ১ অধ্যায়ে প্রমাণ করেছিলেন যে, সব মানুষদের এক পরিমাণ বা অন্য পরিমাণে প্রকাশ বা জ্ঞান পেয়েছে, তাই সবাই দায়ী ও দোষী।

রোমীয় ৪ অধ্যায় - আদিপিতা অব্রাহামের আদর্শ

নির্দেশনা

  • রোমীয় ৪:১৬-২২ পদ পড়ুন। এই অনুচ্ছেদে অব্রাহামের জীবন এবং তার বিশ্বাসের বর্ণনা করা হয়েছে। আপনি অব্রাহাম থেকে কি শিখতে পারেন?
  • অনুচ্ছেদের শেষে পৌল অব্রাহামের বিষয় সব মানুষদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন। রোমীয় ৪:২৩-২৫ পদ পড়ে এই প্রশ্নের উত্তের দেন: অব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলো বিশ্বাসে ধরে রেখেছিলেন – পৌল আমাদের কি বিশ্বাস করতে বলেন? এই বিশ্বাসের কারণে কি হবে?

বিবেচনা করুন

  • রোমীয় ৪:১৬-২২ অব্রাহাম ঈশ্বরের বাক্য বা প্রতিজ্ঞার উপর নির্ভর করেছিলেন, তার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, এমন কি যখন স্বাভাবিকভাবে প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হওয়া আর সম্ভব ছিল না। তিনি অনেক জাতিদের আদিপিতা হবেন, এই আশা তিনি ছেড়ে দেন নি। আমি তার ধের্য ও স্থিরতা থেকে শিখতে পারি। ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা ধরে রাখা – তা বিশ্বাস।
  • রোমীয় ৪:২৩-২৫ যে ঈশ্বর প্রভু যীশুকে মৃত্যু থেকে জীবিত করেছিলেন, তাঁর উপর বিশ্বাস করো! বিশ্বাস করলে আমাদের পাপ ক্ষমা করা হবে, আমাদের নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হবে।

রোমীয় ৫ অধ্যায় - বিশ্বাস দ্বার ধার্মিকতা বা গ্রহণযোগ্যতা লাভ

নির্দেশনা

  • রোমীয় ৫:১ পদ অত্যন্ত সুন্দর ও নিশ্চয়তাদানকারী এতটি বাক্য।
    • সাধারণ অনুবাদে “বিশ্বাসের মধ্য দিয়েই আমাদের নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হয়েছে আর তার ফলেই প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর ও আমাদের মধ্যে শান্তি হয়েছে।”
    • কেরী অনুবাদে “অতএব বিশ্বাস হেতু ধার্মিক গণিত হওয়াতে আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশে সন্ধি লাভ করিয়াছি।”
    • ইংরেজী অনুবাদে “Therefore, since we are justified by faith, we have peace with God through our Lord Jesus Christ.”
  • এখানে দু’টি মূল শব্দ কি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৫:১ পদে দু’টি মূল শব্দ হল:
    • ১) ‘নির্দোষ বলে গ্রহণ’ = ‘ধার্মিক গণিত’ = justified
    • ২) ‘শান্তি = ‘সন্ধি’ = peace
  • ‘নির্দোষ বলে গ্রহণ’, ‘ধার্মিক গণিত’ বা ‘justified’ মানে কি? তার গুরুত্ব কি? শব্দটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তা নিচে দেওয়া তালিকা থেকে বুঝা যায়:

দেখা যায় যে, শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়মে তা ২৪০ বার উল্লিখিত, এর মধ্যে রোমীয় পুস্তকে ৬৪ বার উল্লিখিত (২৭%)। একটি শব্দ বা বিষয় যদি এত গুরুত্বপূর্ণ, তা অবশ্যই পুরাতন নিয়মেও পাওয়া যাবে। এবং ঠিক তা-ই দেখা যায়: পুরাতন নিয়মে শব্দ বা বিষয়টি আরো ৪০৪ বার পাওয়া যায়:

ধার্মিক বা গ্রহণযোগ্য হওয়া – তা কি বুঝায়?

  • পবিত্রতা: ধর্মিকতা বুঝায়, ঈশ্বরের মত হওয়া, তার চরিত্রের অংশীদার হওয়া।
  • সম্পর্কের পুনর্মিলন: ধার্মিকতা বুঝায়, ঈশ্বরের সঙ্গে আবার সম্পর্কে আসা, পুনরায় দত্তক হওয়া, পরিবারের সদস্য হওয়া।
  • আইনগত অবস্থা: ধার্মিকতা বুঝায়, ‘বেকসুর খালাস’, ‘নির্দোষ হিসাবে ঘোষিত’, এমন লোক যার উপরে আইনের আর কোনো দাবি নেই।

আমরা যীশুর মধ্য দিয়ে কি পেলাম? কিতে অংশীদার হলাম?

  • রোমীয় ৫:২ পদ কেরী অনুবাদ থেকে উত্তর দেন: “আমরা অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ লাভ করেছি, আমরা অনুগ্রহে দাঁড়িয়ে আছি, আমরা ঈশ্বরের প্রতাপ বা মহিমা পাওয়ার আশা নিয়ে শ্লাঘা করছি।”
  • এক মিনিট সময় নিন এবং প্রার্থনায় যীশুকে তার অদ্বিতীয় দানের জন্য ধন্যবাদ দিন!

‘ধার্মিকতা’ বা ‘ধার্মিক হওয়া’ বা ‘নির্দোনষ বলে গ্রহণ’, এর অর্থ কি?

  • ইব্রীয়তে tsedaqah হল একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। তা প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরের একটি বর্ণনা। ঈশ্বর ধার্মিক, ঈশ্বরের চরিত্র, মনোভা, আচার-ব্যবহার সব হল সৎ, সঠিক, উপযুক্ত, পবিত্র, ন্যায্য। মূলত ‘ধার্মিক’ হল ঈশ্বরের চরিত্রের একটি বর্ণনা।
  • ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি মানুষদের তাঁর মত হওয়া দরকার এবং আদিতে মানুষ তা হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছে (আদি ১:২৬-২৭)। কিন্তু মানুষ যখন পাপ করেছিল, তখন তারা নিজেই ঈশ্বর হতে চেয়েচিল – কিন্তা এর চেয়ে অন্য কিছু ঘটেছিল। এই অহংকারের জন্য ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও সহভাগিতা ভেঙ্গে যায়।
  • যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর মানুষকে সুযোগ দেন, তারা যেন যা তাদের হওয়ার কথা ছিল, তাতে তারা নতুন করে পরিণত হতে পারে।
  • যীশুকে এই সুযোগ রক্ত ও জীবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জন করতে হয়েছিল, অর্থাৎ যীশু মানুষের পাপের ফলাফল ও বিচার নিজেরই উপর নিয়েছেন, যেন – মানুষ যদি একমাত্র যীশুর উপর নির্ভর করে – যীশুরই ধার্মিকতা তারই ধার্মিকতা বলে ধরা হবে, মানুষকে ‘ধার্মিক গণিত’ হবে, তাকে ‘নির্দোষ বলে গ্রহণ’ করা হবে।

রোমীয় ৫ অধ্যায় - কষ্টভোগের ভাল ফলাফল

নির্দেশনা

  • এই পদগুলোতে পৌল আমাদের কষ্টভোগের বিষয়ে একটি নতুন দৃষ্টি দান করতে চান। পদগুলোতে তিনি একটি ক্রমবৃদ্ধি দেখান। তা সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন:
    • কষ্টভোগ / ক্লেশ > ………….. > ……………….. > …………………
  • চিন্তা করুন,
    • কষ্টভোগ কিভাবে ধৈর্য্য উৎপন্ন করে?
    • ধৈর্য্য কিভাবে পরিপক্কতা উৎপন্ন করে?
    • পরিপক্কতা কিভাবে আশা উৎপন্ন করে?

বিবেচনা করুন

  • এই পদে ধারাবাহিকতা বা ক্রমবৃদ্ধি এই:  কষ্টভোগ / ক্লেশ > ধৈর্য্য > পরীক্ষাসিদ্ধতা > প্রতাশ্যা।
  • কষ্টভোগ কিভাবে ধৈর্য্য উৎপন্ন করে? > ক্ষ্টভোগে আমি ঈশ্বরকে ডাকতে শিখি, আমি শিখি কি আসলে গুরুত্বপূর্ণ, আমি সহ্য করতে এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধরে রাখতে শিখি। কষ্টভোগে ভাল মনোভাব শক্তিশালী সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
  • ধৈর্য্য কিভাবে পরিপক্কতা উৎপন্ন করে? > ধৈর্য ধরে আমি নিজের চরিত্র উন্নত করি, ভাল অভ্যাস ও ঈশ্বরীয় দৃষ্টি দিয়ে দেখতে শিখি, আমি শিখি যে দাঁড়ানো সম্ভব, অতিক্রম করা সম্ভব, শয়তানকে প্রতিরোধ করা সম্ভব, নিজেকে নিয়ে নিশ্চয়তা বাড়ে।
  • পরিপক্কতা কিভাবে আশা উৎপন্ন করে? > ঈশ্বরের সাহায্য ও ধরে রাখার ক্ষমতার অভিজ্ঞতা লাভ করি, যাতে বিশ্বাস বাড়ে। যখন আমার আচার-চরিত্র স্থির থাকে এবং সঠিক দিকে উন্নত হয়, তখন তা থেকে আশা, নিশ্চয়তা ও সাহস পাই।

রোমীয় ৫ অধ্যায় - যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা তিনি আমাদের জন্য কি করেছেন

নির্দেশনা

যীশু আমাদের জন্য কি করেছেন, পৌল এর একটি অতি মধু বর্ণনা দেন। রোমীয় ৫:৬-১১ পড়ুন এবং এই পদগুলো ব্যবহার করে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেন, যীশু আমাদের জন্য কি করেছেন।

বিবেচনা করুন

দুর্বল ও পাপে পড়া মানুষের জন্য যীশু জীবন দিয়েছেন, তিনি আমাদের ভালবেসেছেন, নিজের প্রাণ আমাদের জন্য দিয়েছেন, যখন শত্রু ছিলাম তখনও তিনি আমাদের পিতার সাথে পুনর্মিলন ঘটিয়েছেন, তাঁর জীবন দিয়ে আমাদের উদ্ধার করেছেন। আপনার চারিপাশে কোন ব্যক্তি আছে, যার আশা নেই? এই উৎসাহ ও সান্ত্বনাদানকারী কথা এই সপ্তায় তাকে কিভাবে বলবেন?

রোমীয় ৫ অধ্যায় - আদম বনাম খ্রীষ্ট

নির্দেশনা

এই শাস্ত্রাংশে পৌল যীশু এবং আদমের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে তুলনা করা হয় ও পার্থক্য দেখানো হয়। রোমীয় ৫:১২-২১ পড়ুন এবং এক একটা পদের জন্য উল্লিখিত প্রধান বিষয় কি, তা খুঁজে বের করুন। প্রথম পদ উদাহরণ হিসাবে দেওয়া হয়েছে:

  • রোমীয় ৫:১২ আদম দ্বারা পাপ জগতে এসেছে > মৃত্যু জগতে এসেছে, সকলের মৃত্যু ঘটেছে।
  • রোমীয় ৫:১৩ 
  • রোমীয় ৫:১৪
  • রোমীয় ৫:১৫
  • রোমীয় ৫:১৬
  • রোমীয় ৫:১৭
  • রোমীয় ৫:১৮ 
  • রোমীয় ৫:১৯
  • রোমীয় ৫:২০
  • রোমীয় ৫:২১

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৫:১২ আদম দ্বারা পাপ জগতে এসেছে > মৃত্যু জগতে এসেছে, সকলের মৃত্যু ঘটেছে।
  • রোমীয় ৫:১৩ আইন-কানুনের আগে জগতে পাপ ছিল। কিন্তু আইন-কানুন ছাড়া পাপ পাপ হিসাবে ধরা হয় না।
  • রোমীয় ৫:১৪ আইন-কানুনের আগে, অর্থাৎ আদম থেকে পাপ রাজত্ব করেছিল। মৃত্যু সবার উপর রাজত্ব করেছিল।
  • রোমীয় ৫:১৫ আদমের পাপ দ্বারা > অনেকে মরল। যীশুর দান দ্বারা > দয়া উপচে পড়ল।
  • রোমীয় ৫:১৬ পাপের বিচার > সবাই শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। যীশুর দান > অনেকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হবে।
  • রোমীয় ৫:১৭ আদমের পাপ দ্বারা > মৃত্যুর রাজত্ব আরম্ভ। ঈশ্বরের দয়া / যীশুর দান > নির্দোষ / গ্রহণযোগ্য > জীবন রাজত্ব করে।
  • রোমীয় ৫:১৮ আদমের পাপের মধ্য দিয়ে > সবাই শাস্তির যোগ্য। যীশুর ন্যায় কাজের মধ্য দিয়ে > নির্দোষ বলে গ্রহণ ও ফলে অনন্ত জীব।
  • রোমীয় ৫:১৯ একজন মানুষ দ্বারা (আদম) > অনেকে পাপী বলে ধরা। একজন মানুষ দ্বারা (যীশু) > অনেকে নির্দোষ বলে গ্রহণ।
  • রোমীয় ৫:২০ আইন-কানুন দান > অন্যায় বাড়ে। কিন্তু অন্যায় যেখানে বাড়ে > সেখানে ঈশ্বরের দয়াও বাড়ে।
  • রোমীয় ৫:২১ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে > পাপ রাজত্ব করেছিল। দয়া বাড়লে > মানুষকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করা দিয়ে > দয়া রাজত্ব করতে পারে > তার ফল: যীশু দ্বারা অনন্ত জীবন লাভ।

সারাংশ হিসাবে ছবিটি দেখুন। পৌল আদমকে “প্রথম আদম” (অর্থাৎ প্রথম মানুষ) বলেন এবং যীশুকে তিনি “দ্বিতীয় আদম” (অর্থাৎ দ্বিতীয় মানুষ) বলেন। বামের ছবিটি দেখুন এবং যা পদগুলোতে পেয়েছেন, তার সাথে মিলান।

রোমীয় ৫ অধ্যায় - যীশুর সাথে মৃত্যু, যীশুর সাথে জীবন

নির্দেশনা

পৌল এইমাত্র বলেছেন যে, পাপ যেখানের বেড়ে গেছে, দয়া সেখানে আরো বাড়ছে। এখানে সহজে আপত্তি উঠানো যায় যে, ‘তাহলে আরো পাপ করা সমস্যা নেই, কারণ তা ঈশ্বরের আরো দয়া ডেকে নিয়ে আসে’। পৌল এই সম্ভাব্য আপত্তি তুলে উত্তর দেন। রোমীয় ৬:১-১১ পড়ুন এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৬:২ – ‘পাপ করতে থাকব?’ এই প্রশ্নে পৌল কি উত্তর দেন? 
  • রোমীয় ৬:২ – কেন পাপ আর করব না, পৌল এর কি কারণ দেন?
  • রোমীয় ৬:৩ – বাপ্তিস্ম যদি আমি গ্রহণ করি, তবে তার অর্থ কি?
  • রোমীয় ৬:৪ – বাপ্তিস্ম গ্রহণ আরো কোন বাস্তবতার চিহ্ন?
  • রোমীয় ৬:৪ – কোন উদ্দেশে তা করা হয়েছে?
  • রোমীয় ৬:৫“যীশুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি”, এই কথা কি বুঝায়?
  • রোমীয় ৬:৫ – এই পদের তুলনা লিখুন: “যেমন ….……….………. তেমন …………………………………”
  • রোমীয় ৬:৬ – আমাদের পুরানো ‘আমি’, এই কথাটি কি বুঝায়?
  • রোমীয় ৬:৬ – কেন আমাদের পুরানো ‘আমি’ খ্রীষ্টের সঙ্গে ক্রুশে দেওযা হয়েছে?
  • রোমীয় ৬:৭ – কেন বা কিভাবে আমরা পাপের হাত থেকে ছাড়া পেয়েছি?
  • রোমীয় ৬:৮ – যখন খ্রীষ্টের সঙ্গে মরেছি তখন কি বিশ্বাস করব?
  • রোমীয় ৬:৯ – যীশুর পুনরুত্থান আমাদের কি নিশ্চয়তা দান করে?
  • রোমীয় ৬:১০ – যখন যীশু মরলেন, কেন তার উপরে পাপের দাবি-দাওয়ার আর ছিল না?
  • রোমীয় ৬:১১ – কি কথার উপর নির্ভর করব? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৬:২ – ‘পাপ করতে থাকব?’ এই প্রশ্নে পৌল কি উত্তর দেন? > নিশ্চয়ই না।
  • রোমীয় ৬:২ – কেন পাপ আর করব না, পৌল এর কি কারণ দেন? > পাপের দাবি-দাওয়ার কাছে মরে গেছি।
  • রোমীয় ৬:৩ – বাপ্তিস্ম যদি আমি গ্রহণ করি, তবে তার অর্থ কি? > তাঁর মৃত্যুর মধ্যে অংশ গ্রহণ করেছি।
  • রোমীয় ৬:৪ – বাপ্তিস্ম গ্রহণ আরো কোন বাস্তবতার চিহ্ন? > আমরা তার সঙ্গে মরেছি, আমাদের তার সঙ্গে কবর দেওয়া হয়েছে।
  • রোমীয় ৬:৪ – কোন উদ্দেশে তা করা হয়েছে? > যেন ঈশ্বর তার মহাশক্তি দ্বারা যেমন খ্রীষ্টকে জীবিত করেছেন, তেমনি আমরাও নতুন জীবন পেয়ে জীবনের পথে চলতে পারি।
  • রোমীয় ৬:৫ “যীশুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি”, এই কথা কি বুঝায়? > বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে আমরা “খ্রীষ্টেতে” আছি।
  • রোমীয় ৬:৫ – এই পদের তুলনা লিখুন। > যেমন যীশু মৃত্যু থেকে উঠেছেন, ঠিক তেমনি আমরাও তাঁর সঙ্গে জীবিত হব।
  • রোমীয় ৬:৬ – আমাদের পুরানো ‘আমি’, এই কথাটি কি বুঝায়? > খ্রীষ্টেতে বিশ্বাস করার আগে আমাদের স্বার্থপর, অহংকারী ও আত্ম-কেন্দ্রিক মনোভাব ও আচরণ।
  • রোমীয় ৬:৬ – কেন আমাদের পুরানো ‘আমি’ খ্রীষ্টের সঙ্গে ক্রুশে দেওযা হয়েছে? > যেন আমরা পাপের দাস আর না হই।
  • রোমীয় ৬:৭ – কেন বা কিভাবে আমরা পাপের হাত থেকে ছাড়া পেয়েছি? > কারণ যীশু মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গিয়ে পাপের হাত থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন।
  • রোমীয় ৬:৮ – যখন খ্রীষ্টের সঙ্গে মরেছি তখন কি বিশ্বাস করব? > বিশ্বাস করব যে, তাঁর সঙ্গে জীবিতও থাকব।
  • রোমীয় ৬:৯ – যীশুর পুনরুত্থান আমাদের কি নিশ্চয়তা দান করে? > যীশু আর কখনও মরবেন না, তাঁর উপর মৃত্যুর আর কোন হাত নেই।
  • রোমীয় ৬:১০ – যখন যীশু মরলেন, কেন তার উপরে পাপের দাবি-দাওয়ার আর ছিল না? > তিনি মরার সময়ে পাপের দাবি-দাওয়ার কাছেও মরলেন। একটি লাশের উপরে পাপের প্রলোভন আর কাজ করে না।
  • রোমীয় ৬:১১ – কি কথার উপর নির্ভর করব? > যীশুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমরাও পাপের দাবি-দাওয়ার কাছে মরেছি, আমরাও ঈশ্বরের জন্য বেঁচে আছি।

বামের ছবির মধ্য দিয়ে এই মৌলিক সত্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিটি ভাল করে দেখুন এবং রোমীয় ৬ অধ্যায়ের সাথে মিলান। ছবিটি আর একজনের কাছে বুঝিয়ে দিন।

রোমীয় ৬ অধ্যায় - তাই যদি হয়, তবে কিভাবে জীবন-যাপন করব?

নির্দেশনা

যে মৌলিক সত্যগুলো পৌল উপস্থাপন করেছেন, এখন তিনি সেইগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখান। রোমীয় ৬:১২-১৪ পড়ুন এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৬:১২ – পৌল কি উপসংহারে আসেন?
  • রোমীয় ৬:১৩ – পৌলের নিষেধাজ্ঞা কি? 
  • রোমীয় ৬:১৩ – পৌলের ইতিবাচক আদেশ কি?
  • রোমীয় ৬:১৩ – “দেহ অন্যায় কাজের হাতিয়ার হিসাবে” পাপের হাতে তুলে ধরা মানে কি? 
  • রোমীয় ৬:১৩ – “দেহ ন্যায্য কাজ করার হাতিয়ার হিসাবে” ঈশ্বরকে দেওয়া মানে কি? 
  • রোমীয় ৬:১৪ – আমরা কার দাস বা কার অধীনে আর নই?
  • আমরা কার অধীনে? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৬:১২ – পৌল কি উপসংহারে আসেন? > তোমাদের এই দেহের উপর পাপকে আর রাজত্ব দিয়ো না।
  • রোমীয় ৬:১৩ – পৌলের নিষেধাজ্ঞা কি? > দেহের কোনে অংশকে অন্যায় কাজের হাতিয়ার হিসাবে পাপের হাতে তুলে দিয়ো না।
  • রোমীয় ৬:১৩ – পৌলের ইতিবাচক আদেশ কি? > মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে ওঠা লোক হিসাবে ঈশ্বরের হাতে নিজেদেরকে তুলে দাও, অর্থাৎ ন্যায় কাজ করার হাতিয়ার হিসাবে তোমাদের দেহকে ঈশ্বরকে দিয়ে দাও।
  • রোমীয় ৬:১৩ “দেহ অন্যায় কাজের হাতিয়ার হিসাবে” পাপের হাতে তুলে ধরা মানে কি? > খারাপ আকাঙ্ক্ষা, স্বার্থপরতা, অহংকার বা অরসতা দিয়ে চালিত আচরণ অস্বীকার করব। নিজেকে শয়তানের হাতিয়ার হতে দেবে না (যেমন: তুচ্ছ করা, নিন্দা করা, অন্যের অধিকার অস্বীকার করা ইত্যাদি)।
  • রোমীয় ৬:১৩“দেহ ন্যায্য কাজ করার হাতিয়ার হিসাবে” ঈশ্বরকে দেওয়া মানে কি? > বরং ঈশ্বর যা দেখতে চান, তা করব (যেমন: সেবা বা উৎসাহ দান ইত্যাদি)। যীশু যেমন আচরণ করতেন, তেমন আচরণ করি। ঈশ্বরের ইচ্ছা যেন পূর্ন হয়, তার জন্য কাজ করি।
  • রোমীয় ৬:১৪ আমরা কার দাস বা কার অধীনে আর নই? > আমরা পাপের বা আইন-কানুনের অধীনে আর নই।
  • আমরা কার অধীনে? > আমরা ঈশ্বরের দয়ার অধীনে।

রোমীয় ৬ অধ্যায় - তাই যদি হয়, তবে কিভাবে জীবন-যাপন করব? (২)

নির্দেশনা

রোমীয় ৬:১৫-২৩ পদ পড়ুন। রোমীয় ৬:১৫ পদে পৌল আবারও (রোমীয় ৬:১ পদের মত) নিজের কথার আপত্তি উঠান এবং আপত্তির উত্তরও দেন: দয়া লাভের অর্থ এই যে, পাপ করার অনুমতি, এমন নয়। পরবর্তী পদে পৌল একটি শক্তিশালী চেতনাদায়ক প্রশ্ন করেন: “তোমরা কি জান না যে, দাসের মত যখন তোমরা কারও হাতে নিজেদের তুলে দাও এবং তার আদেশ পালন করতে থাক তখন তোমরা আসলে তার দাসই হয়ে পড়? সেইভাবে হয় তোমরা পাপের দাস হয়ে মরবে, নয় ঈশ্বরের দাস হয়ে ন্যায় কাজ করবে।”
এক মিনিট নিয়ে নিজের বিষয়ে চিন্তা করুন: আমি কার দাস? কিসের দাস? কি আমাকে চালায়? কোন বিষয়ে না করতে পারি না? ঈশ্বর আমাকে কি পরিবর্তন করতে বলেন?

নির্দেশনা

রোমীয় ৬:১৭-২৩ পদ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • আমি কি ছিলাম এবং এখন কি হয়েছি? 
  • নিজের দেহকে কিতে দিতাম? এখন কিতে দেব? 
  • আগে কি কাজ করতাম, এই বিষয়ের আমার এখন কেমন লাগে? 
  • পৌল বলেন যে, মানুষ হিসাবে আমরা সব সময় দাস, কিন্তু কার দাস হব, তা আমাদের সিদ্ধান্ত। কার দাস হব, এর দু’টি পথ কি? 
  • সেই বিখ্যাত রোমীয় ৬:২৩ পদে কোন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে? কি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • আমি কি ছিলাম এবং এখন কি হয়েছি? > আমি পাপের দাস ছিলাম, এখন বাধ্য হলাম, ন্যায়ের দাস হলাম।
  • নিজের দেহকে কিতে দিতাম? এখন কিতে দেব? > নিজের দেবকে অন্যায় কাজে ও অপবিত্রতায় দিতাম, এখন ন্যায় কাজে দিব।
  • আগে কি কাজ করতাম, এই বিষয়ের আমার এখন কেমন লাগে? > লজ্জা।
  • পৌল বলেন যে, মানুষ হিসাবে আমরা সব সময় দাস, কিন্তু কার দাস হব, তা আমাদের সিদ্ধান্ত। কার দাস হব, এর দু’টি পথ কি? > হয় আমরা পাপের বা অন্যায় কাজের দাস, না হয় খ্রিষ্টের বা ন্যায় কাজের দাস।
  • সেই বিখ্যাত রোমীয় ৬:২৩ পদে কোন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে? কি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে? > তুলনা: পাপ > মৃত্যু, যীশু > অনন্ত জীবন। নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে উভয় যে, পাপের ফল অবশ্যই হবে মৃত্যু এবং যীশুর উপর বিশ্বাস রেখে অবশ্যই অনন্ত জীবন পাব।

রোমীয় ৭ অধ্যায় - একটি উপমা দিয়ে বুঝানো

নির্দেশনা

রোমীয় ৭:১-৩ পদ পড়ুন। অনুচ্ছেদের মূল চিন্তাটি বুঝতে চেষ্টা করুন।

বিবেচনা করুন

রোমীয় ৭:১-৩ পদের মূল কথা এই:

  • আইন-কানুনের দাবি-দাওয়া শুধুমাত্র জীবিত মানুষের উপরে, একটি লাশের উপরে আইন-কানুনের আর কোনো ক্ষমতা নেই।
  • পৌল তা একটি উপমা দিয়ে বুঝান: বিবাহ করলে তা হল মৃত্যু পর্যন্ত শপথ বা প্রতিজ্ঞা।
    • সঙ্গী মারা গেলে সেই চুক্তি শেষ এবং নতুন একটি বিয়ে করা অনুমোদিত।
    • কিন্তু সঙ্গী মারা না গেলে তা ব্যভিচার হিসাবে ধরা হয়।
  • পৌল রোমীয় ৭:১-৩ পদে বিবাহ উপমা হিসাবে ব্যবহার করেন। তিনি বুঝান যে, বিবাহ হল মৃত্যু পর্যন্ত একটি চুক্তি।
  • তাই যদি স্বামী বা স্ত্রী মারা যায় তবে বেঁচে থাকা বিধবা বা বিপত্নীক এই বিবাহ থেকে মুক্ত।
  • বিবাহ চুক্তি মৃত্যুর ওপারে আর প্রযোজ্য নয়। যদি মৃত্যুর আগে একজন বিবাহিত লোক নতুন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তার অর্থ এই যে, সে চুক্তি ভেঙ্গে দিয়েছে, অর্থাৎ আইন অমান্য করে ব্যবিচার করেছে।
  • কিন্তু সঙ্গী মারা যাওয়ার পরে পুনরায় বিবাহ করা হল অনুমোদিত। তা আইন-গত ও নৈতিক।
  • ঠিক তেমনি আইন-কানুনের দাবি শুধুমাত্র মৃত্যুর পর্যন্ত প্রযোজ্য।
  • একজন যদি মারা যায়, তার মৃত দেহের উপর আইনের আর কোনো দাবি নেই। একটি মৃত দেহের উপর আর কোনো শাস্তি বিস্তার করা হয় না।

নির্দেশনা

ছবিটি দেখুন এবং ৬ অধ্যায়ে দেখানো ছবিটির সাথে তুলনা করুন। ছবিগুলোর মিল কি? পার্থক্য কি?

বিবেচনা করুন

মূলত তা হল একই ছবি। ৬ অধ্যায়ে পৌল পাপের দমনের বিষয়ে বলেছিলেন যে, তা মৃত্যুর সাথে থেমে যায়। ৭ অধ্যায়ে তিনি আইন-কানুনের দাবির বিষয়ে একই কথা বলেন।

রোমীয় ৭ অধ্যায় - রোমীয় ৬ ও ৭ অধ্যায় কিভাবে সম্পর্কিত?

নির্দেশনা

  • রোমীয় ৬ অধ্যায়ে পৌল বলেছেন যে, মানুষকে পাপ সম্বন্ধে মরতে হবে। তিনি কথাটি বিশেষভাবে কাদের কাছে বলেছেন?
  • রোমীয় ৭ অধ্যায়ে পৌল বলেছেন যে, মানুষকে আইন-কানুনের কাছে মরতে হবে। তিনি কথাটি বিশেষভাবে কাদের কাছে বলেছেন? 

বিবেচনা করুন

  • রোমীয় ৬ – পৌল কথাটি বিশেষভাবে অযিহূদীদের কাছে বলছেন।
  • রোমীয় ৭ – পৌল কথাটি বিশেষভাবে যিহূদীদের কাছে।
  • মূলত, পৌল রোমীয় ৬ অধ্যায়ে বিশেষভাবে অযিহূদীদের কাছে বলেন যে, তাদেরকে পাপের সম্বন্ধে মরতে হবে। তিনি অযিহূদীদের বলেন যে, যীশুতে পরিত্রাণ পেয়ে মানে আগের পাপ-পূ্র্ণ জীবন ছেড়ে দেওয়া।
  • মূলত, পৌল রোমীয় ৭ অধ্যায় বিশেষভাবে যিহূদীদের কাছে বলেন যে, তাদেরকে আইন-কানুনের সম্বন্ধে মরতে হবে। তিনি যিহূদীদের বলেন যে, যীশুতে পরিত্রাণ পেতে চাইলে তবে আইন-কানুন পালন করার উপরে আর নির্ভর করা যাবে না। আইনের উপরে যিহূদীদের মিথ্যা ভরাসা এবং নিজের ধার্মিকতা নিয়ে অহংকার করা, এই দু’টি বিষয় তাদেরকে ছেড়ে দিতেই হবে।
  • এভাবে পৌল উভয় দলকে নির্দিষ্টভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যীশুতে বিশ্বাস রাখা এবং যীশুর সঙ্গে যুক্ত থাকা মানে কি।

রোমীয় ৭ অধ্যায় - এই শিক্ষার প্রয়োগ

নির্দেশনা

রোমীয় ৭:৪-৬ পদ পড়ুন। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন:

  • রোমীয় ৭:৪ পৌল এই শিক্ষার প্রয়োগ হিসাবে পৌর পাঠকদের জীবনে কি দেখতে চান?
  • রোমীয় ৭:৬ আইন-কানুন থেকে মুক্ত হয়ে আমরা কিতে দাস হয়েছি?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৭:৪ পৌল এই শিক্ষার প্রয়োগ হিসাবে চান যেন পাঠকদের জীবন ঈশ্বরের জন্য ফলবান হয়ে ওঠে।
  • রোমীয় ৭:৬ আইন-কানুন থেকে মুক্ত হয়ে আমরা পবিত্র আত্মার দেওয়া নতুন জীবন-পথের দাস।
  • লক্ষ্য করুন যে, আইন-কানুন থেকে মুক্ত হওয়া মানে না ‘যা চাই তা-ই’ করা, বরং তার অর্থ এই: পবিত্র আত্মার পরিচালনায় যীশুর মত আচরণ করা।

রোমীয় ৭ অধ্যায় - আইন-কানুনের ভূমিকা তাহল কি ছিল?

নির্দেশনা

আবারও পৌল নিজের কথার বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য আপত্তি তুলে তার উত্তর দেন: আইন-কানুন তাহলে কিসের জন্য দেওয়া হয়েছিল? পরব্তী পদে পৌল উত্তর দিতে যাচ্ছেন। পৌল এই অনুচ্ছেদে রূপক ভাষা ব্যবহার করেন: তিনি আইন ও পাপকে ব্যক্তি বানিয়ে কথা বলেন। রোমীয় ৭:৭-১৩ পড়ুন এবং নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন। আইন-কানুনের ভূমিকা কি ছিল? আইনের ভূমিকা কি নয়?

  • রোমীয় ৭:৭ – আইন-কানুনের ভূমিকা কি?
  • রোমীয় ৭:৮-৯ – পৌল এখানে আইনের বিষে কি বলেন?
  • রোমীয় ৭:১০ – আইন-কানুন কি কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে?
  • রোমীয় ৭:১১ – পাপ কি করল? 
  • রোমীয় ৭:১২ – আইন-কানুনের তাহলে দোষ আছে? এর পরিবর্তে পৌল আইন সম্বন্ধে কি বলেন? 
  • রোমীয় ৭:১৩ – আইন-কানুনের যে দোষ নেই, পৌল তা এখানে কিভাবে বুঝান?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৭:৭ – আইন-কানুনের ভূমিকা কি? > আইন-কানুন দ্বারা আমি বুঝি, কি কি আচরণ হল পাপ। আইন-কানুন আমাকে বুঝায় কি ঠিক, কি ভুল, কি উচিত, কি উচিত না। আইন-কানুন পাপ সম্বন্ধে জ্ঞান দেয়।
  • রোমীয় ৭:৮-৯ – পৌল এখানে আইনের বিষে কি বলেন? > বলা যায় যে, আইন দ্বারা পাপ উষ্কিয়ে তোলা হয়, আইন না থাকলে পাপের চেতনা নেই, প্রলোভনও কম।
  • রোমীয় ৭:১০ – আইন-কানুন কি কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে? > মানুষ জীবন পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু আইন মৃত্যু নিয়ে আসল।
  • রোমীয় ৭:১১ – পাপ কি করল? > পাপ আমাকে ঠকাল, পাপ আমাকে আইন দ্বারা মেরে ফেলল।
  • রোমীয় ৭:১২ – আইন-কানুনের তাহলে দোষ আছে? এর পরিবর্তে পৌল আইন সম্বন্ধে কি বলেন? > আসলে আইনের দোষ নেই। আইন-কানুন পবিত্র , ন্যায্য ও উপকারি।
  • রোমীয় ৭:১৩ – আইন-কানুনের যে দোষ নেই, পৌল তা এখানে কিভাবে বুঝান? > দোষ আইন-কানুনের নয়, দোষ বরং পাপের। এভাবে আমার মৃত্যু ঘটাল। আইন-কানুন দেখায়, পাপ কত জঘন্য।

রোমীয় ৭ অধ্যায় - মানুষের অন্তরে পাপ নিয়ে যে যুদ্ধ চলছে

নির্দেশনা

রোমীয় ৭:১৪-২৫ পদ ভাল করে পড়ুন। পৌল মৌলিকভাবে কি বলেন, তার একটি সারাংশ লিখুন।

বিবেচনা করুন

রোমীয় ৭:১৪-২৫ পদে  পৌল মানুষের অন্তরে পাপের সাথে যে সংগ্রাম বা যুদ্ধ চলছে, এর একটি বাস্তব বর্ণনা দেন। এক দিকে আমরা জানি, কি করা উচিত (চেতনা, আইন-কানুন বা সাধারণ জ্ঞান থেকে তা জানি) কিন্তু একই সাথে আমরা বুঝলেও তা অনুসারে করি না, চাই না, পারি না। পাপ ছেড়ে দিতেও পারি না, কিন্তু শান্তিও লাগে না।

নির্দেশনা

রোমীয় ৭:১৪-২৫ পদে পৌল কত বার “আমি”, “আমরা”, “আমাকে”, “আমার” শব্দ ব্যবহৃত, তা লক্ষ্য করুন। আসলে, তিনি ৩৫ বারের মত এই শব্দগুলো ব্যবহার করেন। পৌল তার অন্যান্য লেখাগুলোতে একবারও “আমি” শব্দটি এত ঘনঘন ব্যবহার করেন না, তিনি তা শুধু মাত্র এখানে করেন। কেন মনে করেন তিনি এখানে তা করেন?

বিবেচনা করুন

  • রোমীয় ৭:১৪-২৫ পদে পৌল হয়তো দেখাতে চান, মানুষ নিজের মধ্যে, নিজের চিন্তা-ভাবনায়, অন্তরে অন্তরে যুদ্ধ বা নিজের অক্ষমতার মধ্যে কিবাবে আটকে পড়ে। আসলে নিজেই পারা যায় না।
  • তিনি এখানে একটি বাস্তব বর্ণনা দেন, মানুষ হিসাবে আমরা নিজের মধ্যে এবং নিজের পাপের মধ্যে কিভাবে আটকে পড়ি।
  • কিন্তু পৌল এখানে মানুষের ঠিক কি অবস্থা বুঝান? আসলে বিভিন্ন পণ্ডিত এই পদগুলো বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই বিষয়ে বেশ দ্বিমত আছে। এখানে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে:
    • ১) এইটা ঈশ্বর বিহীন মানুষের অবস্থা বুয়ায়।
    • ২) এইটা এমন মানুষকে বর্ণনা করে, যে চেতনা পেতে শুরু করেছে, কিন্তু এখনও বিশ্বাসী হয় নি।
    • ৩) এইটা সাধারণ বিশ্বাসীর মধ্যে পাপের সাথে দৈনন্দিন যে সংগ্রাম চলছে, এর বর্ণনা।
  • কোন ব্যাখ্যাটি আপনি ঠিক ব্যাখ্যা মনে করেন? কেন তা মনে করেন?

আইন-কানুনের বিষয়ে মৌলিক শিক্ষা - আইন-কানুনের ভূমিকা কি? আইন-কানুনের ভূমিকা কি নয়?

নির্দেশনা

পৌল আইন-কানুনের বিষয় বিভিন্ন কথা বলেছেন, বেশিরভাগ সেগুলো নেতিবাচক ছিল। তাই আমাদের আর একবার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতে হবে: ঈশ্বর আইন-কানুন তাহলে কিসের জন্য দিয়েছেন? আইন-কানুনের ভূমিকা কি? আইন-কানুনের ভূমিকা কি নয়? এই বিষয়ে নিচে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তা ভাল করে পড়ুন।

  • আইন = ঈশ্বরের ইচ্ছা কি, এর প্রকাশ: ঈশ্বর কি চান এবং কি চান না, কি ভাল এবং কি মন্দ, কি ঠিক এবং কি ভুল, কি উচিত এবং কি উচিত নয়।
  • আইন = ঈশ্বরের চরিত্র কেমন, এর প্রকাশ: ঈশ্বর ন্যায্য বলে তিনি চান যে মানুষের মধ্যেও ন্যায্যতা থাকুক।
  • কিন্তু যেহেতু আমি আইন-কানুন পালন করি না, আইন আমাকে দোষী হিসাবে প্রমাণিত করে, আইন আমাকে বিচার করে, আইন আমাকে পাপের কিশয়ে চেতনা দেয়।
  • আইন আমাকে দেখায় যে:আমি আশাহীন, আমি নিজেকে ভাল করে তুলতে সক্ষম নই, তাই আমার সাহায্যের কত প্রয়োজন।
  • আইন আমাকে নম্র হতে শেখায়: ক্ষমা পাওয়া গেলে যেন তা অবশ্যই নিঃশর্তে গ্রহণ করি। আইন আমাকে পরিত্রাতার দিকে ঠেলে দেয়।
  • উপমা: সাঁতার কাটার সময় ডুবে গেলে একটি স্পীডবোট আমার কাছে আসলে আমি খুশি হয়ে দেওয়া টাইয়ার ধরব, আমি বলব না ‘লাল টাইয়ার কি নেই?’
  • ঠিক তেমনি: ঈশ্বর যখন ত্রাতা পাঠাবেন, আমি নিজের সংকট বুঝে তাকে নিঃশর্তে গ্রহণ করব।
  • উপমা: আমি নোংরা অবস্থায় অন্ধকারে বসে ছিলাম। আলোতে এসে আমি নিজের অবস্থা বুঝতে পারি। আলো আমাকে পরিষ্কার করে না, বিন্তু আমাকে দেখায়, আমার স্নান করতে হবে। আইন = আলো, যীশু = স্নান।
  • উপমা: ঝড়ে অসুস্থ হয়েছি। ডাক্তারের কাছে পরীক্ষা করে ধরা পড়েছে: আমার টাইফয়েড হয়েছে। ডাক্তারের রোঘ নির্ণয়ে কি লাভ আছে? না, আমি এখনও অসুস্থ। হ্যাঁ, লাভ হয়েছে কারণ এখন আমি জানি, আমার কি অষুধ খেতে হয়। আইন = নির্ণয়, যীশু = চিকিৎসা বা অষুধ।
  • উপমা: দিক-নির্দেশনা চিহ্ন কি সাহায্যকারী? না, চিহ্নটি আমাকে কোথাও নিয়ে যাবে না। হ্যাঁ, এখন আমি জানি কোন দিকে যাওয়া। আইন = দিক-নির্দেশনা চিহ্ন।
  • উপমা: ঈশ্বরের রাজ্য। আইন = অন্ধকারে যারা আছে তাদের ‘ধাক্কাদানকারী’, ‘চেতনা দানকারী’। একবার রাজ্যে এসে আইন আমাকে শেখাবে আমার রাজা কেমন এবং ইচ্ছা, নীতি ও পথ কি। কিন্তু পরিত্রাণের ক্ষেত্রে (দরজা প্রবেশ করার ক্ষেত্রে) আইনের কোন ভূমিকা নেই।
  • উপমা: হাই-জাম্প্। আইন = লাঠি, কত উঁচুতে লাফ দিতে হয়, কিন্তু আইন আমাকে লাফ দেওয়ার শক্তি যোগান দিতে পারে না। কিন্তু যীশুতে যদি আসি, তবে যীশু আমার পক্ষ হযে হাই-জাম্প করবেন।
  • সারাংশে: আইন থেকে আশা করবেন না যা আইন আপনাকে দিতে পারে না: আইন-কানুন আমাদেরকে আইন পালন করার শক্তি দিতে পারে না। আইনের মধ্য দিয়ে আমি নিজেকে ‘ধার্মিক’, ‘নির্দোষ’, গ্রহণযোগ্য’, ‘পবিত্র’, ‘ভাল’ করে তুলতে পারি না। এই ক্ষেত্রে আইনের কোনো ভূমিকা নেই। এইটা কখনও আইনের ভূমিকা ছিল না।
  • তাই আইন ‘ধার্মিক’ করে তুলতে পারে না, তা আমাদের ‘ভাল’ বানায় না, তার পরিত্রাণ দেওয়ার ক্ষমতা নেই।
  • পরিত্রাণের ক্ষেত্রে আইন-কানুনের ভূমিকা নেই, এর মানে এই নয় যে, অন্য ক্ষেত্রে আইনের কোনো ভূমিকা নেই।

আইন-কানুনের ভূমিকা

  • আইন-কানুন দ্বারা আমরা নিজের আশাহীন অবস্থা বুঝি, আইন-কানুন আমাদের দোষ ধরে যীশুর এবং ক্ষমার দিকে ঠেলে দেয়। আবারও পরিত্রাণ পাওয়ার পরে আইন-কানুনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তা দ্বারা আমি ঈশ্বরের ইচ্ছা বুঝতে পারি, তার রাজ্যের নীতি ও পথ বুঝতে পারি, তাঁর চরিত্র সম্বন্ধে প্রকাশ পাই।
  • তাই আইন পবিত্র, ভাল ও উপকারী (রোমীয় ৭:১২)।
  • আইন অপরিবর্তনশীল – কেন? কারণ ঈশ্বরের চরিত্র কখনও পরিবর্তন হয় না! তিনি ন্যায্যতা ভালবাসতেন পুরাতন নিয়মে, তিনি ন্যায্যতা ভালবাসেন নতুন নিয়মে।
  • কেউ কেউ বলে: পুরাতন নিয়মে মাপকাঠি উঁচু ছিল, আইন খুব কঠোর ছিল, ঈশ্বর খুব ক্রোধী ছিলেন … কিন্তু এখন (ভাগ্য ভাল!) নতুন নিয়মে মাপকাঠি আরো নরম, আইন শিথিল হয়েছে, ঈশ্বর দয়ালু হয়ে গেছেন। এই ধরণের ব্যাখ্যা একদম ভুল!
  • ঈশ্বর ‘আরো দয়ালু’ হন নি। যীশু ‘মাপকাঠি নীচুতে’ আনেন নি। পুরাতন নিয়মে খুন নিষেধ ছিল্ নতুন নিয়মেও নিষেধ – এবং যীশু এমন কি ঘৃণা করা, ক্ষোভ করা ও তুচ্ছ করা নিষেধ করেচেন (মথি ৫:২১-২২)।
  • ঈশ্বর সব সময় ন্যায্য, একই সাথে তিনি সব সময় দয়ালু। তাঁর মধ্যে কোনো ‘ন্যায্যতা বনাম দয়া’ নেই, তিনি সব সময় এবং একই সময় উভয় ন্যায্য এবং দয়ালু।
  • ঈশ্বর নতুন নিয়মে বলেন নি ‘পাপ তেমন সমস্যা নেই, ভুলে যাও!’
  • বরং যীশু পাপের ন্যায্য বিচার নিজের উপরে নিয়েছেন এবং তিনি আমাদের পাপ বহন করেই বিচারিত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।

নতুন নিয়মের বিশ্বাসী

  • নতুন নিয়মের বিশ্বাসীর জন্য তাহলে আগের চেয়ে কি পরিবর্তন হয়েছে?
  • পরিবর্তন হল যে, আমি এখন বিশ্বাসে “যীশুতে” এসেছি, তাঁর মধ্যে আমি আছি, তাঁর সাথে আমি মারা গেছি, তাঁর সাথে আমি পুনরায় জীবিতও হয়েছি।
  • তিনি আমার পক্ষ হয়ে ঈশ্বরের ন্যায্যতার দাবি পূর্ণ করেছেন, আমার জন্য দোষ, শাস্তি ও ঈশ্বর থেকে বিছিন্ন হওয়ার অবস্থা সরিয়ে দিয়েছেন এবং এখন তিনি আমার হৃদয়ে বাস করেন।
  • পবিত্র আত্মার পরিচালনাও লাভ করেছি এবং তাঁর উপর নির্ভর করে আমি এখন ‘নিজের দেহ ঈশ্বরের হাতিয়া হিসাবে’ দান করতে পারি।
  • যীশু আমারই মধ্যে আইন পালন করেন। তিনি আমাকে বাধ্য হতে শেখান এবং বাধ্য হতে সাহায্য করেন।
  • কিন্তু আইন বাতিল হয় নি। যা ঈশ্বর সব সময় চেয়েছেন, তা তিনি এখনও চান: ন্যায্যতা, ভালবাসা ও সেবা।
  • এই সপ্তায় একজনকে বুঝিয়ে দিন, ঈশ্বর কি সের জন্য আইন-কানুন দিয়েছেন।

রোমীয় ৮ অধ্যায় - আইন-কানুন যা করতে পারে নি, যীশু তা-ই করেছেন

নির্দেশনা

পৌল এই উপসংহারে আসেন: যীশুতে আসা বিশ্বাসী হিসাবে, অর্থাৎ যীশুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাহলে বিশ্বারীর অবস্থা কি? আমাদেরকে কি দেওয়া হল? ফলে এখন আমাদেরকে কি ধরণের জীবন-যাপন করা দরকার? নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৮:১ – ঈশ্বর যীশুতে বিশ্বাসী কোন দৃষ্টিতে দেখেন?  
  • রোমীয় ৮:২ – পবিত্র আত্মার নিয়ম কি করেছে? 
  • রোমীয় ৮:২ – এখানে পৌল কি দু’টি নিয়মের মধ্যে পার্থক্য দেখান? 
  • রোমীয় ৮:২ – পাপ ও মৃত্যুর নিয়ম বলতে পৌল কি বুঝান মনে করেন?  
  • রোমীয় ৮:২ – ‘জীবনদাতা পবিত্র আত্মার নিয়ম যা যীশুর মধ্য দিয়ে কাজ করে’ বলতে পৌল কি বুঝান মনে করেন?
  • রোমীয় ৮:৩ – আইন-কানুন কি করতে চেয়েছিল যদি পাপ-স্বভাবের কারণে দুর্বল হয়ে না পড়ত? 
  • পৌল এখানে নিশ্চিত করেন যেন পাঠকেরা জানে যে, ঈশ্বরের আইন-কানুনের কোন দোষ নেই, পাপ-স্বভাবেরই দোষ আছে। আইন-কানুন ভাল, কিন্তু মানুষকে ধার্মিক বা ভাল করে তুলার ক্ষেত্রে আইন-কানুন অকার্যকারী। কি তাহলে কার্যকারী? রোমীয় ৮:৩ পদ দেখে উত্তর দিন।
  • রোমীয় ৮:৩ – পাপ দূর করার জন্য ঈশ্বর কি করেছেন?
  • রোমিয় ৮:৪ পৌল কোন দু’টি বিষয়ের অধীনে চলার বিষয়ে পার্থক্য দেখিয়েছেন? 
  • রোমীয় ৮:৪ – ঈশ্বরের উদ্দেশ্য কি ছিল?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৮:১ – ঈশ্বর যীশুতে বিশ্বাসী কোন দৃষ্টিতে দেখেন? > তিনি আমাদের শাস্তির যোগ্য হিসাবে আর গুনেন না।
  • রোমীয় ৮:২ – পবিত্র আত্মার নিয়ম কি করেছে? > আমাদেরকে খ্রীষ্ট যীশুর মধ্য দিয়ে পাপ ও মৃত্যুর নিয়ম থেকে মুক্ত করেছে।
  • রোমীয় ৮:২ – এখানে পৌল কি দু’টি নিয়মের মধ্যে পার্থক্য দেখান?> জীবনদাতা পবিত্র আত্মার নিয়ম বনাম পাপ ও মৃত্যুর নিয়ম।
  • রোমীয় ৮:২ – পাপ ও মৃত্যুর নিয়ম বলতে পৌল কি বুঝান মনে করেন? > ঈশ্বর পাপ, অন্যায় ও মন্দ বিচার করেন কারণ তা তাঁর ন্যায্য চরিত্রের প্রকাশ, এটা হল ‘পাপ ও মৃত্যুর নিয়ম’।
  • রোমীয় ৮:২ – ‘জীবনদাতা পবিত্র আত্মার নিয়ম যা যীশুর মধ্য দিয়ে কাজ করে’ বলতে পৌল কি বুঝান মনে করেন? > যীশুর মৃত্যু দ্বারা পরিত্রাণ পাওয়া গেছে। এখন যীশু ও পবিত্র আত্মা আমাদের হৃদয়ে বাস করে এবং আমরা তার শক্তি পেয়ে এখন পাপে বাধ্য আর নই, তাই আমরা ‘পাপের নিয়ম থেকে মুক্ত’ এবং আমাদের অনন্ত জীবনও দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা ‘মৃত্যুর নিয়ম থেকে মুক্ত’।
  • রোমীয় ৮:৩ – আইন-কানুন কি করতে চেয়েছিল যদি পাপ-স্বভাবের কারণে দুর্বল হয়ে না পড়ত? > আইন-কানুন মানুষকে সঠিক পথ বা ধার্মিক হওয়ার শিক্ষা দিতে চেয়েছিল।
  • মানুষকে ধার্মিক বা ভাল করে তুলার ক্ষেত্রে আইন-কানুন অকার্যকারী। কি তাহলে কার্যকারী? রোমীয় ৮:৩ > ঈশ্বর যা করেছেন, অর্থাৎ যীশুকে পাঠিয়ে যীশু তাঁর ক্রুশীয় মৃত্যু দ্বারা যা করেছেন।
  • রোমীয় ৮:৩ – পাপ দূর করার জন্য ঈশ্বর কি করেছেন? > তিনি তার নিষ্পাপ পুত্রকে মানুষের স্বভাব দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। এভাবে পাপের বিচার করলেন এবং পাপের শক্তি বাতিল করে দিলেন।
  • রোমিয় ৮:৪ পৌল কোন দু’টি বিষয়ের অধীনে চলার বিষয়ে পার্থক্য দেখিয়েছেন? > মানুষ যেন পাপ-স্বভাবের অধীনের না বরং পবিত্র আত্মার অধীনে চলে।
  • রোমীয় ৮:৪ – ঈশ্বরের উদ্দেশ্য কি ছিল? > যেন মানুষ আইন-কানুনের দাবি-দাওয়া পূর্ণ করে।

পৌল এখানে নিশ্চিত করেন যেন পাঠকেরা জানে যে, যীশুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পবিত্র আত্মার অধীনে জীবন মানেই ঈশ্বরের আইন-কানুন পূর্ণ করার, অর্থাৎ আইন-কানুনে বাধ্য একটি জীবন। দয়া পেয়ে যীশুতে জীবন মানে না ‘যা চাই তা-ই’ বরং ‘ঈশ্বর যা চান তা-ই’। উদ্দেশ্য পরিবর্তন হয় নি, ঈশ্বরের ইচ্চাও পরিবর্তন হয় নি, ন্যায্য ব্যবহার মানে কি, তাও পরিবর্তন হয় নি।
যা পরিবর্তন হয়েছে হল এই: এখন তা যীশুর মধ্য দিয়ে আসলে সম্ভব! আইন-কানুন ধার্মিকতা বা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারে নি, কিন্তু যীশুর মৃত্যু দ্বারা তা এখন সম্ভব: যীশু মানুষের হৃদয়ে বাস করে। পবিত্র আত্মার পরিচালনা ও সাহায্য পেয়ে বিশ্বাসীরা এখন বাধ্য জীবন করতে সক্ষম।

রোমীয় ৮ অধ্যায় - পবিত্র আত্মার পরিচালনায় জীবন-যাপন

নির্দেশনা

পৌল এখন আগের জীবন-যাপনের ধরণ ও যীশুতে পবিত্র আত্মার অধীনেরজীবন-যাপনের ধরণ নিয়ে পার্থক্য দেখাতে যাচ্ছেন। নিচে দেওয়াপদগুলো পড়ুন এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:

  • রোমীয় ৮:৫ – পৌল এখানে কিপার্থক্য দেখান?
  • রোমীয় ৮:৫ – আপনি কিতে আগ্রহী? সেগুলো কি পবিত্র আত্মায় চালিত আগ্রহগুলো? এক মিনিট নিজের বিষয়ে চিন্তা করুন।
  • রোমীয় ৮:৬ – পৌল দেখান, কোনটি কোন ফলগুলো তৈরি করবে। তা সংক্ষিপ্ত লিখুন।
  • আপনার অভিজ্ঞতায় কথাটি কি ঠিক? ভুল আগ্রহ কিভাবে ক্ষতি বা মৃত্যু নিয়ে আসে, তার একটি উদাহরণ বাস্তবে দেখেছেন? একটু বর্ণনা করুন।
  • রোমীয় ৮:৭ – পাপ-স্বভাব কি করতে পারে না? 
  • রোমীয় ৮:৭ – বাধ্যতাও অবাধ্যতাকোথায় শুরু হয়?
  • রোমীয় ৮:৭-৮ – এখানে একই বিষয়ের কয়েকটি বর্ণনা করা হয়েছে:
    • ঈশ্বেররইচ্ছায় চলা= আইন-কানুন মানা= …………………………
  • রোমীয় ৮:৯ – পাপ-স্বভাবের অধীনে চলা এবং পবিত্র আত্মার অধীনে চলা, তা কি একই সাথে সম্ভব?
  • রোমীয় ৮:৯ – পৌল এখানে একই বিষয়ের কয়েকটি বর্ণনা করেছেন:
    • পবিত্র আত্মা অন্তরে বাস করা = পবিত্র আত্মার অধীনে চলা= ….…………………………………………
  • রোমীয় ৮:৯ – পৌলের কি কোনো আশা বা দাবি আছে যে, খ্রীষ্ট ছাড়া বা পবাত্র আত্মা ছাড়া মানুষ ঈশ্বরের বাধ্যতায় জীবন-জাপন করতে সক্ষম হবে? ………………………………………………………………………………
    না, তিনি তা অসম্ভব বলেন।
  • রোমীয় ৮:১০ – পৌল একানে কি বলেন? সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন।
  • রোমীয় ৮:১১ পদটিতে একটি শর্ত আছে, তা লিখুন: যদি ……………… তবে …………।
  • রোমীয় ৮:১১ – এই কথা দ্বারা আমাদের কি ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তাদান করেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৮:৫ – পৌল এখানে কিপার্থক্য দেখান?> যারা পাপ-স্বভাবের অধীনের চলে তারা পাপ-স্বভাব যা চায় তাতে আগ্রহী, যারা পবিত্র আত্মার অধীনে চলে তারা পবিত্র আত্মা যা চান, তাতে আগ্রহী।
  • রোমীয় ৮:৬ – পৌল দেখান, কোনটি কোন ফলগুলো তৈরি করবে। সংক্ষিপ্ত বর্ণনা > পাপ-স্বভাবের আগ্রহে চলার ফল হল মৃত্যু, পবিত্র আত্মার আগ্রহেচ লার ফল হল জীবন ও শান্তি।
  • আপনার অভিজ্ঞতায় কথাটি কি ঠিক? ভুল আগ্রহ কিভাবে ক্ষতি বা মৃত্যু নিয়ে আসে, তার একটি উদাহরণ বাস্তবে দেখেছেন? 
  • রোমীয় ৮:৭ – পাপ-স্বভাব কি করতে পারে না? > ঈশ্বরের ইচ্ছায় চলা / আইনে বাধ্যতা তৈরি করা।
  • রোমীয় ৮:৭ – বাধ্যতাও অবাধ্যতাকোথায় শুরু হয়? > মনের চিন্তায় ও হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষায়।
  • রোমীয় ৮:৭-৮ – এখানে একই বিষয়ের কয়েকটি বর্ণনা করা হয়েছে: ঈশ্বরেরইচ্ছায় চলা = আইন-কানুন মানা = ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা।
  • রোমীয় ৮:৯ – পাপ-স্বভাবের অধীনে চলা এবং পবিত্র আত্মার অধীনে চলা- তা কি একই সাথে সম্ভব? > না।
  • রোমীয় ৮:৯ – পৌল এখানে একই বিষয়ের কয়েকটি বর্ণনা করেছেন: পবিত্র আত্মা অন্তরে বাস করা = পবিত্র আত্মার অধীনেচলা = অন্তরে খ্রীষ্টের আত্মা আছে।
  • রোমীয় ৮:৯ – পৌলের কি কোনো আশা বা দাবি আছে যে, খ্রীষ্ট ছাড়া বা পবাত্র আত্মা ছাড়া মানুষ ঈশ্বরের বাধ্যতায় জীবন-জাপন করতে সক্ষম হবে? > না, তিনি তা অসম্ভব বলেন।
  • রোমীয় ৮:১০ – পৌল একানে কি বলেন? সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: খ্রীষ্ট আমাদের অন্তরে থাকেন = আমরা আত্মায় জীবিত = আমাদেরকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হয়েছে।
  • রোমীয় ৮:১১ পদটিতে একটি শর্ত আছে, তা লিখুন। > যদি যীশুকে জীবিত করে তোলার আত্মা আমাদের অন্থরে বাস করেন তবে ঈশ্বর সেই আত্মা দ্বারা আমাদের মৃত্যুর >অধীনে দেহকে জীবন দান করবেন।
  • রোমীয় ৮:১১ – এই কথা দ্বারা আমাদের কি ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তাদান করেন? > যেমন যীশুকে মৃত্যুর থেকে জীবিত করে তোলা হয়েছিল, ঠিক তেমনি আমাদের দেহকেও জীবিত করে তোলা হবে।
  • ধরে রাখার মত একটি মৌলিক সত্য: পুনরুত্থান মানে না মানুষের আত্মা যীশুর কাছে গিয়ে একটি আত্মিক স্বর্গে‘ থাকবে’, পুনরুত্থান মানে: যেমন যীশু তেমনিআমরাও নতুন শরীরপাব, মানুষ পুনরায় এবং আরো চমৎকারভাবে নতুন সৃষ্টি করা হবে, সম্পূর্ণ মানুষ হিসাবে পুনরায় সৃষ্টি করা হবে (আত্মা ও দেহ)।

রোমীয় ৮ অধ্যায় - পবিত্র আত্মার পরিচালনায জীবন-যাপন

নির্দেশনা

পরিত্রাণ পাওয়ার সাথে সাথে বিশ্বাসীর জন্য এই সব চমৎকার বিষয় বাস্তবে হয়েছে বলে, এখন আমাদের কিভাবে জীবন-যাপন করা উচিত? এই বিষয়ে পৌল এখন প্রয়োগ দেখাতে যাচ্ছেন:

  • রোমীয় ৮:১২ – যীশুর ও পবিত্র আত্মা আমাদের অন্তরে বাস করেন বলে এখন আমরা কার কাছে ঋণী?
  • রোমীয় ৮:১৩ – পৌল আর একবার আমাদের সিদ্ধান্তের ফলাফল দেখাতে যাচ্ছেন: যদি পাপ-স্বভাবের অধীনে চলি তবে ……    …। যদি পবিত্র আত্মার অধীনে চলি, অর্থাৎ অন্যায় কাজ ধ্বংস করি, তবে ……..……।
  • রোমীয় ৮:১৪ – আগে পৌল যে কথা বলেছিলেন, তার সাথে তিনি এই পদে আর একটি বর্ণনা যুক্ত করেন:
    • পবিত্র আত্মা অন্তরে বাস করা = পবিত্র আত্মার অধীনে চলা = অন্তরে খ্রীষ্টের আত্মা আছে = ……………………। 
  • রোমীয় ৮:১৫ – পৌল পদের শুরুতে যে পার্থক্য প্রকাশ করেন, তা সংক্ষিপ্তভাবে লিখুন।
  • রোমীয় ৮:১৫ – পৌল এই পদে কয়েকটি বিষয় সমান করে দেখিয়েছেন। সেগুলো লিখুন:
    • ঈশ্বরের আত্মা পেয়েছ = সন্তান হওয়ার অধিকার পেয়েছ = …………………………………………..….।
  • রোমীয় ৮:১৬ – পৌল অনুসারে পবিত্র আত্মার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল: …………………………..……..……।
  • রোমীয় ৮:১৬ – এক মিনিট প্রার্থনায় পবিত্র আত্মাকে আপনার হৃদয়ে ঈশ্বরের সন্তান হওয়ার নিশ্চয়তা দান করতে সুযোগ দিন। 
  • রোমীয় ৮:১৭ পৌল এখানে ‘সন্তান হওয়ার অধিকার’এর সাথে আরো বিষয় যোগ দেন। সেগুলো লিখুন।
    সন্তান হওয়া = সন্তানদের প্রতি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা লাভ করার নিশ্চয়তা = ………………………………….………।
  • রোমীয় ৮:১৭ পদের শেষ দিকে পৌল নতুন চিন্তা যোগ দিচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে বলেছেন যে, আমরা যীশুর সঙ্গে মরেছি, যীশুর সঙ্গে মৃত্যু থেকে উঠেছি, এখন আরো দু’টি বিষয় যোগ দেন। সেগুলো লক্ষ্য করুন। 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৮:১২ – যীশুর ও পবিত্র আত্মা আমাদের অন্তরে বাস করেন বলে এখন আমরা কার কাছে ঋণী? > পাপ-স্বভাবের কাছে নয় বরং খ্রীষ্টের কাছে ঋণী।
  • রোমীয় ৮:১৩ – পৌল আর একবার আমাদের সিদ্ধান্তের ফলাফল দেখাতে যাচ্ছেন: যদি পাপ-স্বভাবের অধীনে চলি > তবে চিরকালের জন্য মরব।
  • যদি পবিত্র আত্মার অধীনে চলি, অর্থাৎ অন্যায় কাজ ধ্বংস করি, > তবে চিরকাল জীবিত থাকব।
  • রোমীয় ৮:১৪ – পবিত্র আত্মা অন্তরে বাস করা = পবিত্র আত্মার অধীনে চলা = অন্তরে খ্রীষ্টের আত্মা আছে = ঈশ্বরের সন্তান হওয়া।
  • রোমীয় ৮:১৫ – পৌল পদের শুরুতে যে পার্থক্য প্রকাশ করেন, তা হল: তোমরা দাসের মনোভাব বা ভয়ের মনোভাবে পাও নি বরং তোমরা ঈশ্বরের আত্মাকে পেয়েছ।
  • রোমীয় ৮:১৫ – পৌল এই পদে কয়েকটি বিষয় সমান করে দেখিয়েছেন। ঈশ্বরের আত্মা পেয়েছ = সন্তান হওয়ার অধিকার পেয়েছ = ঈশ্বরকে আব্বা, পিতা ডাকার অধিকার পেয়েছ।
  • রোমীয় ৮:১৬ – পৌল অনুসারে পবিত্র আত্মার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল: পবিত্র আত্মা আমাদের অন্তরে সাক্ষ্য দান করেন যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান।
  • রোমীয় ৮:১৭ পৌল এখানে ‘সন্তান হওয়ার অধিকার’এর সাথে আরো বিষয় যোগ দেন। সন্তান হওয়া = সন্তানদের প্রতি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা লাভ করার নিশ্চয়তা = যীশুর সঙ্গে তা পাব।
  • রোমীয় ৮:১৭ পদের শেষ দিকে পৌল নতুন চিন্তা যোগ দিচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে বলেছেন যে, আমরা যীশুর সঙ্গে মরেছি, যীশুর সঙ্গে মৃত্যু থেকে উঠেছি, এখন আরো দু’টি বিষয় যোগ দেন। আমরা খ্রীষ্টের সঙ্গে কষ্টভোগ করলে তাঁর সঙ্গে মহিমারও ভাগী হই।

ছবিটি আর একবার দেখুন। সারাংশ করে বলা যায় যে:

যীশুতে বিশ্বাস = যীশুতে আসা

             = তাঁর সাথে মরা

             = তার সাথে জীবিত হওয়া

             = তাঁর সাথ জীবন-যাপন করা

             = তাঁর সাথে কষ্টভোগ করা

             = তাঁর মহিমার ভাগী হওয়া।

রোমীয় ৮ অধ্যায় - মানুষের উদ্ধারের বিষয়ে একটি বিশার দৃষ্টি

নির্দেশনা

এই অনুচ্ছেদে পৌল মানুষের উদ্ধার নিয়ে একটি অতি বিশাল দৃষ্টি বা দর্শন দেখান। সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদ একসাথে পড়ে ফেলুন। নিচে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৮:১৮ – পৌল এই পদে আমাদের কি নিশ্চয়তা দেন? 
  • রোমীয় ৮:১৯ – পৌল বলেন যে, সেই চমৎকার মুহূর্তের জন্য শুধুমাত্র বিশ্বাসীরা অপেক্ষা করছে, এমন নয়। আর কে বা কি এর জন্য অপেক্ষা করছে?
  • রোমীয় ৮:২৩ – আমরা (এবং সমস্ত সৃষ্টি!) কোন দিনের জন্য অপেক্ষা করছি ও কাতরাচ্ছি?
  • রোমীয় ৮:২০-২৩ – পৌল এখানে সৃষ্টিকে নিয়ে মানুষের কারণে কি হয়েছিল, তা গল্প আকারে বলেন। সৃষ্টি নিয়ে কি হয়েছিল?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৮:১৮ – পৌল এই পদে আমাদের কি নিশ্চয়তা দেন? > ভবিষ্যতে আমরা যীশুর মধ্য দিয়ে যে মহিমা পাব, তার তুলনায় বর্তমান কষ্টভোগ কিছুই নয়।
  • রোমীয় ৮:১৯ – আর কে বা কি মানুষের উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছে? > সমস্ত সৃষ্টিও তার অপেক্ষায়।
  • রোমীয় ৮:২৩ – আমরা (এবং সমস্ত সৃষ্টি!) কোন দিনের জন্য অপেক্ষা করছি ও কাতরাচ্ছি? > যে দিনের জন্য, যখন ঈশ্বরের সন্তান হিসাবে আমাদের প্রকাশ করা হবে, অর্থাৎ ধ্বংসের হাত থেকে আমাদের দেহকে মৃক্ত করা হবে।
  • রোমীয় ৮:২০-২৩ – পৌল এখানে সৃষ্টিকে নিয়ে মানুষের কারণে কি হয়েছিল, তা গল্প আকারে বলেন। সৃষ্টি নিয়ে কি হয়েছিল? > যখন মানুষ প্রথম পাপ করেছে, তখন তাদের অধীনের দেওয়া পৃথিবীও (আদি ১:২৮) পতনে দেওয়া হয়েছে। তাই সৃষ্টি মানুষের পাপের কারণে কষ্টভোগ করছে এবং মানুষ ঠিক হওয়া অর্থাৎ মানুষের উদ্ধারের অপেক্ষায় আছে, কারণ সেই সময় পৃথিবীও পুনরুদ্ধার লাভ করবে।

ছবিটি এরকম:

  • রোমীয় ৮:২৪-২৫ – আমরা (এবং সাথে পৃথবী) উদ্ধার পাওয়ার আশা পেয়েছি।
  • রোমীয় ৮:২৫ – তাই আমরা এখন ধৈর্যের সঙ্গে এই আশা পূর্ণ হওয়ার জন্য অপেক্ষে করছি।
  • আধুনিক যুগের বিশ্বাসীরা হিসাবে আমরা সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রায়ই বলি: এই বস্তু জগত পাপ দিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এবং তাই বস্তু জগত খারাপ। ঈশ্বর এই বস্তু জগত বিচার করবেন এবং ধ্বংস করবেন, তাই পৃথিবীকে সুরক্ষা করা,এই জগতের জন্য পরিশ্রম বা বিনিয়োগ করা নিষ্ফল। তাই শুধুমাত্র প্রয়োজন হল এই: যতদূর সম্ভব আত্মাদের জয় করা যেন আরো মানুষ স্বর্গে যেতে পারবে। যীশু এসে আমাদের এখান থেকে একটি আত্মিক স্বর্গে নিয়ে যাবেন।
  • পরিষ্কারভাবে বুঝা যায়, যে পৌলের দৃষ্টি আমাদের দৃষ্টির চেয়ে অনেক ভিন্ন এবং অনেক বিশাল।
    • পৃথিবী যে মানুষের অধীনে দেওয়া হয়েছে (আদি ১:২৮), সেটা তিনি এখনও প্রযোজ্য সত্য হিসাবে দেখেন।
    • হ্যাঁ, মানুষের খারাপ সিদ্ধান্তের ফলে এই পৃথিবী অভিশাপ, ক্ষয়, রোগ, ধ্বংস ও মৃত্যুর অধীনে চলে এসেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আত্মিক জগত বস্তু জগতের মত এবং বস্তু জগতের আগে খারাপে পড়েছে (শয়তানের বিদ্রোহ দ্বারা)।
    • হ্যাঁ, বস্তু জগতে যত কিছু মন্দ, তা একদিন বিচার করা হবে এবং বাতিল করা হবে – কিন্তু কথাটি একইভাবে পাপ-আক্রান্ত আত্মিক জগতের জন্য প্রযোজ্য (শয়তান ও মন্দ আত্মাদের শেষ করা হবে)।
    • সম্পূর্ণ সৃষ্টিকে বিচার ও ধ্বংস করা হবে (২ পিতর ৩:৭), কিন্তু তা নতুন করে সৃষ্টিও করা হবে (প্রকাশিত বাক্য ২১:১), উদ্ধার করা হবে, যীশুর শাসনের অধীনে আনা হবে (ইফিষীয় ১:১০) এবং ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনে আনা হবে (কলসীয় ১:২০)।
    • মানুষের উদ্ধার শুরু হয়েছে, কিন্তু তা যখন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, অর্থাৎ মানুষ যখন পুনরুত্থিত করা হবে (যীশুর ২য় আগমনে), তখন সম্পূর্ণ সৃষ্টিও (আত্মিক ও বস্তু, দৃশ্য ও অদৃশ্য) পুনরুদ্ধার করা হবে।
    • কি অদ্ভূত দৃষ্টি! পৌলের কথার আলোতে আপনার কি কি চিন্তা পরিবর্তন করা দরকার?

রোমীয় ৮ অধ্যায় - ঈশ্বর যে কোনো কিছু আমাদের মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করতে সক্ষম

নির্দেশনা

পবিত্র আত্মা দিয়ে পরিচালিত জীবন সম্বন্ধে পৌল কয়েকটি চমৎকার বিষয় বলেন। নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৮:২৬-২৭ – বিশ্বাসীর জীবনে পবিত্র আত্মার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কি? 
  • আপনার নিজের প্রার্থনা মূল্যায়ন করে দেখুন। পবিত্র আত্মার সাহায্য বা পরিচালনার জন্য সুযোগ ও স্থান দেন?
  • রোমীয় ৮:২৮ – পৌলের এই অদ্ভুত প্রতিজ্ঞা ঠিক কি?
  • এই সত্য আপনি কি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন হতে দেখেছেন? একটি, দু’টি ঘটনা স্মরণ করুন।

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৮:২৬-২৭ – বিশ্বাসীর জীবনে পবিত্র আত্মার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কি? > আমাদের সাহায্য করা, আমাদের প্রার্থনার ক্ষেত্রে পরিচালনা করা, আমাদের পক্ষ হয়ে উপযুক্ত বিনতি বা অনুরোধ করা।
  • আপনার নিজের প্রার্থনা মূল্যায়ন করে দেখুন। পবিত্র আত্মার সাহায্য বা পরিচালনার জন্য সুযোগ ও স্থান দেন? > যত যা বিশ্বাসীর জীবনের ঘটবে, এমন কি বিশ্বাসীর বিরুদ্ধে অন্যায় বা পাপ, ঈশ্বর তা তাদের মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করবেন।

এই কথার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ: যদিও আমাদের বিরুদ্ধে হয়তো খারাপ আচারণ করা হয়, চূড়ান্তভাবে আমরা বিশ্বাসী হিসাবে কখনও ‘পরিস্থিতির দয়ায়’ নই, আমরা ‘অন্যদের শিকার’ও নই।

রোমীয় ৮ অধ্যায় - ঈশ্বরের সন্তান ও যীশুর ভাই

নির্দেশনা

নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

  • রোমীয় ৮:২৯ – যীশু কাদের মধ্যে প্রধান হবেন?
  • রোমীয় ৮:২৯ – আপনি এই পরিবারে কোথায় বা কে?
  • তাই যদি হয়, তবে অন্যান্য সমস্ত বিশ্বাসীরা আপনার কি হয়?
  • রোমীয় ৮:২৯-৩০ – পৌল এই পদগুলোতে আবারও বিভিন্ন বিষয় বা বার্ণনা যুক্ত করেন। সেগুলো লক্ষ্য করুন:
    • ঈশ্বর দ্বারা বাছাই = পুত্র হওয়ার অধিকার = আগে থেকে ঠিক করা = ডাকা = …………….….. = ………………..……।
  • রোমীয় ৮:৩১ – পৌল একটি ‘চিন্তা-সৃষ্টিকারী’ প্রশ্ন দিয়ে অনুচ্ছেদটি শুরু করেন। প্রশ্নটি কি?
  • রোমীয় ৮:৩২ – পৌল ক্রুশে ত্রিত্ব ঈশ্বরের ত্যাগ-স্বীকারের কাজ তুলে ধরে তা থেকে কি উপসংহারে আসেন?

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৮:২৯ – যীশু কাদের মধ্যে প্রধান হবেন? > যীশু ভাইদের মধ্যে প্রধান।
  • রোমীয় ৮:২৯ – আপনি এই পরিবারে কোথায় বা কে? > আমিও যীশুর ভাই।
  • তাই যদি হয়, তবে অন্যান্য সমস্ত বিশ্বাসীরা আপনার কি হয়? > ভাই! সন্তান হওয়া, ভাই হওয়া – তা একটি অপরিবর্তনশীল সম্পর্ক বুঝায়। এই সম্পর্ক মুহূর্তের আবেগ বা মুহূর্তের ঝগড়ার উপর নির্ভরশীল নয়!
  • রোমীয় ৮:২৯-৩০ – পৌল এই পদগুলোতে আবারও বিভিন্ন বিষয় বা বার্ণনা যুক্ত করেন: ঈশ্বর দ্বারা বাছাই = পুত্র হওয়ার অধিকার = আগে থেকে ঠিক করা = ডাকা = নির্দোষ বলে গ্রহণ = যীশুর মহিমা প্রাপ্ত।
  • রোমীয় ৮:৩১ – পৌল একটি ‘চিন্তা-সৃষ্টিকারী’ প্রশ্ন দিয়ে অনুচ্ছেদটি শুরু করেন। প্রশ্নটি কি? > তাহলে এই সব ব্যাপারে কি বলব?
  • রোমীয় ৮:৩২ – পৌল ক্রুশে ত্রিত্ব ঈশ্বরের ত্যাগ-স্বীকারের কাজ তুলে ধরে তা থেকে কি উপসংহারে আসেন? > যিনি নিজের পুত্র যীশুকে মৃত্যুর হাতে তুলে দিলেন, তানি সাথে আমাদের সব কিছু দান করবেন না?
  • কথাটি ত্রিত্ব ঈশ্বরের অদ্ভূত ভালবাসার মনোভাবে দেখায়। সাথেও দেখায় যে, যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যুবরণের চেয়ে উঁচু কোনো কাজ বা প্রমাণ বা মনোভাব নেই। এরজন্য যীশুর নাম সর্বোচ্চ নাম হিসাবে চিরকালের জন্য উৎযাপন করা হবে (ফিলিপীয় ২:১১)।
  • এই সুন্দর কথাটির খুব ব্যবহারিক প্রয়োগ আছে: কেন আমরা অতি সহজে ঈশ্বরের ভালবাসা নিয়ে সন্দেহ করি? তাঁর ভালবাসার প্রমাণ হিসাবে আর কি দেখতে দাবি করবেন?? যীশুর ক্রুশীয় মৃত্যু হল মানব জাতির ইতিহাসের সেই কেন্দ্রিক ঘটনা, যাতে প্রত্যেক সন্দেহ, আপত্তি বা অভিযোগ উত্তর পায়।

রোমীয় ৮ অধ্যায় - ঈশ্বরের অনুমোদন ও ভালবাসার নিশ্চয়তা

নির্দেশনা

  • রোমীয় ৮:৩৩-৩৪ – পৌল আরো দু’টি চেতনাদায়ক প্রশ্ন করেন, সেগুলো লক্ষ্য করুন।
  • রোমীয় ৮:৩৩-৩৪ প্রশ্নগুলোর উত্তর কি?
  • এখানে দু’দিকে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। চূড়ান্তভাবে আপনার বিষয়ে মানুষের মূল্যায়ন, মন্তব্য বা নিন্দা নিষ্ফল হবে, তাতে ঘাবড়িয়ে যাওয়া দরকার নেই। ঈশ্বর নিজেই শেষে সব কিভু সঠিকভাবে মূল্যায়ন করবেন। নিজের সুনাম সুরক্ষা করাই আমাদের কাজ নয়। আপনি এই মুহূর্তে কারও কথা নিয়ে খুব ভয়ে বা দুঃখে বা উত্তেজনায় আছেন? ঈশ্বর এই বিষয়ে আপনাকে কি বলতে চান?
  • অপর পক্ষে চিন্তা করুন, আমরা বিশ্বাসী হিসাবে অন্য বিশ্বাসীদের দোষ প্রমাণ করতে কত ব্যস্ত! আমরা মনে করি আমাদের বিচার করার জন্য যথেষ্ট জ্ঞান আছে। আমরা মনে করি আমরা জানি, কে কোন কারণে ঠিক কি করেছেন। ঈশ্বর আপনাকে কোন বিষয়ে চেতনা দিচ্ছেন? 
  • রোমীয় ৮:৩৫ – পৌল এখানে কি কি প্রশ্ন করেন?
  • রোমীয় ৮:৩৫ – প্রশ্নগুলোর উত্তর কি? 
  • রোমীয় ৮:৩৬ – পৌল এখানে গীত ৪৪:২২ পদ উদ্ধৃতি করেন। গীতটি খুলে পদটি পড়ুন। উদ্ধৃতিটি কোন বাস্তবতা বর্ণনা করে?
  • রোমীয় ৮:৩৬ – উদ্ধতিটিতে প্রকাশিত বাস্তবতা কি ঈশ্বেরের ভালবাসার বিপরীত প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়?
  • রোমীয় ৮:৩৭ – পরিবর্তে পৌল এই পদে কি দাবি করেন? 
  • রোমীয় ৮:৩৭ – এই জয়লাভ দেখতে কেমন হতে পারে?
  • রোমীয় ৮:৩৮-৩৯ – পৌল আর একবার নিশ্চয়তা দানের জন্য তালিকা করে দেখান, কি কি আমাদের ঈশ্বরের ভালবাসা থেকে সরিয়ে দিতে অক্ষম। পৌল এখানে অনেক কিছু উল্লেখ করে কি প্রমাণ করতে চান?
  • লক্ষ্য করুন, পৌল কত ভিন্ন দিকে চিন্তা করে বিষয়গুলো উল্লেখ করেন:
    • আগে, বর্তমান অথবা ভবিষ্যতে যত যা আছে
    • আত্মিক বা বস্তু
    • জীবন বা মৃত্যু
    • আকাশের উপর, পৃথিবীর নীচে, সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে
    • … এমন কিছু নেই যা আমাদের ঈশ্বরের ভালবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারবে। এই বিশাল নিশ্চয়তা পৌল দেন।
  • এক মিনিট চিন্তা করুন: আপনি এই মুহূর্তে কি নিয়ে ভিত?
  • কি কি সন্দেহ আপনার হৃদয়ে কাজ করছে?
  • ঈশ্বর আপনাকে এই বিষয়ে কি বলতে চান? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

  • রোমীয় ৮:৩৩-৩৪ – পৌল আরো দু’টি চেতনাদায়ক প্রশ্ন করেন: ঈশ্বর যাদের বেছে নিয়েছেন, কে তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করবেন? কে তাদের দোষী বলে স্থির করবে?
  • রোমীয় ৮:৩৩-৩৪ প্রশ্নগুলোর উত্তর কি? > কারও নালিশ করার বা দোষী বানানোর অধিকার নেই।
  • রোমীয় ৮:৩৫ – পৌল এখানে কি কি প্রশ্ন করেন? > খ্রীষ্টের ভালবাসা থেকে আমাদেরকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার কারও ক্ষমতা আছে? বা কোন বিষয় আছে? যন্ত্রণা? মনের কষ্ট? অত্যাচার? খিদে? কাপড়-চোপড়ের অভাব? বিপদ? মৃত্যু?
  • রোমীয় ৮:৩৫ – প্রশ্নগুলোর উত্তর কি? > এমন কেউ, এমন কিছু নেই যা আমাদের ঈশ্বরের ভালবাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া ক্ষমতা আছে।
  • রোমীয় ৮:৩৬ – পৌল এখানে গীত ৪৪:২২ পদ উদ্ধৃতি বর্ণনা করে: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এমন সময় ও পরিস্থিতি ছিল, যেখানে ঈশ্বরের লোকদের, অর্থাৎ বিশ্বাসীদেরকে কষ্টভোগ করতে হয়েছিল, এমন কি মারা যেতে হয়েছিল।
  • রোমীয় ৮:৩৬ – উদ্ধতিটিতে প্রকাশিত বাস্তবতা কি ঈশ্বেরের ভালবাসার বিপরীত প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়? > না।
  • রোমীয় ৮:৩৭ – পরিবর্তে পৌল এই পদে কি দাবি করেন? > ঈশ্বর, যিনি নিজের লোকদেরকে ভালবেসেচেন, তিনিই নিজের লোকদেরকে সব কিছুর মাঝেও ‘সম্পূর্ণভাবে জয়লাভ’ করার নিশ্চয়তাও দেন।
  • রোমীয় ৮:৩৭ – এই জয়লাভ দেখতে কেমন হতে পারে? > মারা গেলেও অনন্ত জীবনের নিশ্চয়তা, শক্তিশালী সাক্ষ্য দান, ঘৃণাকে দয়া ও ক্ষমা দিয়ে অতিক্রম করা, যীশুকে গৌরব দেওয়া।
  • রোমীয় ৮:৩৮-৩৯ – পৌল এখানে অনেক কিছু উল্লেখ করে কি প্রমাণ করতে চান? > এমন কিছু নেই যা আমাদেরকে তাঁর ভারবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারত।

এপর্যন্ত সারাংশ: পৌল একতার ভিত্তি স্থাপন করেছেন

  • রোমীয় ১:৫-৬ – কার জন্য বিশ্বাসের বাধ্যতা?                             > যিহূদী-অযিহূদী উভয়।
  • রোমীয় ১, ২:১-৮ – কারা দোষী? এক পরিমাণে জ্ঞান ছিল তবুও তা অগ্রাহ্য? > যিহূদী-অযিহূদী উভয়।
  • রোমীয় ২:৯-১১ – কারা পাপের অধীনে? ঈশ্বরের ক্রোধে যোগ্য?             > যিহূদী-অযিহূদী উভয়।
  • রোমীয় ২:১৭-১৯ – অহংকার করার জন্য কোনো কারণ নেই।               > যিহূদীদের কাছে।
  • রোমীয় ৩:৯ – কারা পাপের ক্ষমতার অধীনে?                              > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। যিহূদীদের অবস্থা ভাল? মোটেই না। সবাই পাপের অধীন।
  • রোমীয় ৩:২২-২৪ – কাদের জন্য যীশু মুক্ত করার ব্যবস্থা করেছেন? দয়া দিয়েছেন? নির্দোষ বলে গ্রহণ করেছেন? > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। সবাই পাপ করেছে, অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবাই দয়া ও মুক্তি পায়।
  • রোমীয় ৪:৮-৯ – কাদের ধন্য বলা হয়েছে?                                > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। ধন্য যাদের পাপ ক্ষমা হয়েছে, সুন্নত করানো বা সুন্নত-না-করানো লোকদেরকে তা বলা হয়েছে।
  • রোমীয় ৪:১০-১২,১৬ – কারা অব্রাহামের সন্তান? কারা অব্রাহামকে দেওয়া প্রতিজ্ঞার অধিকারী? > যিহূদী-অযুহূদী উভয়। অব্রাহাম সুন্নত করার আগে বিশ্বাস করেছেন, তিনি সুন্নত না করানো লোকদেরও পিতা। অব্রাহামের সকল বংশধরদের জন্য প্রতিজ্ঞা নিশ্চয়ই পূর্ণ হবে।
  • রোমীয় ৫:১২-১৮ – কারা আদিপিতা আদম দ্বারা পাপের অধীনে, যীশুর দ্বারা গ্রহণযোগ্য? > যিহূদী-অযিহূদী উভয়।
  • রোমীয় ৮:১ – কাদের আর শাস্তির যোগ্য বলে মনে করা হবে না?              > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। যারা খ্রীষ্টের সঙ্গে যুক্ত আছে তাদের আর শাস্তির যোগ্য বলা হয় না।
  • রোমীয় ৮:২ – কাদের যীশুর মধ্য দিয়ে পাপ ও মৃত্যু থেকে মুক্ত করা হয়েছে?   > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। তারা পবিত্র আত্মা ও যীশুর মধ্য দিয়ে পাপ ও মৃত্যু থেকে মুক্ত।
  • রোমীয় ৮:৫ – কারা পবিত্র আত্মার অধীনের জীবন-যাপন করতে পারে?         > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। তারা পবিত্র আত্মার অধীনে, আত্মা যা চান তাতে আগ্রহী।
  • রোমীয় ৮:১২ – কারা আর পাপ-স্বভাবের কাছে ঋণী নয়?                     > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। তারা পাপ-স্বভাবের আর ঋণী নয়, বরং আত্মার কাছে।
  • রোমীয় ৮:১৬ – কাদের অন্তরে পবিত্র আত্মা সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমরা তাঁরই সন্তান? > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। তারা ঈশ্বরের সন্তান।
  • রোমীয় ৮:১৭ – কারা সন্তান হিসাবে প্রতিজ্ঞার উত্তরাধীকারী হবেন? যীশুর ক্ষ্টভোগের এবং তাঁর মহিমার ভাগী হবেন? > যিহূদী-অযিহূদী উভয়। তারা ঈশ্বরের সন্তান, প্রতিজ্ঞার উত্তরাধিকারী, যীশুর মহিমার ভাগী।
  • রোমীয় ৮:২৩-২৪ কাদের সন্তান হিসাবে দত্তক হওয়ার এবং শারীরিক পুনরুত্থানের আশা আছে? > যিহূদী-অযিহূদী উভয়।
  • পৌল সারাংশে বলেন: ঈশ্বর যাদের বাছাই করেছেন (যিহূদী অযিহূদী উভয়), তাদের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ আনতে পারে? কে তাদের ঈশ্বরের ভালবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে সক্ষম হবে? কেউ পারবে না!
  • আমাদের যুগেও অনেক শিক্ষা বা চিন্তা প্রচলিত যাতে অতি সহজে দাবি করা হয় যে, ‘ওরা সঠিক বিশ্বাসী নয়’। নিজেদেরকে ‘সঠিক বিশ্বাসী’ হিসাবে প্রমাণ করার এবং অন্যদের বাদ দেওয়ার প্রলোভন খুব স্বাভাবিক, কিন্তু তা নিয়ে সাবধাণ।
  • কি কি খ্রিষ্টান দল আপনি ‘সঠিক বিশ্বাসী নয়’ বলেন? আপনার এই বিশ্বাসের বা মূল্যায়নের ভিত্তি আসলে কি? তাদের জন্য কি কখনও প্রার্থনা করেছেন?
  • পৌল চাইলে তার যিহূদী ধার্মিকতা নিয়ে অনেক বড় কথা বলতে পারতেন (গালাতীয় ১:১৩, ফিলিপীয় ৩:৪-৬)।
  • তিনি নিজের সংস্কৃতি সহজে সর্বোচ্চ মনে করতে পারতেন। লক্ষ্য করুন, তিনি বরং কত নম্রতার সাথে নিজেকে এবং যিহূদীদেরকে অন্য সব জাতিদের সাথে সমানভাবে দাঁড় করান।
  • একটি প্রবাদ বিষয়টি এভাবে প্রকাশ করে: “ক্রুশের চারিপাশে মাটি সমতল।”

আর একবার রোমীয় চিঠির কাঠামো বিবেচনা করুন। লক্ষ্য করুন আমরা এই অধ্যয়নে কতদূর এসেছি।

রোমীয় ৯-১৬ অধ্যায়ের অধ্যয়নের জন্য “রোমীয় ০৪ – আরো মূল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ” দেখুন।