ব্যাখ্যা প্রশ্ন ০১ - পুস্তকের লেখক কে?

রোমীয় পত্রের লেখক কে? রোমীয় ১:৭ পদে লেখক নিজের নামপরিষ্কারভাবে দেন: পৌল। 

নির্দেশনা

এছাড়া তিনি নিজেরপরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ৩টি বর্ণনা করেন। রোমীয় ১:১, ১:৫১:৬ পদ পড়ুন। সেই ৩টি বর্ণনা কি কি? এই আত্ম-বর্ণনার গুরুত্ব কি?

কি কি খুঁজে পাওয়া যায়

  • রোমীয় ১:১ পৌল যীশু খ্রীষ্টের দাস, আহূত প্রেরিত, সুসমাচারের জন্য আলাদা করা লোক।
  • রোমীয় ১:৫ পৌল যীশু দ্বারা অনুগ্রহ ও প্রেরিতত্ব প্রাপ্ত একজন।
  • রোমীয় ১:৬ পৌলের অযিহূদীদের মধ্যে প্রচার কাজে আহ্বান আছে।

তার অন্যান্য পত্রের মত পৌল এই পত্রেও উভয় নম্রতায় নিজের অযোগ্যতা প্রকাশ করেন, সঙ্গে যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা প্রেরিত হিসাবে তার অধিকারও দাঁড় করান।

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ০২ - লেখকের জীবন

নির্দেশনা 

পৌলের জীবন সম্বন্ধে নিচে পদগুলো দেওয়া হয়েছে। পদগুলো দেখে আপনি পৌলের ব্যাকগ্রাউন্ড, জীবন ও স্বভাবে চরিত্র অনেক কিছু বুঝতে পারবেন।

  • পৌলের ছোটবেলা / মণ্ডলীকে অত্যাচার              ৩৩ খ্রীঃ পর্যন্ত
  • ফিলিপীয় ৩:৪-৬ 
  • প্রেরিত ২২:৩ 
  • গালাতীয় ১:১৩-১৪
  • প্রেরিত ৭:৫৮-৮:৩
  • প্রেরিত ৯:১-২

পৌলের মন পরিবর্তন                                      ৩৩ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ৯:৩-১৯
  • গালাতীয় ১:১২,১৫-১৬

আরব দেশে, সিরিয়ায়, কিলিকিয়ায় ও যিরূশালেমে পৌল

  • গালাতীয় ১:১৬-২২

বার্ণবার সাথে আন্তিয়খিয়ায়

  • প্রেরিত ১১:২৫-২৬
  • প্রেরিত ১৩:১-৩

পৌলের প্রথম প্রচার যাত্রা – সাইপ্রাস, গালাতীয়া              ৪৭-৪৮ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ১৩,১৪ অধ্যায়

পৌল যিরূশালেমে প্রেরিতদের সভায়                         ৪৯ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ১৫ অধ্যায়

পৌলের দ্বিতীয় প্রচার যাত্রা – গালাতীয়া, ম্যাসিডোনিয়া, আখায়া  ৫০-৫২ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ১৬-১৮ অধ্যায়

পৌলের তৃতীয় প্রচার যাত্রা – ইফিষ, গ্রীস (করিন্থ)              ৫৩-৫৬ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ১৯-২০ অধ্যায়

পৌল যিরূশালেমে বন্দী                                      ৫৭ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ২১ অধ্যায়

পৌল কৈসরিয়াতে বন্দী                                      ৫৭-৫৯ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ২২-২৬ অধ্যায়

বন্দী হিসাবে রোমে যাত্রা, বন্দী হিসাবে রোম শহরে             ৬০-৬২ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ২৭-২৮ অধ্যায়

সম্ভবত পৌল আর একবার মুক্তি লাভ করেন                   ৬২-৬৪ খ্রীঃ

রোমে নীরোর অত্যাচারে পৌলের মৃত্যু                         ৬৪ খ্রী

কি কি খুঁজে পাওয়া যায়

পৌলের ছোটবেলা / মণ্ডলীকে অত্যাচার                                               ৩৩ খ্রীঃ পর্যন্ত

  • ফিলিপীয় ৩:৪-৬  পৌল পাকা যিহূদী, বিন্যামিন বংশের, ফরীশী, আইন-পালন করার ক্ষেত্রে নির্দোষ।
  • প্রেরিত ২২:৩ কিলিকায়ার তার্ষ শহরে পৌলের জন্ম, যিরূশালেমে গমলিয়েলের অধীনে পাড়শুনা।
  • গালাতীয় ১:১৩-১৪ অন্যান্য ধার্মিক যিহূদীদের চেয়ে আগ্রহী।
  • প্রেরিত ৭:৫৮-৮:৩ মণ্ডলীকে অত্যাচার করতেন।
  • প্রেরিত ৯:১-২ মণ্ডলীকে অত্যাচার করতেন।

পৌলের মন পরিবর্তন                                                                 ৩৩ খ্রীঃ

  • প্রেরিত ৯:৩-১৯ দামেষ্ক যাওয়ার পথে যীশুর সঙ্গে দেখা হয় বরে পৌলের মন পরিবর্তন।
  • গালাতীয় ১:১২,১৫-১৬ ঈশ্বর তার কাছে সুসমাচার প্রকাশ করেন। ফলে তার প্রৈরিতিক অধিকার আছে।

আরব দেশে, সিরিয়ায়, কিলিকিয়ায় ও যিরূশালেমে পৌল

  • গালাতীয় ১:১৬-২২

বার্ণবার সাথে আন্তিয়খিয়ায়          

  • প্রেরিত ১১:২৫-২৬                      

বর্ণবা পৌলকে তার্ষ থেকে আন্তিয়খিয়ায় নিয়ে আসেন, তাকে পরিচর্যায় লাগান। 

  •  প্রেরিত ১৩:১-৩

পবিত্র আত্মা ও আন্তিয়খিয়া মণ্ডলী দ্বারা বার্ণবা ও পৌলকে প্রচার কাজে পাঠানো।

পৌলের প্রথম প্রচার যাত্রা – সাইপ্রাস, গালাতীয়া               প্রেরিত ১৩,১৪  অধ্যায়   ৪৭-৪৮ খ্রীঃ
পৌল যিরূশালেমে প্রেরিতদের সভায়                          প্রেরিত ১৫     অধ্যায়       ৪৯ খ্রীঃ
পৌলের দ্বিতীয় প্রচার যাত্রা – গালাতীয়া, ম্যাসিডোনিয়া, আখায়া  প্রেরিত ১৬-১৮  অধ্যায়   ৫০-৫২ খ্রীঃ
পৌলের তৃতীয় প্রচার যাত্রা – ইফিষ, গ্রীস (করিন্থ)              প্রেরিত ১৯-২০ অধ্যায়    ৫৩-৫৬ খ্রীঃ
পৌল যিরূশালেমে বন্দী                                      প্রেরিত ২১     অধ্যায়     ৫৭ খ্রীঃ
পৌল কৈসরিয়াতে বন্দী                                      প্রেরিত ২২-২৬  অধ্যায়    ৫৭-৫৯ খ্রীঃ
বন্দী হিসাবে রোমে যাত্রা, বন্দী হিসাবে রোম শহরে             প্রেরিত ২৭-২৮  অধ্যায়    ৬০-৬২ খ্রীঃ
সম্ভবত পৌল আর একবার মুক্তি লাভ করেন                                            ৬২-৬৪ খ্রীঃ
রোমে নীরোর অত্যাচারে পৌলের মৃত্যু (মণ্ডলীর ঐতিহ্য)                                      ৬৪ খ্রীঃ 

পৌলের জীবনের একটি সময় তালিকা:

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ৩ > পুস্তকের পাঠকেরা কারা?

নির্দেশনা

একটি পত্র বুঝতে গেলে, আমাদের অবশ্যই জানা দরকার, পত্রটি কাদের কাছে লেখা হয়েছিল। উত্তর পাওয়ার জন্য রোমীয় ১:৭ পদ পড়ুন। পৌল পত্রটি কাদের কাছে লেখেন? “রোম শহরের বিশ্বাসীদের কাছে।”

খুঁজে কি কি পাওযা যায়

রোমীয় ১:৭ পদ বলে “রোম শহরের বিশ্বাসীদের কাছে।” 

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ৪ > লেখক ও পাঠকেরা কিভাবে পরিচিত?

নির্দেশনা

রোমীয় ১:৮-১৩ এবং ১৫:২৩-২৪ পড়ুন এবং চিন্তা করুন: পৌল কি কখনও রোমীয় মণ্ডলীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন? পৌল কি রোমীয় মণ্ডলীর স্থাপক? পৌল কেন এপর্যন্ত রোমে আসেন নি? যাত্রা করার ক্ষেত্রে পৌলের পরিকল্পনা কি? 

নির্দেশনা

রোমীয় ১:৮-১৩ এবং ১৫:২৩-২৪ পড়ুন এবং চিন্তা করুন: পৌল কি কখনও রোমীয় মণ্ডলীর সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন? পৌল কি রোমীয় মণ্ডলীর স্থাপক? পৌল কেন এপর্যন্ত রোমে আসেন নি? যাত্রা করার ক্ষেত্রে পৌলের পরিকল্পনা কি? 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

দেখা যায় যে, পৌল এপর্যন্ত রোমীয় মণ্ডলীর সঙ্গে কোনো সময় কাটান নি। তিনি মণ্ডলির স্থাপকও নন। তিনি বারা বার আসতে চেয়েছিলেন কিন্তু এপর্যন্ত তিনি বিভিন্ন ব্যস্ততা ও বাধার কারণে তা করতে পারন নি। পৌল যিরূশালেমে যাওয়ার পরে রোম শহরে যেতে চান। রোমে কিছু সময় কাটিয়ে এবং রোমীয় মণ্ডলীর সমর্থন পেয়ে পৌল স্পেনে, অর্থাৎ আরো পশ্চিমদিকে যেতে চান।

নির্দেশনা

লক্ষ্য করুন, পৌল কিভাবে বন্ধুত্বের আত্মায় রোমীয় মণ্ডলীর সঙ্গে কথা বলেন। নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং চিন্তা করুন, পৌল কিভাবে রোমীয় মণ্ডলীর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে চেষ্টা করেন।

  • রোমীয় ১:৮
  • রোমীয় ১:১১
  • রোমীয় ১:১২
  • রোমীয় ১:১৩
  • রোমীয় ১৫:১৪
  • রোমীয় ১৫:২৩
  • রোমীয় ১৫:২৪
  • রোমিয় ১৫:৩২

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

পৌল রোমীয় মণ্ডলীর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেন। তাদের বিশ্বাসের কথা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে – একথা দিয়ে তিনি তাদেরকে উৎসাহিত করেন (রোমীয় ১:৮)। পৌল তাদের সাথে দেখা করতে চান, তাদেরকে আত্মিক দান দিতে তিনি আগ্রহী (রোমীয় ১:১১)। পৌল বলেন যে, তিনি তাদের বিশ্বাস থেকে উৎসাহ পান (রোমীয় ১:১২)। তিনি অনেক বার তাদের কাছে আসতে চেয়েছিলেন (রোমীয় ১:১৩, ১৫:২৩) এবং পৌলের বিশ্বাস যে, রোমীয় বিশ্বাসীদের মঙ্গল-ইচ্ছা, জ্ঞান ও উপদেশ দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে (রোমীয় ১৫:১৪)। তিনি রোমীয়দের সাথে সময় কাটানো আনন্দের বিষয় বলেন, তিনি তাদের সমর্থন পেতে আশা করেন (রোমীয় ১৫:২৪)। পৌল তাদের সাথে দেখা হওয়ার বিষয়ে কুশি, তারা তার প্রাণ জুড়াবে (রোমীয় ১৫:৩২)।
এছাড়া পৌল রোমীয় ১৬ অধ্যায়ে প্রায় ২৫জন ব্যক্তিদের এক একজনের নাম উল্লেখ করে সুভেচ্ছা পাঠান এবং অনেকে খুব সুন্দর কথা দিয়ে সুপারিশ দেন। সারাংশে বলা যায় যে, পৌল রোমীয় মণ্ডলীকে যথেষ্ট গুরুত্ব, সম্মান, অনুমোদন ও প্রশংসার মধ্য দিয়ে কথা বলেন। তিনি তাদেরকে খ্রীষ্টেতে পরিপক্ক সহবিশ্বাসী ও সহকর্মী হিসাবে দেখেন ও সুপারিশ করেন। সম্পূর্ণ চিঠিতে একটি মিষ্টি ভাব আছে।
পৌল রোম শহরে না গেলেও অনেক লোকদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন এবং সুভেচ্ছা ও সুপারিশ দেন! তা কিভাবে সম্ভব? দেখা যায় যে, প্রথম মণ্ডলীতে অনেক যোগাযোগ, যাওয়া-আসা, পরস্পরকে সমর্থন করা ও সুসম্পর্কে গুরুত্ব দান ছিল।
আমরা আধুনিক যুগে প্রায়ই বলি যে, আত্মিক নেতা হিসাবে বেশি আবেগ প্রকাশ না করা ভাল এবং লোকদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। পৌল অনেক লোকদের সাথে ঘনিষ্ট ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, নতুন বিশ্বাসী বা সহকর্মীদর সাথে। তিনি তাদের সাথে মিশেন এবং তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন।

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ৫ > রোমীয় চিঠি লেখার পৌলের উদ্দেশ্য

নির্দেশনা

পৌল তার চিঠির শেষে কিভাবে তার উদ্দেশ্য সারাংশ করে প্রকাশ করেন, তা লক্ষ্য করুন। এই বিষয়ে নিচে দেওয়া পদগুলো থেকে কি শিখতে পারি?

  • রোমীয় ১৫:৫ 
  • রোমীয় ১৫:৬
  • রোমীয় ১৫:৭ 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

পৌল তার লেখার উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করেন: পৌল মণ্ডলীতে একতা স্থাপন করতে চান, যেন তারা একে অন্যকে আপন করে নিয়ে মনে ও মুখে এক হয়ে ঈশ্বরকে গৌরব করে। কোন বিষয় অথবা মণ্ডলীর কোন কোন দলের মধ্যে একতার অভাব ছিল? আমরা এখন তা দেখব:

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ৬ > রোমীয় মণ্ডলীতে কি কি দল আছে?

নির্দেশনা

নিচে দেওয়া পদগুলো দেখুন এবং লক্ষ্য করুন, পৌল নির্দিষ্টভাবে কাদের কাছে কথা বলেন।

  • রোমীয় ২:১৭
  • রোমীয় ৩:১
  • রোমীয় ৩:৯
  • রোমীয় ৩:১৯ 
  • রোমীয় ৭:১  

 

  • রোমীয় ৯:২৪
  • রোমীয় ১১:১৩ 
  • রোমীয় ১১:৩০ 

 

  • রোমীয় ২:৯-১১
  • রোমীয় ৩:৯
  • রোমীয় ৩:২২-২৩
  • রোমীয় ৩:২৯
  • রোমীয় ১০:১২ 

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

দেখা যায় যে পৌল কিছু পদ বা অনুচ্ছেদগুলো খুব নির্দিষ্টভাবে যিহূদী বিশ্বাসীদের কাছে কথা বলেন, কিছু পদ বা অনুচ্ছেদগুলো অযিহূদী বিশ্বাসীদের কাছে বলেন এবং কিছু পদ বা অনুচ্ছেদগুলো যিহূদী অযিহূদী বিশ্বাসী উভয়ের কাছে বলেন।

পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে, রোমীয় মণ্ডলীতে যিহূদী ও অযিহূদী বিশ্বাসীদের মধ্যে একতার অভাব ছিল এবং পৌল খুব গুরুত্বের সঙ্গে উভয় দলের কথা বলেন।

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ৭ > রোমীয় মণ্ডলী কিভাবে স্থাপিত হয়েছে? রোমীয় মণ্ডলীর ইতিহাস কি?

নির্দেশনা

রোমীয় চিঠির পাঠকদের আরো বুঝার জন্য আমাদের রোমীয় মণ্ডলীর ইতিহাস দেখা দরকার? কি কি ঘটেছিল? যিহূদী ও অযিহূদী দল কিভাবে সৃষ্টি হল? 

প্রকৃতপক্ষে আমরা জানি না, রোমীয় মণ্ডলীর কোনো নির্দেষ্ট স্থাপক ছিল কিনা। নতুন নিয়ম থেকে যা রোমীয় মণ্ডলীর ইতিহাস সম্বন্ধে যা যানা যায়, তা নিচে ছবি আকারে দেওয়া হয়েছিল। মনোযোগের সঙ্গে দেখুন এবং চিন্তা করেন, তা রোমীয় চিঠির সাথে কিভাবে মিলে।

নির্দেশনা

চিন্তা করুন: রোমীয় মণ্ডলীর উপরে সম্রাট ক্লৌদিয়ের আদেশের প্রভাব কি ছিল? মণ্ডলীতে একারণে কি কি পরিবর্তন ঘটল?

  • অনুশীলনের ক্ষেত্রে?
  • নেতৃত্বের ক্ষেত্রে?

যখন যিহূদীরা সম্রাট ক্লৌদিয়ের মৃত্যুর পরে ইটালীতে ও রোমে ফিরে আসতে শুরু করে, তখন কোন কোন ক্ষেত্রে তর্ক বা বিভেদ হতে পারে?

বিবেচনা করুন

৪৯ খ্রীষ্টাব্দে সম্রাট ক্লৌদিয়ের আদেশে যখন সব যিহূদীদের রোম ও ইটালী ছেড়ে চলে যেতে হয়, তখন রোম শহরে ‘অযিহূদী মাত্র’ একটি মণ্ডলী থেকে যায়।

  • অনুশীলনের ক্ষেত্রে: হয়তো তারা কিছু যিহূদী অনুশীলন বাদ দিল (যেমন বিশ্রাম বার পালন, শুকর মাংসের নিষেধাজ্ঞা, ইত্যাদি)।
  • নেতৃত্বের ক্ষেত্রে: হতে পারে বেশ কিছু যিহূদীরা মণ্ডলীর নেতৃত্বে ছিল, তাদের পরিবর্তে এখন নতুন অযিহূদী লোকদের নিযুক্ত করা হয়।

নতুন নেতৃত্ব নিযুক্ত করা হয়েছে কিন্তু হঠাৎ করে যদি আগের নেতারা ফিরে আসেন, তা অবশ্যই সহজে মিলানো যায় না। কিছু অনুশীলনও বাদ গেছে, যার কারণে তর্ক লাগতে পারে। (‘এখন আমাদের আবার আগের মত শুকর মাংস নিষেধ করতে হচ্ছে?’ ‘কেন আবার বিশ্রাম বারের অনুশীলন শুরু করব?’)।

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ৭ > পৌল কে হন, তা রোমীয় পত্রের জন্য কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ

নির্দেশনা

পৌল হলেন একজন খাঁটি, ধার্মিক যিহূদী। এছাড়া তিনি অযিহূদীদের কাছে একজন ফলবান প্রেরিত। চিন্তা করুন: পৌল কে হন, তা রোমীয় চিঠির বিভিন্ন রোমীয় পাঠকদের জন্য কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

বিবেচনা করুন

  • যদি পৌল উঁচু শিক্ষিত যিহূদী না হতেন, তবে যিহূদী বিশ্বাসীরা তাকে হয়তো কোন্ দৃষ্টিতে দেখত? > হয়তো তারা তার কথায় গুরুত্ব কম দিত, এই বলে যে, তিনি যিহূদী ধর্মের গুরুত্ব বোঝেন না। পৌল ছিলেন সবার চেয়ে আগ্রহী ও ধার্মিক যিহূদী, তাই তিনি অধিকারের সঙ্গে এরকম বিষয়ে কথা বলতে পারেন।
  • যদি পৌল অযিহূদীদের কাছে সুসমাচার পৌঁছানোর জন্য ত্যাগ-স্বীকারের প্রেরিত না হতেন, অযিহূদী বিশ্বাসীরা তাকে হয়তো কোন্ দৃষ্টি দেখত? > হয়তো তারা বলত, পৌল নিজের সংস্কৃতিতে আটকে থাকা একজন যিহূদী, যিনি সুসমাচার দিয়ে আনা স্বাধীনতা বোঝেন না, বা যার শুধুমাত্র নিজের জাতির জন্য হৃদয় আছে। পৌল ছিলেন অযিহূদীদের কাছে যাওয়া প্রথম ও প্রধান প্রেরিত। তিনি অনেক ত্যাগ-স্বীকার করেন এবং অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজটি করেন।

দেখা যায় যে, যিহূদী-অযিহূদী বিষয়টি নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে পৌলের আসলে অধিকার আছে। তিনি নিজেই একজন কোঠর যিহূদী ছিলেন – কিন্তু যখন যীশু দামেস্কের পথে তার সাথে দেখা করেন, তখন তার দৃষ্টি সম্পূর্ণভাবে পালটে যায়। তিনি হয়ে যান ‘হৃদয় মুক্ত হয়ে যাওয়া প্রেরিত’ (F.F. Bruce “apostle of the heart set free”)।

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ৮ > যিহূদীরা অযিহূদীদের কোন দৃষ্টিতে দেখত?

নির্দেশনা

নতুন নিয়মে বিভিন্ন পদে দেখা যায় যে, যিহূদীরা অন্য জাতিদেরকে নীচু চোখে দেখত এবং তাদের সাথে মিশতে চাইত না। নিচের পদ পড়ে দেখুন:

  • যোহন ৪:৯
  • লূক ৭:৬
  • যোহন ১৮:২৮

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়?

দেখা  যায় যে, শমরিয় মহিলা অবাক হয় যে, যীশু তার সাথে কথা বলেন এবং তার হাত থেকে জল খেতে রাজি আছেন (যোহন ৪:৯)। রোমীয় সেনাপতি জানেন যে, যিহূদীরা তার ঘরে প্রবেশ করতে রাজি না (লূক ৭:৬)। যিহূদীরা রোমীয়দের সদর-দপ্তরে প্রবেশ করতে চায় না (যোহন ১৮:২৮)। অধিকাংশ যিহূদীরা দৈনিক এই প্রার্থনা করে দিন শুরু করত: “ধন্যবাদ, প্রভু, যে তুমি আমাকে পরজাতি হিসাবে জন্ম গ্রহণ করতে দাও নি, দাস হিসাবে জন্ম গ্রহণ করতে দাও নি, মহিলা হিসাবে জন্ম গ্রহণ করতে দাও নি”।

কিন্তু প্রথম মণ্ডলীতে বিষয়টি কেমন ছিল?
পঞ্চাসপ্তমী দিনে যখন মণ্ডলী স্থাপন হয় (প্রেরিত ২) তখন সব বিশ্বাসীরা ছিল যিহূদী। কিন্তু পরবর্তীতে যখন সুসমাচার অযিহূদীদের কাছেও ছড়িয়ে পড়ে এবং মণ্ডলীতে উভয় যিহূদী এবং অযিহূদী বিশ্বাসী থাকে, তখন তা প্রথমদিকে বেশ বড় তর্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঈশ্বর পিতরকে (প্রেরিত ১০), বার্ণবাকে (প্রেরিত ১১) এবং পৌলকে (প্রেরিত ৯) বিশেষভাবে দেখান যে, অযিহূদীদেরকেও খ্রীষ্টেতে স্বাগতম জানানো হয়েছে এবং তারা যিহূদীদের মত ঈশ্বরের পরিত্রাণের প্রাপক। পরবর্তীতে প্রেরিতেরা যিরূশালেমে সভা করে এই তর্কের প্রশ্নগুলো নিয়ে বসেন ও আলোচনা করেন। প্রেরিতেরা সবাই রাজি হয় এবং অযিহূদীদের অন্য কোন শর্ত না দিয়ে গ্রহণ করা হয় (প্রেরিত ১৫)।
তবুও এই বিষয়টি পুরাতন নিয়ম থেকে একটি বড় পরিবর্তন হিসাবে দাঁড়াত এবং তা মেনে নিতে যিহূদীদের জন্য কঠিন হত। প্রেরিত পুস্তকে দেখা যায় যে, বিষয়টি মণ্ডলীগুলোতে প্রাই তর্কের এবং বিভেদের বিষয় হিসাবে দাঁড়াত (যেমন গালাতীয় পুস্তকে, এবং রোমীয়!)।

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ৯ > অযিহূদীরা যিহূদীদের কোন দৃষ্টিতে দেখত?

প্রকিতপক্ষে রোমীয়দেরও যথেষ্ট জাতিগত অহংকার ছিল। তারা নিজেকে ‘উন্নত জাতি’ এবং ‘উন্নত সাম্রাজ্য’ বলত।তারা রোম রাজ্যের উন্নত মানের রাস্তা-ঘাট ও ইঞ্জিনিরিং নিয়ে গর্বিত ছিল, তাদের ন্যায় চিারের ব্যবস্থা, সরকারের ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী সৈন্য এবং সুরক্ষিত সীমানা নিয়েও গর্বিত ছিল। রোমীয়রা অনুনত জাতিদের দখল করে ‘রোমীয় শান্তিতে’ এবং ‘উন্নত জীবনে’ অংশ পেতে সুযোগ দিচ্ছে, তার জন্য তারা অন্য জাতিদের থেকে কৃতজ্ঞতা আশা করত।
রোমীয়দের বিশেষভাবে যিহূদীদেরকে নীচু চোখে দেখত। কিছু রোমীয় লেখক যিহূদীদের ‘ঘৃণার জাতি’, ‘কুষ্ঠরোদ আক্রান্ত দাসের দল’, ‘শুকরের পূজারী’ (শুকর খেত না), ‘অলস’ (বিশ্রাম বার), ‘নস্টিক’ (কোন দেবতা মানে না), ‘চির-বিদ্রোহী’ এবং ‘অন্যদের সাথে না মিশার লোক’ মনে করত।
নিজেকে প্রশ্ন করুন: এমন কোন জাতি বা দল বা গোষ্ঠি আছে, যা আপনি ‘উদ্ধারের বাইরে’ মনে করেন?

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ১০ > রোমীয় চিঠির কাঠামো কি?

প্রতৃদপক্ষে, যদি আমরা লক্ষ্য করি পৌল কাদের কাছে কথা বলেন, পত্রটির একটি পরিষ্কার কাঠামো প্রকাশ পায়। নিচে দেওয়া ছকে কাঠামোটি দেখানো হয়েছে, পৌলের মূল সংবাদও দেওয়া হয়েছে। সংখ্যাগুলো রোমীয় পত্রের অধ্যায়গুলো বুঝায়। ছকটি গুরুত্বের সঙ্গে পড়ুন কারণ পরবর্তী অধ্যয়নে ঠিক এই কাঠামো অনুসারে আগানো হবে:

চিন্তা করুন, পৌল কত সুন্দর ও যুক্তিগতভাবে যিহূদী-অযিহূদীদের একতার ভিত্তি স্থাপন করেন! লক্ষ্য করুন, পত্রটির ২টি বিভাগ, প্রথম বিভাগে মতবাদ বা শিক্ষা, দ্বিত্বীয় বিভাগে শিক্ষার প্রয়োগ। পৌলের বেশিরভাগ পত্রগুলো এভাবে গঠিত (আগে মতবাদ, পরে প্রয়োগ)।

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ১১ > রোমীয় চিঠি কখন লেখা এবং কোথা থেকে লেখা?

নির্দেশনা

আগের দিনে পৌলের জীবন সম্বন্ধে কি শিখেছেন, তা এখন রোমীয় চিঠির সাথে মিলানো দরকার। এভাবে আমরা খুঁজে বের করতে পারি, পৌল রোমীয় চিঠি কখন লিখেছেন এবং কোথা থেকে লিখেছেন। আরো জানা যায়, কে চিঠিটি রোমে নিয়ে গেছেন। নিচে দেওয়া পদগুলো পড়ুন এবং লক্ষ্য করুন, পৌলের পরিকল্পনা সম্বন্ধে কি প্রকাশ পায়:

  • রোমীয় ১৫:২৫-২৬
  • ১ করিন্থীয় ১৬:৩-৬
  • প্রেরিত ২০:১-৩
  • রোমীয় ১৫:২৫-২৯
  • রোমীয় ১৫:৩০-৩১
  • রোমীয় ১৬:১-২

খুঁজে কি কি পাওয়া যায়

প্রেরিত দেখায় যে, পৌল  তার তৃতীয় প্রচার যাত্রায় ইফিষ শহর থেকে রওনা দিয়ে ৩ মাস গ্রীসে কাটান (প্রেরিত ২০:১-৩)। পৌল বলেন যে, তিনি ম্যাসিডোনিয়া ও আখায়া মণ্ডলীগুলোর একটি আর্থিক দান নিয়ে করিন্থ শহর হয়ে যিরূশালেমে যাবেন (রোমীয় ১৫:২৫-২৬, ১৬:৩-৬)। পরে তিনি রোমে আসতে চান এবং তাদের সাহায্যি স্পেনে যেতে চান। পৌল প্রার্থনা চান, ভালভাবে জেনে যে, তার জন্য যিরূশালেমে যাওয়ার ঝুঁকি আছে (রোমীয় ১৫:৩০-৩১)। কিংক্রিয়া মণ্ডলীর পরিচারিকা ফৈবী চিঠিটি রোম শহরে নিয়ে যাচ্ছেন (রোমীয় ১৬:১-২)। 

আমরা সারাংশে বলতে পারি যে, পৌল রোমীয় পত্রটি করিন্থ শহর থেকে লেখেন (করিন্থীয় বিশ্বাসীরা রোমীয়দের সুভেচ্ছাও জানাচ্ছে, রোমীয় ১৬:২১-২৩)। তিনি পত্রটি তাহলে ৫৬ খ্রীষ্টাব্দে তার তৃতীয় প্রচার যাত্রার শেষদিকে করিন্থ থেকে যিরূশালেমের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার একটু আগে লেখেন। করিন্থ শহরের কাছাকাছি কিংক্রিয়া শহরের মণ্ডলীর পরিচারিকা ফৈবী পৌলের এই অতি মূল্যবান চিঠি রোমে পৌঁছিয়ে দেন।

ব্যাখ্যা প্রশ্ন ১২ > রোমীয় চিঠি লেখার জন্য পৌলের প্রধান উদ্দেশ্য কি?

নির্দেশনা

রোমীয় চিঠি লেখার উদ্দেশ্যগুলো নিচের চার্টে দেখুন। কোনটা আপনি প্রধান কারণ মনে করেন?