প্রার্ম্ভিকা হিসাবে আমরা ইন্ডাক্টিভ মেথডের ৩টি ধাপ পুনরালোচনা করব:
- লক্ষ্য করা, অর্থাৎ লেখাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা এবং খেয়াল করা লেখায় কি কি বিষয় দেওয়া হয়েছে। দেখো! দেখো! দেখো! আমরা একটার পর একটা লক্ষ্য প্রশ্ন দিয়ে লক্ষ্য কিভাবে করতে হয়, তা দেখানো হবে।
- ব্যাখ্যা করা, অর্থাৎ যারা এই ভাববাদীর বাণী প্রথম শুনেছিল (প্রথম শ্রোতা) এবং যারা ভাববাদীর পুস্তকে প্রথম পড়েছিল (প্রথম পাঠক), তারা কি বুঝেছিল, তা বুঝতে চেষ্টা করা।
- প্রয়োগ করা, অর্থাৎ নিজেকে জিজ্ঞাসা করা: এই বর্তমান যুগের পাঠক হিসাবে আমার জন্য এই পুস্তকের অর্থ কি? আমার এই পুস্তকের আলোতে কি চিন্তা, মনোভাব ও আচার-ব্যবহার পরিবর্তন করা দরকার? এই পুস্তকের সাড়ায় আমার কি ব্যবহারিক ধাপ নেওয়া দরকার?
নির্দেশনা
রোমীয় পুস্তক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলুন। জোরে পড়ে ফেলুন, কারণ জোরে পড়লে তবে চোখ দিয়ে দেখা, মুখ দিয়ে বলা ও কান দিয়ে শোনা সব একসাথে চলে এবং একারণে আপনার বেশি মনে থাকবে।
পুস্তকের প্রথম পড়ার উদ্দেশ্য এই নয় যেআপনি প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি বিষয় ধরেন। বরং উদ্দেশ্য হল পুস্তকের বড় ছবি দেখা, একটি প্রথম স্বাদ নেওয়া এবং কিছু প্রধান বিষয় খেয়াল করা।
লক্ষ্য করা
আমরা এখন একটার পর একটা লক্ষ্য প্রশ্ন দিয়ে লক্ষ্য শুরু করব। এখানে সীমিত জায়গার কারণে রোমীয় প্রথম অধ্যায় মাত্র উপস্থাপন করা হবে । তবুও রোমীয়পুস্তকের শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ ১৬ অধ্যায় ধরে লক্ষ্য করুন!
০১ লক্ষ্য প্রশ্ন কে? > ঈশ্বর
নির্দেশনা
রোমীয় পুস্তক আর একবার পড়ুন এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে যতটা শব্দ ঈশ্বরকে বুঝায় ততটাতে হাল্কা হলুদ রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০২ লক্ষ্য প্রশ্ন কে? > মানুষ
নির্দেশনা
রোমীয় পুস্তক আর একবার পড়ুন এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে যতটা শব্দ ব্যক্তি বা মানুষের দল বুঝায় ততটাতে হলুদ রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৩ লক্ষ্য প্রশ্ন কোথায়? > জায়গা
নির্দেশনা
রোমীয় পুস্তক আর একবার পড়ুন এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে যতটা শহরের, এলাকার বা স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, ততটাতে আকাশী রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৪ লক্ষ্য প্রশ্ন কখন? > সময় সম্বন্ধীয় শব্দ
নির্দেশনা
রোমীয় পুস্তক আর একবার পড়ুন এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে যতটা শব্দ সময় বুঝায় (যেমন “এখন”, “পরে”, “চিরকাল”, “যখন”) এলাকার বা স্থানের নাম উল্লেখ, ততটাতে ছাই রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৫ লক্ষ্য প্রশ্ন পর্থক্য? > “কিন্তু”, “বরং”, “তবুও”, “না কি”
নির্দেশনা
রোমীয় পুস্তক আর একবার পড়ুন এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে যতটা শব্দ কোনো পার্থক্য বুঝায় (যেমন “কিন্তু”, “বরং”, “তবুও”, “না কি” ইত্যাদি) ততটাতে কমলা রং দেন।
০৬ লক্ষ্য প্রশ্ন কারণ? > “একারণে”, “সেইজন্য”, “তাতে”, “যেন”
নির্দেশনা
আমোষ পুস্তক আর একবার পড়ুন এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে যতটা শব্দ কোনো কারণ দেখায় বা কোনো উদ্দেশ্য দেয়ায় (যেমন “একারণে”, “জন্য”, “সেইজন্য”, “ফলে”, “তাই”, “তাতে”, “যাতে”, “যোন” ইত্যাদি) ততটাতে হাল্কা কমলা রং দেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৭ লক্ষ্য প্রশ্ন আবেগ? > “শান্তি”, “খুশি”, “আনন্দ”, “উৎসাহ”, "ক্রোধ" এবং জোরালো উক্তি
নির্দেশনা
রোমীয় পুস্তক আর একবার পড়ুন এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে যতটা শব্দ আবেগ বুঝায় বা কোনো জোরালো উক্তি (অর্থাৎ সাধারণের চেয়ে শক্তিশালী ভাষা) বুঝায় ততটাতে বেগুনী রং দেন। আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে আপনি এক নির্দিষ্ট শব্দের চেয়ে (যেমন “আনন্দ”, “খুমি”, “উৎসাহ”) সম্পূর্ণ পদ বা অনুচ্ছেদ আবেগ প্রকাশ করে। এধরণের পদ বা অনুচ্ছেদ পোলে কিন্তারায় বেগুনী ব্র্যাকেট দিতে পারেন।
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
০৮ লক্ষ্য প্রশ্ন পুনরুক্তি বিষয়গুলো
রোমীয় পুস্তকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপর্ণ শব্দ বা বিষয় বার বার উল্লেখ করা হয়। লেখক যদি একটি শব্দ বা বিষয় বার বার উল্লেখ করেন, তবে শব্দটি বা বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুধুম্তর ৩টি পুনরুক্তি বিষয় লক্ষ্য করবে, তা হল:
১) “সুখবর”, “সুসমাচার”, “সুসংবাদ” হাল্কা সবুজ রঙ্গের তারা
২) “বিশ্বাস”, “বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে” সবুজ রঙ্গের তারা
৩) “নির্দোষ বলে গ্রহণ”, “ধার্মিক বলে গণিত”, “ধার্মিক হওয়া”, “গ্রহণযোগ্য হওয়া” গাড় সবুজ রঙ্গের তারা
উদাহরণ
খুঁজে কি কি পাওয়া যায়
আপনার প্রথম অধ্যায় এখন দেখতে মোটামুটি এমন হওয়া উচিত:
অবশ্যই, রোমীয় পুস্কতকে আর অনেক বড় ও ছোট লক্ষণীয় বিষয় আছে, কিন্তু আমরা এতদূর করব। পরবর্তী ইউনিটে আমরা রোমীয় পুস্তকের ব্যাখ্যা শুরু করব, অর্থাৎ আমরা পুস্তকের লেখক, পাঠক, লেখার তারিখ ও লেখার কারণ নিয়ে কথা বলব।
